📄 জান্নাত ও জাহান্নাম বিষয়ক আকিদা
(ঘ) জান্নাত এবং জাহান্নাম: এই হল সকল গন্তব্যের শেষস্থান। জান্নাত হলো সম্মানের সর্বোচ্চ স্থান। জাহান্নাম হলো পরিতাপের স্থান। উভয়টি বিদ্যমান আছে। প্রত্যেক স্থানের অধিবাসী সেখানে থাকবে চিরকাল। চির জীবন পাবে, মৃত্যু তাদের স্পর্শ করবে না। মুসলমান পাপী লোক জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে, তাদের গোনাহ অনুযায়ী। যদি আল্লাহ তাদের ক্ষমা না করেন। অত:পর মুক্তি পেয়ে জান্নাতে যাবে। জান্নাত-জাহান্নামের বৈশিষ্টের উপর কোরআন ও হাদীসে বহু জায়গায় বর্ণনা এসেছে, যা সকল মুসলমান জানেন। এরপরও বলতে হয় জান্নাতে আল্লাহ অকল্পনীয় নেয়ামত রাজি রেখেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা হাদীসে কুদসীতে বলেন,
أعدت لعبادي الصالحين، ما لا عين رأت ولا أذن سمعت، ولا خطر على قلب بشر.... (البخاري: ৩০০৫)
'আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন সব নেয়ামত প্রস্তুত করেছি, যা তাদের চোখে দেখেনি, কানে শোনেনি। কোন মানুষ অন্তরে কখনো কল্পনাও করেনি।' তোমাদের ইচ্ছা হলে পড়— فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ (السجدة: ১৭) "কেউ জানেনা তার কৃতকর্মের জন্য কি কি নয়নপ্রীতিকর প্রতিদান লুকায়ীত আছে।"১
আর জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এই সম্পর্কে নবী সা. এর একটি হাদীস যথেষ্ঠ। যাতে বলা হয়েছে:
إن أهون أهل النار عذابا من له نعلان وشراكان من نار يغلي منهما دماغه كما يغلي المرجل ، ما يرى أن أحدا أشد منه عذابا وإنه لأهونهم عذابا. (مسلم: ৩১৪)
'জাহান্নামের শাস্তির দিকে দিয়ে সহজতর শাস্তি ঐ ব্যক্তির হবে, যার পায়ে আগুনের দুইটি পাদুকা ও ফিতা হবে। সেগুলোর তাপে তার মস্তিষ্ক উথলিয়ে যাবে। যেমনিভাবে কড়াইয়ে খাদ্য টগবগ করে ফোটে। এর চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কারো হচ্ছে বলে মনে হবে না। অথচ জাহান্নামীদের মধ্যে তার শাস্তি হচ্ছে সহজতর শাস্তি।'
আজাব এবং পুরস্কার উভয়কে অনুমান করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীসটি একটু চিন্তা করি,
يؤتى بأنعم أهل الدنيا من أهل النار فيصبغ في النار صبغة ثم يقال : يا بن آدم هل مر بك نعيم قط ؟ فيقول: لا والله يا رب ويؤتى بأشد الناس بؤسا في الدنيا من أهل الجنة فيصبغ صبغة في الجنة فيقال: يا ابن آدم هل رأيت بؤسا قط هل مربك من شدة قط ؟ فيقول لا والله يا رب ما رأيت بؤسا قط ولا مر بي من شدة قط. (مسلم : ৫০২১)
'দুনিয়াতে সবচে সুখী ব্যক্তি, অথচ আজ সে জাহান্নামী। তাকে উপস্থিত করা হবে। আর জাহান্নামে একবার মাত্র তাকে চুবানো হবে। অত:পর জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার উপর কি সুখের কোন কাল অতিবাহিত হয়েছিল? সে বলবে, না, হে আল্লাহ! কখনো অতিবাহিত হয়নি। অত:পর দুনিয়াতে সবচে বেশী দূদর্সা, অভাবগ্রস্থ ব্যক্তি আজ সে জান্নাতি তাকেও উপস্থিত করা হবে এবং জান্নাতের মধ্যে একবার মাত্র আবগাহন করানো হবে। অত:পর তাকে জিজ্ঞেসা করা হবে হে বনী আদম! তোমার উপর কি দুঃখের কোন কাল অতিবাহিত হয়েছিল? সে বলবে, হে আল্লাহ! না দুঃখ আমাকে কখনো স্পর্শ করেনি। আর আমি কখনো দুঃখ দেখেনি।'
টিকাঃ
১ সূরা সেজদা: ১৭, বুখারী: ৩০০৫
২ মুসলিম: ৩১৪
১ মুসলিম: ৫০২১
📄 কবরের প্রশ্নোত্তর এবং কবরের সুখ ও শাস্তি বিষয়ক আকিদা
খ(... কবরে জিজ্ঞাসা পরীক্ষা শান্তি ও পুরস্কার:
বারা ইবনে আযেব থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন— يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ (ইব্রাহিম: ২৭) আল্লাহ মুমিনদেরকে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন পার্থিব জীবনে এবং পরকালে।
আয়াতটি কবরের আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে: তাকে প্রশ্ন করা হবে: তোমার প্রভু কে? সে উত্তর বলবে আমার প্রভু আল্লাহ, আমার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। 'আল্লাহ মুমিনদেরকে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন পার্থিব জীবনে এবং পরকালে' (মুসলিম: ৫১১৭) দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য।
আল্লাহ তাআলা ফেরআউনের গোত্রীয় লোকজন সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, কিয়ামতের পূর্বে তাদেরকে জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ বলেন— النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْখِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ (গাফের: ৪৬) 'সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মানুষের মৃত্যুর পর সকাল সন্ধ্যা তার অবস্থানকে তার সামনে উপস্থিত করা হয়। জান্নাতবাসী হলে জান্নাতকে আর জাহান্নামবাসী হলে জাহান্নামকে। অতঃপর বলা হয় কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থানের পর এ হবে তোমার আবাসস্থল।
টিকাঃ
৩. সূরা ইব্রাহীম: ২৭
৪. মুসলিম: ৫১১৭
১. সূরা গাফের: ৪৬
২. বোখারি: ১২৯০
📄 ইমাম চতুষ্টয়ের আকিদা
ওলামাদের কারো কারো থেকে ইজতিহাদ জনিত ভুল-ভ্রান্তি সংঘটিত হওয়ার কারণে তাদের মর্যাদা হ্রাস করা তো বেদআতিদের পন্থা। এবং মুসলমানদের শত্রুদের ষড়যন্ত্রের অংশ-বিশেষ, যারা বিভিন্নভাবে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে করে আসছে। যেমন—যে কোন উপায়ে দ্বীন ইসলামে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি করে দেয়া, মুসলমানদের নিজেদের মাঝে শত্রুতা সৃষ্টি করে দেয়া, উম্মতের পরবর্তীদেরকে পূর্ববর্তীদের মত ও পথ থেকে বিচ্ছিন্ন ও আলাদা করে দেয়া। ওলামা ও সর্বসাধারণের মাঝে বিভেদ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেয়া যা কখনো কখনো হয়ে থাকে। সুতরাং বর্তমান যুগের কতিপয় তালেবে ইলম, যারা ফিকহে ইসলামি এবং এ শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ফোকাহাদের মান মর্যাদা হ্রাস করনে সদা তৎপর যার কারণে তা অধ্যয়ন ও এতে বর্ণিত হক গ্রহণ করে উপকৃত হওয়ার প্রতি নিরাসক্ত ও বিমুখ, তাদের সতর্ক হয়ে এ পথ থেকে ফিরে আসা উচিত। স্বীয় ফেকহ নিয়ে গর্ববোধ এবং ফেকহবিদদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেয়া উচিত। ধ্বংসাত্মক ও বিভ্রান্ত কারী প্রচার ও প্রচারণার মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া থেকে সতর্ক হওয়া উচিত।
তারা উম্মতের জন্য রাসূলের প্রতিনিধি। রাসূলের নির্জীব ও বিলুপ্ত আদর্শকে তারাই জীবন্ত করেছেন। তাদের মাধ্যমে কোরআন বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তারা কোরআন-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। কোরআন তাদের সম্পর্কে বলেছে এবং তারাও কোরআনের কথা বলেছেন। তারা সকলেই রাসূলের ইত্তেবা ও অনুসরণ ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে নিঃসংশয়ভাবে একমত।
তবে তাদের কারো পক্ষ থেকে যদি এমন কোন মত পাওয়া যায়, যার বিপরীত সহীহ হাদিস বিদ্যমান, তাহলে এ হাদিস পরিত্যাগ করার পিছনে নিশ্চয়ই কোন ওজর আছে। এসব ক্ষেত্রে তাদের ওজর তিন ধরনের:—
(এক) নবী কারীম সা. এ কথা বলেছেন—মর্মে বিশ্বাস না থাকা।
(দুই) ঐ মন্তব্য দ্বারা তিনি সেই মাসআলাই বুঝিয়েছেন—এ বিশ্বাস না করা।
(তিন) হুকুমটি মানসুক (রহিত) মর্মে বিশ্বাস করা।
আল্লাহ আমাদের সহায় হন। সমাপ্ত