📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 বিলকান আক্রমণ

📄 বিলকান আক্রমণ


বিলকান বর্তমান ইরানের একটি অন্যতম শহর। আফসোস! বিলকানবাসী তিবরিযবাসীর আদর্শ গ্রহণ করতে পারেনি। তাতারীরা ৬১৮ হিজরীর রমজান মাসে বিলকান আক্রমণ করে। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কারও প্রতিই এই পশুরা কোনো দয়া করেনি। যাকে পেয়েছে, তাকেই হত্যা করেছে। ইবনে আছীর রহ. বলেন—

“তারা পাগলদের পর্যন্ত হত্যা করেছে। পেট ফেড়ে গর্ভের সন্তান পর্যন্ত হত্যা করেছে। মহিলাদের সঙ্গে কুকর্মে লিপ্ত হয়েছে। মনোরঞ্জন শেষে স্বভাব অনুযায়ী শহরের সব ধন-সম্পত্তি লুট করে আগুন জ্বালিয়ে তা ভস্ম করেছে। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!”

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 কুনজা অভিমুখে তাতারী হামলা

📄 কুনজা অভিমুখে তাতারী হামলা


তাতারী বাহিনী কুনজা অভিমুখে রওয়ানা হয়। কুনজাবাসী তিবরিযবাসীর আদর্শ গ্রহণ করে এবং তাতারীরা তাদের সঙ্গে তা-ই করল, যা করেছিল তিবরিযবাসীর সঙ্গে। কুনজাবাসী জিহাদের ঘোষণা দেয় এবং যথাসাধ্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ফলে একজন তাতারীও কুনজা শহরে প্রবেশ করেনি। এ শহর ছেড়ে অন্যত্র পলায়ন করে।

এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। যেই দেশ জিহাদের পতাকা হাতে তুলে নেয় এবং জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তাতারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ভয় পায়। এটা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এটি আল্লাহর অমোঘনীতি। যদি প্রত্যেক শহরবাসী এ কাজ করত, শুধু তাতারী নয়, বরং কেউই মুসলিম ভূখণ্ডের ওপর অপবিত্র পা ফেলার দুঃসাহস পেত না।

মুসলমানগণ বছরের পর বছর এই দেশগুলোকে শত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রেখেছিল। সংখ্যাধিক্যের বলে নয়, অন্যের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করে নয়, বরং তারা এই ভূখণ্ডগুলোকে সংরক্ষিত রেখেছিল একনিষ্ঠ জিহাদ, পবিত্র রক্ত ও ইখলাছপূর্ণ পবিত্রাত্মার বিনিময়ে। আল্লাহর রীতি-নীতিতে কোনো পরিবর্তন ঘটে না; পরিবর্তন ঘটে বান্দার রীতিতে, বান্দার আমলে। আল্লাহ তা'আলা কারও প্রতি সামান্য জুলুম করেন না। কিন্তু মানুষ নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 দাগিস্তান ও শিশান আক্রমণ

📄 দাগিস্তান ও শিশান আক্রমণ


দাগিস্তান ও শিশান দেশ দুটি আযারবাইজানের উত্তরে কাযবিন সমুদ্রতীরে অবস্থিত। বর্তমানে দেশ দুটি রাশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত। আমরা আল্লাহর কাছে দেশ দুটির পূর্ণ স্বাধীনতা কামনা করছি। তাতারীরা স্বভাব অনুযায়ী দেশ দুটিকে তছনছ করে দিয়েছিল। রাস্তায় যাদের পেয়েছিল, অধিকাংশকে হত্যা করেছিল।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে আক্রমণ

📄 রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে আক্রমণ


তাতারীরা উত্তর প্রান্তে ক্রমশ ধাবিত হচ্ছে। শিশান ধ্বংসের পর তারা রাশিয়ার ভোলগা নদীর তীরে পৌঁছে। তারা নির্বিচারে এসব অঞ্চলের অধিবাসীদের হত্যা করতে থাকে। তারা সবাই ছিল খ্রিস্টান। এমন দুর্বিপাকের মাঝেই ৬১৮ হিজরী শেষ হয়। ইতিমধ্যে বর্বর তাতারী বাহিনী রাশিয়া ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে যায়। চীনের পূর্ব ও রাশিয়ার পশ্চিম প্রান্ত তাতারীদের চারণভূমিতে পরিণত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00