📘 তাতারীদের ইতিহাস > 📄 যেই পরাশক্তির নাম তাতারী সাম্রাজ্য

📄 যেই পরাশক্তির নাম তাতারী সাম্রাজ্য


আপনি যেভাবেই তুলনা করুন না কেন, বস্তুত তাতারী ইতিহাস এমন এক ইতিহাস, ইতিহাসশাস্ত্রে যদি তা সংরক্ষিত না থাকত এবং পৃথিবীর অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে যদি তার কোনোরূপ মিল না থাকত, তাহলে আমরা তাতারীদের ইতিহাসকে কল্পনাপ্রসূত কিংবা কল্পনার ঊর্ধ্বে মনে করতাম।

সত্যিই তাতারীদের ইতিহাস এক বিস্ময়কর ইতিহাস। কারণ, সে সময় খুব অল্প সময়ে একটি দুর্বল জাতি পৃথিবীর পরাশক্তিতে পরিণত হয় অথবা একটি পরাশক্তি দুর্বল জাতিতে পরিণত হয়। মাত্র কয়েক বছরের মাঝে আল্লাহ রব্বুল আলামীন একটি সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী করেন এবং আরেকটি সাম্রাজ্যকে অপদস্থ করেন। অতঃপর কয়েক বছর অতিবাহিত হতে না-হতেই পূর্ববর্তী সম্মানিত সাম্রাজ্যকে অপদস্থ করেন এবং দ্বিতীয় জাতিকে সম্মানিত করেন!!

قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

“(হে নবী,) বলো, হে আল্লাহ, হে সার্বভৌম শক্তির মালিক! তুমি যাকে চাও ক্ষমতা প্রদান করো, যার থেকে চাও ক্ষমতা কেড়ে নাও। যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করো এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করো। সমস্ত কল্যাণ তোমারই হাতে। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।"৬

সংখ্যাধিক্যের অতিশয়তার দিক থেকেও তাতারীদের ইতিহাস অতি বিস্ময়কর। যথা—নিহতের সংখ্যা, সৈন্যসংখ্যা, অধঃপতিত শহরের সংখ্যা, দখলকৃত বিস্তীর্ণ ভূমির সংখ্যা এবং জুলুম ও অত্যাচারের সংখ্যা ইত্যাদি।

অনুরূপ তাতারীদের ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যকার পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্যের দিক থেকেও তাতারীদের ইতিহাস অতি আশ্চর্যজনক।

সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন পৃথিবী পরিচালনার রীতিনীতি এবং ইতিহাস পুনরাবৃত্তির রহস্য স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। ফলে বর্তমান সময়ের সংঘটিত ঘটনাসমূহকে হিজরী সপ্তম শতাব্দীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে পরিপূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ বানিয়েছেন। ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করলে অন্যান্য ঘটনার সঙ্গেও আমরা বর্তমান পৃথিবীর মিল খুঁজে পাব।

এ কারনেই ইতিহাসের পাঠকমাত্রই খুব সহজে ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থার মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করতে পারে এবং ভূপৃষ্ঠ ও সৃষ্টিজীব পরিচালনায় মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের রীতিনীতি উদ্‌ঘাটন করতে পারে।

তাতারীদের ইতিহাস সবিস্তার আলোচনা করা এবং তাতারী জাতির সকল দিক উল্লেখ করা বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটির উদ্দেশ্য নয়; কারণ এতে গ্রন্থ দীর্ঘাকার ধারণ করবে; বরং আমি কেবল শিক্ষণীয় ঘটনাবলি, সেকাল ও একালের সামঞ্জস্যপূর্ণ দিক এবং দ্রুত অধঃপতন ও সাহায্য লাভের কারণসমূহ আলোচনা করব। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়াশুনা করতে ইচ্ছুক, সে যেন এ বিষয়ে লিখিত ইতিহাসশাস্ত্রের বিশাল ও বিপুল তথ্যসমগ্রের শরণাপন্ন হয়, যা দিয়ে ইসলামী পাঠাগারসমূহ ভরপুর।

আল্লাহ রব্বুল আলামীনের কাছে আমি দোয়া করি, তিনি যেন এই বিস্ময়কর ইতিহাসের প্রতিটি পাতা, প্রতিটি বাক্য; এমনকি প্রতিটি অক্ষরের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন। -আমীন ॥

টিকাঃ
৬ আলে ইমরান: ২৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00