📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 মিশর তাতারীদের চারণভূমিতে পরিণত হওয়া ছিল স্বাভাবিক

📄 মিশর তাতারীদের চারণভূমিতে পরিণত হওয়া ছিল স্বাভাবিক


এই বিষয়টি নিয়ে অধিক গবেষণা করার কোনো প্রয়োজন নেই। তাতারীদের দুর্বার গতি একথার একীন প্রদান করে যে, খুব শীঘ্রই মিশর তাদের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হবে। এর অনেকগুলো কারণ ছিল। তন্মধ্যে—
১. তাতারীদের সম্প্রসারণমূলক রাজনীতি। তারা এক অঞ্চল শেষে পরবর্তী অঞ্চলের খোঁজে থাকে। আর মিশর তো ফিলিস্তিনের গা ঘেঁষে অবস্থিত।
২. তৎকালীন মুসলিমবিশ্বে মিশর ব্যতীত কোনো শক্তি অবশিষ্ট ছিল না, যে তাতারীদের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। বাকি সব মুসলিমশক্তি, দুর্গ, ইসলামী শহরের পতন ঘটেছে। শুধু মিশরই রয়ে গেছে।
৩. মিশর যুদ্ধের উপযুক্ত ভূমি। তা বিশ্বমানচিত্রের মধ্যভাগে অবস্থিত। আর মিশরের বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির বিষয়টি কারোর অজানা নয়।
৪. মিশর আফ্রিকার মুখোমুখি অবস্থিত। তাতারীরা যদি মিশরের পতন ঘটাতে পারে, তাহলে উত্তর আফ্রিকা দখল করা তাদের জন্য খুবই সহজ হবে। ইতিপূর্বে উত্তর আফ্রিকা দখল করার জন্য তারা কোনো প্রচেষ্টা করেনি। কারণ, সিরিয়া পর্যন্ত পৌঁছতে তাদের পশ্চিমা মুসলিম সাম্রাজ্যের পতন ঘটাতে হয়েছে। উত্তর আফ্রিকার ঝুঁকি নেওয়া হতো বাড়তি ঝুঁকি। যদি মিশরের পতন ঘটে তবে স্বল্প প্রচেষ্টায় উত্তর আফ্রিকা দখল করা যাবে।
৫. মিশরের জনসংখ্যা অন্যান্য মুসলিম অঞ্চলের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। তাই মিশর পতন ঘটানো তাতারীদের জন্য জরুরি ছিল।
৬. মিশরবাসী ইসলামী জাগরণ ও দ্বীনী চেতনায় ছিল উজ্জীবিত। তাতারীরা এই আশঙ্কা করছিল যে, যদি কোনো প্রচুর জনসংখ্যা সম্বলিত, দীনি চেতনায় উজ্জীবিত সৎ মুজাহিদ-ব্যক্তি মিশরের নেতৃত্ব গ্রহণ করে, তাহলে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। হতে পারে তাতারীদের আকস্মিক পতন ঘটবে!
এই সকল কারণ ও অন্যান্য আরও কিছু কারণে তাতারীরা ফিলিস্তিন থেকে মিশর দ্রুত গমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তারা খুব দ্রুত গমনের সিদ্ধান্ত এ জন্য গ্রহণ করে যে, যাতে তাদের আকস্মিক আগমনে মিশরবাসী যুদ্ধের কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ না করতে পারে।
কিন্তু সিরিয়া ও ফিলিস্তিন আক্রমণের সময় মিশরের কী অবস্থা ছিল? সে সময় মিশরবাসী ধারাবহিক কঠোর সংকটে সময় পার করছিল। তারা রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সমান্তরালভাবে সংকটাপন্ন ছিল। এর অনেক কারণ ছিল। সামনে আমরা তা বিস্তারিত আলোচনা করব—ইনশাআল্লাহ।
এখানে একটি বিষয় আলোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো, ইতিমধ্যে দাসবংশ মিশর শাসন শুরু করেছিলেন। এ সময়ে মিশরের সিংহাসনে কুতয রহ. সমাসীন হয়েছিলেন।
তাতারীদের মিশর আক্রমণ, মিশর সাম্রাজ্যের প্রতিরোধ এবং তাদের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা আলোচনার পূর্বে দাসবংশের উত্থান সম্পর্কে সামান্য আলোকপাত করার চেষ্টা করব। কীভাবে তারা মিশরের রাজক্ষমতায় সমাসীন হলেন? কীভাবে কুতয রহ. এই পবিত্র ভূমির শাসনভার গ্রহণ করলেন? তৎকালীন সার্বিক পরিস্থিতি কীভাবে একথার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করে যে, দাসবংশের নেতৃত্বে তাতারী বাহিনী ও মিশরীয় বাহিনীর মাঝে অনিবার্য সংঘাত ঘটবে?
এ সবকিছু পর্যালোচনা করলে আমরা ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে পারব। খুঁজে পাব বহু উপদেশ ও শিক্ষা এবং শেষ পরিণতি, যা আমরা প্রত্যক্ষ করব। ধ্বংসে উপনীত হওয়ার কারণসমূহ উদ্‌ঘাটন করতে পারব।
চলুন! এখন আমরা দাসবংশ নিয়ে আলোচনা করি!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00