📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মানুষ আমলের জন্য আদিষ্ট

📄 মানুষ আমলের জন্য আদিষ্ট


অনেকেই চিঠিতে লেখেন, এমন এক সময় ছিলো যখন নামায পড়তে অসাধারণ স্বাদ এবং অপূর্ব অনুভূতি সৃষ্টি হতো। তাছাড়া নামাযের মধ্যে দুনিয়ার কোনো খবর থাকতো না। এখন সেই স্বাদ নেই, সেই উপভোগ হয় না। শয়তান তো আমাকে মরদূদ বানিয়ে দেয়নি? ভালো করে বুঝুন! এগুলো অনিচ্ছাকৃত অবস্থা। এর মধ্যে মানুষের ইচ্ছার কোনো দখল নেই। স্বাদ উপভোগ হওয়া আর না হওয়া মানুষের ক্ষমাতভুক্ত নয় এবং মানুষ তার জন্য আদিষ্টও নয়। মানুষ তো কেবল আমলের জন্য আদিষ্ট। দেখার বিষয় হলো, আমল করেছে কি না। আমল করে থাকলে তখন দেখার বিষয় হলো, সেই আমল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক করেছে কি না। যদি এভাবে আমল করে থাকে তাহলে কোনো ধরনের স্বাদ উপভোগ হোক বা না হোক নামাযের দায়িত্ব পালন হয়েছে এবং আপনার সে আমল কবুল হয়েছে। এর কারণ হলো, এ সমস্ত ভাব ও অনুভূতি আসে আর যায়। আমল কবুল হওয়া এগুলোর উপর নির্ভরশীল নয় এবং এগুলোর উপর নাজাতও নির্ভরশীল নয়। আল্লাহ তা'আলার মেহেরবাণীতে আমলের তাওফীক হচ্ছে এজন্য তাঁর শোকর আদায় করতে থাকুন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ভাব না উদ্দেশ্য, না ক্ষমতাভুক্ত

📄 ভাব না উদ্দেশ্য, না ক্ষমতাভুক্ত


যেসব লোক হজ্ব বা উমরাহ করার জন্য হারামাইন শরীফাইনে যান, সাধারণত তাদের উপর বিভিন্ন ধরনের ভাবের উদয় হয়। যেমন এটা খুব প্রসিদ্ধ যে, আল্লাহর ঘরের উপর যখন প্রথম দৃষ্টি পড়ে, তখন খুব কান্না আসে বা হাসি পায় বা অন্যান্য ভাবের সৃষ্টি হয়। যখন মুলতযামের কাছে যায় তখন সেখানেও খুব কান্না আসে ইত্যাদি ইত্যাদি। তো এ সব কাইফিয়াত বা ভাব সৃষ্টি হয়, কিন্তু এসব কাইফিয়াত মানুষের ক্ষমতাভুক্ত নয়, ইচ্ছাধীন নয়। লাভ হলে আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত, আর লাভ না হলে এ কারণে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। পেরেশান হওয়ার কিছু নেই। সুতরাং কিছু লোক এ কারণে পেরেশান হয় যে, আমি উমরাহ করলাম বা হজ্ব করতে গেলাম সেখানে আমার আত্মা পাথর হয়েছিলো। আমার কান্নাও এলো না, চোখের পানিও বের হলো না, অন্য কোনো ভাবেরও সৃষ্টি হলো না, মনে হয় আমি যেন মরদূদ হয়ে গেছি। আমার উপর শয়তানের প্রভাব প্রবল হয়েছে, ইত্যাদি। এ ধরনের বিভিন্ন চিন্তা অন্তরে আসে। মনে রাখবেন! আল্লাহ তা'আলা আপনাকে এ কারণে বিতাড়িত করবেন না যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে আপনার কান্না এলো না কেন এবং এ কারণে পাকড়াও করবেন না। তবে শর্ত হলো, ঠিকভাবে আমল করতে হবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক আমল করতে হবে। এর পরে কান্না আসুক বা না আসুক, ভাবের সৃষ্টি হোক চাই না হোক ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা'আলার দরবারে সে হজ্ব ও উমরাহ কবুল হয়েছে এবং তার কারণে ছওয়াব লাভ হয়েছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আমল সুন্নাত অনুপাতে হওয়া উচিত

📄 আমল সুন্নাত অনুপাতে হওয়া উচিত


হযরত থানভী রহ. অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিষয়টি বলেছেন যে, কাইফিয়াত বা ভাবের উপর ভিত্তি নয়, ভিত্তি হলো আমলের উপর। যদি সুন্নাত মোতাবেক আমল হয়ে থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ গন্তব্যে পৌছে যাবে。

بر صراط مستقیم اے دل کے گمراہ نیست

অর্থাৎ, হে আত্মা! সিরাতে মুস্তাকীমের উপর তোমার পা থাকলে তুমি গোমরাহ হবে না। যতো চিন্তা ও ওয়াসওয়াসাই আসুক না কেন। ভাবের উদয় হোক বা না হোক এবং স্বাদ লাগুক বা না লাগুক।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামায

📄 অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামায


আমার হযরত ডাক্তার আব্দুল হাই ছাহেব (কু.সি.) আল্লাহ তা'আলা তাঁকে উচ্চ মর্যাদা দান করুন, আমীন। তিনি একদিন বললেন যে, এক ব্যক্তি অবসর জীবন অতিবাহিত করছে। তার খাওয়া দাওয়ার সব ব্যবস্থা আছে। ব্যাংক ব্যালেন্স আছে। জীবিকা উপার্জনের কোনো চিন্তা নেই। চাকুরিতে যেতে হয় না। ব্যবসা করতে হয় না। দোকান খুলতে হয় না। আযান হওয়ার সাথে সাথে সে ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদে চলে যায়। অত্যন্ত এতমিনানের সঙ্গে ভালোভাবে ওযু করে। এরপর মসজিদে গিয়ে তাহিয়্যাতুল মসজিদের দুই রাকাত নামায পড়ে। এরপর সুন্নাত নামায আদায় করে। এরপর জামাতের অপেক্ষায় বসে যিকির করতে থাকে। যখন জামাত আরম্ভ হয় অত্যন্ত খুশু-খুযুর সঙ্গে নামায আদায় করে। তার মন-মগজ পুরোটাই নামাযমুখী হয়ে থাকে। নামাযের মধ্যে যখন কুরআন তিলাওয়াত করে তার মজা লাগে। যখন যিকির করে তার মধ্যে স্বাদ পায়। রুকু সিজদাতেও স্বাদ পায়। এভাবে পুরো নামায অত্যন্ত প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির সঙ্গে আদায় করে। এরপর নামাযের পরবর্তী সুন্নাত আদায় করে। এরপর এতমিনানের সাথে মনযোগ সহকারে দু'আ করে। এরপর ঘরে ফিরে আসে। এরপর পরবর্তী নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকে যে, কখন আযান হবে। কখন মসজিদে যাবো। এক মানুষ তো হলো এরকম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00