📄 বিভিন্ন চিন্তার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত
যাইহোক, গোনাহের পোক্ত ইরাদা করা থেকে বাঁচা উচিত। কিন্তু গোনাহের যে সব ওয়াসওয়াসা ও চিন্তা আসে তার পরোয়া করা উচিত নয়। বরং নিজের কাজে লেগে থাকা উচিত। এসব চিন্তার কারণে কাজ ছেড়ে দিবে না। হযরত রহ. বলতেন যে, এসব চিন্তার দৃষ্টান্ত এমন, যেমন এক ব্যক্তিকে বাদশা দাওয়াত দিলো। এখন এই ব্যক্তি দ্রুত বাদশার সাক্ষাতে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি যদি সে সময় তার জামায় পাড়া দেয় বা হাত ধরে তাকে চলার পথে বাধা দেয় এবং তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে, তাকে উত্ত্যক্ত করে, তাহলে বলুন, এ ব্যক্তি কি যারা তাকে পথ রোধ করে দাঁড়াচ্ছে তাদের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে, না তার সফর অব্যাহত রাখবে? এ ব্যক্তি যদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় তাহলে কখনোই বাদশার দরবারে পৌঁছতে সক্ষম হবে না। আর যদি সে এ কথা চিন্তা করে যে, এ লোক তো পাগল, বেওকুফ, সে আমার রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, আমাকে তো এখনই বাদশার দরবারে যেতে হবে এবং তার সাথে সাক্ষাতের মর্যাদা লাভ করতে হবে, তাহলে সে ওদিকে মনযোগই দিবে না।
📄 ইচ্ছা করে চিন্তা নিয়ে আসা গোনাহ
হযরত থানভী রহ.-কে এক ব্যক্তি চিঠিতে লেখে যে, হযরত! আমি যখন নামাযে দাঁড়াই তখন বিভিন্ন ধরনের চিন্তা আসতে থাকে এবং এ কারণে পেরেশানী হয় যে, আমার নামায তো কিছুই হয় না। হযরত তার উত্তরে লেখেন যে, চিন্তা আসা গোনাহ নয়, চিন্তা আনা গোনাহ। অর্থাৎ, যদি ঐ সব চিন্তা নিজে নিজে আসে তবে এটা গোনাহ নয়। জেনে বুঝে ইচ্ছা করে অন্তরে চিন্তা আনা এটা গোনাহ।
📄 বিভিন্ন চিন্তা আসার প্রতিকার
বিভিন্ন চিন্তা ও ওয়াসওয়াসা আসার প্রতিকার এই যে, এসব চিন্তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না এবং মনযোগ দিবে না। যখন মনযোগ দিবে না তখন ইনশাআল্লাহ এসব চিন্তা আপনা আপনি দূর হয়ে যাবে। নিজের কাজ করতে থাকবে। যখন নামাযের নিয়ত বাঁধবে তখন নিজের মনকে নামাযের দিকে ধাবিত করবে। হযরত থানভী রহ. তাঁর ওয়ায ও মালফুযাতে এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নামায সত্ত্বাগতভাবেই কাম্য। এজন্য যদি অনিচ্ছাকৃত চিন্তা আসতে থাকে তো এ কারণে নামাযের অবমূল্যায়ন করো না। বেশিরভাগ নামাযী প্রশ্ন করে থাকে যে, আমরা নামায পড়ি, কিন্তু নামাযের মধ্যে মজাই আসে না। বা এরকম বলে থাকে যে, আগে তো নামাযের মধ্যে খুব স্বাদ উপভোগ হতো, এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। তার উত্তর এই যে, ভাই! নামায এ জন্য ফরয করা হয়নি যে, এর মধ্যে আপনি মজা পাবেন, স্বাদ উপভোগ করবেন। বরং এটা তো আল্লাহ তা'আলার ইবাদত এবং বন্দেগীর একটি তরীকা। তাই নামাযের মধ্যে স্বাদ উপভোগ হলে তা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। আর যদি স্বাদ উপভোগ না হয় তাহলে এ কারণে নামাযের ফযীলত মোটেও কম হবে না। আপনি যদি নামাযের রুকন, শর্ত ও আদবসমূহ পূরণ করেন এবং সুন্নাত মোতাবেক নামায আদায় করেন তাহলে সারাজীবনেও স্বাদ উপভোগ না হলে আপনার কোনো ক্ষতি নেই। নামাযের মধ্যে স্বাদ উপভোগ হলেও নামায পড়তে হবে এবং স্বাদ উপভোগ না হলেও নামায পড়তে হবে।
📄 মন না লাগলেও নামায পড়তে হবে
যদি নামাযের মধ্যে স্বাদ উপভোগ না হয় এবং নামায পড়তে কষ্ট অনুভব হয় কিন্তু এতদসত্ত্বেও আপনি নামায পড়তে থাকেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনাকে অধিক ছওয়াব দেওয়া হবে। কারণ নামায পড়তে মন চাচ্ছে না, নফস দুষ্টামি করছে, কিন্তু আপনি জোর জবরদস্তি আল্লাহর ইবাদতের খাতিরে এবং তার আনুগত্যের খাতিরে নফসের উপর চাপ সৃষ্টি করে নামায পড়লেন। তো ইনশাআল্লাহ এই নামাযে আপনি অধিক ছওয়াব লাভ করবেন। হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ ছাহেব গাঙ্গুহী রহ. বলেন, যে ব্যক্তির সারা জীবনেও নামাযের মধ্যে স্বাদ আসেনি তারপরেও সে নামায ছাড়েনি, বরং নিয়মিতভাবে নামায পড়েছে, আমি তাকে দুইটি মুবারকবাদ দিচ্ছি। একটি এই যে, নামাযের মধ্যে মজা না আসা সত্ত্বেও সে নামায পড়তে থেকেছে, ইনশাআল্লাহ এ কারণে তার বেশি ছওয়াব হবে। আর দ্বিতীয়টি এই যে, নামাযের মধ্যে স্বাদ লাগলে সন্দেহ ছিলো যে, হয় তো সে নফসের স্বাদের কারণে নামায পড়েছে। কিন্তু যখন নামাযের মধ্যে স্বাদই আসেনি, তখন এই সন্দেহ দূর হয়ে গেলো। তাই জানা গেলো যে, সে শুধু মাত্র আল্লাহর জন্যই নামায পড়েছে। তাই এর মধ্যে ইখলাস অধিক ছিলো। এ কারণে আরো অধিক ছওয়াব হয়েছে। এজন্য নামাযের মধ্যে স্বাদ এলো কি এলো না এবং স্বাদ পেলাম কি পেলাম না, সে চিন্তা করবে না।