📄 মন না লাগলেও নামায পড়তে হবে
যদি নামাযের মধ্যে স্বাদ উপভোগ না হয় এবং নামায পড়তে কষ্ট অনুভব হয় কিন্তু এতদসত্ত্বেও আপনি নামায পড়তে থাকেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনাকে অধিক ছওয়াব দেওয়া হবে। কারণ নামায পড়তে মন চাচ্ছে না, নফস দুষ্টামি করছে, কিন্তু আপনি জোর জবরদস্তি আল্লাহর ইবাদতের খাতিরে এবং তার আনুগত্যের খাতিরে নফসের উপর চাপ সৃষ্টি করে নামায পড়লেন। তো ইনশাআল্লাহ এই নামাযে আপনি অধিক ছওয়াব লাভ করবেন। হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ ছাহেব গাঙ্গুহী রহ. বলেন, যে ব্যক্তির সারা জীবনেও নামাযের মধ্যে স্বাদ আসেনি তারপরেও সে নামায ছাড়েনি, বরং নিয়মিতভাবে নামায পড়েছে, আমি তাকে দুইটি মুবারকবাদ দিচ্ছি। একটি এই যে, নামাযের মধ্যে মজা না আসা সত্ত্বেও সে নামায পড়তে থেকেছে, ইনশাআল্লাহ এ কারণে তার বেশি ছওয়াব হবে। আর দ্বিতীয়টি এই যে, নামাযের মধ্যে স্বাদ লাগলে সন্দেহ ছিলো যে, হয় তো সে নফসের স্বাদের কারণে নামায পড়েছে। কিন্তু যখন নামাযের মধ্যে স্বাদই আসেনি, তখন এই সন্দেহ দূর হয়ে গেলো। তাই জানা গেলো যে, সে শুধু মাত্র আল্লাহর জন্যই নামায পড়েছে। তাই এর মধ্যে ইখলাস অধিক ছিলো। এ কারণে আরো অধিক ছওয়াব হয়েছে। এজন্য নামাযের মধ্যে স্বাদ এলো কি এলো না এবং স্বাদ পেলাম কি পেলাম না, সে চিন্তা করবে না।
📄 মানুষ আমলের জন্য আদিষ্ট
অনেকেই চিঠিতে লেখেন, এমন এক সময় ছিলো যখন নামায পড়তে অসাধারণ স্বাদ এবং অপূর্ব অনুভূতি সৃষ্টি হতো। তাছাড়া নামাযের মধ্যে দুনিয়ার কোনো খবর থাকতো না। এখন সেই স্বাদ নেই, সেই উপভোগ হয় না। শয়তান তো আমাকে মরদূদ বানিয়ে দেয়নি? ভালো করে বুঝুন! এগুলো অনিচ্ছাকৃত অবস্থা। এর মধ্যে মানুষের ইচ্ছার কোনো দখল নেই। স্বাদ উপভোগ হওয়া আর না হওয়া মানুষের ক্ষমাতভুক্ত নয় এবং মানুষ তার জন্য আদিষ্টও নয়। মানুষ তো কেবল আমলের জন্য আদিষ্ট। দেখার বিষয় হলো, আমল করেছে কি না। আমল করে থাকলে তখন দেখার বিষয় হলো, সেই আমল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক করেছে কি না। যদি এভাবে আমল করে থাকে তাহলে কোনো ধরনের স্বাদ উপভোগ হোক বা না হোক নামাযের দায়িত্ব পালন হয়েছে এবং আপনার সে আমল কবুল হয়েছে। এর কারণ হলো, এ সমস্ত ভাব ও অনুভূতি আসে আর যায়। আমল কবুল হওয়া এগুলোর উপর নির্ভরশীল নয় এবং এগুলোর উপর নাজাতও নির্ভরশীল নয়। আল্লাহ তা'আলার মেহেরবাণীতে আমলের তাওফীক হচ্ছে এজন্য তাঁর শোকর আদায় করতে থাকুন।
📄 ভাব না উদ্দেশ্য, না ক্ষমতাভুক্ত
যেসব লোক হজ্ব বা উমরাহ করার জন্য হারামাইন শরীফাইনে যান, সাধারণত তাদের উপর বিভিন্ন ধরনের ভাবের উদয় হয়। যেমন এটা খুব প্রসিদ্ধ যে, আল্লাহর ঘরের উপর যখন প্রথম দৃষ্টি পড়ে, তখন খুব কান্না আসে বা হাসি পায় বা অন্যান্য ভাবের সৃষ্টি হয়। যখন মুলতযামের কাছে যায় তখন সেখানেও খুব কান্না আসে ইত্যাদি ইত্যাদি। তো এ সব কাইফিয়াত বা ভাব সৃষ্টি হয়, কিন্তু এসব কাইফিয়াত মানুষের ক্ষমতাভুক্ত নয়, ইচ্ছাধীন নয়। লাভ হলে আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত, আর লাভ না হলে এ কারণে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। পেরেশান হওয়ার কিছু নেই। সুতরাং কিছু লোক এ কারণে পেরেশান হয় যে, আমি উমরাহ করলাম বা হজ্ব করতে গেলাম সেখানে আমার আত্মা পাথর হয়েছিলো। আমার কান্নাও এলো না, চোখের পানিও বের হলো না, অন্য কোনো ভাবেরও সৃষ্টি হলো না, মনে হয় আমি যেন মরদূদ হয়ে গেছি। আমার উপর শয়তানের প্রভাব প্রবল হয়েছে, ইত্যাদি। এ ধরনের বিভিন্ন চিন্তা অন্তরে আসে। মনে রাখবেন! আল্লাহ তা'আলা আপনাকে এ কারণে বিতাড়িত করবেন না যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে আপনার কান্না এলো না কেন এবং এ কারণে পাকড়াও করবেন না। তবে শর্ত হলো, ঠিকভাবে আমল করতে হবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক আমল করতে হবে। এর পরে কান্না আসুক বা না আসুক, ভাবের সৃষ্টি হোক চাই না হোক ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা'আলার দরবারে সে হজ্ব ও উমরাহ কবুল হয়েছে এবং তার কারণে ছওয়াব লাভ হয়েছে।
📄 আমল সুন্নাত অনুপাতে হওয়া উচিত
হযরত থানভী রহ. অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিষয়টি বলেছেন যে, কাইফিয়াত বা ভাবের উপর ভিত্তি নয়, ভিত্তি হলো আমলের উপর। যদি সুন্নাত মোতাবেক আমল হয়ে থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ গন্তব্যে পৌছে যাবে。
بر صراط مستقیم اے دل کے گمراہ نیست
অর্থাৎ, হে আত্মা! সিরাতে মুস্তাকীমের উপর তোমার পা থাকলে তুমি গোমরাহ হবে না। যতো চিন্তা ও ওয়াসওয়াসাই আসুক না কেন। ভাবের উদয় হোক বা না হোক এবং স্বাদ লাগুক বা না লাগুক।