📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 প্রথম বাধা

📄 প্রথম বাধা


প্রথম বাধা ছিল জনৈক আইয়ূবী নেতা। যদিও তিনি হালাকু খানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং সবশেষে তাতারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। হালাকু খান তাকে জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে গণ্য করে। যে এই অঞ্চলের অস্তিত্বকে বিনাশ করতে চায়। নিশ্চয়ই হালাকু খান বলেছিল, এই লোক ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে না। কারণ, ইসলাম হলো ক্ষমা, সমবেদনা, দয়া, ভালোবাসা ও শান্তির ধর্ম।
এই মহান মুসলিম নেতা, যিনি নিজ ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদা ও দ্বীনদারীর মাধ্যমে দ্বীন হেফাজতে অকুণ্ঠচিত্ত ছিলেন, তিনি হলেন 'মিয়াফারিকীন' অঞ্চলের আমীর কামেল মোহাম্মদ আইয়ূবী রহ.।
মিয়াফারেকীন শহরটি বর্তমানে তুরস্কের পূর্বে 'ওয়ান' নদীর পূর্বে অবস্থিত। তুরস্কের পূর্বাঞ্চল, পাশাপাশি দাজলা [টাইগ্রিস] ও ফুরাত নদীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত আলজেরিয়া অঞ্চল আমীর কামেল আইয়ূবীর সৈন্যবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। অর্থাৎ কামেল আইয়ূবী রহ. ইরাকের উত্তর পশ্চিম ও সিরিয়ার উত্তর পূর্ব অঞ্চল শাসন করতেন। সুতরাং সিরিয়ার ভৌগলিক অবকাঠামোর আলোকে একথা সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, সিরিয়ায় আক্রমণের জন্য অবশ্যই আমীর কামেল রহ. এর কর্তৃত্বধীন অঞ্চল দখল করতে হবে। এছাড়া হালাকু খানের সম্মুখে দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। তাই এর জন্য প্রয়োজন হলো এ অঞ্চলের আমীর-উমারাদের আনুগত্য প্রদর্শনে (প্রয়োজনে) বলপ্রয়োগে বাধ্য করা।
এই ছিল হালাকু খানের সামনে প্রথম বাধা। বাস্তবিকই এটি একটি বড় বাধা ছিল। উপরন্তু মিয়াফারেকীন শহরটি হলো অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী শহর, যা মৃতসাগরের পর্বতশ্রেণির মধ্যখানে অবস্থিত। অধিকন্তু মুসলিম গোত্ররা বিদ্রোহী কামেল আইয়ূবীর সঙ্গে সহানুভূতি প্রকাশ করেছিল।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 দ্বিতীয় বাধা

📄 দ্বিতীয় বাধা


দ্বিতীয় বাধা : এটি অপেক্ষাকৃত সহজ ও হালকা বাধা। তা হলো, সে সকল মুসলিম আমীর-উমারা হালাকু খানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে, তাদের কামনা ছিল তারা স্ব স্ব স্থানে অবস্থান করবে, নিজ দেশে স্বায়ত্তশাসন করবে, যদিও তারা তাতারীদের ছত্রছায়ায় থাকবে। অথচ হালাকু খানের ইচ্ছা ছিল, সে নিজের মতো করে পরিপূর্ণভাবে এই অঞ্চল শাসন করবে। যাকে ইচ্ছা প্রশাসনে নিয়োগ দেবে, যাকে ইচ্ছা বরখাস্ত করবে। এক্ষেত্রে হালাকু খান কাউকে নিজের সহযোগী পায়নি।
কিন্তু হালাকু খান সম্পর্কে একথা সুপ্রসিদ্ধ রয়েছে যে, সে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিকে উত্তম পন্থায় নিজের মতো করে নিতে পারে। সে সর্বপ্রথম কামেল মোহাম্মদ আইয়ূবীর পদক্ষেপকে ধূলিসাৎ করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করল। এরপর সিরিয়ার দিকে মনোনিবেশ করবে। তখন যদি কোনো সংগ্রামী নেতা তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে সে তার প্রতি অতি সহজ স্বভাবসুলভ আচরণ প্রদর্শন করবে!!

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হালাকু খানের প্রয়াস

📄 এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হালাকু খানের প্রয়াস


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 মিয়াফারেকীন অবরোধ

📄 মিয়াফারেকীন অবরোধ


হালাকু খান অতি সহজভাবে কামেল মোহাম্মদ আইয়ূবীর বিদ্রোহ দমন করতে শুরু করল। সে তার জিহাদী প্রেরণাকে দমিত করার লক্ষ্যে শর্তহীন আত্মসমর্পণ করার এবং অন্যান্য মুসলিম আমীরদের দলভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দূত পাঠাল। দূত নির্বাচনে হালাকু খান ছিল খুবই বিচক্ষণ। সে কোনো তাতারী দূত পাঠায়নি। সে 'কাসীস ইয়াকুবী' নামক জনৈক আরবী খ্রিষ্টানকে দূত হিসেবে পাঠায়। কারণ, খ্রিষ্টান দূত এক দিক থেকে কামেল মোহাম্মদকে তার গোত্রীয় ভাষায় বোঝাতে সক্ষম হবে, হালাকু খানের সংবাদ, তার ক্ষমতা ও শক্তি সহজেই বোঝাতে পারবে। অন্যদিকে, যেহেতু সে একজন খ্রিস্টান, তাই কামেল মোহাম্মদ সহজেই বুঝতে পারবে যে, খ্রিষ্টানরা তাতারীদের সহযোগিতা প্রদান করছে। এটি ছিল হালাকু খানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রণকৌশল। কারণ, আপনি যদি তৎকালীন মিয়াফারেকীন সাম্রাজ্যের ভৌগলিক অবস্থান প্রত্যক্ষ করেন, তাহলে দেখতে পাবেন, মিয়াফারেকীনের চতুর্দিক থেকে খ্রিস্টান দ্বারা পরিবেষ্টিত। পূর্বদিকে আর্মেনিয়া (খ্রিস্টান) সাম্রাজ্য, যা তাতারীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। উত্তর পূর্বাঞ্চলে জুজিয়া সাম্রাজ্য। তারা খ্রিস্টান ও তাতারীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ।
সুতরাং ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে মিয়াফারেকীন মুনাফিক ও মুশরিক সাম্রাজ্যবেষ্টিত একটি ছোট্ট উপত্যকা।
পূর্বে খ্রিস্টান আর্মেনিয়া সাম্রাজ্য।
উত্তরপূর্বে খ্রিস্টান জর্জিয়া সাম্রাজ্য।
দক্ষিণপূর্বে তাতারীদের সহোদর মসুল সাম্রাজ্য।
পশ্চিমে তাতার প্রতিনিধি সেলজুকী সাম্রাজ্য। দক্ষিণ পশ্চিমে তাতার প্রতিনিধি আলেপ্পো সাম্রাজ্য।
সুতরাং মিয়াফারেকীন সাম্রাজ্য ভৌগলিক দিক থেকে বড় ভয়াবহ!!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00