📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নামাযের অবমূল্যায়ন করবেন না

📄 নামাযের অবমূল্যায়ন করবেন না


যাইহোক, নামাযের মধ্যে যে সব চিন্তা আসে সেগুলোর কারণে অনেক মানুষ খুব বেশি পেরেশন হয় এবং মনে করে যে, আমার নামায তো ওঠা-বসা মাত্র। এর মধ্যে কোনো প্রাণ নেই। মনে রাখবেন! নামাযের এমন অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। আরে এটা তো আল্লাহ তা'আলার দয়া যে, তিনি আপনাকে নামায পড়ার তাওফীক দান করেছেন। এর জন্য আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করুন এবং এ সব চিন্তার কারণে নিজের নামাযকে বেকার মনে করবেন না। নামাযের তাওফীক পাওয়া তো আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। এ সব অনিচ্ছাকৃত চিন্তার কারণে ইনশাআল্লাহ আপনাকে পাকড়াও করা হবে না। তবে সেচ্ছায় নামাযের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা আনবে না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ইমাম গাযালী রহ.-এর একটি ঘটনা

📄 ইমাম গাযালী রহ.-এর একটি ঘটনা


হযরত ইমাম গাযালী রহ. অনেক উঁচু মাপের আলেম এবং সূফী ছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে অনেক উঁচু মাকাম দান করেছিলেন। তার এক ভাই নিখাদ সূফী মেজাজের লোক ছিলেন। ইমাম গাযালী রহ. যখন ইমামতি করতেন এবং নামায পড়াতেন, তখন তার এই ভাই তার পিছনে নামায পড়তেন না। একজন তার মায়ের কাছে অভিযোগ করলো যে, ইনি তো তার পিছনে নামায পড়েন না। মা তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তুমি তার পিছনে নামায পড়ো না কেন? তিনি উত্তর দিলেন, তার নামাযই বা কি হয়! আমি তার পিছনে কী নামায পড়বো! কারণ, যখন সে নামায পড়ায় তার মন মগজে তখন হায়েয নেফাসের মাসআলা বিরাজ করতে থাকে। এজন্য এটা তো নাপাক নামায। আমি তার পিছনে নামায পড়ি না। তিনি তো ছিলেন ইমাম গাযালী রহ.-এর মা। উত্তরে তিনি বললেন, তোম, ভাই তো নামাযের মধ্যে মাসআলা নিয়ে চিন্তা করে, আর নামাযের মধ্যে মাসআলা নিয়ে চিন্তা করা জায়েয। আর তুমি নামাযের মধ্যে তোমার ভাইয়ের দোষ তালাশ করতে থাকো। দেখতে থাকো যে, তার নামায সঠিক না অঠিক। নামাযের মধ্যে এমন করা নিঃসন্দেহে হারাম। এজন্য বলো, সে উত্তম না তুমি উত্তম? যাই হোক, ইমাম গাযালীর মা-ও বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন যে, নামাযের মধ্যে মাসআলা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা কোনো গোনাহের কাজ নয়। এজন্য স্বেচ্ছায় এমন চিন্তা আনা, যা ইবাদত এবং আনুগত্যের অংশ, তাও নামাযের খুশুর পরিপন্থী নয়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 কুরআনের আয়াত নিয়ে চিন্তা করার বিধান

📄 কুরআনের আয়াত নিয়ে চিন্তা করার বিধান


সুতরাং কুরআনুল কারীম পড়ার সময় তার আয়াত নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা এবং সেদিকে মনযোগ দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। এখন যদি নামাযের তিলাওয়াতের সময় কুরআনে কারীমের বিভিন্ন রহস্য ও হিকমতের মধ্যে কারো মনযোগ নিবদ্ধ হয়, তবে এটা জায়েয এবং ইবাদতেরই একটি অংশ।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সেজদা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য

📄 সেজদা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য


আমাদের হযরত ডাঃ আব্দুল হাই ছাহেব রহ.-এর খেদমতে এক ব্যক্তি এসে নিবেদন করলো, হযরত আমি খুব পেরেশান। কারণ আমার নামায কোনো কাজের নয়। যখন আমি সেজদা করি তখন আমার মন-মগজে এমন সব খাহেশাত এবং খারাপ চিন্তার ভিড় জমে যে, আল্লাহর পানাহ! তো সেটা সেজদা কি করে হলো! সেটা তো শুধুমাত্র মাটিতে ঠোকর মারা হলো। আমি খুব পেরেশান যে, কীভাবে এই বিপদ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি? আমাদের হযরত বললেন, তুমি যে সেজদা করো, তোমার মতে সেই সেজদা কেমন? সে বললো, হযরত বড়ো নাপাক এবং বড়ো গান্দা সেজদা। কারণ, এর মধ্যে বিভিন্ন নাপাক খাহেশাতের চিন্তা জাগ্রত হয়। হযরত বললেন, এই নাপাক এবং গান্দা সেজদা তো আল্লাহর জন্য করা উচিত নয়। ঠিক আছে, এমন একটা সেজদা তুমি আমাকে করো। কারণ, আল্লাহ তা'আলার জন্য তো অনেক পবিত্র ও উঁচু মানের সেজদা হওয়া উচিত। এটা তো নাপাক সেজদা। এই জন্য এটা আমার মতো নাপাক মানুষের সামনেই করো। তখন সে ব্যক্তি বলতে আরম্ভ করলো, তাওবা! তাওবা! আপনাকে কী করে সেজদা করবো? হযরত বললেন, ব্যাস, এতে বোঝা গেলো এই সেজদা আল্লাহর জন্যই। এই কপাল তো অন্য কারো সামনে ঝোঁকার নয়। এই সেজদার মধ্যে যতো ধরনের নোংরা চিন্তাই জাগ্রত হোক না কেন। কিন্তু এই কপাল ঝুঁকালে একমাত্র আল্লাহর সামনেই ঝুঁকবে। এজন্য এই সেজদা আল্লাহর জন্যই। আর এ সব খারাপ চিন্তা যা অনিচ্ছাকৃতভাবে আসছে, ইনশাআল্লাহ তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এটা আল্লাহ তা'আলার কাছে মাফ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00