📄 ১. বাইজন্টাইন সাম্রাজ্য
বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য ও মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে তাদের যুদ্ধ বড়ই নিষ্ঠুর ও ঐতিহাসিক। তবে হিজরী সপ্তম শতাব্দীতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য ক্রমশ নিজেদের শৌর্যবীর্য হারাতে বসে। ফলে সে সময় তারা মুসলমানদের বড় কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারেনি। তবে বিশ্বমানবতা তাদের শৌর্যবীর্য ও শক্তি সামর্থ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিল।
📄 ২. আরমেনিয়া সাম্রাজ্য
আরমেনিয়া সাম্রাজ্য পারস্যের উত্তর ও তুরস্কের পশ্চিমে অবস্থিত। তারাও বহুবার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।
📄 ৩. জর্জিয়া সাম্রাজ্য
বর্তমানে এই সাম্রাজ্যের নাম হলো জর্জিয়া। তৎকালীন যুগে এর নাম ছিল কুরজ। মুসলমানদের সঙ্গে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। তবে তারা খাওয়ারেযমের মুসলমানদের সঙ্গে সীমিত কয়েকটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।
📄 ৪. সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও তুরস্কে ক্রুশেড সাম্রাজ্যের প্রভাব
হিত্তিন, বাইতুল মুকাদ্দাস ও অন্যান্য অঞ্চলে সুলতান ছালাহ উদ্দীন রহ. ক্রুশেড বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সত্ত্বেও ক্রুশেড শক্তি অবশিষ্ট থেকে যায়। এমনকি দীর্ঘদিন যাবৎ পার্শ্ববর্তী বেদখলকৃত ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর ওপর ক্রুশেড বাহিনীর প্রভাব বলবৎ থাকে। তাদের প্রসিদ্ধ সাম্রাজ্যগুলো হলো আন্তাকিয়া, আকা, ত্রিপোলি, সয়দা ও বাইরুত। অনুরূপ প্রায়শই মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি ভূখণ্ডে যুদ্ধ লেগেই থাকত এবং ক্রমান্বয়ে মুসলিম উম্মাহর ওপর ক্রুশেড বাহিনীর প্রভাব বিস্তার লাভ করছিল।
অন্যদিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন চাইলেন, ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরুর বিপরীতে শেষাংশে মুসলিম উম্মাহর জন্য হোক সুখময় ও শুভকর। আর ক্রুশেড বাহিনীর জন্য হোক দুঃখকর ও অমঙ্গলজনক। হিজরী সপ্তম শতাব্দীর শেষ ভাগে আল্লাহ তা'আলা ক্রুশেড বাহিনীর বিপক্ষে মুসলমানদের দুইজন মহান ব্যক্তিত্বকে রক্ষাকবজ হিসেবে দান করেন। ৫৮৩ হিজরীতে সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী রহ. এর মাধ্যমে সিরিয়া অঞ্চলাধীন 'হিত্তিন' নামক স্থানে ক্রুশেড বাহিনীর বিপক্ষে মুসলমানদের বিজয় সাধিত হয়। এর আট বছর পর ৫৯১ হিজরীতে স্পেনের খ্রিস্টানদের বিপক্ষে সুলতান মানসূর মুওয়াহাহিদী রহ. এর মাধ্যমে 'অরোক' নামক স্থানে বিজয় লাভ হয়।
হিজরী ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষ দিকে দুটি মহান বিজয় সাধিত হওয়ার পরও হিজরী ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরুভাগে মুসলমানগণ খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সুলতান ছালাহ উদ্দীন আইয়ূবী রহ.-এর ইন্তেকালের পর মুসলমানদের বিভাজন-বিভক্তি, আত্মকলহ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে মুসলমানদের সেই শক্তি ও প্রতিভা হারিয়ে যায়। অনুরূপ মানসূর মুওয়াহাহিদীর ইন্তেকালের পর মুওয়াহহিদ্বীন জামাতের ঐক্য ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে। তবে ক্রুশেড বাহিনী ধীরে ধীরে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ওপর সে সময় তাদের কোনো প্রভাব ছিল না। যদিও বিচার-ক্ষমতা ও রাষ্ট্রদখলের প্রতি তাদের ছিল লোলুপ দৃষ্টি। এই ছিল হিজরী সপ্তম শতাব্দীর শুরুর দিকে মুসলিমবিশ্বের অবক্ষয় ও অধঃপতন। এমন সময় পৃথিবীর মানচিত্রে এক নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটে, যা পৃথিবীর মানচিত্রকে পরিবর্তন করে দেয়। সকল অনুমান ও ধারণাকে পাল্টে দেয়। তা নিজেকে পৃথিবীর বুকে তৃতীয় পরাশক্তিরূপে আবিষ্কার করে। অথবা আপনি বলতে পারেন, সপ্তম হিজরীর প্রথম অর্ধাংশে ভূপৃষ্ঠের শ্রেষ্ঠ পরাশক্তি। এই পরাশক্তির নাম হলো তাতারী পরাশক্তি কিংবা তাতারী সাম্রাজ্য।
টিকাঃ
৮. সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী ২৭ শে সফর ৫৮৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। - অনুবাদক।