📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 আইয়ূবী সাম্রাজ্য

📄 আইয়ূবী সাম্রাজ্য


এ বিষয়ে পরিষ্কার জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের একটু পেছনের দিকে ফিরে যেতে হবে, যাতে ঘটনাগুলো শুরু করে পর্যবেক্ষণ করতে পারি—
ইসলামের মহানায়ক বীরপুরুষ সালাহ উদ্দীন আইয়ুবী রহ. ৫৬৯ হিজরীতে আইয়ূবী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এই সাম্রাজ্য ৫৮৯ হিজরী পর্যন্ত মোট বিশ বছর শাসন করে। আইয়ূবী সাম্রাজ্য পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে ক্রুশেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হতে চায়। এতে তারা অনেকবার জয়লাভ করে। সবচেয়ে বড় জয়লাভ করে ৫৮৩ হিজরীতে হিত্তিনের ভাগ্যনির্ধারণী যুদ্ধে। সালাহ উদ্দীন আইয়ুবী রহ. এ যুদ্ধে ক্রুশেড বাহিনীকে এমনভাবে পরাজিত করেন যে, তাদের কোমর ভেঙে যায় এবং ভাগ্যবিপর্যয় অবধারিত হয়ে পড়ে। হিত্তিন জয়ের মাত্র তিন মাস পর সেই বছরেই তিনি ২৭ শে রজব ৫৮৩ হিজরী (১১৮৭ ঈ.) বাইতুল মাকদিস আযাদ করেন। সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী রহ. এমন একটি শক্তিশালী ক্ষমতাধর সাম্রাজ্য রেখে যান, যা একই সময়ে মিশর, হেজাজ, ইয়েমেন, ইরাক, তুরস্কের কিয়দাংশ, লিবিয়া ও নুবিয়ার কিছু অংশ নিয়ে বিস্তৃত ছিল। সিরিয়ার ভূমধ্যসাগর কিনারে ক্রুশেডাররা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ৬৪ কিন্তু সালাহ উদ্দীন আইয়ুবী রহ. এর মৃত্যুর পর খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে জিহাদ ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। মুসলমানগণ সম্পদের প্রাচুর্য, সাম্রাজ্যের বিশালতার কারণে ফেতনায় নিপতিত হয়। এসবের কারণে আইয়ূবী সাম্রাজ্য বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তারা ফিরে গিয়েছিল তাদের পুরোনো চরিত্রে; সেই বিভাজন-বিভক্তি, আত্মকলহ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং গাফলত ও তন্দ্রালুতায়। এসব বিভক্তি-বিভাজন বিস্তারিত আলোচনা করার স্থান এটি নয়। ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে 'ক্রুশেড আক্রমণ' কিতাবে সবিস্তার আলোচনা করব—ইনশাআল্লাহ! কিন্তু এখানে আমি যা উল্লেখ করব, তা হলো, আইয়ূবী সুলতানদের নিজেদের মাঝে প্রায় ষাট বছর যুদ্ধ চলতে থাকে। ৫৮৯ হিজরীতে সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ূবীর ইন্তেকালের পর থেকে ৬৪৮ হিজরী আইয়ূবী সাম্রাজ্য ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত। এই যুদ্ধ বাকযুদ্ধ, লিখনীযুদ্ধ বা গালমন্দের যুদ্ধ ছিল না, বরং তা তরবারি যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়। মুসলমানদের হাতে অপর মুসলমান জীবন হারায়। ফলশ্রুতিতে এই 'বিরোধ মুসলমানদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের সহযোগিতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে!! অথবা মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাতারীদের সহযোগিতা করার প্রতি উস্কে দেয়!! এ সবকিছুর একমাত্র কারণ পার্থিব জগতের মোহ ও ভালোবাসা। যা থেকে সতর্ক থাকার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বারংবার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইমাম ইবনে মাজা, তবরানী ও ইবনে হিব্বান রহ. বিশুদ্ধ সনদে হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রা. সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
من كانت الدنيا همه فرق الله عليه أمره، وجعل فقره بين عينيه، ولم يأته من الدنيا إلا ما كتب له، ومن كانت الآخرة نيته جمع الله له أمره، وجعل غناه في قلبه، وأتته الدنيا وهي راغمة
“যে ব্যক্তিকে দুনিয়া মোহগ্রস্ত করবে, আল্লাহ তার কাজকর্মে পেরেশানি সৃষ্টি করবেন। তার দুই চোখের সামনে দারিদ্র্য দাঁড় করিয়ে রাখবেন। অথচ পার্থিব সম্পদ সে ততটাই লাভ করবে, যতটা তার তাকদীরে লিপিবদ্ধ আছে। আর যে ব্যক্তির উদ্দেশ্য হবে আখেরাত। আল্লাহ তা'আলা তার সবকিছু সঠিক করে দেবেন। তার অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা ঢেলে দেবেন। দুনিয়া বিনা শ্রমে তার কাছে আসবে।”৬৫
আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রাসূল, আপনি সত্য বলেছেন।
সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী রহ. চোখের সামনে 'জিহাদ' রেখেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল খ্রিস্টানদের হত্যা করা ও আল্লাহর দ্বীনকে আল্লাহর জমিনে সমুন্নত করা। আল্লাহ তার সবকিছু সঠিক করে দিয়েছিলেন। তার অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা ঢেলে দিয়েছিলেন। আর বাস্তবেই বিনা শ্রমে না চাইতেই দুনিয়া তার পদতলে এসেছিল।
পক্ষান্তরে পরবর্তীতে আগত সম্রাটগণ দুনিয়াকে নিজেদের মূল লক্ষ্য বানিয়েছিল। ফলে সবকিছু তাদের সামনে অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে ভুল-সঠিক, হক-বাতিল নির্ণয়ের ক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে কখনো তাতারীদের সঙ্গ দিয়েছে, কখনো খ্রিস্টানদের, আবার কখনো মুসলমানদের! আল্লাহ তা'আলা তাদের চোখের সামনে দারিদ্র্য দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে কেউ অপমানিত অবস্থায় মারা গেছে, কেউ দারিদ্র্য অবস্থায়, কেউ বিতাড়িত অবস্থায় আবার কেউ বন্দীদশায়। সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী রহ. এর ইন্তেকালের পর এই ছিল মুসলমানদের অবস্থা।

টিকাঃ
৬৪ ইসলামের এই নিবেদিত প্রাণ মুজাহিদ ২৭ শে সফর ৫৮৯ হিজরিতে দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেন।-অনুবাদক।
৬৫ ইবনে মাজা: ৪১০৫।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 ন্যায়পরায়ণ বাদশা নাজমুদ্দীন আইয়ূব

📄 ন্যায়পরায়ণ বাদশা নাজমুদ্দীন আইয়ূব


এখন আমরা বিরোধ ও বিভক্তির পঞ্চাশ বছরের ইতিহাস ছেড়ে দিয়ে আইয়ূবী সাম্রাজ্যের শেষ দশ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করব। যা শুরু হয়েছে ৬৩৭ হিজরী থেকে। এটা সে সময়ের কথা যখন মিশরের আইয়ূবী সাম্রাজ্যের সিংহাসনে নাজম উদ্দীন আইয়ূবী রহ. সমাসীন হয়েছিলেন, যাকে সুলতান সালাহ উদ্দীনের পর আইয়ূবী সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সুলতান মনে করা হয়। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, অধিকাংশ মুসলমান, এমনকি মিশরীয় মুসলমানগণও, যা ছিল তার অবস্থানস্থল, এই মহান সুলতান সম্পর্কে কিছুই জানেন না!
সুলতান নাজমুদ্দীন আইয়ূবী রহ. ৬৩৭ হিজরীতে মিশরের ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
সে সময়ের চলমান রীতি অনুযায়ী সিরিয়ায় আইয়ূবী নেতারা মিশর খেলাফতের বিরুদ্ধে তার সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করল। তাদের মাঝে বহু যুদ্ধ ও সংঘর্ষ ঘটল। ৬৪১ হিজরীতে যখন নাজমুদ্দীন আইয়ূবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সিরিয়ার সকল আইয়ূবী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হলো এবং খ্রিস্টানদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলো, তখন তাদের বিরোধ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করল। বিনিময়ে সিরিয়ার আইয়ূবী নেতারা খ্রিস্টানদের জন্য বাইতুল মাকদিস ছেড়ে দেবে!! [যেই বাইতুল মাকদিস সালাহ উদ্দীন রহ. খ্রিস্টানদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন]
সত্যিই কেউ কল্পনাও করতে পারবে না যে, কীভাবে তারা খ্রিস্টানদের বাইতুল মাকদিস ছেড়ে দিতে চাইল? সত্যিকার অর্থের মুসলমানরা নিজ ভূখণ্ড যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, তা অন্যকে ছেড়ে দিতে পারে না। সেখানে বাইতুল মাকদিস ছাড়বে কীভাবে? যেখানে রয়েছে মসজিদে আকসা, যা খ্রিস্টানদের হাত থেকে বীরসেনানী সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী আযাদ করেছিলেন। যা স্বাধীন করতে গিয়ে বহু প্রাণ বিসর্জিত হয়েছে এবং মুসলমানরা সহ্য করেছে বহু ঘাত-প্রতিঘাত, যুদ্ধ-সংগ্রাম। কিন্তু হায়।-এ কী ঘটছে?!
সিরিয়ার আইয়ূবী নেতারা খ্রিস্টানদের হাতে হাত মেলাল। মিশর অভিমুখে আক্রমণ শুরু করল। এদিকে মিশরে নাজমুদ্দীন আইয়ূব রহ. সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করেছেন। রুকন উদ্দীন বাইবার্সকে যুদ্ধের সেনাপতির দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। মূলত খ্রিস্টান ও সিরিয়ার বিশাল বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করলে মিশরীয় বাহিনী খুব সামান্য ও অতি দুর্বল মনে হয়। তাই নাজমুদ্দীন রহ. যে সকল খাওয়ারের্যম যোদ্ধা তাতারীদের হাতে খাওয়ারের্যম পতনের পর পলায়ন করেছিল, তাদের কাছে সহযোগিতা চান। খাওয়ারের্যম পতনের ইতিহাস পূর্বে আমরা সবিস্তার আলোচনা করেছি।
খাওয়ারের্যমের সৈন্যবাহিনী মূলত ছিল ভাড়াটে সৈন্য। অর্থাৎ যারা তাদের অধিক পারিশ্রমিক দেয়, তাদের হয়েই তারা যুদ্ধ করে। সম্পদের বিনিময়ে তারা রণখেদমত আঞ্জাম দেয়। তাই নাজমুদ্দীন রহ. মজুরির বিনিময়ে তাদের কাছে সাহায্য কামনা করেন। নাজমুদ্দীন আইয়ূবী এবং খ্রিস্টান-আইয়ূবীদের যৌথশক্তির মাঝে এক বিরাট রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধটি গাজার যুদ্ধ নামে পরিচিত। ৬৪২ হিজরীতে যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। জায়গাটি ফিলিস্তিনের গাজার খুব কাছে অবস্থিত। আমরা গাজাসহ গোটা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য দুআ করি।
যুদ্ধে নাজমুদ্দীন আইয়ূব রহ. বিশাল জয়লাভ করেন। খ্রিস্টানদের প্রায় ত্রিশ হাজার যোদ্ধা নিহত হয় এবং বিপুলসংখ্যক আমীর-উমারা ও রাজা-বাদশা বন্দী হয়। অনুরূপ আইয়ূবীদের বন্দী আমীর-উমারাদের সংখ্যা অনেক। নাজমুদ্দীন আইয়ূব রহ. এটাকে মোক্ষম সুযোগ মনে করে বাইতুল মাকদিস অভিমুখে রওয়ানা হন, সিরিয়ার আইয়ূবী নেতারা যা খ্রিস্টানদের অর্পণ করেছিল। খ্রিস্টানদের দুর্গসমূহে আক্রমণ করেন এবং খাওয়ারের্যম বাহিনীর সহযোগিতায় এই পবিত্র নগরী ৬৪৩ হিজরীতে খ্রিস্টানদের হাত থেকে আযাদ করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ সাতশ বছর পর্যন্ত খ্রিস্টানরা এই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করতে পারে না। এরপর ব্রিটিশ সৈন্যরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতকতায় বাইতুল মাকদিসে প্রবেশ করে। দুআ করি আল্লাহ তা'আলা যেন আবার মাসজিদে আকসাকে ইসলাম ও মুসলমানদের কাছে ফিরিয়ে দেন!
অতঃপর নাজমুদ্দীন রহ. দামেস্ক প্রবেশ করেন এবং নতুনভাবে মিশর ও সিরিয়া তাওহীদের পতাকাতলে নিয়ে আসেন। শুধু এতটুকুই নয়, বরং খ্রিস্টান সাম্রাজ্যের অধীনস্থ কতিপয় মুসলিম নগরী স্বাধীন করার প্রতি মনোযোগ দেন এবং তবারী, আসকালান ইত্যাদি শহরগুলো স্বাধীন করেন।
তবে নাজমুদ্দীন আইয়ূব রহ. এর দলে দ্রুত একটি দুর্ঘটনা ঘটে। তা হলো, ভাড়াকৃত খাওয়ারের্যম বাহিনী তার দল থেকে পৃথক হয়ে যায়। সিরিয়ার জনৈক আইয়ূবী আমীর তাদের নাজমুদ্দীন আইয়ুবের চেয়ে অধিক অর্থ প্রদানের আশা প্রদান করলে তারা তার দল থেকে পৃথক হয়ে যায়। শুধু পৃথকই হয়নি, বরং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে যায়। এখন তার সঙ্গে মিশর থেকে আগত মৌলিক দল ব্যতীত কেউ থাকে না। নেতৃত্বে ছিল সেনাপতি রুকন উদ্দীন বাইবার্স। নাজমুদ্দীন আইয়ূব রহ. উপলব্ধি করেন যে, এমন দলের ওপরই ভরসা করতে হবে, যারা তার ব্যক্তিত্বের প্রতি আনুগত্যশীল, সম্পদের প্রতি নয়। তাই তিনি খাওয়ারের্যমদের পরিবর্তে নতুন একটি দলের ওপর ভরসা করতে শুরু করেন। সেই দলটি ছিল 'দাস/মামলুক' দল।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 দাস/মামলুক বংশের পরিচয়

📄 দাস/মামলুক বংশের পরিচয়


আরবী ভাষায় 'মামলুক' বলা হয় গোলাম বা দাসকে। বিশেষত সেই সব লোককে 'মামলুক' বলা হয়, যারা যুদ্ধে বন্দী হয়েছে। তবে তাদের বাবা-মা বন্দী হয়নি। 'মামলুক' একবচন। এর বহুবচন হলো 'মামালিক'। মোটকথা, সেই গোলামকে মামলুক বলা হয়, যাকে কেনাবেচা করা হয়। [আর যেসব লোক বাবা-মাসহ বন্দী হয়, তাদের আরবী ভাষায় 'কিন' বলা হয়; মামলুক নয়। তবে 'মামলুক' শব্দ উল্লেখিত সংজ্ঞা অনুযায়ী ব্যাপকার্থে সকল দাসের ওপরই প্রয়োগ হয়। তবে ইসলামী ইতিহাসের পরিভাষায় মামলুক শব্দটি বিশেষ অর্থ প্রদান করে। এটি পারিভাষিক রূপ লাভ করে প্রসিদ্ধ আব্বাসী খলিফা মামুনুর রশীদের আমল [১৯৮হি.-২১৮ হি.] ও তাঁর ভাই মু'তাসিম বিল্লাহের শাসনামল [২১৮-২২৮ হি.] থেকে। এই দুই মহান খলিফা তাদের শাসনামলে দাস ব্যবসায়ীদের বাজার থেকে তারা বহুসংখ্যক দাস/মামলুক ক্রয় করে আনেন এবং তাদের প্রভাব জোরদার করার জন্য সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে তাদের যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করেন।
দিনে দিনে মামলুকরাই অধিকাংশ মুসলিম দেশে যুদ্ধের প্রধান শক্তি, কখনো কখনো একক শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। আইয়ূবী সাম্রাজ্যের আমীরগণ নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে দাসবংশের ওপর ভরসা করতেন। যুদ্ধে তাদের কাজে লাগাতেন। কিন্তু সংখ্যায় তারা খুবই কম ছিল। একসময় নাজমুদ্দীন রহ. শাসনামলে যখন খাওয়ারের্যমরা তার দল থেকে বের হয়ে যায়, তখন নাজমুদ্দীন রহ.-এর তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে বাধ্য হন। এভাবেই বিশ্বমানচিত্রে দাসবংশের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, বিশেষত মিশরে।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 দাস বংশের উৎস

📄 দাস বংশের উৎস


দাসদের প্রধান উৎস ছিল— ১. হয়তো যুদ্ধে বন্দী হয়ে আসা ২. অথবা ক্রয় করা।
মা ওরাউন নাহার থেকে সবচেয়ে বেশি দাস আমদানী হতো। মাওরাউন নাহার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জাইহুন নদী, যা তুমেনিস্তান ও আফগানিস্তানে উত্তর এবং উজবেকিস্তান ও তজাকিস্তানের দক্ষিণে প্রবাহিত। এসব অঞ্চলের মূল অধিবাসীরা হলো তুর্কী। এসব এলাকা সর্বদা অস্থিতিশীল থাকত। একের পর এক যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগেই থাকত। তাই এসব অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত বন্দীদের সংখ্যা বেশি হতো। তৎকালে 'দাস শহর' হিসেবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ শহর ছিল সমরকন্দ, ফারগানা, খাওয়ারের্যম ইত্যাদি। তাই তুর্কী বংশোদ্ভূত অধিকাংশই দাস। তা ছাড়াও এসব অঞ্চলে আর্মেনিয়া, মঙ্গোল ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত দাসরাও ছিল। এ সকল ইউরোপীয়রা সকালিয়া নামে পরিচিত ছিল। তারা বিশেষভাবে পূর্ব ইউরোপ থেকে আগমন করত।
এ ছিল শত বছরের নিত্য ঘটনা। তবে নাজমুদ্দীন আইয়ূবী রহ. ও তার অনুসরণে পরবর্তী মামলুক সাম্রাজ্যে সুলতানরাও অল্প বয়স্ক দাসদের ক্রয় করতেন। অর্থাৎ তারা উঠতি বয়সের দাসদের ক্রয় করতেন। অধিকাংশ দাস অমুসলিম রাষ্ট্র থেকে আগমন করত। যদিও মাঝে মাঝে আরবি বলতে পারে না এমন মুসলিম সন্তান বন্দী হওয়ার সংবাদ পাওয়া যেত। তবে তাদের চেনা যেত না। চেনা যেত না তাদের বংশ ও ধর্ম। ফলে তাদের সঙ্গেও দাসের ন্যায় আচরণ করা হতো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00