📄 ওয়াসওয়াসার কারণে খুশি হওয়া উচিত
যাইহোক, এই হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ওয়াসওয়াসা হলো ঈমানের আলামত। অন্তরে ওয়াসওয়াসা জাগাকে আল্লাহ তা'আলা গোনাহের কাজ সাব্যস্ত করেননি। হযরত থানভী রহ. এই হাদীসের যেই ব্যাখ্যা করেছেন তা এই যে, 'এই দুই হাদীসে অনিচ্ছাকৃত বিষয়ে পাকড়াও না হওয়ার কথা উল্লেখ আছে। বরং এর চেয়ে বড়ো কথা হলো, এই হাদীসের মধ্যে ওয়াসওয়াসার কারণে আনন্দিত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত রয়েছে।' অর্থাৎ, অন্তরে যদি ওয়াসওয়াসা আসে আর সে অনুপাতে আমল করা না হয় তাহলে এর কারণে আনন্দিত হওয়া উচিত। কারণ, এই ওয়াসওয়াসা আপনার ঈমানের আলামত। কোনো কাফেরের অন্তরে এসব ওয়াসওয়াসা আসে না। ঈমানদারের অন্তরেই এসব ওয়াসওয়াসা আসে। এজন্য আপনি খুশি হোন। এরপর বলেন, এসব ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি লাভের উপায় হলো, এগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না। বরং এগুলোর কারণে খুশি হবে। এক বুযুর্গ বলেন, 'শয়তান মুমিনের আনন্দকে সহ্য করতে পারে না। যখন শয়তান মুমিনকে ওয়াসওয়াসার কারণে খুশি হতে দেখবে, তখন ওয়াসওয়াসা দেওয়া ছেড়ে দিবে।'
📄 ওয়াসওয়াসার সংজ্ঞা
তবে একথা মনে রাখতে হবে যে, ওয়াসওয়াসা ঐটা, যা নিজে নিজে অন্তরে উদিত হয়। নিজের পক্ষ থেকে চিন্তা করে ওয়াসওয়াসা আনা বা গোনাহের কথা চিন্তা করা বা গোনাহের ইচ্ছা অন্তরে আনা ওয়াসওয়াসা নয়। এগুলো স্বতন্ত্র আমল। আর এসব কাজ অনেক ক্ষেত্রেই গোনাহের কাজ হয়ে থাকে। এজন্য নিজের পক্ষ থেকে ইচ্ছা করে, সংকল্প করে এবং চিন্তা করে করে ওয়াসওয়াসার কথা চিন্তায় আনবে না। আর যে ওয়াসওয়াসা নিজে থেকে আসে তার পরোয়া করবে না।
📄 অনাহূত চিন্তা থেকে বাঁচার দ্বিতীয় চিকিৎসা
যেসব চিন্তা ও ওয়াসওয়াসা মানুষ চিন্তা করে এবং ইচ্ছা করে অন্তরে আনে তার থেকে বাঁচার দ্বিতীয় পদ্ধতি এই যে, যখনই এ ধরনের কোনো চিন্তা অন্তরে জাগবে, তখনই নিজেকে নিজে অন্য কোনো কাজে মগ্ন করবে। কারণ, লাঠি নিয়ে পিছু ধাওয়া করে এসব ওয়াসওয়াসা দূর করা যায় না। বরং নিজেকে নিজে অন্য কোনো কাজে মগ্ন করাই এর পদ্ধতি। এর জন্য হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন অধিক পরিমাণে সেই দু'আ করবে। আল্লাহ তা'আলা আপন রহমতে আমাদের সকলের ব্যাপারে এই দু'আকে কবুল করুন, আমীন। সেই দু'আটি এই,
اللَّهُمَّ اجْعَلْ وَسَاوِسَ قَلْبِي خَشْيَتَكَ وَ ذِكْرَكَ وَاجْعَلْ هِمَّتِي وَ هَوَايَ فِيمَا تُحِبُّ وَ تَرْضَى
কি বিস্ময়কর দু'আ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এমন দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন, যা মানুষ চিন্তাও করতে পারে না। এই দু'আর অর্থ হলো, 'হে আল্লাহ! আমার অন্তরে যেসব চিন্তা জাগছে সেগুলোকে আপনার ভয় এবং আপনার যিকিরে পরিণত করে দিন।'
মানুষের বৈশিষ্ট্য হলো, তার মন-মগজ কখনই চিন্তা মুক্ত থাকে না। কোনো না কোনো চিন্তা তার মন-মগজকে আচ্ছন্ন করে রাখে। যেমন হাত দিয়ে কোনো কাজ করছে কিন্তু মন-মগজ অন্য চিন্তায় মগ্ন এবং অবিরাম বিভিন্ন চিন্তা চলছে। কোনো মুহূর্ত চিন্তামুক্ত থাকে না। এজন্য এই দু'আ করবে যে, অহেতুক যে সব চিন্তা আসছে, যেগুলোর কোনো ফায়দা নেই, হে আল্লাহ! এসব চিন্তাকে বদলিয়ে আপনার যিকির এবং আপনার ভয়ে পরিণত করে দিন। যে চিন্তাই আসবে, তা যেন আপনার হয় বা আপনার ভয়ের হয়, আপনার স্মরণের হয়, আপনার সামনের উপস্থিতির হয়, আপনার জান্নাতের নেয়ামতের হয়, দোযখের আযাবের হয় এবং আপনার দ্বীনের বিধি-বিধানের চিন্তা হয়। হে আল্লাহ! আমার আত্মার চিন্তাসমূহ, আমার খাহেশাত এবং কামনা বাসনার মুখ ঘুরিয়ে সেদিকে করে দিন, যেগুলো আপনার কাছে পছন্দনীয়। আমার আত্মাকে শুধুমাত্র সেদিকে ধাবিত করুন, যা আপনার কাছে পছন্দনীয়। এই দু'আ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা এই দু'আকে আমাদের সকলের জন্য কবুল করুন। আমীন।