📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 ৬১৯ হিজরীতে তাতারীদের অবস্থান

📄 ৬১৯ হিজরীতে তাতারীদের অবস্থান


এ বছর তাতারীরা রাশিয়া ভূখণ্ডে তাদের অভিযান চালায়। চীন ও ইরাকজোড়া সুবিশাল মুসলিম ভূখণ্ডে তারা প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠে। ৬১৯ হিজরীতে তারা সে সকল অঞ্চলে রাজত্ব বিস্তার করেছিল বর্তমান বিশ্বমানচিত্রে সে সব অঞ্চলের তালিকা নিম্নরূপ-
১. কাজাখস্তান
২. কিরগিস্তান
৩. তাজিকিস্তান
৪. তুরমেনিস্তান
৫. উজবেকিস্তান
৬. পাকিস্তান (কিরমান অঞ্চল ব্যতীত)
৭. আফগানিস্তান
৮. ইরানের বৃহদাংশ (ইরাকসংলগ্ন ইরানের পশ্চিম সীমান্ত এলাকা ও ইসমাঈলিয়া অঞ্চল ব্যতীত)
৯. আযারবাইজান।
১০. আরমেনিয়া
১১. জুর্জিয়া
১২. রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 ৬২০ হিজরীতে তাতারীদের অবস্থান

📄 ৬২০ হিজরীতে তাতারীদের অবস্থান


তাতারী সম্রাট চেঙ্গিজ খান খাওয়ারেযম সাম্রাজ্যে নিজ প্রভাব বিস্তরকরত রাশিয়া অঞ্চলে একের পর এক আক্রমণ করছিল। এ বছর পরপর চারটি দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাগুলো তৎকালীন মুসলমানদের সার্বিক পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে। অনুরূপ এ কথার বর্ণনাও দেয় যে, তাতারীরা কীভাবে এই সুবিশাল অঞ্চল অতি অল্প সময়ে দখল করল?

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 প্রথম ঘটনা

📄 প্রথম ঘটনা


তাতারী বাহিনী রাশিয়া ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং বহু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু তারা রাশিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে বুলগার অঞ্চলের একদল রাশিয়ানের মুখোমুখি হয়। দু-দলের মাঝে বিকট যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তাতারী বাহিনী প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলে পরাজিত হয়। যুদ্ধে বহুসংখ্যক তাতারী নিহত হয়। রাশিয়া ভূখণ্ডে তাতারীরা থমকে দাঁড়ায়। তাদের সৈন্যসংখ্যা হ্রাস পায়। এটা ছিল মুসলমানদের মোক্ষম সুযোগ। এ সুযোগে মুসলমানরা নিজেদের ছত্রভঙ্গ বাহিনীকে নতুনভাবে সাজাতে পারত। কারণ, তখন তাতারীরা বুলগায় পরাজিত হয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগছিল।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 তা কাম্য ছিল, তবে বাস্তবায়িত হয়নি

📄 তা কাম্য ছিল, তবে বাস্তবায়িত হয়নি


তবে যা ঘটেছে, তা হলো, এ অঞ্চলের জনৈক মুসলিম আমীর তার সেনাবাহিনী নিয়ে জুজিয়া অঞ্চলের ওপর আক্রমণ করে। এই মুসলিম আমীর মূসা ইবনে আদেলের অধীনস্থ ছিল। যিনি বহু উপত্যকার রাজা ছিলেন। (তিনি কুর্দী ছিলেন, ইরাকের উত্তরাঞ্চল শাসন করতেন।) ঘটনাটি বড়ই বিস্ময়কর। কারণ, যদিও জুজিয়াবাসী ও মুসলমানদের মাঝে টানা যুদ্ধ লেগে থাকত, তবে সম্প্রতি তারা যুদ্ধবিরতি পালন করছিল। উপরন্তু তাতারী আক্রমণ প্রতিহত করতে নিজেদের যুদ্ধবিরতি করাই সময়ের দাবি ছিল। কারণ, জুজিয়াবাসীও তাতারীদের ঘৃণা করত। মুসলমানদের মতো তারাও তাতারীত্রাসে তটস্থ ছিল। তাই মুসলমানদের জন্য সময় উপযোগী পদক্ষেপ হতো তাতারীদের বিরুদ্ধে জুজিয়াবাসীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া কিংবা কমপক্ষে জুজিয়াবাসীকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখা। যাতে অন্যত্র যুদ্ধ করে মুসলমানদের শক্তি নিঃশেষ না হয়। অধিকন্তু জুজিয়াবাসী এসব অঞ্চল সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ফলে যদি কোনোভাবে তাতারীরা জুজিয়াবাসীকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়, তাহলে মুসলমানরা বড় বিপদে পতিত হবে!
মুসলমানগণ এমন বিপদসংকুল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, যাকে আমরা ‘রাজনৈতিক সংকট’ নামে অভিহিত করতে পারি। তারা সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, রণকৌশল, বিশুদ্ধ লক্ষ্য ও একতা হারিয়ে ফেলেছিল। মুসলমানদের অবস্থা হয়েছিল অসামঞ্জস্যশীল, অস্থিতিশীল ও অপরিপক্ব।
জুজিয়াবাসীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুদ্ধ চলার কারণে উভয় দলের বহুসংখ্যক সৈন্য নিহত হয়। তাতারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ভরসাও তারা হারিয়ে ফেলে। ফলে কল্যাণকর পদক্ষেপ গ্রহণে দৃঢ়সংকল্প হওয়া অতি সহজ ছিল না। তাদের মনোবলহীনতার বড় কারণ ছিল এটি। যুদ্ধ বন্ধ হলো। নতুনভাবে সন্ধিচুক্তিও হলো বটে; তবে বহু পরে, যখন উভয়দল মৃত্যুর পথযাত্রী!!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00