📄 আমল সুন্নাত অনুপাতে হওয়া উচিত
হযরত থানভী রহ. অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিষয়টি বলেছেন যে, কাইফিয়াত বা ভাবের উপর ভিত্তি নয়, ভিত্তি হলো আমলের উপর। যদি সুন্নাত মোতাবেক আমল হয়ে থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ গন্তব্যে পৌছে যাবে。
بر صراط مستقیم اے دل کے گمراہ نیست
অর্থাৎ, হে আত্মা! সিরাতে মুস্তাকীমের উপর তোমার পা থাকলে তুমি গোমরাহ হবে না। যতো চিন্তা ও ওয়াসওয়াসাই আসুক না কেন। ভাবের উদয় হোক বা না হোক এবং স্বাদ লাগুক বা না লাগুক।
📄 অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামায
আমার হযরত ডাক্তার আব্দুল হাই ছাহেব (কু.সি.) আল্লাহ তা'আলা তাঁকে উচ্চ মর্যাদা দান করুন, আমীন। তিনি একদিন বললেন যে, এক ব্যক্তি অবসর জীবন অতিবাহিত করছে। তার খাওয়া দাওয়ার সব ব্যবস্থা আছে। ব্যাংক ব্যালেন্স আছে। জীবিকা উপার্জনের কোনো চিন্তা নেই। চাকুরিতে যেতে হয় না। ব্যবসা করতে হয় না। দোকান খুলতে হয় না। আযান হওয়ার সাথে সাথে সে ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদে চলে যায়। অত্যন্ত এতমিনানের সঙ্গে ভালোভাবে ওযু করে। এরপর মসজিদে গিয়ে তাহিয়্যাতুল মসজিদের দুই রাকাত নামায পড়ে। এরপর সুন্নাত নামায আদায় করে। এরপর জামাতের অপেক্ষায় বসে যিকির করতে থাকে। যখন জামাত আরম্ভ হয় অত্যন্ত খুশু-খুযুর সঙ্গে নামায আদায় করে। তার মন-মগজ পুরোটাই নামাযমুখী হয়ে থাকে। নামাযের মধ্যে যখন কুরআন তিলাওয়াত করে তার মজা লাগে। যখন যিকির করে তার মধ্যে স্বাদ পায়। রুকু সিজদাতেও স্বাদ পায়। এভাবে পুরো নামায অত্যন্ত প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির সঙ্গে আদায় করে। এরপর নামাযের পরবর্তী সুন্নাত আদায় করে। এরপর এতমিনানের সাথে মনযোগ সহকারে দু'আ করে। এরপর ঘরে ফিরে আসে। এরপর পরবর্তী নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকে যে, কখন আযান হবে। কখন মসজিদে যাবো। এক মানুষ তো হলো এরকম।
📄 ফেরিওয়ালার নামায
অপর ব্যক্তির বিবি-বাচ্চা আছে। তার উপর বিভিন্ন ধরনের দায় দায়িত্ব এবং বিভিন্ন জনের হক আছে। সে সব হক আদায় এবং নিজের ও নিজের বিবি-বাচ্চার পেট পালার জন্য ফেরি করে মাল বিক্রি করে। আওয়াজ দিয়ে দিয়ে মাল বিক্রি করে। এখন মানুষ তার ঠেলাগাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে মাল ক্রয় করছে। ইতিমধ্যে আযান হয়ে গেলো। এখন সে তাড়াতাড়ি মানুষের সাথে লেনদেন শেষ করার চেষ্টা করছে। এমনকি যখন জামাতের সময় হয়ে গেলো তখন সে জলদি করে ঠেলা গাড়িটি একদিকে রেখে এবং তার উপর কাপড় দিয়ে দৌড়ে মসজিদে চলে গেলো। জলদি জলদি ওযু করলো। ইমামের পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। জলদি নিয়ত বাঁধলো। এখন তার মন-মগজ বিভিন্ন দিকে ঘুরপাক খাচ্ছে। একদিকে গাড়ির চিন্তা, অপরদিকে গ্রাহকদের চিন্তা। কিন্তু এতো সব সত্ত্বেও আল্লাহ তা'আলার সামনে দাঁড়িয়ে জামাতের সাথে সে নামায আদায় করলো। এরপর সুন্নাত আদায় করে দ্রুত গিয়ে ঠেলা গাড়ির পাশে দাঁড়ালো, এ হলো দ্বিতীয় ব্যক্তি।
📄 কার নামাযের মধ্যে রূহানিয়াত বেশি?
এরপর হযরত বলেন, বলো! এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কার নামাযে রূহানিয়াত অধিকতর? বাহ্যিকভাবে তো মনে হয় যে, প্রথম ব্যক্তির নামাযের মধ্যে রূহানিয়াত অধিক। কারণ সে আযানের সময় ঘর থেকে বের হয়েছে। মসজিদে এসে এতমিনানের সাথে ওযু করেছে। তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়েছে। সুন্নাত নামায পড়েছে। এতমিনান ও খুশু-খুযুর সাথে নামায আদায় করেছে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার নিকট এই দ্বিতীয় ব্যক্তির নামায রূহানিয়াতের অধিক নিকটে। যদিও সে উর্ধ্বশ্বাসে এসে নামায আদায় করেছে। কারণ প্রথম ব্যক্তির উপর কোনো দায়-দায়িত্ব ছিলো না এবং তার কোনো চিন্তা ও পেরেশানী নেই। সে নিজেকে সমস্ত জিম্মাদারী থেকে মুক্ত করে নিয়েছে। এর ফলে তার নামাযের মধ্যে বড়ো স্বাদ লাগছে, উপভোগ হচ্ছে। কিন্তু এই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যে ঠেলাগাড়ি ঠেলে আসছে। সেই ঠেলার উপরে তার জীবিকা এবং পরিবারের লোকজনের জীবিকা নির্ভরশীল। কিন্তু যখন আল্লাহ তা'আলার দরবারে হাজিরার সময় হয়েছে তখন সেই ঠেলাগাড়ি আল্লাহ তা'আলার দরবারে হাজির হওয়া থেকে তাকে গাফেল করতে পারেনি। সে ঠেলাগাড়িটি রেখে জামাতের শেষ কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে এবং নামায আদায় করেছে। তার নামায অধিক কষ্টকর। তার নামায অধিক কবুলিয়াত ও ছওয়াবের কারণ হবে। যদিও তার কোনো ভাবের সৃষ্টি হয়নি এবং তার কোনো স্বাদ লাগেনি। কিন্তু এর ফলে আল্লাহ তা'আলা তার ছওয়াব কম করবেন না, ইনশাআল্লাহ।