📄 তাওবাকারী আল্লাহর প্রিয়
তাওবাকারীরা আল্লাহ্ এর প্রিয়পাত্র। আল্লাহ্ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। এ ঘোষণা তিনি তাঁর পবিত্র কিতাবের স্থানে স্থানে বর্ণনা করেছেন। যেমন, ইরশাদ হয়েছে–
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
নিশ্চয় আল্লাহ্ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে, তাদেরও ভালোবাসেন। [সূরা বাকারা : ২২২]
অপর এক আয়াতে তিনি ইরশাদ করেছেন–
أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
তার কি জানে না যে, আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং সদকা কবুল করেন? বস্তুত আল্লাহ্ই তো তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। [সূরা তাওবা : ১০৪]
অন্য এক আয়াতে ইরশাদ করেছেন–
أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
তিনি [আল্লাহ্] তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন, পাপসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমাদের কৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। [সূরা শূরা : ২৬]
আল্লাহ্ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। তবে তিনি পাপাচারী, সীমালঙ্ঘনকারী ও অত্যাচারীদের পছন্দ করেন না। কত গুনাহগার ও পাপী সকাল-সন্ধ্যা হাসি-তামাশায় লিপ্ত থাকে, অথচ–
– তাদের রব উপর থেকে তাদের উপর লানত করতে থাকেন।
– ফেরেশতারা ক্রোধার্বিত হতে থাকেন।
– নেককার বান্দারা তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে থাকেন।
– জাহান্নামের আগুন তাদের জন্য উত্তপ্ত হতে থাকে। তাদের জন্য উদ্দীপ্ত হয়ে থাকে।
আল্লাহ্ তাদের চোখ-কান সম্পূর্ণ রূপে রেখেছেন। তাদের বিবেক-বুদ্ধি ও মস্তিষ্ক পরিপূর্ণ সুখ ও কর্মক্ষম রেখেছেন, অথচ তারা–
– না-ফরমানি ও অবাধ্যতার মাধ্যমে আল্লাহ্ তাআলার প্রতিহিংসায় লিপ্ত হয়।
– শয়তানের সহযোগিতা ও তার অনুসরণ করে।
– বিরামহীন অন্যায়-অনাচার ও পাপাচারে লিপ্ত থাকে।
– তাওবা তো করেই না, উল্টো শাহওাতে নাফসানীর ও শয়তানের ফাঁদে পড়ে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করতে থাকে।
আশ্চর্য! আল্লাহ্ নেয়ামত দান করেন আর সেই নেয়ামতের মাধ্যমেই তারা নেয়ামতদাতার অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়। আরে, তুমি একবার ভেবে দেখছ কি, তোমার কী অবস্থা হত, যদি তুমি–
– পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় পড়ে থাকতে?
– কিংবা আরও ভয়ংকর কোনো রোগে আক্রান্ত হতে?
– তোমার দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেওয়া হত?
– কিংবা তোমাকে বধির বানিয়ে দেওয়া হত?
– তা হলে তুমি কী করতে?
– তোমার কী করার থাকত?
– একবারও কি ভেবেছ? ভেবে দেখেছ?!!
যেকোনো সময়, মুহূর্তের মধ্যে আল্লাহ্ তোমার সুস্থতার নেয়ামত ছিনিয়ে নিতে পারেন। একেবারে বিছানায় শুইয়ে দিতে পারেন। তখন তোমার কী করার থাকবে?
একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল। একবার সেনাবাহিনীর এক মেজর তার এক অসুস্থ সহকর্মীকে দেখার জন্য হাসপাতালে গেলেন। হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন, তার খোঁজ-খবর নিলেন। বেশ কিছুক্ষণ সময় তার কাছে কাটালেন। দেখা-সাক্ষাৎ শেষে ফিরে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। দাঁড়িয়ে সালাম দিলেন; তার জন্য সুস্থতা ও কল্যাণের দোয়া করলেন। অতপর যখনই রুম থেকে বের হওয়ার জন্য মুখে দাঁড়ালেন, অমনিই পা পিছলে ফ্লোরে পড়ে গেলেন। পড়ার সময় রোগীর বেডের পাশে রাখা ছোট টেবিলের সঙ্গে মাথা আঘাত পেলেন। এতে করে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আল্লাহ্ কি মজী! এ থেকেই এক সময় তার চার হাত-পা অবশ হয়ে গেল। আমি যতটুকু জানি, এখনও তিনি হাসপাতালেই আছেন। সেই ঘটনার পর আজ প্রায় দশ বছর কেটে গেছে!
তাওবাকারীরা আল্লাহ্ এর প্রিয়পাত্র। আল্লাহ্ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। এ ঘোষণা তিনি তাঁর পবিত্র কিতাবের স্থানে স্থানে বর্ণনা করেছেন। যেমন, ইরশাদ হয়েছে–
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
নিশ্চয় আল্লাহ্ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে, তাদেরও ভালোবাসেন। [সূরা বাকারা : ২২২]
অপর এক আয়াতে তিনি ইরশাদ করেছেন–
أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
তার কি জানে না যে, আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং সদকা কবুল করেন? বস্তুত আল্লাহ্ই তো তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। [সূরা তাওবা : ১০৪]
অন্য এক আয়াতে ইরশাদ করেছেন–
أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
তিনি [আল্লাহ্] তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন, পাপসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমাদের কৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। [সূরা শূরা : ২৬]
আল্লাহ্ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। তবে তিনি পাপাচারী, সীমালঙ্ঘনকারী ও অত্যাচারীদের পছন্দ করেন না। কত গুনাহগার ও পাপী সকাল-সন্ধ্যা হাসি-তামাশায় লিপ্ত থাকে, অথচ–
– তাদের রব উপর থেকে তাদের উপর লানত করতে থাকেন।
– ফেরেশতারা ক্রোধার্বিত হতে থাকেন।
– নেককার বান্দারা তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে থাকেন।
– জাহান্নামের আগুন তাদের জন্য উত্তপ্ত হতে থাকে। তাদের জন্য উদ্দীপ্ত হয়ে থাকে।
আল্লাহ্ তাদের চোখ-কান সম্পূর্ণ রূপে রেখেছেন। তাদের বিবেক-বুদ্ধি ও মস্তিষ্ক পরিপূর্ণ সুখ ও কর্মক্ষম রেখেছেন, অথচ তারা–
– না-ফরমানি ও অবাধ্যতার মাধ্যমে আল্লাহ্ তাআলার প্রতিহিংসায় লিপ্ত হয়।
– শয়তানের সহযোগিতা ও তার অনুসরণ করে।
– বিরামহীন অন্যায়-অনাচার ও পাপাচারে লিপ্ত থাকে।
– তাওবা তো করেই না, উল্টো শাহওাতে নাফসানীর ও শয়তানের ফাঁদে পড়ে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করতে থাকে।
আশ্চর্য! আল্লাহ্ নেয়ামত দান করেন আর সেই নেয়ামতের মাধ্যমেই তারা নেয়ামতদাতার অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়। আরে, তুমি একবার ভেবে দেখছ কি, তোমার কী অবস্থা হত, যদি তুমি–
– পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় পড়ে থাকতে?
– কিংবা আরও ভয়ংকর কোনো রোগে আক্রান্ত হতে?
– তোমার দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেওয়া হত?
– কিংবা তোমাকে বধির বানিয়ে দেওয়া হত?
– তা হলে তুমি কী করতে?
– তোমার কী করার থাকত?
– একবারও কি ভেবেছ? ভেবে দেখেছ?!!
যেকোনো সময়, মুহূর্তের মধ্যে আল্লাহ্ তোমার সুস্থতার নেয়ামত ছিনিয়ে নিতে পারেন। একেবারে বিছানায় শুইয়ে দিতে পারেন। তখন তোমার কী করার থাকবে?
একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল। একবার সেনাবাহিনীর এক মেজর তার এক অসুস্থ সহকর্মীকে দেখার জন্য হাসপাতালে গেলেন। হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন, তার খোঁজ-খবর নিলেন। বেশ কিছুক্ষণ সময় তার কাছে কাটালেন। দেখা-সাক্ষাৎ শেষে ফিরে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। দাঁড়িয়ে সালাম দিলেন; তার জন্য সুস্থতা ও কল্যাণের দোয়া করলেন। অতপর যখনই রুম থেকে বের হওয়ার জন্য মুখে দাঁড়ালেন, অমনিই পা পিছলে ফ্লোরে পড়ে গেলেন। পড়ার সময় রোগীর বেডের পাশে রাখা ছোট টেবিলের সঙ্গে মাথা আঘাত পেলেন। এতে করে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আল্লাহ্ কি মজী! এ থেকেই এক সময় তার চার হাত-পা অবশ হয়ে গেল। আমি যতটুকু জানি, এখনও তিনি হাসপাতালেই আছেন। সেই ঘটনার পর আজ প্রায় দশ বছর কেটে গেছে!
📄 কিছুক্ষণ... রোগী ও অসুস্থদের সাথে!
আমি এক যুবককে চিনি। সে গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আল্লাহ রব্বুল আলামিনের অনুগ্রহে সে প্রাণে রক্ষা পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু দুর্ঘটনায় তার হাত-পা সবই হারাতে হয়েছে। তার উভয় হাত ও উভয় পা-ই কেটে ফেলতে হয়েছে।
একবার আমি এক রোগী দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। হাসপাতালের ভিতর যখন করিডোর দিয়ে হাঁটছিলাম, হঠাৎ এক রুম থেকে টেলিফোনের রিং বাজার শব্দ শুনতে পেলাম। তাকিয়ে দেখি রুমের ভিতর একজন রোগী। রোগীটি আমাকে দেখেই ডাকতে লাগল- শায়খ! শায়খ!! আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম। দেখলাম, তিনি একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী। হাত-পা কিছুই নাড়াতে পারেন না। তার পাশেই টেলিফোনটা বাজছে। তিনি আমাকে বললেন, শায়খ! দয়া করে রিসিভারটা একটু উঠিয়ে দিন! আমার সঙ্গে এক যুবক ছিল। আমি রিসিভার তুলে দেওয়ার আগেই সে তাড়াতাড়ি রিসিভারটি তুলে রোগীর কানের কাছে নিয়ে গেল। তারপর তিনি কথা বললেন। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি একমাত্র তার মাথাটি ছাড়া আর কিছুই নাড়াতে পারেন না। তার সমস্ত শরীর অবশ- নড়াচড়াহীন। কথা বলা শেষ হলে তিনি যুবককে রিসিভারটা স্বপ্থানে রেখে দিতে অনুরোধ করলেন। যুবক তা-ই করল। এরপর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার বয়স কত? তিনি বললেন, আটাত্তর বছর।
জিজ্ঞাসা করলাম, কত বছর যাবত আপনি এ অবস্থায় আছেন? প্রিয় পাঠক! তাকে দেখে আমার বড় মায়া লাগল। আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাকে সুস্থ করে দিন। বেচারার অবস্থা এমন যে, যদি একটি মাছিও এসে তার নাকে বসে, তা হলে সেওডিঙ তাড়ানোর ক্ষমতা তার নেই! খুবই করুণ অবস্থা তার। যাহোক, আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কত বছর যাবত আপনি এ অবস্থায় আছেন? তিনি বললেন, আঠারো বছর যাবত! অর্থাৎ তার বয়স যখন বিশ বছর ছিল, তখন থেকে তিনি এ অবস্থায় আছেন।
প্রিয় পাঠক! একটু ভাবুন তো! একজন মানুষ সুদীর্ঘ আঠারো বছর যাবত এ অবস্থায় আছেন!! শুধু কি তাই! আমাদের মাঝে কত জনের জীবনেই তো কত রকম আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে যায়। কেউ নিজ হাতে জামা গায়ে দেন। কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামিন চান যে, তার জামাটি অন্যকেউ খুলে দিক! হ্যাঁ, যিনি নিজ হাতে জামা গায়ে দিয়েছেন, জামার বোতাম লাগিয়েছেন, হঠাৎ তিনি এমন অসুস্থ হয়ে পড়েন যে, জামার বোতামগুলো অন্য কেউ খুলে দিতে হয়। তিনি আর নিজ হাতে বোতামগুলো খুলতে পারেন না; জামাটা শরীর থেকে খুলতে পারেন না।
আরেকবার এক হাসপাতালের করিডোর দিয়ে হাঁটছিলাম। দেখলাম, পাশেই একটি দরজা-বন্ধ কামরা। কামরার দরজায় এক-দুই বিঘত পরিমাণ একটি ছিদ্র রয়েছে। পুরো কামরার দেওয়াল ও মেঝেতে প্যাড লাগানো। তার ভিতর একজন রোগী আছেন। আমি বললাম, ডাক্তার সাহেব! তার এ অবস্থা কেন? কেন আপনারা তাকে এখানে বন্দি করে রেখেছেন? তিনি বললেন, লোকটি একজন পাগল। তার সমস্যা হচ্ছে- তিনি সামনে কোনো দেওয়াল দেখতে পেলেই তাতে মাথা দিয়ে আঘাত করাতে থাকেন। তাই তাকে এভাবে বন্দি করে রাখা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা তার ঘরের দেওয়াল ও মেঝে সবখানে স্পঞ্জ লাগিয়ে দিয়েছি।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তার এ অবস্থা কত দিন যাবত? ডাক্তার সাহেব বললেন, বিশ কি পঁচিশ বছর। এ দীর্ঘ সময় যাবত তিনি এই একই কামরায় বন্দি। এখানেই তিনি খাওয়া-দাওয়া করেন! এই একটি কামরার ভিতরই তার জীবনের পরিধি সীমাবদ্ধ।
তারপর আমরা আরেকটি কামরার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। দেখলাম, সেখানে তিনজন লোককে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ডাক্তার সাহেব! এদেরকে এভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে কেন? ডাক্তার সাহেব বললেন, কারণ- যদি তাদের বাঁধন খুলে দিই, তা হলে তারা গিয়ে মানুষকে আক্রমণ করতে শুরু করবে। তাই তাদেরকে বেঁধে রাখা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে এভাবে তাদেরকে বেঁধে রাখা হয়। হাসপাতালের নার্স ও সেবকরা এসে সমন্বয়তো তাদের খাবার দিয়ে যায়। তারা নিজেদের খাবার-পানি ইত্যাদি নিজ থেকে চাইতেও সক্ষম নন। এভাবে সারাদিন তারা বাঁধা অবস্থায় থাকেন। রাত এগারোটা-বারোটার দিকে যখন ঘুমের প্রভাবে তাদের মাথা ঢুলতে থাকে, তখন তাদের বাঁধন খুলে দিয়ে খাটের উপর শুইয়ে দেওয়া হয়। তারা ঘুমিয়ে যান।
জিজ্ঞাসা করলাম, তাদের এ অবস্থা কত দিন যাবত? ডাক্তার সাহেব বললেন, একজনের তেরো বছর, আরেকজনের আট বছর, তৃতীয়জনের দশ বছর।
তারপর আমরা গেলাম আরেকটি কামরার সামনে। সেখানে দেখলাম, একজন লোককে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাদের একজনের বয়স পঁচিশ ছাড়িয়ে গেছে। তার সমস্ত চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে। দেখলাম এ লোকটি সম্পূর্ণ উলঙ্গ; গায়ে একটি সুতাও নেই।
আমি যারপরনাই আশ্চর্য হলাম। সবিনয়ে বললাম, ডাক্তার সাহেব! আল্লাহ রব্বুল আলামিন-কে ভয় করুন! যদিও লোকটি পাগল, কিন্তু তাকে এভাবে বিবস্ত্র অবস্থায় রাখা আপনাদের জন্য উচিত হয়নি।
ডাক্তার সাহেব বললেন, শায়খ! আমরা যদি তাকে কোনো কাপড় পরাইও, সে তা গায়ে রাখে না। দাঁত দিয়ে কামড়াতে শুরু করে। টুকরো টুকরো করে ফেলে। অতঃপর তা দিয়ে নিজের ও অন্যদের শ্বাসরোধ করতে উদ্যত হয়। কখনও বা কাপড়ের টুকরোগুলো খেতে শুরু করে। তারপর বমি করতে থাকে। তাই তাকে এভাবে রাখা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
আমার এক বন্ধু আমাকে বলেছিলেন। তিনি হাসপাতালের এক কামরার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ কামরা থেকে বিকট আওয়াজ ও চিৎকার শুনতে পেলেন। একজন রোগী এত জোরে চিৎকার করছে যে, কলজে ফেটে যাওয়ার উপক্রম। আমি, আমি কামরায় প্রবেশ করলাম। প্রবেশ করে দেখি, সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত একজন রোগী বেডের উপর চিৎকার করছেন। রোগীর পাশেই ছিল হাসপাতালের সেবক। আমি তাকে রোগীর চিৎকারের কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। সেবক বললেন, ইনি সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তার শরীরের একটি অঙ্গও তিনি নাড়াতে সক্ষম নন। তার পরিপাকযন্ত্রেও সমস্যা। খাবার হজম করতে কষ্ট হয়। যেকোনো খাবার খাওয়ানোর পর তার এ অবস্থা হয়। পাকস্থলী ও হজমের কষ্টে তিনি চিৎকার করেন। বন্ধু বলেন, আমি সেবককে বললাম, আপনারা তাকে শক্ত খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। গোশত, ভাত, রুটি ইত্যাদি শক্ত খাবার খাওয়াবেন না। সেবক বলল, আপনি জানেন আমরা তাকে কী খাবার খাওয়াই? আল্লাহ্র কসম! আমরা তার পেটে একমাত্র কয়েক ফোঁটা দুধ ছাড়া আর কিছুই প্রবেশ করাতে পারি না। তা-ও পাইপের সাহায্যেরে নাকের ভিতর দিয়ে। সে সামান্য দুধটুকু হজম করতেই তার এই কষ্ট!
আরেকজন ঘটনা শুনিয়েছেন। তিনি হাসপাতালে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত এক রোগীর কামরার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। রোগী তাকে দেখে চিৎকার করে ডাকতে লাগল। তার আওয়াজ নাকে বাজছিল। সে কোনো কিছুই নিজে থেকে করতে পারত না। ঘটনার বর্ণনাকারী বলেন, আমি তার ডাক শুনে কামরায় প্রবেশ করলাম। দেখি, তার সামনে ছোট একটি কাঠের টুল। তার উপর একটি কুরআন খোলা। রোগী যতক্ষণ যাবত কুরআনের দু'টি পৃষ্ঠাই বারবার তেলাওয়াত করছিলেন। যখন এ দু'টি পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যেত, তখন আবার শুরু থেকে পড়া শুরু করতেন। এভাবেই তেলাওয়াত করছিলেন। কারণ, কুরআনের পাতা উল্টানোর মতো শক্তিও তার ছিল না। পাশে এমন কেউও ছিল না, যে তাকে সাহায্য করবে। বর্ণনাকারী বলেন, যখন আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, তিনি আমাকে অনুরোধ করে বললেন, যদি দয়া করে পৃষ্ঠাটা একটু উলটিয়ে দিতেন! আমি পৃষ্ঠা উলটিয়ে দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে তার চেহারা আনন্দে ঝলমল করে উঠল। সাথে সাথেই তিনি কুরআনের দিকে মনোযোগ দিলেন এবং তেলাওয়াত করতে শুরু করলেন।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি তার সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেললাম, কুরআন তেলাওয়াতের প্রতি তার আগ্রহ ও আমাদের উদাসীনতা দেখে; তার অক্ষমতা ভয়াবহতা ও আমাদের সুস্থতার কথা ভেবে!
এ হল অসুস্থ ও রোগীদের কিছু দৃষ্টান্ত। অতএব, হে সুস্থ সবল ও নীরোগ! ওহে বিপদশূন্য ও বালা-মসিবত থেকে নিরাপদ! তুমি আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাসিতায় ডুবে আছ; আল্লাহ রব্বুল আলামিনের আযাব, শাস্তি ও পাকড়াও থেকে গাফেল হয়ে আছ! আল্লাহ রব্বুল আলামিন তোমাকে কত নেয়ামত দিয়েছেন, তোমার সঙ্গে কত সুন্দর আচরণ করেছেন, কিন্তু তুমি তার বদলা দিচ্ছ তার অবাধ্যতা ও না-ফরমানির মাধ্যমে!
আরে- তোমার উপর তার নেয়ামত কি অজ্ঞ-অগণিত নয়? তার দয়া ও অনুগ্রহ কি অফুরন্ত নয়?
- তুমি কি এ ভয় কর না যে, আগামীকালে তোমাকে তার সামনে দাঁড়াতে হবে?
- অতঃপর তোমাকে বলবেন, হে আমার বান্দা!
- আমি কি তোমাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করিনি?
- আমি কি তোমার দেহকে সুঠাম, সুশ্রী ও সবল করিনি?
- আমি কি তোমার রিযিক প্রশস্ত করে দেইনি?
- আমি কি তোমার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ্ণ রাখিনি?
তখন তুমি বলবে, বলতে বাধ্য হবে, হ্যাঁ; অবশ্যই। তোমার এ জওয়াবের পর আল্লাহ আবার তোমাকে প্রশ্ন করবেন-
- তা হলে কেন আমার নেয়ামতের না-শোকরি করেছ?
- কেন আমার নেয়ামতরাজি ভোগ করে আমারই অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছ?
- কেন তুমি নিজেই নিজেকে আমার শাস্তি ও ক্রোধের জন্য প্রস্তুত করেছ?
সেদিন তুমি কী জওয়াব দিবে? সেদিন তোমার যাবতীয় দোষত্রুটি সকলের সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়বে। তোমার সকল অন্যায়, অনাচার ও পাপাচার আবরণমুক্ত হয়ে যাবে। অতএব-
- আফসোস! তোমার জন্য।
- আফসোস! তোমার গুনাহের জন্য।
- তুমি কতই না হতভাগ্য!
- তুমি কতই না কপালপোড়া!
তোমার জীবনের সমীকরণ-
- সুরটীয় আরাম-আয়েশ ও আনন্দ-আহ্লাদ।
- মাঝখানে বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত।
- শেষটায় অন্তহীন ধ্বংস ও লয়-নিপাত।
আরে-
- গুনাহ ছাড়া আর কীসে নূহ আ.-এর সম্প্রদায়কে পানিতে ডুবিয়েছ?
- গুনাহ ছাড়া আর কীসে কওমে আদ ও ছামুদকে ধ্বংস করেছ?
- গুনাহ ছাড়া আর কীসে লূত আ.-এর সম্প্রদায়কে পাথরবৃষ্টি ডেকে এনেছ? গুনাহ ছাড়া আর কোন জিনিসটা তাদের বাষিষ্ণু উঠোনের কারণ হয়েছে?
- গুনাহ ছাড়া আর কীসে শুআইব আ.-এর সম্প্রদায়কে তরাবিত করেছে?
- গুনাহ ছাড়া আর কোন জিনিসে আবরাহা বাদশাহ ও তার বাহিনীর উপর কংকরবৃষ্টি ডেকে এনেছে?
- গুনাহ ছাড়া আর কীসে ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়কে দরিয়ায় ডুবিয়ে মেরেছ?
আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلُ كَانَ أَكْثَرُهُم مُّشْرِكِينَ
আমি প্রত্যেককে তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারও প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরময় প্রচণ্ড বাতাস, কাউকে পেয়েছে বজ্রপাত, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো জুলুম করেননি; কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে। [সূরা আনকাবুত : ৮০]
অতএব, তুমি আশ্চর্য হয়ো না, যদি তুমি-
- তোমার গুনাহের কারণে দুনিয়াতে কোনো শাস্তিতে নিপতিত হও।
- শারীরিক কোনো অসুস্থতা বা সন্তানাদিকে নিয়ে কোনো পরীক্ষার মুখোমুখি হও।
- ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হও কিংবা রিযিকের সংকীর্ণতায় পর্যুদস্ত হও।
- কিন্তু যদি তোমার দোয়া কবুল না হয়।
- একপর এক বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত, বিভিন্ন জটিলতা ও সংকট যদি তোমাকে ঘিরে নেয়।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلُ كَانَ أَكْثَرُهُم مُّشْرِكِينَ
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না, তা হলে দেখতে পেত তাদের পূর্বসুরীদের কী পরিণাম হয়েছে? তাদের শাস্তি ও কীর্তি পৃথিবীতে এদের অপেক্ষা অধিকতর ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে তাদের গুনাহের কারণে পাকড়াও করেছিলেন এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ ছিল না। [সূরা মুমিন : ২১]
অতএব, দ্রুত তুমি তোমার যাবতীয় গুনাহ থেকে তাওবার দিকে ধাবিত হও। অনুতপ্ত হও সেইসব দিনের ব্যাপারে, যে দিনগুলোতে গুনাহের কালিমায় অন্ধকার করেছ আল্লাহর সাদা-সাদা পাণ্ডুলোককে। ডুবে ছিলে অন্যায়-অনাচার আর পাপাচারে। ভারী করছে পাপের বোঝা গভীর রাতের আঁধারে। কতই না দুঃসাহস দেখিয়েছ তুমি আসমান-জমিনের মালিকের বিরুদ্ধে! অতএব, আর দেরি না করে এখনই জেনে টেনো নাও অনুতাপ-অনুশোচনার চড়াছাড় ও পদস্খলনের পূর্বেই। ক্ষমা নিয়ে নাও যাবতীয় গুনাহ থেকে- সময় ফুরিয়ে যাবাবার আগেই।
আমি এক যুবককে চিনি। সে গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আল্লাহ রব্বুল আলামিনের অনুগ্রহে সে প্রাণে রক্ষা পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু দুর্ঘটনায় তার হাত-পা সবই হারাতে হয়েছে। তার উভয় হাত ও উভয় পা-ই কেটে ফেলতে হয়েছে।
একবার আমি এক রোগী দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। হাসপাতালের ভিতর যখন করিডোর দিয়ে হাঁটছিলাম, হঠাৎ এক রুম থেকে টেলিফোনের রিং বাজার শব্দ শুনতে পেলাম। তাকিয়ে দেখি রুমের ভিতর একজন রোগী। রোগীটি আমাকে দেখেই ডাকতে লাগল- শায়খ! শায়খ!! আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম। দেখলাম, তিনি একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী। হাত-পা কিছুই নাড়াতে পারেন না। তার পাশেই টেলিফোনটা বাজছে। তিনি আমাকে বললেন, শায়খ! দয়া করে রিসিভারটা একটু উঠিয়ে দিন! আমার সঙ্গে এক যুবক ছিল। আমি রিসিভার তুলে দেওয়ার আগেই সে তাড়াতাড়ি রিসিভারটি তুলে রোগীর কানের কাছে নিয়ে গেল। তারপর তিনি কথা বললেন। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি একমাত্র তার মাথাটি ছাড়া আর কিছুই নাড়াতে পারেন না। তার সমস্ত শরীর অবশ- নড়াচড়াহীন। কথা বলা শেষ হলে তিনি যুবককে রিসিভারটা স্বপ্থানে রেখে দিতে অনুরোধ করলেন। যুবক তা-ই করল। এরপর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার বয়স কত? তিনি বললেন, আটাত্তর বছর।
জিজ্ঞাসা করলাম, কত বছর যাবত আপনি এ অবস্থায় আছেন? প্রিয় পাঠক! তাকে দেখে আমার বড় মায়া লাগল। আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাকে সুস্থ করে দিন। বেচারার অবস্থা এমন যে, যদি একটি মাছিও এসে তার নাকে বসে, তা হলে সেওডিঙ তাড়ানোর ক্ষমতা তার নেই! খুবই করুণ অবস্থা তার। যাহোক, আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কত বছর যাবত আপনি এ অবস্থায় আছেন? তিনি বললেন, আঠারো বছর যাবত! অর্থাৎ তার বয়স যখন বিশ বছর ছিল, তখন থেকে তিনি এ অবস্থায় আছেন।
প্রিয় পাঠক! একটু ভাবুন তো! একজন মানুষ সুদীর্ঘ আঠারো বছর যাবত এ অবস্থায় আছেন!! শুধু কি তাই! আমাদের মাঝে কত জনের জীবনেই তো কত রকম আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে যায়। কেউ নিজ হাতে জামা গায়ে দেন। কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামিন চান যে, তার জামাটি অন্যকেউ খুলে দিক! হ্যাঁ, যিনি নিজ হাতে জামা গায়ে দিয়েছেন, জামার বোতাম লাগিয়েছেন, হঠাৎ তিনি এমন অসুস্থ হয়ে পড়েন যে, জামার বোতামগুলো অন্য কেউ খুলে দিতে হয়। তিনি আর নিজ হাতে বোতামগুলো খুলতে পারেন না; জামাটা শরীর থেকে খুলতে পারেন না।
আরেকবার এক হাসপাতালের করিডোর দিয়ে হাঁটছিলাম। দেখলাম, পাশেই একটি দরজা-বন্ধ কামরা। কামরার দরজায় এক-দুই বিঘত পরিমাণ একটি ছিদ্র রয়েছে। পুরো কামরার দেওয়াল ও মেঝেতে প্যাড লাগানো। তার ভিতর একজন রোগী আছেন। আমি বললাম, ডাক্তার সাহেব! তার এ অবস্থা কেন? কেন আপনারা তাকে এখানে বন্দি করে রেখেছেন? তিনি বললেন, লোকটি একজন পাগল। তার সমস্যা হচ্ছে- তিনি সামনে কোনো দেওয়াল দেখতে পেলেই তাতে মাথা দিয়ে আঘাত করাতে থাকেন। তাই তাকে এভাবে বন্দি করে রাখা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা তার ঘরের দেওয়াল ও মেঝে সবখানে স্পঞ্জ লাগিয়ে দিয়েছি।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তার এ অবস্থা কত দিন যাবত? ডাক্তার সাহেব বললেন, বিশ কি পঁচিশ বছর। এ দীর্ঘ সময় যাবত তিনি এই একই কামরায় বন্দি। এখানেই তিনি খাওয়া-দাওয়া করেন! এই একটি কামরার ভিতরই তার জীবনের পরিধি সীমাবদ্ধ।
তারপর আমরা আরেকটি কামরার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। দেখলাম, সেখানে তিনজন লোককে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ডাক্তার সাহেব! এদেরকে এভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে কেন? ডাক্তার সাহেব বললেন, কারণ- যদি তাদের বাঁধন খুলে দিই, তা হলে তারা গিয়ে মানুষকে আক্রমণ করতে শুরু করবে। তাই তাদেরকে বেঁধে রাখা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে এভাবে তাদেরকে বেঁধে রাখা হয়। হাসপাতালের নার্স ও সেবকরা এসে সমন্বয়তো তাদের খাবার দিয়ে যায়। তারা নিজেদের খাবার-পানি ইত্যাদি নিজ থেকে চাইতেও সক্ষম নন। এভাবে সারাদিন তারা বাঁধা অবস্থায় থাকেন। রাত এগারোটা-বারোটার দিকে যখন ঘুমের প্রভাবে তাদের মাথা ঢুলতে থাকে, তখন তাদের বাঁধন খুলে দিয়ে খাটের উপর শুইয়ে দেওয়া হয়। তারা ঘুমিয়ে যান।
জিজ্ঞাসা করলাম, তাদের এ অবস্থা কত দিন যাবত? ডাক্তার সাহেব বললেন, একজনের তেরো বছর, আরেকজনের আট বছর, তৃতীয়জনের দশ বছর।
তারপর আমরা গেলাম আরেকটি কামরার সামনে। সেখানে দেখলাম, একজন লোককে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাদের একজনের বয়স পঁচিশ ছাড়িয়ে গেছে। তার সমস্ত চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে। দেখলাম এ লোকটি সম্পূর্ণ উলঙ্গ; গায়ে একটি সুতাও নেই।
আমি যারপরনাই আশ্চর্য হলাম। সবিনয়ে বললাম, ডাক্তার সাহেব! আল্লাহ রব্বুল আলামিন-কে ভয় করুন! যদিও লোকটি পাগল, কিন্তু তাকে এভাবে বিবস্ত্র অবস্থায় রাখা আপনাদের জন্য উচিত হয়নি।
ডাক্তার সাহেব বললেন, শায়খ! আমরা যদি তাকে কোনো কাপড় পরাইও, সে তা গায়ে রাখে না। দাঁত দিয়ে কামড়াতে শুরু করে। টুকরো টুকরো করে ফেলে। অতঃপর তা দিয়ে নিজের ও অন্যদের শ্বাসরোধ করতে উদ্যত হয়। কখনও বা কাপড়ের টুকরোগুলো খেতে শুরু করে। তারপর বমি করতে থাকে। তাই তাকে এভাবে রাখা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
আমার এক বন্ধু আমাকে বলেছিলেন। তিনি হাসপাতালের এক কামরার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ কামরা থেকে বিকট আওয়াজ ও চিৎকার শুনতে পেলেন। একজন রোগী এত জোরে চিৎকার করছে যে, কলজে ফেটে যাওয়ার উপক্রম। আমি, আমি কামরায় প্রবেশ করলাম। প্রবেশ করে দেখি, সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত একজন রোগী বেডের উপর চিৎকার করছেন। রোগীর পাশেই ছিল হাসপাতালের সেবক। আমি তাকে রোগীর চিৎকারের কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। সেবক বললেন, ইনি সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তার শরীরের একটি অঙ্গও তিনি নাড়াতে সক্ষম নন। তার পরিপাকযন্ত্রেও সমস্যা। খাবার হজম করতে কষ্ট হয়। যেকোনো খাবার খাওয়ানোর পর তার এ অবস্থা হয়। পাকস্থলী ও হজমের কষ্টে তিনি চিৎকার করেন। বন্ধু বলেন, আমি সেবককে বললাম, আপনারা তাকে শক্ত খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। গোশত, ভাত, রুটি ইত্যাদি শক্ত খাবার খাওয়াবেন না। সেবক বলল, আপনি জানেন আমরা তাকে কী খাবার খাওয়াই? আল্লাহ্র কসম! আমরা তার পেটে একমাত্র কয়েক ফোঁটা দুধ ছাড়া আর কিছুই প্রবেশ করাতে পারি না। তা-ও পাইপের সাহায্যেরে নাকের ভিতর দিয়ে। সে সামান্য দুধটুকু হজম করতেই তার এই কষ্ট!
আরেকজন ঘটনা শুনিয়েছেন। তিনি হাসপাতালে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত এক রোগীর কামরার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। রোগী তাকে দেখে চিৎকার করে ডাকতে লাগল। তার আওয়াজ নাকে বাজছিল। সে কোনো কিছুই নিজে থেকে করতে পারত না। ঘটনার বর্ণনাকারী বলেন, আমি তার ডাক শুনে কামরায় প্রবেশ করলাম। দেখি, তার সামনে ছোট একটি কাঠের টুল। তার উপর একটি কুরআন খোলা। রোগী যতক্ষণ যাবত কুরআনের দু'টি পৃষ্ঠাই বারবার তেলাওয়াত করছিলেন। যখন এ দু'টি পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যেত, তখন আবার শুরু থেকে পড়া শুরু করতেন। এভাবেই তেলাওয়াত করছিলেন। কারণ, কুরআনের পাতা উল্টানোর মতো শক্তিও তার ছিল না। পাশে এমন কেউও ছিল না, যে তাকে সাহায্য করবে। বর্ণনাকারী বলেন, যখন আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, তিনি আমাকে অনুরোধ করে বললেন, যদি দয়া করে পৃষ্ঠাটা একটু উলটিয়ে দিতেন! আমি পৃষ্ঠা উলটিয়ে দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে তার চেহারা আনন্দে ঝলমল করে উঠল। সাথে সাথেই তিনি কুরআনের দিকে মনোযোগ দিলেন এবং তেলাওয়াত করতে শুরু করলেন।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি তার সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেললাম, কুরআন তেলাওয়াতের প্রতি তার আগ্রহ ও আমাদের উদাসীনতা দেখে; তার অক্ষমতা ভয়াবহতা ও আমাদের সুস্থতার কথা ভেবে!
এ হল অসুস্থ ও রোগীদের কিছু দৃষ্টান্ত। অতএব, হে সুস্থ সবল ও নীরোগ! ওহে বিপদশূন্য ও বালা-মসিবত থেকে নিরাপদ! তুমি আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাসিতায় ডুবে আছ; আল্লাহ রব্বুল আলামিনের আযাব, শাস্তি ও পাকড়াও থেকে গাফেল হয়ে আছ! আল্লাহ রব্বুল আলামিন তোমাকে কত নেয়ামত দিয়েছেন, তোমার সঙ্গে কত সুন্দর আচরণ করেছেন, কিন্তু তুমি তার বদলা দিচ্ছ তার অবাধ্যতা ও না-ফরমানির মাধ্যমে!
আরে- তোমার উপর তার নেয়ামত কি অজ্ঞ-অগণিত নয়? তার দয়া ও অনুগ্রহ কি অফুরন্ত নয়?
- তুমি কি এ ভয় কর না যে, আগামীকালে তোমাকে তার সামনে দাঁড়াতে হবে?
- অতঃপর তোমাকে বলবেন, হে আমার বান্দা!
- আমি কি তোমাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করিনি?
- আমি কি তোমার দেহকে সুঠাম, সুশ্রী ও সবল করিনি?
- আমি কি তোমার রিযিক প্রশস্ত করে দেইনি?
- আমি কি তোমার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ্ণ রাখিনি?
তখন তুমি বলবে, বলতে বাধ্য হবে, হ্যাঁ; অবশ্যই। তোমার এ জওয়াবের পর আল্লাহ আবার তোমাকে প্রশ্ন করবেন-
- তা হলে কেন আমার নেয়ামতের না-শোকরি করেছ?
- কেন আমার নেয়ামতরাজি ভোগ করে আমারই অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছ?
- কেন তুমি নিজেই নিজেকে আমার শাস্তি ও ক্রোধের জন্য প্রস্তুত করেছ?
সেদিন তুমি কী জওয়াব দিবে? সেদিন তোমার যাবতীয় দোষত্রুটি সকলের সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়বে। তোমার সকল অন্যায়, অনাচার ও পাপাচার আবরণমুক্ত হয়ে যাবে। অতএব-
- আফসোস! তোমার জন্য।
- আফসোস! তোমার গুনাহের জন্য।
- তুমি কতই না হতভাগ্য!
- তুমি কতই না কপালপোড়া!
তোমার জীবনের সমীকরণ-
- সুরটীয় আরাম-আয়েশ ও আনন্দ-আহ্লাদ।
- মাঝখানে বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত।
- শেষটায় অন্তহীন ধ্বংস ও লয়-নিপাত।
আরে-
- গুনাহ ছাড়া আর কীসে নূহ আ.-এর সম্প্রদায়কে পানিতে ডুবিয়েছ?
- গুনাহ ছাড়া আর কীসে কওমে আদ ও ছামুদকে ধ্বংস করেছ?
- গুনাহ ছাড়া আর কীসে লূত আ.-এর সম্প্রদায়কে পাথরবৃষ্টি ডেকে এনেছ? গুনাহ ছাড়া আর কোন জিনিসটা তাদের বাষিষ্ণু উঠোনের কারণ হয়েছে?
- গুনাহ ছাড়া আর কীসে শুআইব আ.-এর সম্প্রদায়কে তরাবিত করেছে?
- গুনাহ ছাড়া আর কোন জিনিসে আবরাহা বাদশাহ ও তার বাহিনীর উপর কংকরবৃষ্টি ডেকে এনেছে?
- গুনাহ ছাড়া আর কীসে ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়কে দরিয়ায় ডুবিয়ে মেরেছ?
আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلُ كَانَ أَكْثَرُهُم مُّشْرِكِينَ
আমি প্রত্যেককে তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারও প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরময় প্রচণ্ড বাতাস, কাউকে পেয়েছে বজ্রপাত, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো জুলুম করেননি; কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে। [সূরা আনকাবুত : ৮০]
অতএব, তুমি আশ্চর্য হয়ো না, যদি তুমি-
- তোমার গুনাহের কারণে দুনিয়াতে কোনো শাস্তিতে নিপতিত হও।
- শারীরিক কোনো অসুস্থতা বা সন্তানাদিকে নিয়ে কোনো পরীক্ষার মুখোমুখি হও।
- ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হও কিংবা রিযিকের সংকীর্ণতায় পর্যুদস্ত হও।
- কিন্তু যদি তোমার দোয়া কবুল না হয়।
- একপর এক বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত, বিভিন্ন জটিলতা ও সংকট যদি তোমাকে ঘিরে নেয়।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلُ كَانَ أَكْثَرُهُم مُّشْرِكِينَ
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না, তা হলে দেখতে পেত তাদের পূর্বসুরীদের কী পরিণাম হয়েছে? তাদের শাস্তি ও কীর্তি পৃথিবীতে এদের অপেক্ষা অধিকতর ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে তাদের গুনাহের কারণে পাকড়াও করেছিলেন এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ ছিল না। [সূরা মুমিন : ২১]
অতএব, দ্রুত তুমি তোমার যাবতীয় গুনাহ থেকে তাওবার দিকে ধাবিত হও। অনুতপ্ত হও সেইসব দিনের ব্যাপারে, যে দিনগুলোতে গুনাহের কালিমায় অন্ধকার করেছ আল্লাহর সাদা-সাদা পাণ্ডুলোককে। ডুবে ছিলে অন্যায়-অনাচার আর পাপাচারে। ভারী করছে পাপের বোঝা গভীর রাতের আঁধারে। কতই না দুঃসাহস দেখিয়েছ তুমি আসমান-জমিনের মালিকের বিরুদ্ধে! অতএব, আর দেরি না করে এখনই জেনে টেনো নাও অনুতাপ-অনুশোচনার চড়াছাড় ও পদস্খলনের পূর্বেই। ক্ষমা নিয়ে নাও যাবতীয় গুনাহ থেকে- সময় ফুরিয়ে যাবাবার আগেই।
📄 তাওবাকারীর কর্তব্য
তাওবাকারীর কর্তব্য, তাওবা করার পর বিপদ-আপদ, বালা- মসিবত, সমস্যা-সংকট, হাসি-তামাশা, ঠাট্টা-বিদ্রূপ- যা-ই আসুক, তাতে ধৈর্যধারণ করা; আল্লাহ ر-এর জন্য সবকিছু মেনে নেওয়া; সহ্য করে যাওয়া। কারণ, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ। তারপর প্রত্যেকের মর্যাদা অনুপাতে। যার মর্যাদা যত বেশি তার পরীক্ষা তত বেশি। অতএব, বান্দার উপর একবার পর এক বিপদাপদ আসতে থাকবে। অবশেষে তা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে, সে জমিনে চলাফেরা করে অথচ তার কোনো গুনাহই থাকে না। তখন-
– সে গুনাহগারদের সংখ্যামিকে প্রতারিত হয় না।
– শাহেওয়াতপূজারীদের রঙ-তামাশা তাকে আকৃষ্ট করতে পারে না।
– সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় না, শয়তান যাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছে।
আল্লাহ্ প পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
وَاِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ
আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথামতো চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহ্র পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। [সূরা আন‘আম : ১১৬]
তাওবাকারীর কর্তব্য, তাওবা করার পর বিপদ-আপদ, বালা- মসিবত, সমস্যা-সংকট, হাসি-তামাশা, ঠাট্টা-বিদ্রূপ- যা-ই আসুক, তাতে ধৈর্যধারণ করা; আল্লাহ ر-এর জন্য সবকিছু মেনে নেওয়া; সহ্য করে যাওয়া। কারণ, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ। তারপর প্রত্যেকের মর্যাদা অনুপাতে। যার মর্যাদা যত বেশি তার পরীক্ষা তত বেশি। অতএব, বান্দার উপর একবার পর এক বিপদাপদ আসতে থাকবে। অবশেষে তা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে, সে জমিনে চলাফেরা করে অথচ তার কোনো গুনাহই থাকে না। তখন-
– সে গুনাহগারদের সংখ্যামিকে প্রতারিত হয় না।
– শাহেওয়াতপূজারীদের রঙ-তামাশা তাকে আকৃষ্ট করতে পারে না।
– সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় না, শয়তান যাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছে।
আল্লাহ্ প পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
وَاِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ
আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথামতো চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহ্র পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। [সূরা আন‘আম : ১১৬]
📄 তাওবাকারীর প্রকৃত জীবন
তাওবার পরের জীবনই একজন তাওবাকারীর প্রকৃত জীবন। ওহ্! তোমার জীবনের কী স্বাদ থাকল, যদি তুমি প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে আল্লাহর দুশমন ভাবো; সারাক্ষণই যদি শাহেওয়াতে নাফসানিয়ার পূজায় লিপ্ত থাকো; কোনো না কোনো গুনাহ ও হারামে লিপ্ত থাকো! অথচ তোমার রব যিনি, যিনি তোমাকে খাওয়াচ্ছেন- পরাচ্ছেন; তুমি অসুস্থ হলে তোমাকে শেফা দিচ্ছেন; কাউকে মৃত্যু দান করছেন আবার কাউকে জীবন দান করছেন। বরং তোমার দেহের প্রতিটি পশম, এমনকি পুরো সৃষ্টিজগতের অণু-পরমাণুও যাঁর অনুমতি ছাড়াও সামান্যতম নড়াচড়াও করে না।
যে খাঁটি দিলে আল্লাহ্ র-এর দরবারে তাওবা করে, সে তাওবার পর দীনের শক্তিশালী ও মজবুত সৈনিকের পরিণত হয়। তখন সে সবকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা দেয়। সর্বদা দীনের ফিকির বহন করে। সাহাবায়ে কেরাম আজমাইন রাসূলুল্লাহ্ র-এর হাতে হাত রেখে বাইআত হতেন আর তখন থেকেই নিজেকে দীনের একজন সৈনিক বলে মনে করতেন। দীনের জন্য, দীনের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।
তাওবার পরের জীবনই একজন তাওবাকারীর প্রকৃত জীবন। ওহ্! তোমার জীবনের কী স্বাদ থাকল, যদি তুমি প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে আল্লাহর দুশমন ভাবো; সারাক্ষণই যদি শাহেওয়াতে নাফসানিয়ার পূজায় লিপ্ত থাকো; কোনো না কোনো গুনাহ ও হারামে লিপ্ত থাকো! অথচ তোমার রব যিনি, যিনি তোমাকে খাওয়াচ্ছেন- পরাচ্ছেন; তুমি অসুস্থ হলে তোমাকে শেফা দিচ্ছেন; কাউকে মৃত্যু দান করছেন আবার কাউকে জীবন দান করছেন। বরং তোমার দেহের প্রতিটি পশম, এমনকি পুরো সৃষ্টিজগতের অণু-পরমাণুও যাঁর অনুমতি ছাড়াও সামান্যতম নড়াচড়াও করে না।
যে খাঁটি দিলে আল্লাহ্ র-এর দরবারে তাওবা করে, সে তাওবার পর দীনের শক্তিশালী ও মজবুত সৈনিকের পরিণত হয়। তখন সে সবকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা দেয়। সর্বদা দীনের ফিকির বহন করে। সাহাবায়ে কেরাম আজমাইন রাসূলুল্লাহ্ র-এর হাতে হাত রেখে বাইআত হতেন আর তখন থেকেই নিজেকে দীনের একজন সৈনিক বলে মনে করতেন। দীনের জন্য, দীনের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।