📄 ৬২১ হিজরীর ঘটনাবলি
৬২১ হিজরীতে সম্রাট গিয়াশ উদ্দীন (ইরানের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত) নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চান। কিন্তু তার ও সে অঞ্চলের জনৈক আমীর সা'দ উদ্দীন ইবনে দাকলার মাঝে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং বছরব্যাপী যুদ্ধ চলতে থাকে। একপর্যায়ে উভয় দলই দেশ বিভক্তির প্রতি সন্তুষ্ট হয়। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!
বাদশা গিয়াশ উদ্দীন যখন দক্ষিণ ইরানে সা'দ উদ্দীনের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত। এ সুযোগে তাতারী বাহিনীর ছোট্ট একটি দল—তিন হাজার সৈন্যের বেশি হবে না—রায় নগরীর ওপর আক্রমণ করে বসে। তাতারীরা যেভাবে ইচ্ছা শহরবাসীকে হত্যা করে ও লুণ্ঠন চালায়। রায় নগরীকে বিরানভূমিতে পরিণত করে। এরপর তারা সাওয়া শহরে গিয়ে একই রকম কার্যকলাপ চালায়। এরপর তেহরানের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কম শহরে (এটি ইরানের একটি শহর Qom) এরপর কাশান শহরে আক্রমণ করে শহর দুটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। এরপর হামাদান শহরে একই রকম কার্যকলাপ শেষে নিরাপদে চেঙ্গিজ খানের দরবারে ফিরে যায়।
মাত্র তিন হাজার তাতারী স্বল্প সময়ে যা আমরা উল্লেখ করলাম, তা সমাধা করে!!
আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদের চোখে তাতারীদের অধিকসংখ্যকরূপে তুলে ধরেছিলেন এবং তাতারীদের চোখে মুসলমানদের সংখ্যা স্বল্পরূপে উপস্থাপন করেছিলেন। ফলে তাতারীত্রাস বিকট আকার ধারণ করেছিল। আর তাতারীদের অন্তর থেকে মুসলমানদের ভয়ভীতি দূর হয়ে গিয়েছিল।
📄 কেন? এর কারণ কী?
এর কারণ হলো, মুসলমানরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তারা শত্রু-মিত্রের মাঝে পার্থক্য ভুলে গিয়েছিল। যখন মুসলমানদের সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার দরকার ছিল, তখন তারা ছিল বিভক্ত। আর তাদের এমন অবস্থার পেছনে কারণ ছিল অন্তরের ঈমান-স্বল্পতা, দুনিয়াকে বড় করে দেখা, নিকৃষ্ট প্রতিপালন ইত্যাদি।
এ ছিল জাতির আত্মার ব্যাধি ও চারিত্রিক অধঃপতনের ফলাফল। যেমনটি ইবনুল আছীর রহ. ৬২১ হিজরীর ঘটনাবলি উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন-
“এ বছর বৃষ্টি-স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল। বিভিন্ন সময় দু'এক ফোঁটা বৃষ্টি নামত, যা ফসলাদির জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে ফলন কমে যায়। উপরন্তু বের হয় অগণিত পঙ্গপাল। পঙ্গপাল জমিনের সকল ফসলাদি তছনছ করে ফেলে। ফলে ইরাক, মসুল এবং সকল আরবরাষ্ট্রে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যদ্রব্যের ঘাটতি দেখা দেয়।"
আর এ বছর সংঘটিত যাবতীয় বিপদাপদ, যেমন: পঙ্গপাল, দুর্ভিক্ষ, খাদ্যঘাটতি ছিল একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এটি ছিল ঐশী বিধানমাফিক বিষয়। এগুলো আকস্মিক ঘটনা ছিল না।
কোনো যুগে যদি মুসলমানরা পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, খাদ্যসংকট, অর্থনৈতিক ঘাটতি, সংকটাপন্ন জীবনযাপন দেখতে পায়, তখন যেন তারা নিজেদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, নিজেদের ঈমান-আমলের খোঁজ-খবর নেয় এবং নিজেদের যেন আল্লাহর কিতাবের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। বাস্তবেই যদি তারা এ কাজ করতে পারে তবে তারা রোগ নির্ণয় করতে পারবে এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবে।
مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ
“আমি কিতাব (লওহে মাহফুজে) কোনো ত্রুটি রাখিনি।”৩৪
টিকাঃ
৩৪ সুরা আন'আম: ৩৮।
📄 ৬২২ হিজরীর ঘটনাবলি
৬২১-৬২২ হিজরী এই দুই বছরে খাওয়ারেযম সাম্রাজ্যের পশ্চিম তথা ইরানের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে তাতারীরা আক্রমণ করেছিল। তারা দূরবর্তী অঞ্চলসমূহের ওপর আক্রমণ করার প্রতি ব্যস্ত ছিল। তারা জাইহুন ও জাইহুন নদীর তীরবর্তী খাওয়ারেযম সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলসমূহে ও আফগানিস্তানের উত্তর ও ইরানের পূর্বাঞ্চলে আক্রমণ করতে এবং সেসব অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করতে গুরুত্বারোপ করেছিল। কিন্তু এ বছর নতুন ঘটনা জন্ম নেয়। হঠাৎ জালাল উদ্দীন ইবনে মোহাম্মদ খাওয়ারেযম শাহ, যিনি পাঁচ বছর পূর্বে ৬১৭ হিজরীতে হিন্দুস্তান পলায়ন করেছিলেন, হঠাৎ ফিরে আসেন। হঠাৎ তার ফিরে আসার কারণ হলো, তিনি হিন্দুস্তানে ঠিকঠাক জীবনযাপন করতে পারেননি। কারণ, হিন্দুস্তানের রাজা-বাদশাদের সঙ্গে তিনি সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেননি। ইতিমধ্যে তিনি এ সংবাদ পান যে, তাতারীরা পারস্য ছেড়ে চলে গেছে। আর অন্য কাউকে তাতারী বাহিনীর দায়িত্ববান নিয়োগ করত চেঙ্গিজ খান দেশীয় স্বার্থে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন।
অপরদিকে তার সহোদর গিয়াশ উদ্দীন সা'দ উদ্দীন ইবনে দাকলার সঙ্গে যুদ্ধ শেষে পারস্যের কতিপয় অঞ্চলে কর্তৃত্ব সৃষ্টি করেছেন এবং উভয়ই পারস্য বিভক্ত করতে সহমত পোষণ করেছেন। তবে পারস্যের বৃহদাংশ ছিল গিয়াশ উদ্দীনের ভাগে। এ অবস্থায়ই ৬২১ হিজরী সমাপ্ত হয়।
জালাল উদ্দীন ভাবলেন, খাওয়ারেযম ফিরে গিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত রাজ্যগুলো নিয়ে সংলাপ করার এটাই উপযুক্ত সময়। কিন্তু আফসোস! তিনি গভীর দৃষ্টিপাত করতে পারেননি এবং তৎকালীন মুসলিম উম্মাহর ব্যাধি নির্ণয় করতে পারেননি। তিনি উপলব্ধি করতে পারেননি, বিভক্তি-বিভাজন এবং মুসলিমবিরোধী পার্টিদের রক্তপাতকে সহনীয় দৃষ্টিতে দেখা বর্তমান মুসলিম উম্মাহর লাঞ্ছনা ও অবমাননার প্রধান কারণ। জালাল উদ্দীন এসব বিষয় উপলব্ধি না করতে পারার কারণেই ধ্বংসপ্রাপ্ত অঞ্চলসমূহে পুনঃসংস্করণ ব্যতীত নিজেকে খাওয়ারেযম সাম্রাজ্যের অন্যতম ওয়ারিশজ্ঞান করে খাওয়ারেযম সাম্রাজ্যে প্রবেশ করেন!!
📄 জালাল উদ্দীন কী করলেন
তিনি সিন্ধু নদী পাড়ি দিয়ে পাকিস্তানের দক্ষিণে অবস্থিত কিরমান শহর হয়ে পারস্যের দক্ষিণালে গমন করেন এবং তার সহযোগীদের সঙ্ঘবদ্ধ করেন এবং সা'দ উদ্দীন ইবনে দাকলার কাছে গিয়ে সহোদর গিয়াশ উদ্দীনের বিরুদ্ধে সন্ধিচুক্তিতে আবদ্ধ হন।
নিজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। পারস্যের দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে যুদ্ধ শুরু করেন। একসময় ইরানের পশ্চিমে পৌঁছে যান। আব্বাসী খেলাফতের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান। উল্লেখ্য, খাওয়ারেযম সাম্রাজ্য ও আব্বাসী খেলাফতের মধ্যকার সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এমন সময় জালাল উদ্দীন নিজেকে শক্তিশালী মনে করে আর আব্বাসী খেলাফতের মাঝে দুর্বলতা লক্ষ করেন। তাই আব্বাসী খেলাফতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধের ঘোষণা দেন। (এদিকে ইরানের পূর্বাঞ্চলে তাতারী বাহিনী ঘাপটি মেরে বসেছিল?!!)
আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, তৎকালীন সময় অধিকাংশ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ রাজনৈতিক সংকটে আক্রান্ত ছিল। জালাল উদ্দীন তার দলবল নিয়ে বসরা নগরীতে প্রবেশ করে এবং দুই মাস ধরে তা অবরোধ করে রাখে। এরপর আব্বাসী খেলাফতের রাজধানী বাগদাদের উত্তরাঞ্চল অভিমুখে রওনা হয়।
এ দেখে আব্বাসী খলীফা নাছের লি দীনিল্লাহ আতঙ্কিত হন এবং শহর রক্ষার্থে জালাল উদ্দীনকে প্রতিহত করার নিমিত্তে সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করেন। তিনি কেবল এতটুকু করেই ক্ষান্ত হননি; বরং জাতীয় স্বার্থবিরোধী এক জঘন্যতম কাজে জড়িয়ে পড়েন। তা হলো, তিনি মুসলমানদের চিরশত্রু বর্বর তাতারী বাহিনীর কাছে জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সহযোগিতা প্রার্থনা করেন!!
সুবহানাল্লাহ!! তিনি কীভাবে তাতারীদের সহযোগিতা কামনা করলেন, অথচ তিনি তাতারীদের ইতিহাস ও মুসলমানদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধের কথা ভালো করেই জানেন।
একথা চিরসত্য যে, এ ক্ষেত্রে জালাল উদ্দীন ছিলেন জালেম। আর খলিফা নাছের সত্যের ও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তাই বলে কি তাতারীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা! তিনি কি জানতে না, জালাল উদ্দীনকে ধ্বংস করার পর তাতারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে আব্বাসী খেলাফত ধ্বংস করা!?
হে খলিফাতুল মুসলিমীন! আপনি কী চেয়েছিলেন?!
আপনি কি স্বল্প কয়েক বছর নিজ রাজত্ব বিস্তৃত করতে চেয়েছিলেন?! না কি আপনি জালাল উদ্দীনের গোলাম না হয়ে তাতারীদের গোলাম হয়ে মরতে চেয়েছিলেন?!
এটা জালাল উদ্দীনের পক্ষ থেকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল না; ছিল মুসলিম শক্তিকে দ্বিখণ্ডিতকরণ। মুসলিম শক্তিকে দ্বিখণ্ডিত করার জন্য আমরা তার চরম নিন্দা জ্ঞাপন করি।
তিনি মুসলমানদের পরস্পর যুদ্ধ লাগিয়ে দিলেন। আহ! কতই না উত্তম সংঘাত-সংঘর্ষ! মুসলিম ভূখণ্ডে দ্বন্দ্বের অগ্নি প্রজ্বলিত হলো। যা মুসলিম জনপদকে গিলে ফেলল। এরপর আব্বাসী সাম্রাজ্য ধ্বংসের পালা। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতেও এর ব্যতিক্রম নয়; পশ্চিমা বিশ্বের নগ্ন থাবা একের পর এক সকল মুসলিম রাষ্ট্রকে মুসলমানদের মাধ্যমেই ধ্বংস করছে। রাজনৈতিক ও চারিত্রিক সকল অধঃপতন সত্ত্বেও মুসলমানদের সমস্যা সমাধান ও সংকট নিরসনের জন্য কোনো কাফের শক্তিকে মুসলিম রাষ্ট্রে স্থান দেওয়া অসম্ভব ব্যাপার।
আব্বাসী খলীফা নাছের লি দ্বীনিল্লাহর অবস্থা ছিল তপ্তভূমি থেকে পলায়ন করে আগুনের কাছে আশ্রয় প্রার্থনাকারী অনার্থীর মতো। অথবা ওই ব্যক্তির মতো, যার ঘরে ছোট চোর প্রবেশ করেছে, আর সে এর চেয়ে বড় চোরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছে। বড় চোর এসে ছোট চোরকে তাড়িয়ে দিল এবং ঘরের সব আসবাবপত্র চুরি করল। শুধু তা-ই নয়, পার্শ্ববর্তী ঘর-বাড়িও লুণ্ঠন করল। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিইয়িল আজীম।
খলিফা নাছের তাতারী বাহিনীর দ্বারস্থ হলেও তখন তাতারীরা দখলকৃত বিশাল অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব বিস্তার করতে ব্যস্ত ছিল। ফলে ৬২২ হিজরীর শেষ দিকে জালাল উদ্দীনের সঙ্গে তাতারী বাহিনীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। জালাল উদ্দীন এই অবসর সময়কে কাজে লাগায় বাগদাদের নিকটবর্তী অঞ্চল, ইরাকের উত্তরাঞ্চল, অতঃপর পারস্যের উত্তরাঞ্চলে নিজের ক্ষমতা সম্প্রসারণের পেছনে। এরপর তিনি আযারবাইজান ও আযারবাইজানের চারপাশের মুসলিম রাষ্ট্রসমূহে প্রবেশ করেন।
জালাল উদ্দীনের নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধসমূহ ছিল বিধ্বংসী ও রক্তক্ষয়ী। অথচ সেগুলো ছিল ইসলামী রাষ্ট্র। এই সমস্ত যুদ্ধে হত্যা, লুণ্ঠন, বন্দী, জ্বালাও পোড়াও তথা এহেন কোনো হীনকাজ নেই, যা তিনি করেননি। যেনো তাতারীদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনি শিখেছেন কীভাবে নিষ্ঠুর হৃদয়ের অধিকারী হওয়া যায়। যারা মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বর্বর তাতারীদের হাতে নির্যাতিত নিপীড়িত, তাতের প্রতি দয়া না শিখে শিখেছেন কীভাবে রূঢ় হওয়া যায়!
খ্রিস্টান রাজ্য জুজিয়া শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পর জালাল উদ্দীন সেখানে তার ক্ষমতা বিস্তারের চিন্তা করেন। এজন্য সহোদর গিয়াশ উদ্দীনের সঙ্গে সাময়িক সন্ধিচুক্তিতে আবদ্ধ হন এবং তাকে তার সেনাবাহিনীতে শামিল করে নেন। তবে তারা উভয়ই একে অপরের অনিষ্টের ব্যাপারে সজাগ ছিলেন। এভাবেই সুকৌশল ও সুবুদ্ধি প্রয়োগ করে সুলতান জালাল উদ্দীন পারস্যের দক্ষিণাঞ্চল থেকে কাযবিন সমুদ্রের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে যান। আয়তনের দিক থেকে অঞ্চলটি বৃহৎ হলেও তা ছিল অরাজকতায় ভরপুর। আর রাজনৈতিক অরাজকতা জাতির বিপর্যয়ই ডেকে আনে। হায়! মুসলিম উম্মাহ যদি এই বিষয়টি অনুধাবন করত!
৬২২ হিজরীর শেষের দিকে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী জালেম খলিফা নাছের লি দ্বীনিল্লাহ একটানা সাতচল্লিশ বছর রাজত্ব পরিচালনার পর ইন্তেকাল করেন। তিনি প্রজাদের প্রতি সদাচরণ করতেন না। তিনি ইরাক ধ্বংস করেছেন। ইরাকবাসীর প্রতি অত্যাচার করেছেন। তাদের ধন-সম্পত্তি লুণ্ঠন করেছেন। ওজনে তাদের কম দিয়েছেন। তাদের প্রতি অর্থনৈতিক বিধান কায়েম করেছেন। অধিকন্তু যে মহা অন্যায় তিনি করেছেন, তা হলো, মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাতারীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা।