📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 বিভিন্ন চিন্তা আসার প্রতিকার

📄 বিভিন্ন চিন্তা আসার প্রতিকার


বিভিন্ন চিন্তা ও ওয়াসওয়াসা আসার প্রতিকার এই যে, এসব চিন্তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না এবং মনযোগ দিবে না। যখন মনযোগ দিবে না তখন ইনশাআল্লাহ এসব চিন্তা আপনা আপনি দূর হয়ে যাবে। নিজের কাজ করতে থাকবে। যখন নামাযের নিয়ত বাঁধবে তখন নিজের মনকে নামাযের দিকে ধাবিত করবে। হযরত থানভী রহ. তাঁর ওয়ায ও মালফুযাতে এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নামায সত্ত্বাগতভাবেই কাম্য। এজন্য যদি অনিচ্ছাকৃত চিন্তা আসতে থাকে তো এ কারণে নামাযের অবমূল্যায়ন করো না। বেশিরভাগ নামাযী প্রশ্ন করে থাকে যে, আমরা নামায পড়ি, কিন্তু নামাযের মধ্যে মজাই আসে না। বা এরকম বলে থাকে যে, আগে তো নামাযের মধ্যে খুব স্বাদ উপভোগ হতো, এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। তার উত্তর এই যে, ভাই! নামায এ জন্য ফরয করা হয়নি যে, এর মধ্যে আপনি মজা পাবেন, স্বাদ উপভোগ করবেন। বরং এটা তো আল্লাহ তা'আলার ইবাদত এবং বন্দেগীর একটি তরীকা। তাই নামাযের মধ্যে স্বাদ উপভোগ হলে তা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। আর যদি স্বাদ উপভোগ না হয় তাহলে এ কারণে নামাযের ফযীলত মোটেও কম হবে না। আপনি যদি নামাযের রুকন, শর্ত ও আদবসমূহ পূরণ করেন এবং সুন্নাত মোতাবেক নামায আদায় করেন তাহলে সারাজীবনেও স্বাদ উপভোগ না হলে আপনার কোনো ক্ষতি নেই। নামাযের মধ্যে স্বাদ উপভোগ হলেও নামায পড়তে হবে এবং স্বাদ উপভোগ না হলেও নামায পড়তে হবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মন না লাগলেও নামায পড়তে হবে

📄 মন না লাগলেও নামায পড়তে হবে


যদি নামাযের মধ্যে স্বাদ উপভোগ না হয় এবং নামায পড়তে কষ্ট অনুভব হয় কিন্তু এতদসত্ত্বেও আপনি নামায পড়তে থাকেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনাকে অধিক ছওয়াব দেওয়া হবে। কারণ নামায পড়তে মন চাচ্ছে না, নফস দুষ্টামি করছে, কিন্তু আপনি জোর জবরদস্তি আল্লাহর ইবাদতের খাতিরে এবং তার আনুগত্যের খাতিরে নফসের উপর চাপ সৃষ্টি করে নামায পড়লেন। তো ইনশাআল্লাহ এই নামাযে আপনি অধিক ছওয়াব লাভ করবেন। হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ ছাহেব গাঙ্গুহী রহ. বলেন, যে ব্যক্তির সারা জীবনেও নামাযের মধ্যে স্বাদ আসেনি তারপরেও সে নামায ছাড়েনি, বরং নিয়মিতভাবে নামায পড়েছে, আমি তাকে দুইটি মুবারকবাদ দিচ্ছি। একটি এই যে, নামাযের মধ্যে মজা না আসা সত্ত্বেও সে নামায পড়তে থেকেছে, ইনশাআল্লাহ এ কারণে তার বেশি ছওয়াব হবে। আর দ্বিতীয়টি এই যে, নামাযের মধ্যে স্বাদ লাগলে সন্দেহ ছিলো যে, হয় তো সে নফসের স্বাদের কারণে নামায পড়েছে। কিন্তু যখন নামাযের মধ্যে স্বাদই আসেনি, তখন এই সন্দেহ দূর হয়ে গেলো। তাই জানা গেলো যে, সে শুধু মাত্র আল্লাহর জন্যই নামায পড়েছে। তাই এর মধ্যে ইখলাস অধিক ছিলো। এ কারণে আরো অধিক ছওয়াব হয়েছে। এজন্য নামাযের মধ্যে স্বাদ এলো কি এলো না এবং স্বাদ পেলাম কি পেলাম না, সে চিন্তা করবে না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মানুষ আমলের জন্য আদিষ্ট

📄 মানুষ আমলের জন্য আদিষ্ট


অনেকেই চিঠিতে লেখেন, এমন এক সময় ছিলো যখন নামায পড়তে অসাধারণ স্বাদ এবং অপূর্ব অনুভূতি সৃষ্টি হতো। তাছাড়া নামাযের মধ্যে দুনিয়ার কোনো খবর থাকতো না। এখন সেই স্বাদ নেই, সেই উপভোগ হয় না। শয়তান তো আমাকে মরদূদ বানিয়ে দেয়নি? ভালো করে বুঝুন! এগুলো অনিচ্ছাকৃত অবস্থা। এর মধ্যে মানুষের ইচ্ছার কোনো দখল নেই। স্বাদ উপভোগ হওয়া আর না হওয়া মানুষের ক্ষমাতভুক্ত নয় এবং মানুষ তার জন্য আদিষ্টও নয়। মানুষ তো কেবল আমলের জন্য আদিষ্ট। দেখার বিষয় হলো, আমল করেছে কি না। আমল করে থাকলে তখন দেখার বিষয় হলো, সেই আমল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক করেছে কি না। যদি এভাবে আমল করে থাকে তাহলে কোনো ধরনের স্বাদ উপভোগ হোক বা না হোক নামাযের দায়িত্ব পালন হয়েছে এবং আপনার সে আমল কবুল হয়েছে। এর কারণ হলো, এ সমস্ত ভাব ও অনুভূতি আসে আর যায়। আমল কবুল হওয়া এগুলোর উপর নির্ভরশীল নয় এবং এগুলোর উপর নাজাতও নির্ভরশীল নয়। আল্লাহ তা'আলার মেহেরবাণীতে আমলের তাওফীক হচ্ছে এজন্য তাঁর শোকর আদায় করতে থাকুন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ভাব না উদ্দেশ্য, না ক্ষমতাভুক্ত

📄 ভাব না উদ্দেশ্য, না ক্ষমতাভুক্ত


যেসব লোক হজ্ব বা উমরাহ করার জন্য হারামাইন শরীফাইনে যান, সাধারণত তাদের উপর বিভিন্ন ধরনের ভাবের উদয় হয়। যেমন এটা খুব প্রসিদ্ধ যে, আল্লাহর ঘরের উপর যখন প্রথম দৃষ্টি পড়ে, তখন খুব কান্না আসে বা হাসি পায় বা অন্যান্য ভাবের সৃষ্টি হয়। যখন মুলতযামের কাছে যায় তখন সেখানেও খুব কান্না আসে ইত্যাদি ইত্যাদি। তো এ সব কাইফিয়াত বা ভাব সৃষ্টি হয়, কিন্তু এসব কাইফিয়াত মানুষের ক্ষমতাভুক্ত নয়, ইচ্ছাধীন নয়। লাভ হলে আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত, আর লাভ না হলে এ কারণে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। পেরেশান হওয়ার কিছু নেই। সুতরাং কিছু লোক এ কারণে পেরেশান হয় যে, আমি উমরাহ করলাম বা হজ্ব করতে গেলাম সেখানে আমার আত্মা পাথর হয়েছিলো। আমার কান্নাও এলো না, চোখের পানিও বের হলো না, অন্য কোনো ভাবেরও সৃষ্টি হলো না, মনে হয় আমি যেন মরদূদ হয়ে গেছি। আমার উপর শয়তানের প্রভাব প্রবল হয়েছে, ইত্যাদি। এ ধরনের বিভিন্ন চিন্তা অন্তরে আসে। মনে রাখবেন! আল্লাহ তা'আলা আপনাকে এ কারণে বিতাড়িত করবেন না যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে আপনার কান্না এলো না কেন এবং এ কারণে পাকড়াও করবেন না। তবে শর্ত হলো, ঠিকভাবে আমল করতে হবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক আমল করতে হবে। এর পরে কান্না আসুক বা না আসুক, ভাবের সৃষ্টি হোক চাই না হোক ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা'আলার দরবারে সে হজ্ব ও উমরাহ কবুল হয়েছে এবং তার কারণে ছওয়াব লাভ হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00