📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 ৩. পশ্চিমা বিশ্ব ও স্পেন

📄 ৩. পশ্চিমা বিশ্ব ও স্পেন


তৎকালীন পশ্চিমা বিশ্ব ও স্পেনেও আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী মুসলমানদের রাজত্ব ছিল। তখন মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল সুবিশাল। পূর্বে লিবিয়া থেকে শুরু করে পশ্চিমে মরক্কো, উত্তরে স্পেন থেকে শুরু করে দক্ষিণে আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ। এতদসত্ত্বেও এই সুবিশাল মুসলিম সাম্রাজ্য হিজরী সপ্তম শতাব্দীর শুরুলগ্নে অকাল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বিশেষত ৬০৯ হিজরীর ক্রুশেড যুদ্ধের পর মুসলিম সাম্রাজ্য পুরোপুরি প্রাণ হারিয়ে ফেলে।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 ৪. খাওয়ারেষম

📄 ৪. খাওয়ারেষম


খাওয়ারেযম সাম্রাজ্য ছিল দিগন্তবিস্তৃত। তা ছিল এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় মুসলিম সাম্রাজ্য। পূর্বে চীনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে পশ্চিমে ইরান পর্যন্ত বিশাল ভূখণ্ড নিয়ে বিস্তৃত। আব্বাসী সাম্রাজ্য ও খাওয়ারেযম সাম্রাজ্যের মাঝে শক্ত বিরোধ বিরাজমান ছিল। এই দুই সাম্রাজ্য একে অপরের ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশল অবলম্বন করত। কখনো কখনো খাওয়ারেযম সাম্রাজ্য আদর্শিকভাবে শিয়া মতাদর্শীদের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাদের মাঝে নানানরকম ফেতনা-ফ্যাসাদ, আন্দোলন ও বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। গৌরী, আব্বাসী ও অন্যান্য মুসলিম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তারা বহুবার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 ৫. হিন্দুস্তান

📄 ৫. হিন্দুস্তান


তৎকালে হিন্দুস্তান গৌরী সম্রাটদের অধীনস্থ ছিল। খাওয়ারেযম ও গৌরী সাম্রাজ্যের মাঝে অসংখ্য যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 ৬. পারস্য

📄 ৬. পারস্য


বর্তমান ইরান তৎকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল। সে সময় পারস্যের বহু অঞ্চল খাওয়ারেযম সাম্রাজ্যের দখলে ছিল এবং পারস্যের পশ্চিমাঞ্চল শিয়াদের ইসমাঈলী গ্রুপের শাসনে পরিচালিত হতো। শিয়াদের ইসমাঈলী গ্রুপটি ছিল খুব নিকৃষ্ট একটি দল। তাদের সঙ্গে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের চরম বিরোধ ছিল। বহুসংখ্যক উলামায়ে কেরাম তাদের পরিপূর্ণভাবে ইসলাম বহির্ভূত মনে করতেন। তারা নিখাদ ইসলামকে দর্শনশাস্ত্রের মাঝে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল। মূলত তারা অগ্নিপূজারিদের বংশধর ছিল। পরবর্তী সময় তারা বাহ্যত ইসলামের পোশাক পরিধান করে অগ্নিপূজাকে ধামা-চাপা দিয়েছিল। তারা মনমতো কুরআনের অপব্যাখ্যা করত। তারা সেইসব বাতেলপন্থীদের অন্যতম, যারা এই বিশ্বাস পোষণ করে যে, দীনের প্রত্যেকটি বাহ্যিক বিষয়ের অন্তরালে একটি গোপন হেকমত বা রহস্য লুকিয়ে থাকে। যা কতিপয় মানুষ ব্যতীত কেউ জানে না (তারা নিজেদের সেই দলের অন্তর্ভুক্ত মনে করত)। দীনের এই গোপন বিষয় সম্পর্কে তারা কেবল তাদেরই অবহিত করত যারা তাদের আদর্শ গ্রহণ করতো। তারা নবী রাসূল ও শরীয়তকে অস্বীকার করত। তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল "রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য"। তাই তারা যুদ্ধ-বিদ্রোহের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করেছিল।

মোটকথা, ইসমাঈলিয়া গ্রুপটি ইসলামের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ছিল, যা অভ্যন্তরীণভাবে ক্ষতিসাধন করত। তারা ছিল ইসলামী আকীদা বিশ্বাস, সংবিধান এবং মহান মুসলিম ব্যক্তিদের গুপ্তহত্যার স্থায়ী কারণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00