📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 ৬. পারস্য

📄 ৬. পারস্য


বর্তমান ইরান তৎকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল। সে সময় পারস্যের বহু অঞ্চল খাওয়ারেযম সাম্রাজ্যের দখলে ছিল এবং পারস্যের পশ্চিমাঞ্চল শিয়াদের ইসমাঈলী গ্রুপের শাসনে পরিচালিত হতো। শিয়াদের ইসমাঈলী গ্রুপটি ছিল খুব নিকৃষ্ট একটি দল। তাদের সঙ্গে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের চরম বিরোধ ছিল। বহুসংখ্যক উলামায়ে কেরাম তাদের পরিপূর্ণভাবে ইসলাম বহির্ভূত মনে করতেন। তারা নিখাদ ইসলামকে দর্শনশাস্ত্রের মাঝে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল। মূলত তারা অগ্নিপূজারিদের বংশধর ছিল। পরবর্তী সময় তারা বাহ্যত ইসলামের পোশাক পরিধান করে অগ্নিপূজাকে ধামা-চাপা দিয়েছিল। তারা মনমতো কুরআনের অপব্যাখ্যা করত। তারা সেইসব বাতেলপন্থীদের অন্যতম, যারা এই বিশ্বাস পোষণ করে যে, দীনের প্রত্যেকটি বাহ্যিক বিষয়ের অন্তরালে একটি গোপন হেকমত বা রহস্য লুকিয়ে থাকে। যা কতিপয় মানুষ ব্যতীত কেউ জানে না (তারা নিজেদের সেই দলের অন্তর্ভুক্ত মনে করত)। দীনের এই গোপন বিষয় সম্পর্কে তারা কেবল তাদেরই অবহিত করত যারা তাদের আদর্শ গ্রহণ করতো। তারা নবী রাসূল ও শরীয়তকে অস্বীকার করত। তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল "রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য"। তাই তারা যুদ্ধ-বিদ্রোহের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করেছিল।

মোটকথা, ইসমাঈলিয়া গ্রুপটি ইসলামের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ছিল, যা অভ্যন্তরীণভাবে ক্ষতিসাধন করত। তারা ছিল ইসলামী আকীদা বিশ্বাস, সংবিধান এবং মহান মুসলিম ব্যক্তিদের গুপ্তহত্যার স্থায়ী কারণ।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 ৭. তুরস্ক

📄 ৭. তুরস্ক


তৎকালীন তুরস্কে রোমান বাদশাদের হুকুমত প্রতিষ্ঠিত ছিল। অন্যদিকে রোমান বাদশারা ছিল তুরস্ক বংশোদ্ভূত। তাদের রয়েছে এক সোনালি ইতিহাস এবং জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর বিশাল দাস্তান। সেটা ছিল বিখ্যাত মুসলিম বাদশা সেনাপতি আলব আরসলানের যুগ। তবে অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয় হলো, কূটকৌশল ও শক্তিমত্তায় এ অঞ্চলের শাসকবর্গ এতটা দুর্বল ছিল যে, যা পরবর্তী সময় তাদের চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00