📄 গাইরুল্লাহকে আহ্বান করা
অনেকে নিজের প্রয়োজন পূরণ, বিপদাপদ দূরীকরণ, মনোবাঞ্ছা পূরণ, সন্তানাদি লাভ ইত্যাদি জন্য গাইরুল্লাহকে আহ্বান করে; কবরে বা মাজারে শায়িত ফকির কিংবা মৃত অলী-আউলিয়াকে ফেরেশতার কাছে হাত পাতে। তাদের বিশ্বাস- তারা মানুষের অভাব পূরণ করতে পারেন, বিপদাপদ দূর করেন, সন্তানাদি দান করেন, ইত্যাদি। অথচ আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
﴿وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَّدْعُو مِنْ دُوْنِ اللهِ مَنْ لَّا يَسْتَجِيبُ لَهٗ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غٰفِلُوْنَ ؕ وَاِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوْا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوْا بِعِبَادَتِهِمْ كٰفِرِيْنَ﴾
তাদের থেকে অধিকতর পথভ্রষ্ট আর কে আছে, যারা আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুকে ডাকে, যেগুলোর কেয়ামত পর্যন্তও তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। অধিকন্তু তারা তাদের ডাকডাকি সম্পর্কে কোনো খবর রাখে না। যখন মানুষকে হাসরে একত্র করা হবে, তখন তারা হবে তাদের শত্রু এবং তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে। [সূরা আহকাফ : ৫-৬]
অপর এক আয়াতে তিনি ইরশাদ করেছেন-
﴿اِنَّ الَّذِيْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ عِبَادٌ اَمْثَالُكُمْ﴾
আল্লাহ ব্যতীত আর যাদেরকে তোমরা ডাক, তারা তোমাদেরই মতো বান্দা ও দাস। [সূরা আ’রাফ : ১৯৪]
📄 গাইরুল্লাহর নামে কসম করা
গাইরুল্লাহ তথা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে কসম করা জায়েজ নেই। তা সত্ত্বেও অনেক মানুষ গাইরুল্লাহর নামে কসম করে থাকে। কসম মূলত এক প্রকার সম্মান, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ পাওয়ার যোগ্য নয়। যেমন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
لَا أَنْ يَحْلِفَكُمْ بِآبَائِكُمْ مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَصْمُتْ.
সাবধান! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কারও যদি কসম করতেই হয়, তবে সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে নতুবা চুপ থাকে। [ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬৪৬]
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেছেন-
مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ.
যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে কসম করল, সে শিরক করল। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩২৫১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৫৬৭৫]
অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
مَنْ حَلَفَ بِالْأَمَانَةِ فَلَيْسَ مِنَّا.
যে আমানত এর নামে কসম করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। [সুনানে ابو দাউদ, হাদীস নং ৩২৫৩]
আওতাব, কাবা, আমানত, মর্যাদা, সাহায্য, অমুকের বরকত, অমুকের জীবন, নবীর মর্যাদা, অলীর মর্যাদা, পিতা-মাতা বা সন্তানের মাথা ইত্যাদির নামে কসম করা জায়েজ নেই। কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে কসম করেই ফেলে, তা হলে তার কাফফারা ও প্রতিকার হল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা। যেমন, এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
مَنْ حَلَفَ فَقَالَ فِي حَلِفِهِ وَاللَّاتِ وَالْعُزَّى فَلْيَقُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ.
যে ব্যক্তি লাত-উজ্জার নামে কসম করবে, সে যেন [সঙ্গে সঙ্গে] ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' [আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো মাবুদ নেই- এই কালিমা] পড়ে নেয়। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬৫৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৬৭]
📄 জাদু, ভাগ্য গণনা ও ভবিষ্যদ্বাণী
জাদু অনেক বড় কবীরা গুনাহ। এ জাদু কখনও কখনও শিরক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। জাদু সত্যি ধ্বংসাত্মক কবীরা গুনাহের একটি। জাদু শুধু ক্ষতিই করে, কোনো উপকার করে না। জাদু শিক্ষা করা প্রসঙ্গে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ
তারা এমন জিনিস [জাদু] শিক্ষা করে, যা তাদের অপকারই করে, কোনো উপকার করে না। [সূরা বাকারা : ১০২]
অপর এক আয়াতে তিনি ইরশাদ করেছেন-
وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى
জাদুকর যেভাবেই আসুক না কেন, সে সফলকাম হবে না। [সূরা ত্ব-হা : ৬৯]
নিজে জাদু চর্চা করা, কারও জন্য জাদু করানো, জাদুকরের কাছে যাওয়া- এ সবই হারাম। যেমন, এক হাদীসে নবী কারীম ইরশাদ করেছেন-
مَنْ أَتَى كَاهِنَا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ.
যে ব্যক্তি গণক কিংবা ভবিষ্যদ্বক্তার কাছে যায় এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করে, সে নিশ্চিতভাবেই মুহাম্মাদ এর উপর যা নাযিল করা হয়েছে, তা অস্বীকার করে। [মুসনাদে আহমাদ : ২/৪২৯, হাদীস নং ৮৩০১]
অপর এক হাদীসে ইরশাদ করেছেন-
مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً.
যে ব্যক্তি কোনো ভবিষ্যদ্বক্তার কাছে যায় এবং তাকে কিছু জিজ্ঞেস করে, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২১০]
যারা ভাগ্য গণনা করে, ভবিষ্যদ্বতার খবর জানে বলে দাবি করে, তারাও হারামের লিস্টে। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গায়েবের খবর জানে না। একই কথা প্রয়োজনে পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত রাশিফলে বিশ্বাস স্থাপন করার ব্যাপারেও। যারা গায়েব জানে বলে দাবি করে, তাদের কাছে যাওয়া, তাদেরকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা, কিংবা কোনো তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু জানতে চাওয়া- এ সবই হারাম।
📄 যিনা-ব্যভিচার
শিরক ও মানুষ হত্যার পর সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ হচ্ছে যিনা-ব্যভিচার। যিনা-ব্যভিচার সম্পূর্ণরূপে হারাম। মারাত্মক কবীরা গুনাহ। শরীয়ত পর্দা ফরয করেছে, নারী-পুরুষ উভয়কে দৃষ্টি সংযত রাখতে বলেছে এবং গায়রে মাহরাম স্ত্রীলোকদের সাথে নির্জনে মিলিত হওয়াকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে, এ ছাড়াও এ ধরনের আরও বিভিন্ন বিধি-বিধান ও নীতিমালা আরোপ করে শরীয়ত ব্যভিচার ও ব্যভিচারের যাবতীয় উপায়-অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে। আল্লাহ কেবল যিনা করাতেই নিষেধ করেননি, বরং যিনা-ব্যভিচারের ধারে-কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন। যেমন, পবিত্র কুরআনে তিনি ইরশাদ হয়েছে-
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا.
তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ। [সূরা বনী ইসরাঈল : ৩২]
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমাদের বর্তমান যুগে অশ্লীলতার সকল দুয়ার খুলে দেওয়া হয়েছে। শয়তান ও তার চেলাদের চক্রান্তে অশ্লীলতার যাবতীয় পথ-পন্থা ও উপায়-উপকরণ সহজলভ্য হয়ে গেছে। পাপী ব্যভিচারীরা এখন খোলামেলা শয়তানের অনুসরণ করছে। মেয়েরা বেপরোয়া হয়ে ব্যাপকাকারে বাইরে বের হচ্ছে। যে কোনো বয়সের যেকোনো মেয়ে বিনা বাধায় দ্বিধাহীনচিত্তে যখন- তখন যেখানে-সেখানে যাতায়াত করছে। উন্মুক্তভাবে নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছে। অবাধ মেলামেশা, pornography ও ঝু-ঝিমে দেখা ডরে গেছে। কে কত বেশি খোলামেলা হতে পারে যেন তার প্রতিযোগিতা চলছে। ধর্ষণ ও বলাৎকারে দেশ ছেয়ে যাচ্ছে। হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে দয়া, অনুগ্রহ ও গোপনীয়তা প্রার্থনা করছি এবং এমন সুন্দব কামনা করছি, যার বদৌলতে তুমি আমাদেরকে সকল প্রকার অন্যায়-অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করবে। তুমি তোমার কাছে আমাদের মনের পবিত্রতা ও ইযযতৈর হেফাজত প্রার্থনা করছি। দয়া করে তুমি আমাদের মাঝে ও হারামের মাঝে একটি সুদৃঢ় আড়াল ও প্রাচীর তৈরি করে দাও। আমীন!