📄 জাদু, ভাগ্য গণনা ও ভবিষ্যদ্বাণী
জাদু অনেক বড় কবীরা গুনাহ। এ জাদু কখনও কখনও শিরক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। জাদু সত্যি ধ্বংসাত্মক কবীরা গুনাহের একটি। জাদু শুধু ক্ষতিই করে, কোনো উপকার করে না। জাদু শিক্ষা করা প্রসঙ্গে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ
তারা এমন জিনিস [জাদু] শিক্ষা করে, যা তাদের অপকারই করে, কোনো উপকার করে না। [সূরা বাকারা : ১০২]
অপর এক আয়াতে তিনি ইরশাদ করেছেন-
وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى
জাদুকর যেভাবেই আসুক না কেন, সে সফলকাম হবে না। [সূরা ত্ব-হা : ৬৯]
নিজে জাদু চর্চা করা, কারও জন্য জাদু করানো, জাদুকরের কাছে যাওয়া- এ সবই হারাম। যেমন, এক হাদীসে নবী কারীম ইরশাদ করেছেন-
مَنْ أَتَى كَاهِنَا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ.
যে ব্যক্তি গণক কিংবা ভবিষ্যদ্বক্তার কাছে যায় এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করে, সে নিশ্চিতভাবেই মুহাম্মাদ এর উপর যা নাযিল করা হয়েছে, তা অস্বীকার করে। [মুসনাদে আহমাদ : ২/৪২৯, হাদীস নং ৮৩০১]
অপর এক হাদীসে ইরশাদ করেছেন-
مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً.
যে ব্যক্তি কোনো ভবিষ্যদ্বক্তার কাছে যায় এবং তাকে কিছু জিজ্ঞেস করে, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২১০]
যারা ভাগ্য গণনা করে, ভবিষ্যদ্বতার খবর জানে বলে দাবি করে, তারাও হারামের লিস্টে। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গায়েবের খবর জানে না। একই কথা প্রয়োজনে পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত রাশিফলে বিশ্বাস স্থাপন করার ব্যাপারেও। যারা গায়েব জানে বলে দাবি করে, তাদের কাছে যাওয়া, তাদেরকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা, কিংবা কোনো তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু জানতে চাওয়া- এ সবই হারাম।
📄 যিনা-ব্যভিচার
শিরক ও মানুষ হত্যার পর সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ হচ্ছে যিনা-ব্যভিচার। যিনা-ব্যভিচার সম্পূর্ণরূপে হারাম। মারাত্মক কবীরা গুনাহ। শরীয়ত পর্দা ফরয করেছে, নারী-পুরুষ উভয়কে দৃষ্টি সংযত রাখতে বলেছে এবং গায়রে মাহরাম স্ত্রীলোকদের সাথে নির্জনে মিলিত হওয়াকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে, এ ছাড়াও এ ধরনের আরও বিভিন্ন বিধি-বিধান ও নীতিমালা আরোপ করে শরীয়ত ব্যভিচার ও ব্যভিচারের যাবতীয় উপায়-অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে। আল্লাহ কেবল যিনা করাতেই নিষেধ করেননি, বরং যিনা-ব্যভিচারের ধারে-কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন। যেমন, পবিত্র কুরআনে তিনি ইরশাদ হয়েছে-
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا.
তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ। [সূরা বনী ইসরাঈল : ৩২]
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমাদের বর্তমান যুগে অশ্লীলতার সকল দুয়ার খুলে দেওয়া হয়েছে। শয়তান ও তার চেলাদের চক্রান্তে অশ্লীলতার যাবতীয় পথ-পন্থা ও উপায়-উপকরণ সহজলভ্য হয়ে গেছে। পাপী ব্যভিচারীরা এখন খোলামেলা শয়তানের অনুসরণ করছে। মেয়েরা বেপরোয়া হয়ে ব্যাপকাকারে বাইরে বের হচ্ছে। যে কোনো বয়সের যেকোনো মেয়ে বিনা বাধায় দ্বিধাহীনচিত্তে যখন- তখন যেখানে-সেখানে যাতায়াত করছে। উন্মুক্তভাবে নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছে। অবাধ মেলামেশা, pornography ও ঝু-ঝিমে দেখা ডরে গেছে। কে কত বেশি খোলামেলা হতে পারে যেন তার প্রতিযোগিতা চলছে। ধর্ষণ ও বলাৎকারে দেশ ছেয়ে যাচ্ছে। হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে দয়া, অনুগ্রহ ও গোপনীয়তা প্রার্থনা করছি এবং এমন সুন্দব কামনা করছি, যার বদৌলতে তুমি আমাদেরকে সকল প্রকার অন্যায়-অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করবে। তুমি তোমার কাছে আমাদের মনের পবিত্রতা ও ইযযতৈর হেফাজত প্রার্থনা করছি। দয়া করে তুমি আমাদের মাঝে ও হারামের মাঝে একটি সুদৃঢ় আড়াল ও প্রাচীর তৈরি করে দাও। আমীন!
📄 মদপান ও নেশাদ্রব্য গ্রহণ
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে ঈমানদারগণ! নিঃসন্দেহে মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং, তোমরা তা থেকে বিরত থাক, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। [সূরা মায়েদা : ৯০]
রাসূলুল্লাহ এক হাদীসে ইরশাদ করেছেন-
إِنَّ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَهْدًا لِمَن يَشْرَبُ الْمُسْكِرَ أَن يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ قَالَ عَرَقُ أَهْلِ النَّارِ أَوْ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ
যে ব্যক্তি মদপান করে, তার জন্য আল্লাহর অঙ্গীকার হল, তিনি তাকে ‘তীনাতুল খাবাল' পান করাবেন। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ‘তীনাতুল খাবাল’ কী? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের ঘাম অথবা পুঁজ-রক্ত। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫০০৯]
অপর এক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেছেন-
مَنْ مَاتَ مُدْمِنَ خَمْرٍ لَقِيَ اللَّهَ كَعَابِدِ وَثَنٍ
যে ব্যক্তি মদপানে অভ্যস্ত অবস্থায় মারা গেল, সে মূর্তিপূজারীর ন্যায় আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। [হিলয়তুল আউলিয়া- ৯/২৫০]
অন্যান্য তিনি ইরশাদ করেছেন-
مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ وَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ فَإِن تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَإِن عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِن مَّاتَ دَخَلَ النَّارَ فَإِن تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَإِن عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِن مَّاتَ دَخَلَ النَّارَ فَإِن تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَإِنْ عَادَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَن يَسْقِيَهُ مِنْ رَدْغَةِ الْخَبَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا رَدْغَةُ الْخَبَالِ ؟ قَالَ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ
যে ব্যক্তি মদ পান করে ও নেশাগ্রস্ত হয়, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না। যদি সে ওই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তা হলে সে জাহান্নামে যাবে। আর যদি সে তাওবা করে নেয়, তা হলে আল্লাহ তায়ালা তার তাওবা কবুল করবেন। পুনরায় যদি সে মদ পান করে ও নেশাগ্রস্ত হয়, তা হলে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না। যদি সে ওই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তা হলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। পুনরায় যদি সে মদ পান করে ও নেশাগ্রস্ত হয়, তা হলে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না। যদি সে ওই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তা হলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। পুনরায় যদি সে মদ পান করে, তা হলে কেয়ামতের দিন তাকে ‘রাদ্গাতুল খাবাল’ পান করানো আল্লাহর জন্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়াবে। সাহাবায়ে কেরام রাযিয়াল্লাহু আনহুম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ‘রাদ্গাতুল খাবাল’ কী? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের দেহ নিঃসৃত পূঁজ-রক্ত। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩০৭৭]