📘 তাওহিদ ও তার উপকারিতা > 📄 এবাদতের ক্ষেত্রে মানুষের প্রকার

📄 এবাদতের ক্ষেত্রে মানুষের প্রকার


১. না আল্লাহ তা'য়ালার এবাদত করে আর না অন্য কারো এবাদত করে। (নাস্তিক)
২. আল্লাহ তা'য়ালার এবাদত করে এবং অন্যেরও এবাদত করে। (মুশরিক)
৩. আল্লাহ তা'য়ালার এবাদত করে না বরং অন্যের এবাদত করে। (মুশরিক)
৪. একমাত্র আল্লাহ তা'য়ালার এবাদত করে আর অন্য কারো এবাদত করে না। (মুমিন)
উপরের তিন প্রকার মানুষের ঠিকানা হবে জাহান্নাম আর শেষ প্রকারের স্থান হবে জান্নাত।

📘 তাওহিদ ও তার উপকারিতা > 📄 তাওহীদ ও তার প্রকার

📄 তাওহীদ ও তার প্রকার


তাওহীদের সংজ্ঞা: ‘তাওহীদ’ আরবী শব্দ যার আভিধানিক অর্থ কোন কিছুকে একক সাব্যস্ত করা। আর ইহা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্যে প্রযোজ্য নয়; কারণ আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুর সদৃশ ও দ্বিতীয় রয়েছে。
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: “তাঁর কোন সদৃশ নেই। তিনি শুনেন ও দেখেন।” [সূরা শূরা:১১]
ইসলামের পরিভাষায় তাওহীদ হচ্ছে: আল্লাহকে তাঁর রবুবিয়াতে (কাজে), আসমা ও সিফাতে (নামসমূহ, গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যে) একক সাব্যস্ত করা এবং উলুহিয়াতে তথা বান্দার সকল এবাদت একমাত্র তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট করাকে তাওহীদ বলে। তাওহীদকে জানা, অন্তরে তা দৃঢ় বিশ্বাস করা। ও সর্বপ্রকার কথা, কাজে, এবাদতে ও অবস্থায় তা বাস্তবায়ন করা ফরজ।
তাওহীদের প্রকারসমূহ: তাওহীদুর রাবুবিয়্যাহ। তাওহীদুল আসমা ওয়াসিফাত। তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ।
প্রথমত: তাওহীদুর রাবুবিয়্যাহ: সংজ্ঞা: তাওহীদুর রাবুবিয়্যাহ হলো আল্লাহ তা'য়ালার কাজে তাঁকে একক সাব্যস্ত করা। যেমন: সৃষ্টি করা, রাজত্ব পরিচালনা করা ও মহা ব্যবস্থাপনা। তিনিই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, জীবন ও মরণদাতা, লাভ ও ক্ষতির ইত্যাদির একমাত্র তিনিই মালিক।
তাওহীদের এ প্রকারটি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগের মুশরেকরা স্বীকার করেছিল। কিন্তু ইহা তাদেরকে ইসলামে প্রবেশ করায়নি; বরং রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সাথে যুদ্ধ করেছেন এবং আল্লাহ তাদেরকে হত্যা করা ও সম্পদকে বাজেয়াপ্ত করা হালাল করে দিয়েছিলেন।
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন: "জেনো রাখো, সৃষ্টির একমাত্র কর্তা তিনিই আর হুকুমের একমাত্র মালিক তিনিই।" [সূরা আ'রাফ: ৫৪] আল্লাহ তা'য়ালা আরো বলেন: "এবং আসমান-জমিনের মালিকত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্যই।” [সূরা জাছিয়া: ২৭] আল্লাহ তা'য়ালা আরো বলেন: “তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, আকাশসমূহ ও জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে: আল্লাহ।” [সূরা লোকমান: ২৫]
আল্লাহ তা'য়ালা আরো বলেন: “সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহর জন্যই।” [সূরা ফাতিহা: ১]
দ্বিতীয়ত: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ:
সংজ্ঞা: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ হলো: সকল প্রকার এবাদত একমাত্র আল্লাহ তা'য়ালার জন্য নির্দিষ্ট করা। যেমন: দোয়া, জবাই, নজর-মান্নত, সালাত, কুরবানি ইত্যাদি।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য এবাদত না করা, চাই কোন সম্মানিত ফেরেশতা হোক বা কোন নবী-রসূল কিংবা অলি-বুজুর্গ হোক। একমাত্র আল্লাহ তা'য়ালার জন্যই সকল প্রকার এবাদত করাই বান্দার প্রতি সবচেয়ে বড় এবং সর্বপ্রথম ফরজ।
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন: "আল্লাহর এবাদত করবার ও তাগুতকে বর্জন করবার নির্দেশ দিবার জন্যেই আমি তো প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রসূল পাঠিয়েছি।” [সূরা নাহল: ৩৬]
আল্লাহ তা'য়ালা আরো বলেন: "বল! তিনিই আল্লাহ একক।” [সূরা এখলাস: ১]
তৃতীয়ত: তাওহীদুল আসমা ওয়াসিফাত:
ক) "ইসম” শব্দের বহুবচন আসমা।' অর্থাৎ নামসমূহ যেমন: আররহমান, আররহীম, আল-কু-হির, আল-কুদদূস ইত্যাদি।
খ) “সিফাহ” শব্দের বহুবচন সিফাত অর্থাৎ গুণাবলী ও বৈশিষ্ট।
গ) তাওহীদুল আসমা ওয়াসসিফাতের সজ্ঞা: আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর কিতাব কুরআনুল কারীমে এবং নবী ﷺ তাঁর বিশুদ্ধ হাদীসসমূহে যে সকল আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ, মহান গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করেছেন সেগুলোকে হুবহু সাব্যস্ত করা। আর যে সকল নামসমূহ, গুণাবলী ওবৈশিষ্টকে অস্বীকার করেছেন সেগুলোকে অস্বীকার করা। আর ইহা কারো সাথে কোন প্রকার সদৃশ বা অর্থের পরীবর্তন ঘটানো কিংবা ইচ্ছামত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা অথবা অর্থ বিলুপ্ত করা ছাড়াই হতে হবে। আর কোন ধরণ ও আকৃতি ছাড়াই সাব্যস্ত করতে হবে। ইহাই সঠিক আকিদা এ ছাড়া সবই বাতিল বিশ্বাস।
আল্লাহ তা'য়ালার গুণাবলী দুই প্রকার:
(ক) সিফাত যাতীয়্যাহ তথা সত্ত্বীয় গুণাবলী: যেগুলো সর্বদা তাঁর সাথে মিলিত। যেমন: জ্ঞান, শক্তি, শুনা, দেখা, কথোপকথন ইত্যাদি। এর মধ্যে আবার কিছু আছে যেগুলো "সিফাত খাবারিয়‍্যাহ” তথা আল্লাহ তা'য়ালা যেগুলো সিফাতের খবর দিয়েছেন। যেমন: আল্লাহর চেহারা, তাঁর দু'হাত ও তাঁর দু'চোখ ইত্যাদি।
(খ) সিফাত ফে'লীয়‍্যাহ তথা কার্যীয় গুণাবলী: যেগুলো আল্লাহ তা'য়ালার ইচ্ছার সাথে সম্পর্ক। তিনি চাইলে করেন আর না চাইলে করেন না। যেমন: দুনিয়ার আসমানে 'নুজুল' তথা অবতরণ, আরশের উপর 'ইসতিওয়াা' তথা ওপরে উঠা ও ঊর্ধ্বে থাকা ইত্যাদি।
নোট:
আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত একটি আকিদা আছে যে, আল্লাহ তা'য়লা সর্বত্র বিরজমান। এর অর্থ যদি এ হয় যে, আল্লাহর শক্তি, দৃষ্টি, সাহায্য, মহা ব্যবস্থাপনা, প্রতিপালন ইত্যাদি সর্বত্র বিরাজমান তাহলে আকিদা সঠিক। আর যদি এর অর্থ এ হয় যে, মহান আল্লাহ তা'য়ালার যাত তথা সত্ত্বা সর্বত্র বিরাজমান তাহলে ইহা বাতিল আকিদা; কারণ আল্লাহ তা'য়ালা সপ্তম আকাশে আরশে আযীমের উপরে আছেন বিশ্বাস করা ফরজ। এর বিপরীত আকিদা পোষণ করা কুফরি।
এছাড়াও আরো একটি আকিদা প্রচলিত আছে যে, আল্লাহ তা'য়ালা নিরাকার। এর অর্থ যদি এ হয় যে, আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর কোন সৃষ্টির সদৃশ আকার নয় তাহলে আকিদা সঠিক। কারণ এ বিশ্বাস করা ফরজ যে, আল্লাহ তা'য়ালার স্বকার তাঁর মহত্ত্ব ও মর্যাদার জন্য উপযুক্ত সিফাত তথা গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য দ্বারা ভূষিত। আর যদি আল্লাহ তা'য়ালার নিজস্ব উপযুক্ত সিফাত দ্বারা যে তাঁর স্বকার আছে তা অস্বীকর করে বলে: "আল্লাহ নিরাকার" তাহলে ইহা বাতিল আকিদা; কারণ এর দ্বারা আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হবে। এ ছাড়া আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর সৃষ্টির সাথে সদৃশ ও রূপকে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তাঁর নিজস্ব স্বকারকে সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "কোন কিছুই তাঁর (আল্লাহর) অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।” [সূরা শূরা: ১১]
এ আয়াতের প্রথমাংশে আল্লাহ তা'য়ালা সৃষ্টির সাথে তাঁর অনুরূপ ও সদৃশকে অস্বীকার করেছেন। আর দ্বিতীয়াংশে নিজস্ব দু'টি গুণ শুনেন ও দেখেন সাব্যস্ত করে নিজস্ব স্বকার সাব্যস্ত করেছেন। ইহাই হচ্ছে সকল ইমামগণের আকিদা। এর বিপরীত আকিদা আহলুসুন্নাহ ওয়ালজামাতের পরিপন্থী বাতিল আקיদা।
আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে ৩টি দল ভ্রষ্ট
প্রথম দল: মু'য়াত্তেলা তথা আল্লাহর গুণাবলী ও বৈশিষ্টকে অস্বীকারকারী দল, যারা আল্লাহর সকল নামসমূহ, গুণাবলী ও বৈশিষ্টকে অথবা কিছুকে অস্বীকার করে। তাদের ধারণা যে, ইহা আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করলে সৃষ্টির সঙ্গে সদৃশ অপরিহার্য হয়ে পড়বে যা জায়েয নয়। তাদের এ ধারণা কয়েকটি কারণে বাতিল:
১. এ বিশ্বাসের কারণে আরো অনেকগুলো বাতিল জিনিস অপরিহার্য হয়ে যাবে। যেমন: আল্লাহর কুরআনের বাণীসমূহে বৈপরীত্য দেখা দেবে; কেননা আল্লাহ তা'য়ালা নিজের জন্য নামসমূহ ও গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করেছেন এবং অন্য দিকে তাঁর সদৃশকে অস্বীকার করেছেন। অতএব, উহা সাব্যস্ত করা যদি সদৃশ্যতা অপরিহার্য হয়, তবে আল্লাহর বাণীর মধ্যে পরসস্পর বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং এক অংশ অন্য অংশকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে যা মোটেই সম্ভব নয়।
২. দু'টি জিনিস কোন নামে বা গুণে কিংবা বৈশিষ্ট্যে এক হওয়াটা একটি অপরটির অনুরূপ হতেই হবে এমন কথা জরুরি নয়। আপনি দু'জন মানুষকে দেখুন, তারা দু'জনেই মানুষ, দু'জনেই শুনেন, দু'জনেই দেখেন, দু'জনেই কথা বলেন। কিন্তু এর জন্য অপরিহার্য না যে, দু'জনেই মানবতায়, শ্রবণে, দৃষ্টিপাতে ও কথোপকতনে একে অপরের সদৃশ হতেই হবে। আপনি জীবজন্তু দেখবেন তাদের হাত, পা ও চোখ রয়েছে কিন্তু একই জাতির হলেই যে, হাতে, পায়ে ও চোখে সদৃশ হওয়া অপরিহার্য তা নয়। সুতরাং সৃষ্টি জিবের মধ্যে নামে বা গুণে কিংবা বৈশিষ্ট্যে মিল থাকার পরেও যখন অদৃশ্যতা সুস্পষ্ট তাহলে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য হওয়াটা আরো বড় ও সুস্পষ্ট।
দ্বিতীয় দল: মুশাব্বিহা ও মুজাস্সামা তথা সদৃশকারী দল, যারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলী এবং বৈশিষ্টকে সৃষ্টির সাথে সদৃশ সাব্যস্ত ক'রে। তাদের ধারণা হলো যে, ইহাই দলিলসমূহের দাবি; কারণ আল্লাহ তা'য়ালা বান্দাকে এমন বিষয়ে সম্বোধন করেন যা তাদের বিবেক সম্মত। তাদের এ ধারণা কয়েকটি কারণে বাতিল:
১. আল্লাহ তা'য়ালা সৃষ্টির সদৃশ হওয়া এমন একটি জিনিস যা বিবেক ও শরিয়ত বাতিল বলে প্রমাণ করে। আর স্মরণ রাখতে হবে যে, কুরআন ও সুন্নাহ কোন বাতিল সম্মত জিনিস হতে পারে না।
২. আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে এমন বিষয়ের সম্বোধন করেন যা প্রকৃত অর্থের দিক থেকে বোধ সম্মত। কিন্তু তার হকিকত ও প্রকৃত জ্ঞান যা তাঁর সত্ত্বা ও গুণাবলী এবং বৈশিষ্টের সাথে সম্পর্ক একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। অতএব, যদি আল্লাহ তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেন যে, তিনি শ্রবণকারী তাহলে প্রকৃত অর্থের দিক থেকে শ্রবণের অর্থ জানা ব্যাপার। কিন্তু আল্লাহ তা'য়ালার শ্রবণ কেমন এর হকিকত অজানা; কারণ শ্রবণের হকিকত সৃষ্টি জীবের মধ্যেও পার্থক্য হয়ে থাকে। সুতরাং স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্যটা আরো সুস্পষ্ট ও বড়।
অতএব, আল্লাহ তা'য়ালা যদি নিজের সত্ত্বা সম্পর্কে খবর দেন যে, তিনি আরশের উপরে আছেন তাহলে আসল অর্থের দিক থেকে ইহা জানা কথা। কিন্তু তাঁর বিদ্যমান থাকার প্রকৃত অবস্থা অর্থাৎ কিভাবে আছেন তা অজানা; কেননা বিদ্যমান থাকার হকিকত সৃষ্টির মধ্যেও আছে। যেমন: একটি চেয়ারের উপর সমাসীন হওয়াটা এবং একটি দ্রুত ভাগন্ত উটের উপর সমাসীনের মত নয়। তাহলে বুঝা গেল যে, যখন সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে তাহলে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য থাকাটা সুস্পষ্ট ও বড়।
তৃতীয় দল: মুওয়াওবিলা তথা আল্লাহর সিফাতগুলোকে তা'বীল অর্থাৎ-ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকারী দল। যেমন: আল্লাহর হাত মানে কুদরতী হাত, আল্লাহর চোখ মানে কুদরতী চোখ এবং ইস্তাওয়া অর্থ ইস্তাওলা ইত্যাদি। তাদের এ আকিদা কয়েকটি কারণে বাতিল:
১. এর দ্বারা প্রকৃত অর্থ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
২. এর দ্বারা আল্লাহকে তাঁর প্রকৃত গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য হতে শূন্য করা হয়।
৩. এর দ্বারা সঠিক আকিদার স্থানে বাতিল আקיদার জন্ম নেই।
মুওয়াত্তেলা দল শিরক থেকে বাঁচার জন্য অস্বীকার করে কুফরি করেছে। আর মুশাব্বিাহা দল সাব্যস্ত করতে গিয়ে শিরকে পতিত হয়েছে। আর মুওয়াওবিলা দল তা'বীল (ব্যাখ্যা) করতে গিয়ে মূল জিনিসকে অস্বীকার করেছে। আর আহলে সুন্নত ওয়ালজামাত আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্যে তাঁর মহত্ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেমন উপযুক্ত হুবহু তাই সাব্যস্ত করে সর্বপ্রকার সমস্যা ও বিপদ হতে মুক্ত রয়েছে।

📘 তাওহিদ ও তার উপকারিতা > 📄 এবাদত ও তার প্রকার

📄 এবাদত ও তার প্রকার


এবাদতের সংজ্ঞা: এবাদতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে: অনুগত, অবনত ও বশ্যতা। আর ইসলামী পরিভাষায় এবাদত হলো: ঐ সকল কথা ও কাজ চাই উহা প্রকাশ্য হোক বা গোপনীয় হোক যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং করলে খুশী হন।
আল্লাহ তা'য়ালার নির্দেশিত কাজ বা কথা এবাদত; কারণ তিনি তা পছন্দ করেন এবং খুশী হন। অনুরূপভাবে তাঁর নিষিদ্ধকৃত কাজ বা কথা ত্যাগ করাও এবাদত; কারণ তিনি তা ত্যাগ করা পছন্দ করেন এবং তাতে খুশী হন। এক কথায় ভাল কাজ করা বা কথা বলা যেমনভাবে এবাদত তেমনি খারাপ কাজ না করা বা খারাপ কথা না বলাও এবাদত।
* এবাদতের প্রকার: এবাদত বিভিন্নভাবে হতে পারে যথা:
১. মুখ-জবান দ্বারা এবাদত:
যেমন: বিভিন্ন প্রকার জিকির-আজকার ও দোয়া, কুরআন তেলাওয়াত, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, ইসলাম, ক্ষমা ও বিপদ মুক্তি চাওয়া ইত্যাদি।
২. অন্তর দ্বারা এবাদত: যেমন: আশা-আকাঙ্খা, ভয়-ভীতি, ভরসা, ঈমান, তওবা, এহসান, ভালবাসা ইত্যাদি।
৩. শরীর দ্বারা এবাদত: যেমন: সালাত, জিহাদ ইত্যাদি।
৪. মাল দ্বারা এবাদত: যেমন: জাকাত, ফেতরা, দান-খয়রাত ইত্যাদি।
৫. মাল ও শরীর দ্বারা এবাদত: যেমন: হজ্ব ইত্যাদি।
৬. অন্তর ও শরীর দ্বারা এবাদত: যেমন: রোজা, ইস্তি'আনা (সাহায্য চাওয়া), ইস্তিগাছা (বিপদ মুক্তির জন্য ডাকা), ইস্তি'আযা (কারো অনিষ্ট দূর করার জন্য আল্লাহ তা'য়ালার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করা) জবাই, নজর-নিয়াজ, অসিলা ইত্যাদি।
এবাদত কবুলের শর্ত
যে কোন এবাদত কবুলের জন্য শর্ত তিনটি:
১. সঠিক ও বিশুদ্ধ ঈমান: ঈমান সর্বপ্রকার কুফরি ও শিরকি আকিদা থেকে মুক্ত হতে হবে; কারণ মক্কার কাফের-মুশরেক এমনকি আবু জাহল, আবু লাহাব, উৎবা, শাইবা বড় বড় মুশরেকদের নেতারাও এবাদত করত। যেমন তারা হজ্ব-উমরা ও আকীকা-কুরবানি ইত্যাদি এবাদত করত। কিন্তু তাদের ঈমান ছিল শিরক ও কুফর মিশ্রিত। তাই আল্লাহ তা'য়ালা তাদের কোন এবাদত কবুল করেননি। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: “যে লোক পুরুষ হোক কিংবা নারী, কোন সৎকর্ম ঈমান সহকারে সম্পাদন করে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রাপ্য তিল পরিমাণও নষ্ট করা হবে না।” [সূরা নিসা: ১২৪]
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "পুরুষ হোক বা নারী যে ঈমান অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার দেব যা তারা করত।" [সূরা নাহল: ৯৭]
আরো আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"আর যে পুরুষ অথবা নারী ঈমান অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বে-হিসাব রিজিক দেয়া হবে।” [সূরা মু'মিন: ৪০]
২. এখলাস: যে কোন এবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হতে হবে। যে এবাদত মানুষ দেখানো বা শুনানোর কিংবা দুনিয়ার কোন সার্থ হাসিলের জন্য হবে তা কবুল হবে না। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে।" [সূরা বাইয়িনাহ:৫]
আরো আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "বলুন, আমি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর এবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি।” [সূরা জুমার: ১১]
আবু হুরাইরা [] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [] বলেছেন। আল্লাহ তাবারক ওয়া তা'য়ালা বলেন: "আমি শরীকানা ও অন্যান্য থেকে অমুখাপেক্ষী। যে এমন আমল করে যাতে আমার সাথে অন্যকে শরিক করে, আমি তাকে এবং তার শিরককৃত আমলকে ত্যাগ করি।” [মুসলিম]
৩. শুধুমাত্র নবী []-এর সুন্নতের অনুসরণ: যে কোন এবাদত যেমন একমাত্র আল্লাহর জন্য হতে হবে অনুরূপ তার পদ্ধতিটি হতে হবে একমাত্র নবী[]-এর। নবী []-এর তরীকা ও পদ্ধতি বহির্ভূত কোন নিয়ম ও পন্থায় যতই ভাল মনে করে এবাদত করা হোক তা পরিত্যাজ্য ও পরিত্যাক্ত। আমলের বার্ষিকটা হবে একমাত্র নবীর সুন্নত মোতাবেক এবং আভ্যন্তরীণটা হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরিক না করে।” [সূরা কাহফ: ১১০]
সৎকর্ম সঠিক ও বিশুদ্ধ তখনই হবে যখন একমাত্র নবী ﷺ-এর শরিয়ত মোতাবেক এবং একনিষ্ঠভাবে শিরক মুক্ত হবে। [তাফসীর ইবনে কাসীর: ২/২০৮] নবী ﷺ বলেন:
আয়েশা [রাঃ] থকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মাঝে নতুন কিছু বিদাত আবিস্কার করে, যা তার অন্তর্ভুক্ত না তা প্রত্যাখ্যাত।” [বুখারী ও মুসলিম] মসুলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে নবী ﷺ বলেন: "যে ব্যক্তি এমন আমল করে যা আমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় তা পরিত্যাজ্য।” [মুসলিম]
এবাদত কখন কবুল হবে আর কখন হবে না
পূর্বে উল্লেখিত এবাদত কবুলের তিনটি শর্ত এক সাথে পাওয়া গেলে কবুল হবে নচেৎ কবুল হবে না। এবাদত কখন কবুল হবে আর কখন কবুল হবে না তা সহজে বুঝার জন্য নিম্নে একটি তালিকা প্রদান করা হলো। এখনে দেখছেন শুধুমাত্র একটি অবস্থায় আমল কবুল হবে আর বাকি সাত অবস্থায় কবুল হবে না।
হুকুম | সঠিক ঈমান | এখলাস | নবীর সুন্নত
✓ | ✓ | ✓ | ✓ | ☑
✓ | ✓ | ✓ | ☑ | ☑
✓ | ✓ | ☑ | ✓ | ☑
✓ | ☑ | ☑ | ☑ | ☑
✓ | ☑ | ☑ | ✓ | ☑
☑ | ☑ | ☑ | ☑ | ☑
এ ছাড়া এবাদত মহব্বত, তার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি, সওয়াব ও জান্নাতের আশা-আকাঙ্খা ও আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও জাহান্নামের ভয়-ভীতি সহকারে করতে হবে। যারা শুধুমাত্র মহব্বত দ্বারা এবাদত করে তারা জিন্দীক তথা বড় মুনাফিক।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“আর কিছু মানুষ রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশি।” [সূরা বাকারা: ১৬৫]
আর যারা শুধুমাত্র আশা-আকাঙ্খা নিয়ে এবাদত করে তারা মুরজিয়া এবং যারা শুধুমাত্র ভয়-ভীতি নিয়ে এবাদত করে তারা খারেজী।
আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর নবী-রসূলগণ সম্পর্কে বলেন: “তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।” [সূরা আম্বিয়া: ৯০]
আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর মুমিন বান্দাদের সম্পর্কে বলেন: “তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।” [সূরা সাজদাহ: ১৬]

📘 তাওহিদ ও তার উপকারিতা > 📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর গুরুত্ব, অর্থ

📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর গুরুত্ব, অর্থ


(ক) এর গুরুত্ব:
ইহা কালেমা তুইয়িবা (পবিত্র বাণী)।
ইহা কালেমাতুত্তাওহীদ (তাওহীদের মূল বাণী)।
ইহা কালেমাতুত্তাকওয়া (তাকওয়ার বাণী)।
ইহা জান্নাত লাভের বাণী।
ইহা জাহান্নাম থেকে নাজাতের বাণী।
ইহা মুসলিমের সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ বাণী।
ইহা ইসলামে প্রবেশকারী বাণী।
ইহা আল-উরওয়াতুল উসকা (সুদৃঢ় হাতল)।
ইহা ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা।
এর জন্যই সবকিছুর সৃষ্টি।
এর জন্যই সকল নবী-রসূলগণের প্রেরণ।
এর জন্যই সমস্ত আসমানী কিতাবের নাজিল।
এর জন্যই হক ও বাতিলের লড়াই।
এর জন্যই জন্নাত-জাহান্নাম।
এর জন্যই মুওয়াহ্হীদ ও মুশরিক এবং মুমিন ও কাফির।
এহাই না থাকার জন্য কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।
(খ) এর অর্থ:
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর অর্থ: একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ তথা মা'বুদ-উপাস্য নেই। এ কালেমাটির দু'টি রোকন রয়েছে। (এক) লা ইলাহা। (দুই) ইল্লাল্লাহ। প্রথমটির অর্থ আল্লাহ ব্যতীত সকল প্রকার উপাস্যকে অস্বীকার করা এবং বাতিল বলে বিশ্বাস করা। আর আল্লাহ ছাড়া কেউ এবাদতের হকদার নয় দৃঢ়ভাবে আকিদা পোষণ করা। আর দ্বিতীয় রোকটির অর্থ হলো: সকল প্রকার ও সর্ব অবস্থায় একমাত্র এবাদতের হকদার আল্লাহ তা'য়ালা। তাঁরই জন্য সমস্ত এবাদত নির্দিষ্ট করা এবং অন্যান্য সকল উপাস্যর এবাদত ত্যাগ করা।
"আল্লাহ” শব্দটির মূল "ইলাহ”-এর অর্থ সেই মহান সত্ত্বা যাঁকে পরম ও চরম শ্রদ্ধাভরে, দিল উজাড় করে ভালবেসে, আশা-আকাঙ্খা, ভয়-ভীতি, ভরসা ও কাকুতিমিনতি সহকারে যাঁর এবাদত করা হয়।
এছাড়া এ কালেমার কিছু অর্থ ইসলামী সমাজ ও ইসলামী দলে প্রচলিত রয়েছে যা বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। যেমন:
১. “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর অর্থ: আল্লাহ ছাড়া নেই কোন বিধানদাতা। ইহা হাকেমিয়্যা দলের বাতিল অর্থ।
২. "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর অর্থ: কিছুইতে কিছু হয় না, যাকিছু হয় সবই আল্লাহর দ্বারাই হয়। ইহা মুরজিয়্যা দলের বাতিল অর্থ।
৩. “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর অর্থ: অস্তিত্বে যাকিছু আছে সবই আল্লাহ। ইহা অস্তিত্ববাদী দলের বাতিল আকিদা। তারা বলে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মাঝে লুকিয়ে আছে। আর ফানা ফিল্লাহ তথা স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাধ্যে কোন পার্থক্য নেই বরং একজন আরেক জনের মাঝে একাকার হয়ে যায়।
(গ) এর ফজিলত:
† এ কলেমা এক পাল্লায় এবং সাত তবক আসমান ও সাত তবক জমিন অন্য পাল্লায় দিলে কালেমার পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। [বিশুদ্ধ হাদীস]
† এ কালেমা সর্বোত্তম জিকির। [হাসান হাদীস]
† এ কালেমা মৃত্যুর সময় যার শেষ বাণী হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [বিশুদ্ধ হাদীস]
† এ কালেমার যে সত্যকারে সাক্ষ্য দেবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [বিশুদ্ধ হাদীস]
† এ কালেমা যে নিষ্ঠার সাথে বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [বিশুদ্ধ হাদীস]
† এ কালেমা যে বলবে তার জীবন, সম্পদ ও ইজ্জত নিরাপদ লাভ করবে। [বিশুদ্ধ হাদীস]
(ঘ) এর শর্তাবলী:
এ কালেমার ৮টি শর্ত রয়েছে যতক্ষণ এগুলো এক সঙ্গে না পাওয়া যাবে ততক্ষণ তার উপকারিতা আশা করা যাবে না।
১. জ্ঞান: এ কালেমার নেতিবাচক (শিরক) ও ইতিবাচক (তাওহীদ) অর্থের জ্ঞান রাখা। এ জ্ঞান ছাড়া শুধুমাত্র অন্ধের মত পড়লে পাঠকারীর কোন উপকারে আসবে না। আর এর বিপরীত অজ্ঞতা হতে মুক্ত থাকা জরুরি। [দলিল: সূরা মুহাম্মাদ: ৯, সূরা জুখরুফ: ৮৬]
২. একিন: এ কালেমার মর্মার্থকে একিন ও দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করা এবং এর বিপরীত সন্দেহ ও সংশয় হতে দূরে থাকা। এ ছাড়া কালেমা উপকারে আসবে না। [দলিল: সূরা হুজুরাত:১৫]
৩. এখলাস: এ কালেমা নিখাদ ও নিষ্ঠার সাথে পাঠ করা। আর এখলাসের বিপরীত সর্বপ্রকার শিরক থেকে মুক্ত থাকা নচেৎ পাঠকারীর কোন উপকারে আসবে না। [দলিল: সূরা বায়্যিনাহ:৫]
৪. সত্যতা: এ কালেমা অন্তর থেকে সত্যতার সাথে পড়া। আর সত্যতার বিপরীত মিথ্যা হতে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকা আবশ্যকীয়। [দলিল: সূরা আনকাবূত: ১-৩]
৫. মহব্বত: এ কালেমাকে ভালবাসা এবং এর দাবী মোতাবেক আমলকারীদেরকেও মহব্বত করা। [দলিল: সূরা বাকারা: ১৬৫ সূরা মায়েদা: ৫৪]
৬. আনুগত্য: এ কালেমা যা প্রমাণ করে তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল আমলের অনুগত হওয়া এবং এর বিপরীত পরিত্যাগ করা হতে বিরত থাকা। [দলিল: সূরা জুমার: ৫৪ সূরা নিসা: ১২৫, ৬৫]
৭. গ্রহণ: এ কালেমার দাবী তথা কোন শরিক ছাড়া এক আল্লাহর এবাদত করা। এ ছাড়া অন্যান্য সকল উপাস্যকে ত্যাগ করা। আর এর বিপরীত গ্রহণ না করা হতে মুক্ত থাকা; কারণ যারা এ কালেমা বলল কিন্তু গ্রহণ করল না এবং কর্তব্য পালন করল না তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: "তাদের যখন বলা হত, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই তখন তারা ঔদ্ধত প্রদর্শন করত। আর বলত, আমরা কি এক উম্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব? [সূরা সাফফাত:৩৫-৩৬]
৮. অস্বীকার: আল্লাহ তা'য়ালা ব্যতীত যেসব তাগূতের এবাদত করা হয় সেগুলোকে অস্বীকার করা। আর সকল এবাতদকে একমাত্র আল্লাহ ওয়াহদাহু লা শারীকের জন্য নির্দিষ্ট করা। [দলিল: সূরা বাকারা: ২৫৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00