📄 এবাদত ও তার প্রকার
এবাদতের সংজ্ঞা: এবাদতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে: অনুগত, অবনত ও বশ্যতা। আর ইসলামী পরিভাষায় এবাদত হলো: ঐ সকল কথা ও কাজ চাই উহা প্রকাশ্য হোক বা গোপনীয় হোক যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং করলে খুশী হন।
আল্লাহ তা'য়ালার নির্দেশিত কাজ বা কথা এবাদত; কারণ তিনি তা পছন্দ করেন এবং খুশী হন। অনুরূপভাবে তাঁর নিষিদ্ধকৃত কাজ বা কথা ত্যাগ করাও এবাদত; কারণ তিনি তা ত্যাগ করা পছন্দ করেন এবং তাতে খুশী হন। এক কথায় ভাল কাজ করা বা কথা বলা যেমনভাবে এবাদত তেমনি খারাপ কাজ না করা বা খারাপ কথা না বলাও এবাদত।
* এবাদতের প্রকার: এবাদত বিভিন্নভাবে হতে পারে যথা:
১. মুখ-জবান দ্বারা এবাদত:
যেমন: বিভিন্ন প্রকার জিকির-আজকার ও দোয়া, কুরআন তেলাওয়াত, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, ইসলাম, ক্ষমা ও বিপদ মুক্তি চাওয়া ইত্যাদি।
২. অন্তর দ্বারা এবাদত: যেমন: আশা-আকাঙ্খা, ভয়-ভীতি, ভরসা, ঈমান, তওবা, এহসান, ভালবাসা ইত্যাদি।
৩. শরীর দ্বারা এবাদত: যেমন: সালাত, জিহাদ ইত্যাদি।
৪. মাল দ্বারা এবাদত: যেমন: জাকাত, ফেতরা, দান-খয়রাত ইত্যাদি।
৫. মাল ও শরীর দ্বারা এবাদত: যেমন: হজ্ব ইত্যাদি।
৬. অন্তর ও শরীর দ্বারা এবাদত: যেমন: রোজা, ইস্তি'আনা (সাহায্য চাওয়া), ইস্তিগাছা (বিপদ মুক্তির জন্য ডাকা), ইস্তি'আযা (কারো অনিষ্ট দূর করার জন্য আল্লাহ তা'য়ালার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করা) জবাই, নজর-নিয়াজ, অসিলা ইত্যাদি।
এবাদত কবুলের শর্ত
যে কোন এবাদত কবুলের জন্য শর্ত তিনটি:
১. সঠিক ও বিশুদ্ধ ঈমান: ঈমান সর্বপ্রকার কুফরি ও শিরকি আকিদা থেকে মুক্ত হতে হবে; কারণ মক্কার কাফের-মুশরেক এমনকি আবু জাহল, আবু লাহাব, উৎবা, শাইবা বড় বড় মুশরেকদের নেতারাও এবাদত করত। যেমন তারা হজ্ব-উমরা ও আকীকা-কুরবানি ইত্যাদি এবাদত করত। কিন্তু তাদের ঈমান ছিল শিরক ও কুফর মিশ্রিত। তাই আল্লাহ তা'য়ালা তাদের কোন এবাদত কবুল করেননি। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: “যে লোক পুরুষ হোক কিংবা নারী, কোন সৎকর্ম ঈমান সহকারে সম্পাদন করে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রাপ্য তিল পরিমাণও নষ্ট করা হবে না।” [সূরা নিসা: ১২৪]
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "পুরুষ হোক বা নারী যে ঈমান অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার দেব যা তারা করত।" [সূরা নাহল: ৯৭]
আরো আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"আর যে পুরুষ অথবা নারী ঈমান অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বে-হিসাব রিজিক দেয়া হবে।” [সূরা মু'মিন: ৪০]
২. এখলাস: যে কোন এবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হতে হবে। যে এবাদত মানুষ দেখানো বা শুনানোর কিংবা দুনিয়ার কোন সার্থ হাসিলের জন্য হবে তা কবুল হবে না। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে।" [সূরা বাইয়িনাহ:৫]
আরো আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "বলুন, আমি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর এবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি।” [সূরা জুমার: ১১]
আবু হুরাইরা [] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [] বলেছেন। আল্লাহ তাবারক ওয়া তা'য়ালা বলেন: "আমি শরীকানা ও অন্যান্য থেকে অমুখাপেক্ষী। যে এমন আমল করে যাতে আমার সাথে অন্যকে শরিক করে, আমি তাকে এবং তার শিরককৃত আমলকে ত্যাগ করি।” [মুসলিম]
৩. শুধুমাত্র নবী []-এর সুন্নতের অনুসরণ: যে কোন এবাদত যেমন একমাত্র আল্লাহর জন্য হতে হবে অনুরূপ তার পদ্ধতিটি হতে হবে একমাত্র নবী[]-এর। নবী []-এর তরীকা ও পদ্ধতি বহির্ভূত কোন নিয়ম ও পন্থায় যতই ভাল মনে করে এবাদত করা হোক তা পরিত্যাজ্য ও পরিত্যাক্ত। আমলের বার্ষিকটা হবে একমাত্র নবীর সুন্নত মোতাবেক এবং আভ্যন্তরীণটা হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরিক না করে।” [সূরা কাহফ: ১১০]
সৎকর্ম সঠিক ও বিশুদ্ধ তখনই হবে যখন একমাত্র নবী ﷺ-এর শরিয়ত মোতাবেক এবং একনিষ্ঠভাবে শিরক মুক্ত হবে। [তাফসীর ইবনে কাসীর: ২/২০৮] নবী ﷺ বলেন:
আয়েশা [রাঃ] থকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মাঝে নতুন কিছু বিদাত আবিস্কার করে, যা তার অন্তর্ভুক্ত না তা প্রত্যাখ্যাত।” [বুখারী ও মুসলিম] মসুলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে নবী ﷺ বলেন: "যে ব্যক্তি এমন আমল করে যা আমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় তা পরিত্যাজ্য।” [মুসলিম]
এবাদত কখন কবুল হবে আর কখন হবে না
পূর্বে উল্লেখিত এবাদত কবুলের তিনটি শর্ত এক সাথে পাওয়া গেলে কবুল হবে নচেৎ কবুল হবে না। এবাদত কখন কবুল হবে আর কখন কবুল হবে না তা সহজে বুঝার জন্য নিম্নে একটি তালিকা প্রদান করা হলো। এখনে দেখছেন শুধুমাত্র একটি অবস্থায় আমল কবুল হবে আর বাকি সাত অবস্থায় কবুল হবে না।
হুকুম | সঠিক ঈমান | এখলাস | নবীর সুন্নত
✓ | ✓ | ✓ | ✓ | ☑
✓ | ✓ | ✓ | ☑ | ☑
✓ | ✓ | ☑ | ✓ | ☑
✓ | ☑ | ☑ | ☑ | ☑
✓ | ☑ | ☑ | ✓ | ☑
☑ | ☑ | ☑ | ☑ | ☑
এ ছাড়া এবাদত মহব্বত, তার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি, সওয়াব ও জান্নাতের আশা-আকাঙ্খা ও আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও জাহান্নামের ভয়-ভীতি সহকারে করতে হবে। যারা শুধুমাত্র মহব্বত দ্বারা এবাদত করে তারা জিন্দীক তথা বড় মুনাফিক।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“আর কিছু মানুষ রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশি।” [সূরা বাকারা: ১৬৫]
আর যারা শুধুমাত্র আশা-আকাঙ্খা নিয়ে এবাদত করে তারা মুরজিয়া এবং যারা শুধুমাত্র ভয়-ভীতি নিয়ে এবাদত করে তারা খারেজী।
আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর নবী-রসূলগণ সম্পর্কে বলেন: “তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।” [সূরা আম্বিয়া: ৯০]
আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর মুমিন বান্দাদের সম্পর্কে বলেন: “তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।” [সূরা সাজদাহ: ১৬]
📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর গুরুত্ব, অর্থ
(ক) এর গুরুত্ব:
ইহা কালেমা তুইয়িবা (পবিত্র বাণী)।
ইহা কালেমাতুত্তাওহীদ (তাওহীদের মূল বাণী)।
ইহা কালেমাতুত্তাকওয়া (তাকওয়ার বাণী)।
ইহা জান্নাত লাভের বাণী।
ইহা জাহান্নাম থেকে নাজাতের বাণী।
ইহা মুসলিমের সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ বাণী।
ইহা ইসলামে প্রবেশকারী বাণী।
ইহা আল-উরওয়াতুল উসকা (সুদৃঢ় হাতল)।
ইহা ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা।
এর জন্যই সবকিছুর সৃষ্টি।
এর জন্যই সকল নবী-রসূলগণের প্রেরণ।
এর জন্যই সমস্ত আসমানী কিতাবের নাজিল।
এর জন্যই হক ও বাতিলের লড়াই।
এর জন্যই জন্নাত-জাহান্নাম।
এর জন্যই মুওয়াহ্হীদ ও মুশরিক এবং মুমিন ও কাফির।
এহাই না থাকার জন্য কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।
(খ) এর অর্থ:
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর অর্থ: একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ তথা মা'বুদ-উপাস্য নেই। এ কালেমাটির দু'টি রোকন রয়েছে। (এক) লা ইলাহা। (দুই) ইল্লাল্লাহ। প্রথমটির অর্থ আল্লাহ ব্যতীত সকল প্রকার উপাস্যকে অস্বীকার করা এবং বাতিল বলে বিশ্বাস করা। আর আল্লাহ ছাড়া কেউ এবাদতের হকদার নয় দৃঢ়ভাবে আকিদা পোষণ করা। আর দ্বিতীয় রোকটির অর্থ হলো: সকল প্রকার ও সর্ব অবস্থায় একমাত্র এবাদতের হকদার আল্লাহ তা'য়ালা। তাঁরই জন্য সমস্ত এবাদত নির্দিষ্ট করা এবং অন্যান্য সকল উপাস্যর এবাদত ত্যাগ করা।
"আল্লাহ” শব্দটির মূল "ইলাহ”-এর অর্থ সেই মহান সত্ত্বা যাঁকে পরম ও চরম শ্রদ্ধাভরে, দিল উজাড় করে ভালবেসে, আশা-আকাঙ্খা, ভয়-ভীতি, ভরসা ও কাকুতিমিনতি সহকারে যাঁর এবাদত করা হয়।
এছাড়া এ কালেমার কিছু অর্থ ইসলামী সমাজ ও ইসলামী দলে প্রচলিত রয়েছে যা বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। যেমন:
১. “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর অর্থ: আল্লাহ ছাড়া নেই কোন বিধানদাতা। ইহা হাকেমিয়্যা দলের বাতিল অর্থ।
২. "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর অর্থ: কিছুইতে কিছু হয় না, যাকিছু হয় সবই আল্লাহর দ্বারাই হয়। ইহা মুরজিয়্যা দলের বাতিল অর্থ।
৩. “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর অর্থ: অস্তিত্বে যাকিছু আছে সবই আল্লাহ। ইহা অস্তিত্ববাদী দলের বাতিল আকিদা। তারা বলে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মাঝে লুকিয়ে আছে। আর ফানা ফিল্লাহ তথা স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাধ্যে কোন পার্থক্য নেই বরং একজন আরেক জনের মাঝে একাকার হয়ে যায়।
(গ) এর ফজিলত:
† এ কলেমা এক পাল্লায় এবং সাত তবক আসমান ও সাত তবক জমিন অন্য পাল্লায় দিলে কালেমার পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। [বিশুদ্ধ হাদীস]
† এ কালেমা সর্বোত্তম জিকির। [হাসান হাদীস]
† এ কালেমা মৃত্যুর সময় যার শেষ বাণী হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [বিশুদ্ধ হাদীস]
† এ কালেমার যে সত্যকারে সাক্ষ্য দেবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [বিশুদ্ধ হাদীস]
† এ কালেমা যে নিষ্ঠার সাথে বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [বিশুদ্ধ হাদীস]
† এ কালেমা যে বলবে তার জীবন, সম্পদ ও ইজ্জত নিরাপদ লাভ করবে। [বিশুদ্ধ হাদীস]
(ঘ) এর শর্তাবলী:
এ কালেমার ৮টি শর্ত রয়েছে যতক্ষণ এগুলো এক সঙ্গে না পাওয়া যাবে ততক্ষণ তার উপকারিতা আশা করা যাবে না।
১. জ্ঞান: এ কালেমার নেতিবাচক (শিরক) ও ইতিবাচক (তাওহীদ) অর্থের জ্ঞান রাখা। এ জ্ঞান ছাড়া শুধুমাত্র অন্ধের মত পড়লে পাঠকারীর কোন উপকারে আসবে না। আর এর বিপরীত অজ্ঞতা হতে মুক্ত থাকা জরুরি। [দলিল: সূরা মুহাম্মাদ: ৯, সূরা জুখরুফ: ৮৬]
২. একিন: এ কালেমার মর্মার্থকে একিন ও দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করা এবং এর বিপরীত সন্দেহ ও সংশয় হতে দূরে থাকা। এ ছাড়া কালেমা উপকারে আসবে না। [দলিল: সূরা হুজুরাত:১৫]
৩. এখলাস: এ কালেমা নিখাদ ও নিষ্ঠার সাথে পাঠ করা। আর এখলাসের বিপরীত সর্বপ্রকার শিরক থেকে মুক্ত থাকা নচেৎ পাঠকারীর কোন উপকারে আসবে না। [দলিল: সূরা বায়্যিনাহ:৫]
৪. সত্যতা: এ কালেমা অন্তর থেকে সত্যতার সাথে পড়া। আর সত্যতার বিপরীত মিথ্যা হতে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকা আবশ্যকীয়। [দলিল: সূরা আনকাবূত: ১-৩]
৫. মহব্বত: এ কালেমাকে ভালবাসা এবং এর দাবী মোতাবেক আমলকারীদেরকেও মহব্বত করা। [দলিল: সূরা বাকারা: ১৬৫ সূরা মায়েদা: ৫৪]
৬. আনুগত্য: এ কালেমা যা প্রমাণ করে তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল আমলের অনুগত হওয়া এবং এর বিপরীত পরিত্যাগ করা হতে বিরত থাকা। [দলিল: সূরা জুমার: ৫৪ সূরা নিসা: ১২৫, ৬৫]
৭. গ্রহণ: এ কালেমার দাবী তথা কোন শরিক ছাড়া এক আল্লাহর এবাদত করা। এ ছাড়া অন্যান্য সকল উপাস্যকে ত্যাগ করা। আর এর বিপরীত গ্রহণ না করা হতে মুক্ত থাকা; কারণ যারা এ কালেমা বলল কিন্তু গ্রহণ করল না এবং কর্তব্য পালন করল না তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: "তাদের যখন বলা হত, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই তখন তারা ঔদ্ধত প্রদর্শন করত। আর বলত, আমরা কি এক উম্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব? [সূরা সাফফাত:৩৫-৩৬]
৮. অস্বীকার: আল্লাহ তা'য়ালা ব্যতীত যেসব তাগূতের এবাদত করা হয় সেগুলোকে অস্বীকার করা। আর সকল এবাতদকে একমাত্র আল্লাহ ওয়াহদাহু লা শারীকের জন্য নির্দিষ্ট করা। [দলিল: সূরা বাকারা: ২৫৬]
📄 তাওহীদের উপকারিতা
(ক) দুনিয়াতে:
১. নিরাপত্তা ও হেদায়েত লাভ।
২. আল্লাহ তা'য়ালার পক্ষ থেকে সাহায্য ও মদদ লাভ।
৩. প্রকৃত সুখ-শান্তি লাভ।
৪. একতা ও ঐক্য সৃষ্টি।
৫. মুসলিম উম্মার শক্তি অর্জন।
৬. আল্লাহ তা'য়ালার সন্তুষ্টি ও সওয়াব হাসিল।
৭. রিজিকে বরকত হাসিল।
৮. অন্তরে প্রশান্তি ও স্থিরতা লাভ এবং অস্থিরতা দূর হওয়া।
৯. শারীরিক ও মানসিক আরাম-আয়েশ।
১০. বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়া থেকে নিরাপদ।
১১. বিবেক ও চরিত্রের হেফাজত।
১২. সকল এবাদত কবুল হওয়ার আশা।
১৩. ভ্রষ্টতা ও বক্রতা থেকে হেফাজত।
১৪. দুঃখ-কষ্ট এবং শাস্তি লাঘব।
১৫. ভাল কাজ করতে ও খারাপ কাজ ছাড়তে সহজ হওয়া।
১৬. অপছন্দনীয় জিনিসসমূহ হালকা অনুভব করা এবং দুঃখ-দুর্দশা সহজ হওয়া।
১৭. মানুষের গোলামী, ভয়-ভীতি এবং তাদের থেকে আশা-আকাঙ্খা ও মখলুকের উদ্দেশ্যে আমল করা থেকে সম্পূর্ণ আজাদ ও স্বাধীন হওয়া।
১৮. ঈমানের ভালবাসা এবং হৃদয়ের সৌন্দর্য এবং কুফরি, অপকর্ম ও অবাধ্যতার ঘৃণা।
(খ) আখেরাতে:
১. কবরের ফেতনা ও আজাব থেকে নিস্কৃতি লাভ।
২. হাশরের ময়দানে ভয়-ভীতি না হওয়া।
৩. জাহান্নামে প্রবেশ করলেও চিরস্থায়ী জাহান্নামী না হওয়া।
৪. পরিপূর্ণ তাওহীদ হলে সরাসরি জান্নাত লাভ।
৫. রোজ কিয়ামতের দ্বীনে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর শাফা'আত তথা সুপারিশ লাভ।
📄 তাওহীদ বিনষ্টকারী কারণসমূহ
১. দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা।
২. অন্যান্য ধর্মের অনুপ্রবেশ ও কুপ্রভাব। যেমন: ইহুদি, খ্রীষ্টান, হিন্দু, মাজুসী তথা অগ্নিপূজকদের আকিদা ও বিভিন্ন দর্শন।
৩. দ্বীন সম্পর্কে গাফেল তথা অবহেলা।
৪. নক্স তথা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ।
৫. বিভিন্ন প্রকার বাতিল দলের অসংখ্য সংশয় ও সন্দেহ।
৬. ইসলামের নামে বিভিন্ন প্রকার বাতিল তরীকা, ফের্কা ও আকিদার কুপ্রভাব।
৭. বিজাতীয়দের দুশমনি ও তাদের তাওহীদ ধ্বংসের বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী।
৮. অলিদের নামে ও তাদের কবর নিয়ে অতিরঞ্জন বাড়াবাড়ি।
৯. শয়তানের অলিদেরকে আল্লাহর অলি বানিয়ে সাধারণ মানুষের নিকট প্রচার-প্রসার।
১০. জিন ও মানুষ শয়তানের ষড়যন্ত্র।
১১. ব্যক্তিগত রুচি দ্বারা বিভিন্ন বাতিল আকিদার আবিষ্কার, যা প্রচলিত ভ্রষ্ট সূফীদের কারবার। এরা যার যার আপন রুচিমত আকিদা রচনা করেছে।
১২. কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসের উপরে নিজেদের বিবেক বুদ্ধিকে প্রাধান্য দেয়া। আর ইহা করেছে বিভিন্ন ইসলামী যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা।
১. দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা।
২. অন্যান্য ধর্মের অনুপ্রবেশ ও কুপ্রভাব। যেমন: ইহুদি, খ্রীষ্টান, হিন্দু, মাজুসী তথা অগ্নিপূজকদের আকিদা ও বিভিন্ন দর্শন।
৩. দ্বীন সম্পর্কে গাফেল তথা অবহেলা।
৪. নক্স তথা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ।
৫. বিভিন্ন প্রকার বাতিল দলের অসংখ্য সংশয় ও সন্দেহ।
৬. ইসলামের নামে বিভিন্ন প্রকার বাতিল তরীকা, ফের্কা ও আকিদার কুপ্রভাব।
৭. বিজাতীয়দের দুশমনি ও তাদের তাওহীদ ধ্বংসের বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী।
৮. অলিদের নামে ও তাদের কবর নিয়ে অতিরঞ্জন বাড়াবাড়ি।
৯. শয়তানের অলিদেরকে আল্লাহর অলি বানিয়ে সাধারণ মানুষের নিকট প্রচার-প্রসার।
১০. জিন ও মানুষ শয়তানের ষড়যন্ত্র।
১১. ব্যক্তিগত রুচি দ্বারা বিভিন্ন বাতিল আকিদার আবিষ্কার, যা প্রচলিত ভ্রষ্ট সূফীদের কারবার। এরা যার যার আপন রুচিমত আকিদা রচনা করেছে।
১২. কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসের উপরে নিজেদের বিবেক বুদ্ধিকে প্রাধান্য দেয়া। আর ইহা করেছে বিভিন্ন ইসলামী যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা।