📄 ৬২৪-৬২৭ হিজরীর মধ্যবর্তী সময়
৬২৪-৬২৭ হিজরীর মধ্যবর্তী তিন বছর হলো চেঙ্গিজ খানের মৃত্যু পরবর্তী যুদ্ধবিরতির সময়।
📄 এই মধ্যবর্তী সময়ে মুসলমানরা কোথায় ছিলেন
এই মধ্যবর্তী সময়ে মুসলমানরা পরস্পর বিভেদ ও বিভাজন, এখতেলাফ ও মতানৈক্য, দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে লিপ্ত ছিল। মুসলমানরা চেঙ্গিজ খানের মৃত্যুতে তাতারীদের দুর্বলতা ও মনোবলহীনতাকে কাজে লাগাতে পারেননি; বরং তারা নিজেদের মাঝে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত ছিল, একে অপরের প্রতি জুলুম করছিল। সুলতান জালাল উদ্দীন ও তার ভাই গিয়াশ উদ্দীনের মাঝে নতুন বিরোধ দেখা দেয়; এমনকি গিয়াশ উদ্দীন জালাল উদ্দীনকে ধ্বংস করার জন্য তার শত্রুদের সহযোগিতা প্রদান করেন।
শুধু এতটুকুই নয়, বরং গোটা সাম্রাজ্য ফেতনা-ফ্যাসাদ, অস্থিরতা ও ব্যাকুলতায় ভরে গিয়েছিল। শুধু ইরাক ও পারস্য ভূখণ্ড নয়, বরং গোটা মুসলিমবিশ্বে। সিরিয়া ও মিশরের আমীর-ওমারাদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলছিল। তারা ঐক্যের পতাকাতলে আসতে পারেননি। অথচ তাদের অধিকাংশ ছিলেন সালাহ উদ্দীন আইয়ূবীর পরিবারভুক্ত। এই অনৈক্যের ফলাফলস্বরূপ ৬২৬ হিজরীতে এক ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। তা হলো, বাইতুল মুকাদ্দাস (যা ইতিপূর্বে ছালাহ উদ্দীন আইয়ুবী রহ. স্বাধীন করেছিলেন) সন্ধিস্বরূপ ক্রুশেডারদের হাতে অর্পণ করা। অর্থাৎ সিরিয়ার মুসলমানরা ক্রুশেডারদের এই শর্তে বাইতুল মুকাদ্দাস অর্পণ করতে সম্মত হয় যে, ক্রুশেডাররা সিরিয়ার কতিপয় সরকারি উচ্চপদে তাদের নিয়োগ দেবে।
আমরা আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমতার পর দুর্বলতা, সম্মানের পর অসম্মান এবং সহযোগিতার পর অসহযোগিতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
এদিকে সুলতান জালাল উদ্দীন অবিরাম যুদ্ধ চালাতে থাকেন। দ্বিতীয় বারের মতো খালাত শহর অবরোধ করেন। অবরোধ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। একপর্যায়ে শহরবাসী ঘোড়া ও গাধার গোশত ভক্ষণ করতে বাধ্য হয়। এমনকি কুকুর বিড়াল ইঁদুর পর্যন্ত ভক্ষণ করে। 'খালাত' শহর সুলতান জালাল উদ্দীনের হাতে পরাজিত হয়। তিনি শহরটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন। অধিকাংশ জনগণকে হত্যা করেন, নারী-শিশুদের বন্দী করেন। ইবনুল আছীর রহ. বলেন-
“পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনো শোনা যায়নি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তা'আলা তাকে রেহাই দেবেন না।”
উপরোল্লিখিত সমগ্র মুসলিম ভূখণ্ডে সংঘটিত ঘটনাবলি থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, মুসলিমবিশ্বের বিশালতা, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও প্রবল-প্রতাপ সত্ত্বেও কেন তাতারীরা সফল হলো? এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, এটাই পৃথিবীর চিরায়ত বিধান। কারণ, যে জাতির অবস্থা এমন হবে—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে লক্ষ করেছি—তাদের ওপর তাগুতি শক্তি সয়লাব করবে। আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাকেই সহযোগিতা করেন, যারা তার দ্বীনকে সহযোগিতা করে।
إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِنْ يَخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِي يَنْصُرُكُمْ مِنْ بَعْدِهِ
"আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করলে কেউ তোমাদের পরাস্ত করতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের একা ছেড়ে দেন, তবে কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে?"৩৫
টিকাঃ
৩৫ আলে ইমরান: ১৬০।