📄 বন্ধুরা, আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজ সফল হতে দেন না
إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ
“আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজ সফল হতে দেন না।”৬০
নাছের ইউসুফ জনগণের আবেগ নিয়ে খেলতামাশা করত। তার অসৎ চরিত্র, বিভ্রান্ত আকীদা ও অদূরদর্শিতা সম্পর্কে জনগণ সম্যক অবগত ছিল। কতিপয় মুসলমানের চরম নির্বুদ্ধিতা ছিল, তারা বিশ্বাস করেছিল, আল্লাহ তা'আলা তার হাতে ইসলামের জয় ঘটাবেন।
তিনি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ নয়, বরং ক্ষমতা ও অস্তিত্ব রক্ষার পথে জিহাদের ডাক দিয়েছিলেন।
কতিপয় অতি উৎসাহী নাছের ইউসুফের ডাকে সাড়া দেয়। তারা তার পতাকাতলে জিহাদ করতে আসে। কিন্তু ইতিহাস ও বাস্তবতা একথার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে যে, যুদ্ধের মুখোমুখি মুহূর্তে নাছের ইউসুফ পলায়ন করবেন। রণভূমিতে নাছের ইউসুফ বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারবেন না; বরং যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বেই তিনি পলায়ন করবেন। সেই মুহূর্তটি অতিউৎসাহী লোকদের ব্যথিত করবে। তারা কঠিন অধঃপতনের শিকার হবে। তাদের উচিত নিজেদের মাঝে একটু বোঝাপড়া করা। আমীরের পলায়নের পর পরাজয় মেনে নেওয়া তাদের বড় ভুল নয়। তাদের বড় ভুল হলো নাছের ইউসুফের প্রতি এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে, তিনি জিহাদের পতাকা বহন করতে পারবেন!!
বন্ধুরা, আপনারা জিহাদের ডাক শুনলে, কে ডাক দিচ্ছে তাকে ভালোভাবে পরখ করবেন। কারণ, জিহাদ ইসলামের শীর্ষস্থানীয় আমল। সর্বমহৎ ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ জিহাদের সত্য ডাক দিতে পারেন না।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নাছের ইউসুফ জিহাদের ডাক দিয়ে দামেস্কের উত্তরে বারযা নামক গ্রামে তাঁবু গেড়েছেন। অথচ উচিত ছিল সেনাবাহিনী নিয়ে আলেপ্পো নগরীর দিকে অগ্রসর হওয়া। আলেপ্পো তার সাম্রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং হালাকু খানের মুখোমুখি হওয়ার জন্য সিরিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। অথবা উচিত ছিল মিয়াফারেকীনের উদ্দেশে সদলবলে রওনা হওয়া। যাতে কামেল মোহাম্মদের সঙ্গে গিয়ে মিলিত হয়ে মুসলিম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারেন। কিন্তু নাছের ইউসুফ এ দুইয়ের কোনোটাই করেননি; বরং তিনি দামেস্কে তাঁবু গেড়েছেন। যাতে হালাকু খান আসলে পালাবার সুযোগ পান। তিনি তার মূল্যবান জীবনকে সামান্যতম ক্ষতির মুখোমুখি হতে দিতে চাননি!
এরপর নাছের ইউসুফ পার্শ্ববর্তী আমীরদের তার দলে যোগ দেওয়ার জন্য পত্র প্রেরণ শুরু করেন। তিনি মরু সাগরের পূর্বে অবস্থিত (বর্তমান জর্ডানে অবস্থিত) কারাক অঞ্চলের নেতাকে চিঠি লেখেন। তার নাম ছিল 'মুগীছ ফাতাহুদ্দীন ওমর' (তার নামের অর্থ হলো আশ্রয়দাতা দ্বীন বিজেতা ওমর)। তিনি অন্যকে আশ্রয় দিতেন না। কেবল নিজেকেই আশ্রয় দিতেন। তিনি দ্বীন বিজেতা ছিলেন না। তিনি ওমর রা. এর সদৃশও ছিলেন না। তিনি নাছের ইউসুফের মতোই ছিলেন। তিনি কখনো তাতারীদের বিপক্ষে যুদ্ধ করতেন। আবার কখনো তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতেন!!
নাছের ইউসুফ আরেক আমীরের কাছে চিঠি প্রেরণ করেন। কেউ ভাবতেও পারেননি যে, তিনি তার কাছে চিঠি প্রেরণ করবেন। তিনি মিশরের আমীরের কাছে তাতারীদের বিরুদ্ধে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি প্রেরণ করেন।
সুবহানাল্লাহ! যিনি দীর্ঘদিন ধরে মিশরের আমীরের শত্রু। যিনি তাতারীদের কাছে তার বিপক্ষে যুদ্ধ করার জন্য সাহায্য কামনা করেছেন। বর্তমানে তাতারীদের শত্রু। এখন তিনি মিশরের আমীরের কাছে তাতারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সহযোগিতা চাইছেন!
তার সামনে কোনো মূলনীতি ছিল না। ছিল না কোনো নীতিমালা। ব্যক্তিগত স্বার্থই ছিল তার প্রধান প্রেরণা।
নাছের ইউসুফ ও তার সৈন্যবাহিনীর কথা রাখুন। চলুন হালাকু খানের দিকে ফিরে যাওয়া যাক। সে শাহী দুর্গ থেকে হামাদান নগরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যেটি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র ছিল। হালাকু খান পুনরায় পরিকল্পনা শুরু করল, যা এই উদ্দীপ্ত অঞ্চল (মধ্যপ্রাচ্যের) এর জন্য অধিক উপযোগী।
এক.
খ্রিস্টানদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির জোর দিল। বিশেষত তাতারীদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মুসলিম শক্তির কতিপয় নমুনা প্রকাশ পাওয়ার পর হালাকু খান খ্রিস্টানদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রতি জোর দিল। তখন খ্রিস্টশক্তির সহযোগিতার প্রয়োজন দেখা দিল— ১. মুসলমানদের শোভা নির্বাপিত করার জন্য ২. গোপন সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য ৩. সিরিয়া পতন শেষে পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য।
তাই হালাকু খান খ্রিস্টান রাজাদের তথা আর্মেনিয়ার রাজা হাইতুম জর্জিয়ার রাজা ও আন্তাকিয়ার রাজা বুহমন্দকে মূল্যবান হাদিয়া-তোহফা পাঠায়।
দুই. মিয়াফারেকীনের অবরোধ অব্যাহত থাকবে। অবরোধের নেতৃত্বে থাকবে হালাকু খানের ছেলে আশমুত। তবে কামেল মোহাম্মদের বীরত্ব ও দুঃসাহসিকতার সামনে অবরোধ চলমান রাখা বড়ই কঠিন কাজ। তাই আর্মেনিয়া ও জুজিয়া শক্তিও অবরোধে অংশগ্রহণ করবে। অবরোধ ভঙ্গে কোনো মুসলিম নেতা যেন সহযোগিতা না করে।
তিন. দামেস্ক ও আলেপ্পোর আমীর নাছের ইউসুফ আইয়ূবীর বৈরী অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। সে দামেস্কের উত্তরে তাঁবু গেড়েছে এবং তাতারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু হালাকু খান এই বিষয়টি খুব আমলে নেয়নি। কারণ, সে নাছেরের মনোবল ও ক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত। তাই নাছেরের বিদ্রোহের বিষয়টি হালাকু খানের চোখে অপেক্ষাকৃত তুচ্ছ।
চার. মধ্য ইরাক বিশেষত বাগদাদ নগরী প্রকাশ্যে তাতারীদের কাছে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছে। এখন বাগদাদ নিরাপদ নগরীতে পরিণত হয়েছে। অনুরূপ মসুলের আমীরও আত্মসমর্পণ করেছে। খুব শীঘ্রই উত্তর-পূর্ব ইরাকও নিরাপত্তার ছায়াতলে আশ্রয় নেবে।
পাঁচ. সিরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী শহর হলো আলেপ্পো ও দামেস্ক। এই শহর দুটি পতন হওয়া মানে গোটা সিরিয়ার পতন হওয়া। আলেপ্পো নগরী দামেস্কের তিনশ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
উল্লেখিত বিষয়াবলিকে সামনে রেখে হালাকু খান এই দুই শহরে যে কোনো একটির ওপর প্রথমত প্রকাশ্যে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কোন শহরে আক্রমণ করবে হালাকু খান?
হালাকু খান গবেষণায় দেখতে পেল, যদি সে আলেপ্পো অভিমুখে রওয়ানা হয়, তাহলে প্রথমত উত্তর ইরাক পাড়ি দিয়ে তারপর তুরস্কের সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে উত্তর ইরাক হয়ে সিরিয়া প্রবেশ করতে হবে। অবশেষে সিরিয়ার উত্তর পশ্চিম অঞ্চল দিয়ে আলেপ্পো পৌঁছতে হবে। এসব অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে নদ-নদী থাকলেও যুদ্ধাভিযানে নদ-নদীকে বড় বাধা মনে করা হয়। বিশেষত যখন সৈন্যবাহিনী প্রচুর হয়। এখান থেকে মিয়াফারেকীন খুব নিকটবর্তী। সুতরাং যদি কোনো কারণে আশমুত ইবনে হালাকু প্রধান তাতারী দলের সহযোগিতার প্রয়োজন মনে করে, তাহলে সহজে সাহায্য পেতে পারে।
পক্ষান্তরে প্রথমত হালাকু খান যদি দামেস্ক অভিমুখে রওয়ানা হয়, এটি হালাকু খানের জন্য একটু কষ্টকর হবে। যদিও এটি দামেস্কবাসীর জন্য আকস্মিক ভয়ংকর আক্রমণ হবে। কারণ, হালাকু খান এমন দিক থেকে আগমন করবে, যা তারা বুঝতে পারবে না। কারণ, দামেস্কের পথে সিরিয়ার মরু অঞ্চল পাড়ি দিতে হয়। এই উপত্যকাটিতে পানির খুব অভাব। বিশাল বাহিনী নিয়ে এই উপত্যকা পাড়ি দেওয়া রীতিমতো ভয়ংকর। হালাকু খান এই ভয়াবহ পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম হবে না। পাশাপাশি এ পথে নাছের ইউসুফ এমন দিক থেকে আকস্মিক আক্রমণ করতে পারে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।
সুবহানাল্লাহ! এরও ছয়শো বছর পূর্বে যখন যোগাযোগব্যবস্থা ছিল আরো শোচনীয়, আধুনিক রণকৌশল বলতে ছিল না, তখন হযরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ রা. দামেস্কের নিকটবর্তী অঞ্চলে রোমানবাহিনীর মোকাবেলা করার জন্য সৈন্যবাহিনী নিয়ে ইরাক থেকে এই ভয়াবহ দুর্গম মরুভূমি পাড়ি দিয়েছিলেন। যুদ্ধে হযরত খালেদ রা. অভাবনীয় জয় লাভ করেন। হায় কোথায় সাহাবী খালেদ ইবনে ওয়ালিদ রা. আর কোথায় মানুষ হত্যাকারী হালাকু খান! [তার ওপর আল্লাহর লা'নত]
এসব কিছু বিবেচনাকরত হালাকু খান প্রথমত সদলবলে আলেপ্পো অভিমুখে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিল। ততদিন পর্যন্ত ছেলে আশমুত মিয়াফারেকীন অবরোধ করে রাখবে।
টিকাঃ
৬০ সূরা ইউনুস: ৮১।
📄 আলেপ্পো অভিমুখে তাতারী বাহিনী
বর্বর তাতারী বাহিনী গৃহীত নীতিমালা অনুসারে ইরানের পশ্চিমে পাহাড় অতিক্রম করতে শুরু করে। এরপর ইরাকের সীমান্তে উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবেশ করে। এরপর আর্বিল শহর অতিক্রম করে নিকটবর্তী মসুল শহরে পৌঁছে যায়, যা তাদের জন্য ছিল সহযোগী। মসুলের পাশে দাজলা [টাইগ্রিস] নদী পাড়ি দেওয়া ছিল আবশ্যক। অত্র অঞ্চলে মসুল শহরের চেয়ে তাদের জন্য অধিক উপযোগী কোনো শহর ছিল না!! এরপর (বর্তমান তুরস্কের) নুসাইবিন শহরে পৌঁছার জন্য তাতারী বাহিনী দাজলা নদীর পশ্চিম তীর ঘেঁষে যাত্রা শুরু করে। এই শহরটি মিয়াফারেকীন থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এভাবেই হালাকু খান ছেলে আশমুতের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তবে ছেলের প্রতি পূর্ণ আস্থা থাকায় সে তার কাছে যায়নি।
উল্লেখযোগ্য বাধা ছাড়া হালাকু খান নুসাইবিন শহর আক্রমণ করে। এরপর ক্রমান্বয়ে হারান, এডেসা ও এলবিয়া আক্রমণ করে। এসব ক'টি শহর তুরস্কের দক্ষিণে অবস্থিত। আলেপ্পো পৌঁছার জন্য তুরস্কের সব ক'টি শহর অতিক্রম করার প্রয়োজন ছিল। ইসলামী কোনো সাম্রাজ্য তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বলে হালাকু খান নিশ্চিন্ত মনে এ দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়।
এলবিয়া শহরের কাছে হালাকু খান মহানদী ফুরাত (ইউফ্রেটিস) পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাড়ি দেয়।
এভাবেই হালাকু খান উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই পানিপথের দ্বিতীয় বাধা পাড়ি দেয়। এরপর আলেপ্পো নগরী অভিমুখী হয়ে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চল পাড়ি দেওয়ার জন্য ফুরাত (ইউফ্রেটিস) নদীর পশ্চিম দিকে রওনা হয়। তুরস্কের সীমান্ত অঞ্চল থেকে আলেপ্পো নগরীর দূরত্ব হলো মাত্র পঞ্চাশ কিলোমিটার।
তাতারী বাহিনীর অবিরাম সফর পূর্ণ বছর চলতে থাকে। এই সফরে তারা পারস্য, ইরাক, তুরস্ক ও সিরিয়া ভূমি পাড়ি দেয়। এটি ৬৫৭ হিজরীর ঘটনা। হালাকু খান ৬৫৮ হিজরীর মহররম মাসে আলেপ্পো নগরীতে পৌঁছে। তাতারীরা চতুর্দিক থেকে আলেপ্পো নগরী ঘিরে ফেলে। তবুও আলেপ্পোবাসী মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আত্মসমর্পণ করে না। নাছের ইউসুফ আইয়ূবীর চাচা তাওরান শাহ এই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থে এক বীর মুজাহিদ। তিনি ভাতিজা নাছের ইউসুফের মতো ছিলেন না। তাতারীরা শহরের চারপাশে কামান স্থাপন করে। লাগাতার গোলাবর্ষণ করতে থাকে। তখন নাছের ইউসুফ আইয়ূবী তিনশো কিলোমিটার দূরে দামেস্কের দক্ষিণে অবস্থান করছিল!!
📄 মিয়াফারেকীন পতন
এই সময়ের মধ্যে একটি মর্মন্তুদ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। তা হলো, দেড় বছরের দীর্ঘ অবরোধের পর তাতারীদের পায়ের নিচে মিয়াফারেকীনের পতন ঘটে।
টানা আঠারো মাস জিহাদ ও সংগ্রাম চলতে থাকে। তবুও পৃথিবীর অন্য কোনো আমীর-উমারা কিংবা রাজা-বাদশার হৃদয় বিগলিত হয় না। নাছের, আশরাফ, মুগীস ইত্যাদি বিখ্যাত উপাধিধারী ব্যক্তিরা দূর থেকে নাটক প্রত্যক্ষ করে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।
মিয়াফারেকীন শহরের পতন ঘটে। শহরের সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আশমুত ইবনে হালাকু এই অঞ্চলের প্রতিবাদমুখর সব শহরের জন্য এটিকে শিক্ষণীয় ঘটনা বানায়। শহরবাসীর সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘর-বাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সবকিছু ধ্বংস করে ফেলা হয়। আশমুত কামেল মোহাম্মদ আইয়ূবী রহ. কে আরও কঠোর আজাব প্রদানের জন্য জীবিত রাখে। তাকে নিয়ে পিতা হালাকু খানের কাছে যায়। সে তখন আলেপ্পো নগরীর অবরোধ কাজে ব্যস্ত ছিল।
হালাকু খান ইসলামী বীরসেনানী কামেল মোহাম্মদ আইয়ূবীর প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য তার সকল অনিষ্টকে সুসমন্বিত করে। তাকে বন্দী করে জীবিত অবস্থায় তার হাত পা কাটতে শুরু করে। এমনকি হালাকু খান তার গোশত ভক্ষণের হুঙ্কারও দেয়!! এমন নির্মম শাস্তি ভোগ করতে করতেই এই মরদে মুজাহিদের প্রাণ আল্লাহর দরবারে হাজিরা দেয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি শাহাদাতের অমীয় সুধাপানে ধন্য হন।
وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ
“এবং যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের কখনোই মৃত মনে কোরো না; বরং তারা জীবিত। তাদের তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রিজিক দেওয়া হয়। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা কিছু দিয়েছেন, তারা তাতে প্রফুল্ল। আর তাদের পরে এখনো যারা তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি, তাদের ব্যাপারে এ কারণে তারা আনন্দবোধ করে যে, (তারা যখন তাদের সঙ্গে এসে মিলিত হবে, তখন) তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের কারণেও আনন্দ উদ্যাপন করবে এবং এ কারণেও যে, আল্লাহ মুমিনদের কর্মফল নষ্ট করেন না।”৬১
ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. হযরত আনাস রা. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
مَا مِنْ عَبْدٍ يَمُوتُ، لَهُ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ، يَسُرُّهُ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، وَأَنَّ لَهُ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا إِلَّا الشَّهِيدَ لِمَا يَرَى مِنْ فَضْلِ الشَّهَادَةِ، فَإِنَّهُ يَسُرُّهُ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، فَيُقْتَلَ مَرَّةً أُخْرَى
"বান্দা মৃত্যুবরণ করলে শহীদ ব্যতীত অন্য কেউ দুনিয়ায় ফিরে আসার কামনা রাখে না। কারণ, মৃত্যুর পর শহীদ ব্যক্তি আল্লাহর পথে শাহাদাতের মর্যাদা ও ফজিলত প্রত্যক্ষ করে। সে দুনিয়ায় এসে পুনরায় শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখে।”৬২
জনৈক ব্যক্তি বলেন, কামেল মোহাম্মদ যিনি প্রতিবাদ করেছিলেন, তাকে হত্যা করা হয়েছিল যেমন হত্যা করা হয়েছিল খলিফা মুসতা'সিম বিল্লাহকে। যিনি প্রতিবাদ করেননি। কিন্তু বন্ধুরা, আমি আপনাদের মাঝে এই দুই মহান ব্যক্তির মাঝে পার্থক্য দেখিয়ে দিচ্ছি...!!
একজন মাথা উঁচিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। অপরজন মাথানত করে অপমানিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।
একজন তলোয়ার হাতে বীরবেশে শাহাদাতবরণ করেছে। আরেকজন হাত উঁচিয়ে প্রাণভিক্ষা চেয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।
একজন সম্মুখপানে এগিয়ে গিয়ে বুকে বর্শার আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আরেকজন পলায়নপর অবস্থায় পিঠে তীর নিক্ষিপ্ত হয়ে মারা গেছেন।
কামেল মোহাম্মদ সেই মৃত্যুক্ষণে নিহত হয়েছেন, যা আল্লাহ রব্বুল আলামীন নির্ধারণ করেছিলেন। সামান্য পূর্বে বা পরে নয়। অনুরূপ খলিফা মুসতা'সিম বিল্লাহ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত মৃত্যুক্ষণে ইন্তেকাল করেছেন। সামান্য পূর্বে বা পরে নয়।
বন্ধুরা, আল্লাহর কসম!
কাপুরুষতা সামান্য হায়াত বৃদ্ধি করতে পারে না। আর বীরত্ব সামান্য হায়াত হ্রাস করতে পারে না।
এই বাক্যটি খুব ভালোভাবে মুখস্থ করে নিন!!
সত্যিই ... কাপুরুষতা সামান্য হায়াত বৃদ্ধি করতে পারে না। আর বীরত্ব সামান্য হায়াত হ্রাস করতে পারে না।
কিন্তু কোথায় এ একীন ও বিশ্বাস?!
আমীর কামেল মোহাম্মদ আইয়ূবী, যিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিতকারী মোমবাতি ছিলেন, তিনি শাহাদাতবরণ করলেন। খুনি হালাকু খান তার মাথা ধর থেকে আলাদা করে ফেলল এবং সিরিয়ার সব শহরে তার কর্তিত মাথা প্রদর্শন করানোর জন্য নির্দেশ দিল। যাতে সকল মুসলমান দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে।
সবশেষে দামেস্কে কর্তিত মাথা প্রদর্শনের পর দামেস্কের এক ফটকে কিছুক্ষণ সময়ের জন্য মাথাটি ঝুলিয়ে রাখা হয়। সেই ফটকটির নাম হলো ফারাদিস। এরপর এক মসজিদে তাকে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে সেই মসজিদটি 'মাসজিদুর রাস' (মাথার মসজিদ) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে।
আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন জান্নাতবাসী হন।
টিকাঃ
৬১ সুরা ইমরান: ১৬৯-১৭১।
৬২ বুখারী: ২৭৯৫।
📄 আলেপ্পোর পতন
আলেপ্পো নগরীর ওপর তাতারীদের গোলাবর্ষণ প্রচণ্ড আকার ধারণ করে। মিয়াফারেকীনের পতন ও কামেল মোহাম্মদ নিহত হওয়ার পর তাতারীদের স্পর্ধা আরও বেড়ে যায়। কামেল মোহাম্মদের মৃত্যু ও মিয়াফারেকীনের পতনে মুসলমানদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি হারিয়ে যায়।
মাত্র সাতদিন আলেপ্পো নগরী অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকে। আলেপ্পোবাসী কোনো প্রতিবাদ ছাড়া শহরের ফটক খুলে দিলে তাতারীরা তাদের নিরাপত্তা প্রদান করে। কিন্তু সেনাপতি তাওরান শাহ তাদের বলেন, এটাও ধোঁকা। তাতারীরা কোনোদিন নিরাপত্তা প্রদান করে না। তারা কখনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না। কিন্তু তারা মিয়াফারেকীনের পতন ও তাদের আমীর নাছের ইউসুফের সাহায্য না পেয়ে মনোবল হারিয়ে ফেলেছিল। তখন নাছের ইউসুফ দামেস্কে অবস্থান করছিল। যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। নাছের ইউসুফ আলেপ্পোবাসীকে তাতারীদের অবরোধে ফেলে চলে গেল। এই পতন জাতিকে আত্মসমর্পণের দিকে ঠেলে দেয়। জনসাধারণ হালাকু খানের জন্য ফটক খুলে দেয়। কিন্তু তাদের নেতা তাওরান শাহ ও কতিপয় মুজাহিদ প্রতিবাদ করে এবং শহরের অভ্যন্তরীণ দুর্গে আশ্রয় নেয়।
আলেপ্পোবাসী নিরাপত্তা পেয়ে তাতারীদের জন্য দরজা উন্মুক্ত করে দেয়। তাতারী বাহিনী আলেপ্পো শহরের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। শহরের ঘাঁটি ও দুর্গগুলো দখল করতেই তাতারীদের প্রকৃত চেহারা ফুটে ওঠে। আলেপ্পোবাসীর সম্মুখে সেই সব বিষয় স্পষ্ট প্রতিভাত হয়, যা পূর্বে মুজাহিদ তাওরান শাহের সামনে পরিষ্কার ছিল। কিন্তু আফসোস! সময় ফুরিয়ে তারা বুঝতে পারল! আলেপ্পোর মুসলমানদের হত্যা করে এবং খ্রিস্টানদের ছেড়ে দিয়ে হালাকু খান বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে!! এটি নিঃসন্দেহে প্রতিক্ষিত বিশ্বাসঘাতকতা ছিল। এটি সেই জাতির ভুলের প্রায়শ্চিত্ত, যে জাতির বালুর প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল! আলেপ্পোর নারী-পুরুষ ও শিশুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গোটা শহর বিরানভূমিতে পরিণত হয়। এরপর তাতারীরা শহরের প্রাচীরগুলো ভেঙে দেয়, যাতে পরবর্তীতে কেউ প্রতিরোধ গড়তে না পারে। এরপর হালাকু খান আলেপ্পোর অভ্যন্তরীণ দুর্গ, যেই দুর্গে তাওরান শাহ ও কতিপয় মুজাহিদ আশ্রয় নিয়েছিল, সেই দুর্গ ধ্বংসে মনোনিবেশ করে। দুর্গের উপর প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ করে। চতুর্দিক থেকে অগণিত তীর বর্ষণ করে। কিন্তু দুর্গটি ছিল অপ্রতিরোধ্য ও অনির্বাণ। চার সপ্তাহব্যাপী গোলাবর্ষণ ও তীর বর্ষণ চলতে থাকল। অবশেষে হালাকু খানের হাতে দুর্গের পতন ঘটে। দুর্গের দরজাসমূহ ভেঙে ফেলা হয়। দুর্গে আশ্রয়গ্রহণকারী সবাইকে হত্যা করে। সেটা ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু সে তাওরান শাহকে হত্যা করে না! কতিপয় ইতিহাসবিদ উল্লেখ করেন, তাওরান শাহের বীরত্বে অভিভূত হয়ে হালাকু খান এই কাজ করেছেন। (তথা তাকে না মেরে জীবিত রেখেছেন।) এটি হালাকু খানের বীরত্ব ও মহানুভবতা। কিন্তু এসব গুণাবলি হালাকু খানের সঙ্গে যায় না। আর হালাকু খান এমন ব্যক্তিও নয়, যে প্রতিরোধকারীকে দেখে অভিভূত হবে। সে এমনও নয় যে, যাকে বীর বা মহানুভব বলে ব্যক্ত করা যায়। আমার [লেখক] কাছে মনে হয়, সে তাকে অন্য কোনো নিকৃষ্ট স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বাঁচিয়ে রেখেছিল। তার এই ক্ষমাপ্রদর্শন একদিক থেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যার মাধ্যমে সে সিরিয়া অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আইয়ূবী বংশোদ্ভূতদের প্রেরণাকে উত্তেজিত করতে চায়। তা ছাড়া সে কিছুদিন পূর্বে কামেল মোহাম্মদ আইয়ূবীকে হত্যা করেছে। সুতরাং আইয়ূবী সেনাপতিরা যখন প্রতিশোধমুখর হয়ে উঠবে, তখন হালাকু খানের এই উদারতা দেখে তাদের প্রতিশোধ-স্পৃহা নির্বাপিত হবে। আপনি ভুলবেন না, বহু আইয়ুবী হালাকু খানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। তাদের মাঝে অন্যতম হলো, হিমসের আমীর আশরাফ আইয়ূবী। সে সিরিয়ায় তার অবস্থান নষ্ট করতে চায়নি। এটা ছিল তার এক দৃষ্টিভঙ্গি। অন্য দৃষ্টিতে সে চেয়েছিল, মুসলিম আমীররা প্রতিবাদ ব্যতীতই হালাকুর সামনে আত্মসমর্পণ করুক।
সুবহানাল্লাহ! হালাকু খান তো অত্যন্ত আমানতদার বিশ্বস্ত ব্যক্তি। কোমল হৃদয়ের অধিকারী। শান্তিকামী। সে সকল সেনাপতি তার মোকাবেলা করতে চায়, এমন লোকদের সে নিরাপত্তা প্রদান করবে!! আপনার কী মনে হয়, যারা তার সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে, তাদের পরিণাম কী হবে?
তৃতীয় আরেক কারণ এও হতে পারে যে, আমরা জানি তাওরান শাহ দামেস্কের আমীর নাছের ইউসুফের চাচা। তাই তাওরান শাহকে বাঁচিয়ে রাখা নাছের ইউসুফের সাক্ষাতের একটি অসিলা হতে পারে। অথবা এতে নাছের ইউসুফের ওজরখাহী করার পথ উন্মুক্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে হালাকু খান সম্ভাব্য যুদ্ধ থেকে নিজেকে বিরত রেখে সৈন্যসংখ্যা অক্ষত রাখতে চেয়েছিল।
আমি [লেখক] বিশ্বাস করি, রক্তপিপাসু হালাকু খানের চরিত্রের সঙ্গে শেষোক্ত ব্যাখ্যা দুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু হালাকু খান উদারতা প্রদর্শন করেছেন, তাওরান শাহের বীরত্ব দেখে অভিভূত হয়েছেন, তার ক্ষেত্রে এজাতীয় ব্যাখ্যা দাঁড় করানো অযাচিত বৈ কিছু নয়!!
এভাবেই হালাকু খান আলেপ্পো নগরীতে খুঁটি গেড়ে বসে। সকল প্রতিবাদ প্রতিরোধ থেমে যায়। ভেঙে পড়ে সব দুর্গ ও প্রাচীর। এরপর হালাকু খান সিরিয়ার অন্যত্র গমনের ইচ্ছা করে। হিমসের আমীর আশরাফ আইয়ূবী এগিয়ে আসে। সে সেই সব বিশ্বাসঘাতক আমীরদের অন্যতম, যারা তাতারীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। হালাকু খান আশরাফ আইয়ূবীকে স্বভাববিরুদ্ধ সম্মানপ্রদর্শন করে!! সে তাকে আলেপ্পো থেকে হিমস পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নেতৃত্ব দান করে, তার পূর্ণ আনুগত্য নিশ্চিত করতে এবং তাকে এ কথায় নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করতে যে, হালাকু খান কোনো অঞ্চল দখল করে সেই অঞ্চল প্রধানকেই শাসক নিযুক্ত করে। তবে কতিপয় তাতারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সেটি পরিচালিত হয়। তাই আশরাফ আইয়ূবী আমীর হিসেবে নিযুক্ত হয়। যেন সে শহরের প্রশাসনিক শাসক। তবে রাজত্ব ও ক্ষমতার যাবতীয় চাবিকাঠি হালাকু খানের হাতে!
আলেপ্পো পতনের পর হালাকু খান পশ্চিমে মুসলমানদের 'হারেম' দুর্গের দিকে দৃষ্টি দেয়। দুর্গটি আলেপ্পো থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। সেখানে কতিপয় মুসলিম মুজাহিদ আশ্রয় নিয়েছিল, যারা হালাকু খানের সামনে আত্মসমর্পণ করেনি। বেশ কিছুদিন হামলার পর হালাকু খান তাদের প্রত্যেককে জবাই করে হত্যা করে।
পশ্চিমে পথ উন্মুক্ত হতে হতে একপর্যায়ে হালাকু খান আন্তাকিয়া সাম্রাজ্যে পৌঁছে যায়। এটি হালাকু খানের মিত্র খ্রিস্টান আমীর বুহমন্দের সাম্রাজ্য। হালাকু খান শহরের বাইরে তাঁবু ফেলে। তারপর নতুন মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করার জন্য একটি সম্মেলনের আহ্বান করে। হালাকু খানের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রদর্শনার্থে তার সকল মিত্ররা সদলবলে আগমন করে। আর্মেনিয়ার রাজা হাইতুম, আন্তাকিয়ার রাজা বুহমন্দ, অনুরূপ সেলজুকী মুসলিম আমীরবৃন্দ তথা কেকেভাস ছানী, কালাজ আরসালান রাবে' আগমন করে। মুসলিম আমীরদ্বয়ের সাম্রাজ্য আন্তাকিয়া সাম্রাজ্যের খুব কাছে ছিল।