📄 ফেরিওয়ালার নামায
অপর ব্যক্তির বিবি-বাচ্চা আছে। তার উপর বিভিন্ন ধরনের দায় দায়িত্ব এবং বিভিন্ন জনের হক আছে। সে সব হক আদায় এবং নিজের ও নিজের বিবি-বাচ্চার পেট পালার জন্য ফেরি করে মাল বিক্রি করে। আওয়াজ দিয়ে দিয়ে মাল বিক্রি করে। এখন মানুষ তার ঠেলাগাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে মাল ক্রয় করছে। ইতিমধ্যে আযান হয়ে গেলো। এখন সে তাড়াতাড়ি মানুষের সাথে লেনদেন শেষ করার চেষ্টা করছে। এমনকি যখন জামাতের সময় হয়ে গেলো তখন সে জলদি করে ঠেলা গাড়িটি একদিকে রেখে এবং তার উপর কাপড় দিয়ে দৌড়ে মসজিদে চলে গেলো। জলদি জলদি ওযু করলো। ইমামের পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। জলদি নিয়ত বাঁধলো। এখন তার মন-মগজ বিভিন্ন দিকে ঘুরপাক খাচ্ছে। একদিকে গাড়ির চিন্তা, অপরদিকে গ্রাহকদের চিন্তা। কিন্তু এতো সব সত্ত্বেও আল্লাহ তা'আলার সামনে দাঁড়িয়ে জামাতের সাথে সে নামায আদায় করলো। এরপর সুন্নাত আদায় করে দ্রুত গিয়ে ঠেলা গাড়ির পাশে দাঁড়ালো, এ হলো দ্বিতীয় ব্যক্তি।
📄 কার নামাযের মধ্যে রূহানিয়াত বেশি?
এরপর হযরত বলেন, বলো! এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কার নামাযে রূহানিয়াত অধিকতর? বাহ্যিকভাবে তো মনে হয় যে, প্রথম ব্যক্তির নামাযের মধ্যে রূহানিয়াত অধিক। কারণ সে আযানের সময় ঘর থেকে বের হয়েছে। মসজিদে এসে এতমিনানের সাথে ওযু করেছে। তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়েছে। সুন্নাত নামায পড়েছে। এতমিনান ও খুশু-খুযুর সাথে নামায আদায় করেছে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার নিকট এই দ্বিতীয় ব্যক্তির নামায রূহানিয়াতের অধিক নিকটে। যদিও সে উর্ধ্বশ্বাসে এসে নামায আদায় করেছে। কারণ প্রথম ব্যক্তির উপর কোনো দায়-দায়িত্ব ছিলো না এবং তার কোনো চিন্তা ও পেরেশানী নেই। সে নিজেকে সমস্ত জিম্মাদারী থেকে মুক্ত করে নিয়েছে। এর ফলে তার নামাযের মধ্যে বড়ো স্বাদ লাগছে, উপভোগ হচ্ছে। কিন্তু এই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যে ঠেলাগাড়ি ঠেলে আসছে। সেই ঠেলার উপরে তার জীবিকা এবং পরিবারের লোকজনের জীবিকা নির্ভরশীল। কিন্তু যখন আল্লাহ তা'আলার দরবারে হাজিরার সময় হয়েছে তখন সেই ঠেলাগাড়ি আল্লাহ তা'আলার দরবারে হাজির হওয়া থেকে তাকে গাফেল করতে পারেনি। সে ঠেলাগাড়িটি রেখে জামাতের শেষ কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে এবং নামায আদায় করেছে। তার নামায অধিক কষ্টকর। তার নামায অধিক কবুলিয়াত ও ছওয়াবের কারণ হবে। যদিও তার কোনো ভাবের সৃষ্টি হয়নি এবং তার কোনো স্বাদ লাগেনি। কিন্তু এর ফলে আল্লাহ তা'আলা তার ছওয়াব কম করবেন না, ইনশাআল্লাহ।
📄 নিরাশ হবেন না
আজকাল মানুষ সাধারণত অনিচ্ছাকৃত বিষয়ের পিছনে লেগে থাকে। এর কারণে পেরেশান হয় এবং নিরাশ হয়। নিরাশার ফলে অবশেষে শয়তান তার থেকে সেই আমল ছুটিয়ে দেয়। শয়তান তাকে শেখায় যে, তোমার নামায যখন কোনো উপযুক্ত না তো এই নামায পড়ে লাভ কি? শয়তান এই গোমরাহীর মধ্যে লিপ্ত করিয়ে দেয়। এজন্য অনিচ্ছাকৃত জিনিসের পিছনে পড়া উচিত নয়। নামায পড়ার যেই পদ্ধতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছেন সেই পদ্ধতি মতো নামায পড়ার ফিকির করুন। নিজের পক্ষ থেকে মনযোগ দেয়ার চেষ্টা করুন। এর পরে ভাবের উদয় হোক বা না হোক, নামাযের মধ্যে স্বাদ লাগুক চাই না লাগুক, এতে কোনো তারতম্য হবে না। আল্লাহ তা'আলার এখানে সে নামায কবুল হবে।
📄 ওয়াসওয়াসার কারণে খুশি হওয়া উচিত
যাইহোক, এই হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ওয়াসওয়াসা হলো ঈমানের আলামত। অন্তরে ওয়াসওয়াসা জাগাকে আল্লাহ তা'আলা গোনাহের কাজ সাব্যস্ত করেননি। হযরত থানভী রহ. এই হাদীসের যেই ব্যাখ্যা করেছেন তা এই যে, 'এই দুই হাদীসে অনিচ্ছাকৃত বিষয়ে পাকড়াও না হওয়ার কথা উল্লেখ আছে। বরং এর চেয়ে বড়ো কথা হলো, এই হাদীসের মধ্যে ওয়াসওয়াসার কারণে আনন্দিত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত রয়েছে।' অর্থাৎ, অন্তরে যদি ওয়াসওয়াসা আসে আর সে অনুপাতে আমল করা না হয় তাহলে এর কারণে আনন্দিত হওয়া উচিত। কারণ, এই ওয়াসওয়াসা আপনার ঈমানের আলামত। কোনো কাফেরের অন্তরে এসব ওয়াসওয়াসা আসে না। ঈমানদারের অন্তরেই এসব ওয়াসওয়াসা আসে। এজন্য আপনি খুশি হোন। এরপর বলেন, এসব ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি লাভের উপায় হলো, এগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না। বরং এগুলোর কারণে খুশি হবে। এক বুযুর্গ বলেন, 'শয়তান মুমিনের আনন্দকে সহ্য করতে পারে না। যখন শয়তান মুমিনকে ওয়াসওয়াসার কারণে খুশি হতে দেখবে, তখন ওয়াসওয়াসা দেওয়া ছেড়ে দিবে।'