📄 চতুর্থ কারণ
পূর্ববর্তী কৃতকর্মের ফলাফল অনুপযুক্ত প্রতিপালন, ইসলামের সঠিক বুঝের অভাব, সর্বাত্মকভাবে দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরা এবং মানুষের সম্মুখে সঠিক বিষয়বস্তু বর্ণনা না করা। ফলে তারা জানত না কে বন্ধু কে শত্রু? তাতারীদের পূর্বেকার যুদ্ধ-বিগ্রহের ফলাফল, তাতারীরা যেসব জনপদ ও গ্রাম অতিক্রম করেছে, সেসব অঞ্চলের কালো ইতিহাস—এসব বিষয় মুসলমানদের অন্তরে পরাজয়ের শিকল পরিধান করিয়েছিল। ফলে তারা তলোয়ার বহন করতে পারেনি, ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করতে পারেনি— এমনকি তাদের মাথা থেকে তাতারীদের মুখোমুখি দাঁড়াবার চিন্তাই দূর হয়ে গিয়েছিল। নিঃসন্দেহে এসব বিষয় তাতারীদের পথ বাধাহীন উন্মুক্ত করেছিল।
ইবনুল আছীর রহ. কামেল ফিত তারীখ গ্রন্থে ৬২৮ হিজরীর ঘটনাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে এমন কিছু চিত্র ফুটিয়ে তোলেন, যা তিনি তাতারী হামলা থেকে রক্ষাপ্রাপ্ত কতিপয় ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে নিজ কানে শুনেছেন। তিনি বলেন—
* এক একজন তাতারী সৈন্য এক এক গ্রামে প্রবেশ করত। এরপর এক এক করে গ্রামবাসী সবাইকে হত্যা করত। অথচ গ্রামবাসীর সংখ্যা অনেক হওয়া সত্ত্বেও একজনও প্রতিরক্ষা কিংবা আত্মরক্ষার জন্য হাত তুলত না।
* জনৈক তাতারী একজন মুসলমানকে ধরল। তার সঙ্গে হত্যা করার মতো কোনো অস্ত্র ছিল না। সে মুসলমান ব্যক্তিকে বলল, মাথা জমিনে ঠেকিয়ে রাখো। কোথাও যাবে না। মুসলমান ব্যক্তিটি জমিনে মাথা ঠেকিয়ে রাখল। এরপর তাতারীসেনাটি তলোয়ার ব্যবস্থা করে এনে তাকে হত্যা করল।
* এক ব্যক্তি ইবনুল আছীর রহ.কে বর্ণনা করে বলেন, আমি ও আমার সঙ্গে সতেরোজন রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। একজন তাতারী সেনা এল। আমাদের নির্দেশ দিল, যেন আমরা পরস্পর নিজেদের বন্দী করি। আমার সাথীরা তার হুকুম মতো কাজ শুরু করল। আমি তাদের বললাম, সে তো একা। আমরা কেন তাকে হত্যা করব না? তারা বলল, আমরা ভয় পাই। (তাতারীত্রাস!) আমি বললাম, সে তোমাদের হত্যা করতে চায়। চলো উল্টো আমরাই তাকে হত্যা করি। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেন। আল্লাহর শপথ কেউ এ কাজ করার দুঃসাহস দেখায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আমিই তলোয়ার হাতে নিয়ে তাকে হত্যা করলাম। এরপর সে অঞ্চল ছেড়ে পলায়ন করলাম এবং রক্ষা পেলাম। এ-জাতীয় বহু ঘটনা রয়েছে।
* তাতারী বাহিনী বর্তমান তুরস্কের দক্ষিণে অবস্থিত 'বাদলিস' শহরে প্রবেশ করল। এটি একটি সুরক্ষিত শহর। পাহাড়ের একটি সংকীর্ণ গিরিপথ ছাড়া শহরে প্রবেশ করার কোনো রাস্তা নেই। একজন শহরবাসীর বক্তব্য, আমাদের পাঁচশো সৈন্য থাকলে একজন তাতারীও রক্ষা পেত না। কারণ, পথ ছিল সংকীর্ণ। আর একথা বাস্তব যে, সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগরিষ্ঠদের পরাজিত করতে পারে। কিন্তু সুবহানাল্লাহ! শহরবাসী তাতারীদের হাতে শহর ছেড়ে দিয়ে পাহাড়ের দিকে পলায়ন করে। এরপর তাতারীরা বাদলিস শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
* তাতারীদের হাতে নিহত হওয়ার পূর্বে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর ওয়াস্তে নিজের জান ভিক্ষা চেয়ে বলত, আমাকে হত্যা করো না। তাতারীরা মুসলমানদের এই আত্মরক্ষামূলক বাণী 'আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে হত্যা করো না' শুনতে শুনতে তারা এই বাক্যটিকে গানের সুরে গাইত 'লা বিল্লাহ'। জনৈক মুসলমান একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। তাতারীরা টের পায়নি। তার বক্তব্য, আমি জানালার ফাঁক দিয়ে তাতারীদের দেখছিলাম। তারা নারী-পুরুষদের হত্যা করার পর বীরবেশে ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করে হাসতে হাসতে গান গাইছিল—লা বিল্লাহি, লা বিল্লাহি। ইবনুল আছীর রহ.-এর বক্তব্য অনুযায়ী এটি ছিল মহাবিপর্যয় ও তীব্র সংকট। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
এই ছিল তৎকালীন মুসলমানদের অধঃপতন, তিক্ত পরাজয়... বর্বর তাতারীদের আক্রমণ।
📄 সুলতান জালাল উদ্দীনের মৃত্যুর পর গুরমাজান কী করল
শুরমাজান পারস্যের উত্তরাঞ্চলকে (বর্তমান ইরানের উত্তরাঞ্চল) তাতারী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে। এটি ৬২৯ হিজরীর ঘটনা। এরপর আযারবাইজান আক্রমণ করে সেটাও তাতারী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে।
এর মাধ্যমে গোটা পারস্য ভূখণ্ড তাতারীদের অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত হয়। তবে পশ্চিম পারস্যের এক সংকীর্ণ ভূখণ্ড শীয়াদের ইসমাঈলী গ্রুপের দখলে থেকে যায়।
এরপর শুরমাজান এসব অঞ্চলে স্থায়ী বসবাস শুরু করে। নিজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও সৈন্যবাহিনী সুসংহতকরণ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানার্জনের পূর্বে তার মিশন শেষ হয় না। এসব বিষয় তাতারী নেতা শুরমাজানকে এসব অঞ্চলে আক্রমণ করতে সহযোগিতা করে।
৬২৯ থেকে ৬৩৪ হিজরী পর্যন্ত মোট পাঁচ বছর শুরমাজান এসব অঞ্চলে তাতারী রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত রাখে। এই পাঁচ বছরের মাঝে একবারের জন্য মুসলমানদের ভয়ভীতি তাকে স্পর্শ করেনি। তার সঙ্গে লড়াই করার জন্য মুসলিম বাহিনী একটু নড়াচড়াও করেনি। অথচ চারপাশের অঞ্চলসমূহ ছিল মুসলমানদের দখলে। যেমন পারস্য, আযারবাইজান, ইরাক, মসুল, মিশর, হেজাজ ইত্যাদি। সবাই মনে করত, এটি পারস্য ও আযারবাইজানের জন্য দুঃশ্চিন্তার কারণ। আপামর মুসলমানদের বিপদ নয়। সেসব মুসলমানদের ওপর তখনো তাতারী হামলার নির্মম দুর্যোগ নেমে আসেনি, তারা বোঝেনি যে, খানিক বাদে তারাও তাতারীদের শিকারে পরিণত হবে। বিপদ আজ বা কাল, অবশ্যই তাদের পাকড়াও করবে।
এখানে আমি আরেকটু সংযোজন করি—ইরাক, সিরিয়া, মিশর, হেজাজের অধিকাংশ মুসলমান হলো আরবীয়। পক্ষান্তরে পারস্য, আযারবাইজান ও খাওয়ারেযম সাম্রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের আরবরা হলো অনারবীয়। তাদের মাঝে ইসলামের সঠিক বুঝ অবিদ্যমান। এ কারণেই আরবীয় ও অনারবীয়দের মাঝে বিস্তর ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। পরস্পর যেন তারা অপরিচিত। অথচ ইসলামের শিক্ষা, মুসলমানরা পরস্পর ভাই ভাই (শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ন্যায়)।
📄 মুমিনগণ একে অপরের ভাই!
অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আরবীয় মুসলিমরা তুর্কী, আফগানী, শিশানী, হিন্দুস্তানী কিংবা পারসীয় মুসলিম ভাইদের ব্যথায় ব্যথিত হয় না। এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। এটি মুসলিম উম্মাহর মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার মতো মারাত্মক দুর্যোগ। কারণ, ইসলাম এমন এক দ্বীন (ধর্ম), যা বংশ, জাতি কিংবা বর্ণের মাধ্যমে গঠিত হয় না। ইসলাম গঠন হয় একমাত্র আল্লাহ, রাসূল ও এই দ্বীনের প্রতি অগাধ বিশ্বাসস্থাপনের মাধ্যমে। এটি হলো আকীদা-বিশ্বাসের বন্ধন।
ইমাম আহমদ রহ. আবু নাজরা রহ.-এর সূত্রে মুরসাল রেওয়ায়েতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَلَا إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ، وَإِنَّ أَبَاكُمْ وَاحِدٌ، أَلَا لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٌّ عَلَى عَجَمِيَّ ، وَلَا لِعَجَمِيَّ عَلَى عَرَبِيَّ، وَلَا أَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ، وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ، إِلَّا بِالتَّقْوَى
“হে লোকসকল, তোমাদের রব এক, তোমাদের পিতা এক। জেনে রাখো, তাকওয়া (খোদাভীতি) ব্যতীত (একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব নেই) অনারবীয়দের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আরবীয়দের ওপর অনারবীরা শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্বেতাঙ্গদের ওপর কৃষ্ণাঙ্গদের কিংবা কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শ্বেতাঙ্গদের শ্রেষ্ঠত্ব নেই।”৩৭
হাদীস শরীফে শ্রেষ্ঠত্বের নীতিমালা সুস্পষ্ট বিবৃত হয়েছে। ইসলামে বংশ কিংবা বর্ণের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপিত হয় তাকওয়া ও খোদাভীতির মাধ্যমে।
এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের প্রধান দুটি দলে বিভক্ত করেছেন। তৃতীয় কোনো দলে বিভক্ত করেননি। তাঁর এই বিভক্তকরণ ছিল তাকওয়ার ভিত্তিতে। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنْكُمْ عُبِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ وَتَكَبُّرَهَا بِآبَائِهَا، النَّاسُ رَجُلَانِ بَرُّ تَقِيُّ كَرِيمٌ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَفَاجِرُ شَقِيٌّ هَيِّنٌ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ تَلَا: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى}
“হে লোকসকল, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জাহেলী যুগের অহংকার ও গর্ব দূর করেছেন। মানুষ দুই দলে বিভক্ত: ১. মুমিন মুত্তাকী, আল্লাহর নিকট সম্মানী। ২. পাপিষ্ঠ হতভাগা, আল্লাহর কাছে হীন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তেলাওয়াত করেন, (অর্থ) হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে।"৩৮
সুতরাং সত্যনিষ্ঠ মুমিন হলো সেই ব্যক্তি, যে আকীদা-বিশ্বাসে এক ও অভিন্ন ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। যদিও জাত ও বংশ কিংবা বর্ণ ও ভাষা ভিন্ন হয়।
সুতরাং ইসলামের গ্রহণযোগ্যতার একমাত্র মানদণ্ড হলো আকীদা-বিশ্বাস ও তাকওয়া-পরহেজগারি।
টিকাঃ
৩৭ মুসনাদে আহমদ: ২৩৪৮৬।
৩৮ আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমদ, ইবনে খুযায়মা, ইবনে হিব্বান, তাফসীরে ইবনে মারদুয়া।
📄 ৬৩৪ হিজরী থেকে ৬৩৯ হিজরী পর্যন্ত তাতারী আক্রমণ
৬২৯ থেকে ৬৩৪ হিজরী পর্যন্ত মোট পাঁচ বছর পর শুরমাজান ৬৩৪ হিজরীতে কাযবিন সমুদ্র অভিমুখে বিজয়ধারা অব্যাহত রাখতে রওনা হয়। সে খুব দ্রুতই আর্মেনিয়া জুজিয়া, শিশান ও দাগিস্তান অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে।
অপরদিকে ভিন্ন আরেকটি তাতারীদল বাতু ইবনে জাজীর নেতৃত্বে কাযবিন সমুদ্রের উত্তরে আক্রমণ শুরু করে এবং ভোগলা নদীর নিম্নবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত গোত্রসমূহকে নির্মূল করতে শুরু করে। এটি ৬৩৪ হিজরীরই ঘটনা। এরপর ৬৩৫ হিজরীতে রাশিয়ার বিস্তৃত ভূখণ্ডের ওপর আক্রমণ শুরু করে।
এরপর বর্বর তাতারীরা খ্রিস্টান সাম্রাজ্য রাশিয়া পতনের ডাক দেয়। রাশিয়ায় কতেক শহরকে মানুষ হত্যার কসাইখানায় পরিণত করে। এটি ৬৩৫-৬৩৬ হিজরীর ঘটনা। অল্প কিছুদিনের মাঝে রিদান ও কলম্বিয়া শহর দখল করে নেয়। এরপর ছয় দিনের মাথায় তাদের হাতে ব্লাদিমির (Vladimir) শহরের পতন ঘটে। কসাইখানায় যেমন গরু একটার পর একটা জবাই করা হয়, অনরূপ তাতারীদের হাতে একের পর এক শহরের পতন হতে থাকে। এরপর সুদান পতিত হয়। এ পর্যায়ে তারা রাশিয়ার রাজধানী মস্কো নগরীর দিকে হাত বাড়ায়। মস্কোকেও তারা তাতারী আক্রমণের কালো মানচিত্রে পরিণত করে। এরপর ক্রমান্বয়ে ইউরোপ, জালিশ, বারিসলাফ, রুস্তুফ, ইয়ারুসলাফ, তোরঝোক শহর ধ্বংসের মাধ্যমে তাতারীরা গোটা রাশিয়া দখল করে নেয়। (রাশিয়ার আয়তন হলো সতেরো মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার। এই সুবিশাল আয়তনের দেশটির জনসংখ্যাও ছিল বিপুল। অথচ তাতারীরা মাত্র দুই বছরে দেশটিকে দখল করে নেয়!)
৬৩৮ হিজরীতে বাতু ইবনে জাজীর নেতৃত্বে পশ্চিমে গোটা উকরানি (Ukraine) সাম্রাজ্যের ওপর কালো থাবা বিস্তৃত করে। উকরানির আয়তন ছিল ছয় লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। তারা উকরানির রাজধানী কাইভে আক্রমণ করে অধিকাংশ জনগণকে হত্যা করে শহরটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
৬৩৯ হিজরীতে তাতারী বাহিনী একটি শক্তিশালী দল বাইদারের নেতৃত্বে ইউক্রেন পোল্যান্ড রাজত্বের দিকে অগ্রসর হয়। পোল্যান্ড শহরে প্রবেশ করে অধিকাংশ জনপদ ধ্বংস করে ফেলে। কিন্তু পোলিশ রাজা অল্পসংখ্যক জার্মানি সৈন্যের সহযোগিতা পায়। (জার্মানি পোলিশের পশ্চিমে অবস্থিত)। প্রিন্স হেনরি ডিউক (Silesian) পোল্যান্ডের রাজার সঙ্গে একক সেনাবাহিনী গঠনের জন্য জোট বাঁধেন। কিন্তু এই সামরিক বাহিনী বাইদারের নেতৃত্বপূর্ণ তাতারী বাহিনীর হাতে নির্মম পরাজয় বরণ করে। এভাবেই পোল্যান্ড শহর তাতারী বাহিনীর হাতে পরাজিত হয়।
এরই মধ্যে ৬৩৯ হিজরীতে তাতারীদের ইউক্রেনের কমান্ডার বাতু এ অঞ্চলে একদল সৈন্য রেখে প্রধান দলটি নিয়ে হাঙ্গরের রাজার সঙ্গে দেখা করে। মুখোমুখি যুদ্ধে হাঙ্গরের রাজা পরাজিত হয়। এ যুদ্ধের মাধ্যমে হাঙ্গরও তাতারীদের চারণভূমিতে পরিণত হয়।
এদিকে পোল্যান্ড থেকে বাইদার বাতুর নেতৃত্বে প্রধান তাতারীদলের সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হয়। পথিমধ্যে স্লোভাকিয়া আক্রমণ করে তাতারী সাম্রাজ্যকে আরও সম্প্রসারিত করে।
এরপর তাতারী বাহিনী ক্রোয়েশিয়া আক্রমণ করে তা ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়। এভাবেই তাতারী বাহিনী আদ্রিয়াটিক সাগরউপকূলে পৌঁছে যায় (আদ্রিয়াটিক সাগর ইটালি ও ক্রোয়েশিয়ার মাঝামাঝি অবস্থিত)। এভাবে তাতারীরা ইউরোপের প্রায় অর্ধেকাংশ তাদের রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত করে।
ইউরোপে অব্যাহত তাতারী বিজয় সম্ভব ছিল যদি তাদের মহান নেতা উকিতাই এ বছর (৬৩৯ হিজরী) মারা না যেত। ইতিমধ্যে তাতারী সাম্রাজ্য জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইটালি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে তাতারী নেতা বাতু ইবনে জাজী যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সে জনৈক তাতারী কমান্ডারকে বিজিত অঞ্চলসমূহের দায়িত্ব প্রদানকরত তাতারীদের নতুন প্রিন্স নির্ধারণী নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মঙ্গোলিয়ায় তাতারীদের রাজধানী কারাকুরমে ফিরে যায়।