📄 নামাযের মধ্যে উদিত বিভিন্ন চিন্তার বিধান
ওয়াসওয়াসার তৃতীয় প্রকার যদিও মুবাহ বা বৈধ। কারণ তা কোনো গোনাহের চিন্তা নয়। কিন্তু সে চিন্তা মানুষকে ইবাদত এবং আনুগত্যের দিকে মনোযোগী হওয়া থেকে বাধা সৃষ্টি করে। যেমন, নামাযের নিয়ত বাঁধার সাথে সাথে সারা দুনিয়ার চিন্তা চক্রের মতো ঘুরতে আরম্ভ করে। সে সব গোনাহের চিন্তা না হলেও- যেমন খানা-পিনার চিন্তা, বিবি-বাচ্চার চিন্তা, নিজের রুজির চিন্তা, ব্যবসার চিন্তা এ সমস্ত চিন্তা মৌলিকভাবে গোনাহের নয়- কিন্তু এ সব চিন্তার করণে মন নামাযের দিকে ধাবিত হতে পারে না। এ সব চিন্তার কারণে খুশুর মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তাই এসব চিন্তা যেগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে আসে এবং তার মধ্যে মানুষের ইচ্ছার কোনো দখল থাকে না, ইনশাআল্লাহ সেগুলোর কারণে পাকড়াও করা হবে না, বরং তা মাফ। তবে নিজে ইচ্ছা করে নামাযের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা জাগ্রত করবে না এবং সে দিকে মনযোগ দিবে না। বরং 'আল্লাহু আকবার' বলে যখন নামায শুরু করবে তখন মনকে নামাযের দিকে আকৃষ্ট করবে, মনযোগী করবে। যখন ছানা পড়বে তার দিকে ধ্যান দিবে এবং যখন সূরায়ে ফাতেহা পড়তে আরম্ভ করবে তখন তার দিকে মনযোগ দিবে। এরপর মনযোগ দেওয়া সত্ত্বেও অনিচ্ছাকৃতভাবে ম.। অন্যদিকে যদি সরে যায় এবং বিভিন্ন অনাহৃত চিন্তা জাগতে থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ এজন্য পাকড়াও করা হবে না। কিন্তু যেই মাত্র সর্তক হবে যে, আমি তো অন্য মনষ্ক হয়ে গেছি, তখন পুনরায় নামাযের দিকে মনকে ফিরিয়ে আনবে। নামাযের শব্দ এবং যিকিরের দিকে ফিরিয়ে আনবে। বারবার এইভাবে করতে থাকবে। তাহলে ইনশাআল্লাহ এ সব চিন্তার আগমন হ্রাস পেতে থাকবে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা খুশু দান করবেন।
📄 নামাযের অবমূল্যায়ন করবেন না
যাইহোক, নামাযের মধ্যে যে সব চিন্তা আসে সেগুলোর কারণে অনেক মানুষ খুব বেশি পেরেশন হয় এবং মনে করে যে, আমার নামায তো ওঠা-বসা মাত্র। এর মধ্যে কোনো প্রাণ নেই। মনে রাখবেন! নামাযের এমন অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। আরে এটা তো আল্লাহ তা'আলার দয়া যে, তিনি আপনাকে নামায পড়ার তাওফীক দান করেছেন। এর জন্য আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করুন এবং এ সব চিন্তার কারণে নিজের নামাযকে বেকার মনে করবেন না। নামাযের তাওফীক পাওয়া তো আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। এ সব অনিচ্ছাকৃত চিন্তার কারণে ইনশাআল্লাহ আপনাকে পাকড়াও করা হবে না। তবে সেচ্ছায় নামাযের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা আনবে না।
📄 ইমাম গাযালী রহ.-এর একটি ঘটনা
হযরত ইমাম গাযালী রহ. অনেক উঁচু মাপের আলেম এবং সূফী ছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে অনেক উঁচু মাকাম দান করেছিলেন। তার এক ভাই নিখাদ সূফী মেজাজের লোক ছিলেন। ইমাম গাযালী রহ. যখন ইমামতি করতেন এবং নামায পড়াতেন, তখন তার এই ভাই তার পিছনে নামায পড়তেন না। একজন তার মায়ের কাছে অভিযোগ করলো যে, ইনি তো তার পিছনে নামায পড়েন না। মা তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তুমি তার পিছনে নামায পড়ো না কেন? তিনি উত্তর দিলেন, তার নামাযই বা কি হয়! আমি তার পিছনে কী নামায পড়বো! কারণ, যখন সে নামায পড়ায় তার মন মগজে তখন হায়েয নেফাসের মাসআলা বিরাজ করতে থাকে। এজন্য এটা তো নাপাক নামায। আমি তার পিছনে নামায পড়ি না। তিনি তো ছিলেন ইমাম গাযালী রহ.-এর মা। উত্তরে তিনি বললেন, তোম, ভাই তো নামাযের মধ্যে মাসআলা নিয়ে চিন্তা করে, আর নামাযের মধ্যে মাসআলা নিয়ে চিন্তা করা জায়েয। আর তুমি নামাযের মধ্যে তোমার ভাইয়ের দোষ তালাশ করতে থাকো। দেখতে থাকো যে, তার নামায সঠিক না অঠিক। নামাযের মধ্যে এমন করা নিঃসন্দেহে হারাম। এজন্য বলো, সে উত্তম না তুমি উত্তম? যাই হোক, ইমাম গাযালীর মা-ও বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন যে, নামাযের মধ্যে মাসআলা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা কোনো গোনাহের কাজ নয়। এজন্য স্বেচ্ছায় এমন চিন্তা আনা, যা ইবাদত এবং আনুগত্যের অংশ, তাও নামাযের খুশুর পরিপন্থী নয়।
📄 কুরআনের আয়াত নিয়ে চিন্তা করার বিধান
সুতরাং কুরআনুল কারীম পড়ার সময় তার আয়াত নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা এবং সেদিকে মনযোগ দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। এখন যদি নামাযের তিলাওয়াতের সময় কুরআনে কারীমের বিভিন্ন রহস্য ও হিকমতের মধ্যে কারো মনযোগ নিবদ্ধ হয়, তবে এটা জায়েয এবং ইবাদতেরই একটি অংশ।