📘 তাতারীদের ইতিহাস 📄 খলীফা নাছের লি দীনিল্লাহ যা করলেন

📄 খলীফা নাছের লি দীনিল্লাহ যা করলেন


তিনি খাওয়ারেযম সাম্রাজ্যের মধ্যকার পুরোনো বিরোধ ভুলে যাননি। তিনি তাতারীত্রাসের কথা ভুলে গিয়ে সুলতান গিয়াস উদ্দীনের ক্ষমতাকে ভেঙে চুরমার করে দিতে চাইলেন। তিনি গিয়াশ উদ্দীনের মামা ইগান তাইসীর কাছে পত্র প্রেরণ করেন। ইগান তাইসী ছিলেন মহৎ ব্যক্তি। রণক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। তিনি ছিলেন গিয়াশ উদ্দীনের সেনাপ্রধান। গিয়াশ উদ্দীন তার পরামর্শ ব্যতীত কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন না। খলিফা 'নাছের লি দীনিল্লাহ' পত্রযোগে তাকে গিয়াশ উদ্দীনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেন এবং তাকে রাজত্বের লোভ দেখিয়ে প্ররোচিত করেন। এভাবে খলিফা নাছের লি দীনিল্লাহ ইগান তাইসীর বন্ধুত্ব লাভ করেন এবং গিয়াস উদ্দীনকে অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাতারী ফেতনা যে বিকট আকার ধারণ করছে তা তাকে সামান্যতম বিচলিত করেনি।
বিষয়টি ইগান তাইসীকে মুগ্ধ করল। বিষয়টি বহু আগ থেকে তার মাথায় ঘোরপাক খাচ্ছিল। খলিফা নাছের তাকে পত্র প্রেরণ করলে এবং সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি প্রদান করলে তার সংকল্প দৃঢ় হয়। সে কতিপয় সেনাপতিকে এ বিষয়ে লোভ দেখায়। ধীরে ধীরে যখন তার শক্তি-সামর্থ্য ও অনুসারী বৃদ্ধি পায়, তখন সে গিয়াশ উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে সে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। যোগাযোগব্যবস্থা ছিন্ন করে দেয়, শহর-জনপদের ধন-সম্পত্তি লুট করতে থাকে। কিন্তু মানুষ উপলব্ধি করতে পারেনি এই ধ্বংসযজ্ঞ কোত্থেকে আসছে? মুসলিম বাহিনীর পক্ষ থেকে নাকি বর্বর তাতারীদের পক্ষ থেকে?! উগ্রপন্থি বিপর্যয় সৃষ্টিকারী অসংখ্য মানুষ ইগান তাইসীর সঙ্গে মিলিত হয়।
তখনো তাতারীরা বহু দূরে অবস্থান করছিল। অজ্ঞতার ঘোরে নিমজ্জিত খলিফা নাছের অত্যাসন্ন মহা বিপর্যয় দেখেও সন্তুষ্ট ছিলেন। ইগান তাইসী ভাগ্নে গিয়াশ উদ্দীনের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
দুই মুসলিম দল যুদ্ধে মুখোমুখি হয়। উভয় দলের মাঝে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসলমানের হাতে অসংখ্য মুসলমান নিহত হয়। যুদ্ধে ইগান তাইসী পরাজিত হয়। তার দলের অধিক সৈন্য নিহত হয়। অবশিষ্টরা বন্দী হয়। ইগান তাইসী তার কতিপয় সৈন্যসহ লাঞ্ছনার পরাজয় মাথায় নিয়ে পালিয়ে আযারবাইজান চলে যায়। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!
ইমাম মুসলিম ও তিরমিযী রহ. হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ أَيِسَ أَنْ يَعْبُدَهُ الْمُصَلُّونَ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ، وَلَكِنْ فِي التَّحْرِيشِ بَيْنَهُمْ
"শয়তান এ বিষয়ে নিরাশ হয়েছে যে, মুসল্লীরা তার ইবাদত করবে। তবে তাদের মাঝে ফেতনা সৃষ্টির ব্যাপারে সে হতাশ হয়নি।” মুসলিম শরীফের বর্ণনায় "আরব ভূখণ্ড” শব্দ অতিরিক্ত এসেছে।
তৎকালীন মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ লড়াই ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত দেখে বিস্মিত হওয়ার কিছুই নেই। মুসলিম উম্মাহর এই মহাসংকট ছিল চিরবাস্তব। সম্প্রতি আমরা মুসলমানদের পরস্পর দ্বন্দ্ব-লড়াই দেখতে পাই। অথচ মুসলমানগণ চরম সংকটাপন্ন। তবু খুব কমসংখ্যক মুসলমানই এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতি দেখে বিচলিত হয়!!
মিশর ও সুদানের বিরোধ কিংবা লিবিয়া ও আফ্রিকার প্রদেশ 'চাদের' মধ্যকার বিরোধ, মাগরিব ও পশ্চিমা মরুভূমির উপত্যকাসমূহের মধ্যকার বিরোধ, সেনেগাল ও সেনেগাল নদীর তীরে অবস্থিত মৌরিতানিয়া দেশের মধ্যকার বিরোধ, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার বিভেদ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যকার বিভাজন, সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যকার বিরোধ; এছাড়াও অন্য মুসলিম দেশসমূহের মধ্যকার বিভেদসমূহ খুব কমসংখ্যক লোককেই আতঙ্কিত করে? ইরাক ও ইরান যুদ্ধে মুসলমানদের ক্ষয়-ক্ষতির কথা আমাদের সবারই জানা। ইরাক ও কুয়েত যুদ্ধের কথাও আমাদের অজানা নয়। মুসলিম উম্মাহর এ সকল বিভেদ-বিভাজন মুসলিম ভূখণ্ডের জন্য বড় ঝুঁকিপূর্ণ। অশুভ কালো থাবার পূর্বাভাস। দৈনন্দিন পত্রিকার পাতা খুললেই ভেসে ওঠে ফিলিস্তিন, ইরাক, শিশান, কাশ্মীর, সুদান, আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, সুমাল ও অন্যান্য দেশের মুসলিম-নিধনের নির্মম হত্যাযজ্ঞ। গগন-জাগানিয়া আহাজারি! অথচ আমরা অধিকাংশ এসব সংবাদ নিত্যদিনের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে পাঠ করি। আমাদের মাঝে না কোনো যন্ত্রণা কাজ করে আর না আমরা সামান্যতম ব্যথিত হই। আমাদের মতোই তৎকালীন মুসলিমবিশ্বের মুসলমানরাও অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত মুসলিম-নিধনের ঘটনাগুলো বোধ ও চেতনাহীনভাবে শ্রবণ করত। এতে তারা না ব্যথিত হতো, না অন্তর্দহনে ভুগত। এসব ঘটনা কাছের দূরের কাউকেই ভাবিয়ে তুলত না। সত্যিই এ ছিল দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আহ! সবাই কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত ছিল। আহ! তারা কেবল নিজের জীবন ও আত্মীয়-স্বজনের জীবন নিয়ে ভাবত! অপর ভাই নির্মমভাবে নিহত হলেও চোখ তুলে তাকাত না! কারও ঘর-বাড়ি ধ্বংস হলে, কারও স্ত্রী চুরি হলে কিংবা কারও ভূমি লুণ্ঠিত হলেও কেউ তাদের প্রতি দয়ার দৃষ্টিতে তাকাত না। সার্বিক বিবেচনায় সত্যিই এ ছিল চরম হতাশার ও দুঃখজনক। ইসলামের বিচারে ভ্রাতৃত্ব বিবেচনায় এমনকি মানবতার বিচারে এ ছিল মুসলিম উম্মাহর চরম অধঃপতন! লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!

📘 তাতারীদের ইতিহাস 📄 তৃতীয় ঘটনা

📄 তৃতীয় ঘটনা


এ ঘটনাটিকে ইবনুল আছীর রহ. 'কামেল ফিত তারীখ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ভূমিকায় তিনি লিখেছেন-
حادثة غريبة لم يوجد مثلها
"এটি একটি বিরল ঘটনা, যার দৃষ্টান্ত মেলা ভার!!"
কার্যতই ঘটনাটি বিস্ময়কর ও যারপরনাই বেদনাবিধুর।
ঘটনাটি হলো, মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি স্থাপনের পর খ্রিস্টান রাজ্য জুজিয়ার শাসনভার গ্রহণ করেন জনৈক মহিলা। রাজ্যের আমীর-ওমারা ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আবেদন করেন। যাতে কোনো পুরুষ তার পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে পারেন এবং যিনি যুদ্ধ-বিগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। ফলে তিনি রাজ-পরিবারের কোনো পুরুষকে বিয়ে করার ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু তিনি জুজিয়ায় তার উপযুক্ত কোনো পুরুষ খুঁজে পাননি। তুরস্কের মুসলিম সম্রাট মুগীস উদ্দীন তগরাল শাহ ইবনে কালাজ আরসালান এ সংবাদ শুনতে পেয়ে তার ছেলের সঙ্গে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। রানি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কোনো মুসলমান আমাদের সম্রাট হতে পারে না।

📘 তাতারীদের ইতিহাস 📄 বাদশা মুগীস উদ্দীন ইবনে আরসালান কী করলেন

📄 বাদশা মুগীস উদ্দীন ইবনে আরসালান কী করলেন


তিনি তাদের বললেন, আমার ছেলে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করবে।
তারা সবাই এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। বাস্তবেই তার ছেলে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে জুজিয়ার রানিকে বিয়ে করে এবং জুজিয়ার রাজ্যভার গ্রহণ করার জন্য সেখানে চলে যান। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!
সে সময় মুসলমানরা নৈতিক অধঃপতনের এত গভীর গর্তে নিপতিত হয়েছিল যে, এ অবস্থায় আল্লাহর সহযোগিতা লাভ করা অসম্ভব। কীভাবে একজন মুসলিম সম্রাট ও তাঁর ছেলের মাথায় খ্রিস্টান হওয়ার চিন্তা হয়? খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করা তো বহু দূরের কথা!
খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলে যদি সারা পৃথিবী পরিচালনার দায়িত্বভারও আসে, তবু কি একজন মুসলিম বাদশার পক্ষে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করা সম্ভব? যদি কোনো দুর্বল ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ দুর্ঘটনা ঘটত, তবে হয়তো আমরা এই বলে নিজেদের প্রবোধ দিতে পারতাম যে, হয়তো তাকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে? কোনো সুস্থ বিবেক এমন চিন্তা করতে পারে না।
আমি জানি না, কেন সম্রাটের নাম মুগীস উদ্দীন (তথা দ্বীনের আশ্রয় দাতা) রাখা হয়েছিল? আমি জানি না, তিনি দ্বীনের জন্য কী সহযোগিতা প্রদান করেছেন? আমি এও জানি না যে, তিনি কোন দ্বীন (ধর্ম) কে আশ্রয় দিয়েছেন? ইসলামধর্ম নাকি খ্রিস্টধর্ম?
فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ
"প্রকৃতপক্ষে চোখ অন্ধ হয় না; বরং অন্ধ হয় সেই হৃদয় যা বক্ষদেশে বিরাজ করে।"৩০
পরিস্থিতির পরিপূর্ণ চিত্র ফুটিয়ে তুলতে তার শেষ পরিণাম উল্লেখ করাকে যথোপযুক্ত মনে করছি। আমরা দেখব, যে ব্যক্তি দ্বীনকে দুনিয়ার স্বার্থে বিক্রি করে, তার পরিণাম কী হয়?
মুসলিম সম্রাট খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করত জুজিয়ার খ্রিস্টান রানিকে বিয়ে করে। মাঝখানে বহুদিন কেটে যায়। বেশ কিছুদিন পর সম্রাট শুনতে পান যে, তার স্ত্রী জনৈক দাসের প্রতি আসক্ত। তার সম্পর্কে অশ্রাব্য কটু মন্তব্য শুনতে পান। কিন্তু এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেন না। তিনি সুবিশাল রাজ্যে একাকিত্ব অনুভব করেন। একদিন তিনি রাজমহলে প্রবেশ করে রানিকে দাসের সঙ্গে বিছানায় অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পান। তার এই কুকর্মকে তিনি ঘৃণা করেন এবং (বৈবাহিক) সম্পর্ক রক্ষায় অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। রানি সর্বক্ষমতা প্রয়োগ করত বলেন, 'এ অবস্থায় যদি তুমি সন্তুষ্ট থাকতে পারো, তবে থাকো। অন্যথায় চলে যাও।' বাদশা বললেন, আমি এ অবস্থায় সম্পর্ক রক্ষা করতে পারব না। ফলে রানি তাকে অন্য দেশে পাঠিয়ে দেন এবং অন্য আরেক জন বিয়ে করেন!!
আল্লাহ তা'আলা আমাদের লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহর কাছে আমরা শুভ পরিণাম কামনা করি এবং যেদিন আমরা আল্লাহর সাক্ষাতে ধন্য হব, সেদিন যেনো আমাদের শ্রেষ্ঠ দিন হয়।
ইমাম মুসলিম রহ. হযরত আবু হুরায়রা রা. সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
بَادِرُوا بِالْأَعْمَالِ فِتَنَا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، أَوْ يُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا، يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا
"তোমরা পুণ্যকর্মের মাধ্যমে ফেতনাকে অতিক্রম করবে অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত পার করার মতো। (সে সময়) মানুষ সকালে মুমিন হবে আবার সন্ধ্যায় কাফের হবে। মানুষ দ্বীন-ধর্মকে দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করবে।"৩১

টিকাঃ
৩০ সুরা হজ: ৪৬।
৩১ মুসলিম: ১৮৬।

📘 তাতারীদের ইতিহাস 📄 চতুর্থ ঘটনা

📄 চতুর্থ ঘটনা


৬২০ হিজরীতে এমন একটি দুর্ঘটনা ঘটে, কেউ কেউ এটিকে আকস্মিক ঘটনা বলে আখ্যা দেয়। এই বছরগুলোতে মুসলমানদের ফেতনার কোনো অন্ত ছিল না। অর্থনৈতিক হাল ছিল অধঃপতিত। অনুরূপ রাজনৈতিক, সামরিক ও চারিত্রিক অধঃপতন নেমে এসেছিল। সবচেয়ে বড় বিপদ ছিল মুসলিম অঞ্চলসমূহে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপালের আবির্ভাব। ইরাক, আরব ভূখণ্ড, সিরিয়া, পারস্যসহ অন্য মুসলিম দেশের প্রচুর শস্য ফলফলাদি এতে বিনষ্ট হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية