📄 গোনাহের চিন্তা
দ্বিতীয় হলো, গোনাহ করার এবং পাপ কাজ করার ওয়াসওয়াসা ও খেয়াল আসা। যেমন অন্তরে এই খেয়াল আসলো যে, অমুক গোনাহটি করি। কোনো গোনাহের দিকে মন ধাবিত হলো এবং তার দিকে আকর্ষণ সৃষ্টি হলো। যদি অন্তরে শুধু চিন্তা আসে তবে এজন্য ইনশাআল্লাহ পাকড়াও করা হবে না, যে পর্যন্ত চিন্তা ও ওয়াসওয়াসা অনুপাতে কাজ না করবে। কিন্তু যদি গোনাহের চাহিদা অনুপাতে আমল করে তাহলে এটা পাকড়াও যোগ্য হয়ে যাবে। এ জন্য পাকড়াও করা হবে। তাই যখনই কোনো গোনাহের খেয়াল বা ওয়াসওয়াসা আসবে যে অমুক গোনাহটি করি, অবিলম্বে আল্লাহ তা'আলার কাছে পানাহ চাইবে যে, হে আল্লাহ! আমার অন্তরে এই গোনাহের চিন্তা আসছে, আমি আপনার কাছে এ থেকে পানাহ চাচ্ছি। আপনি আমাকে এই গোনাহ থেকে রক্ষা করুন। এভাবে এই অনাহূত চিন্তা ও ওয়াসওয়াসাকে প্রতিহত করবে।
📄 মন্দ চিন্তার সময় আলাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করুন
হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা কুরআনে কারীমে উল্লেখ আছে যে, তিনি যখন পরীক্ষায় আক্রান্ত হন এবং সেই পরীক্ষার ফলে অন্তরে গোনাহের কিছু ওয়াসওয়াসা আসে- কারণ তিনি তো মানুষই ছিলেন- তখন তিনি আল্লাহর কাছে এই দু'আ করেন,
وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُنْ مِنَ الْجَاهِلِينَ
'যদি আপনি আমাকে তাদের চক্রান্ত থেকে হেফাজত না করেন তাহলে আমার আত্মাও তাদের দিকে আকৃষ্ট হবে, আর যারা অজ্ঞতাপূর্ণ কাজ করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে হয়ে যাবো।" অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি যদি ঐসব মহিলার চক্রান্তকে আমার থেকে দূর করে না দেন তাহলে আমিও তো একজন মানুষ আমি তাদের দিকে আকৃষ্ট হয়ে যাবো। ফলে জাহিলদের অন্তর্ভুক্ত হবো। এ জন্য ঐসব মহিলাদের চক্রান্তকে আমার থেকে দূর করে দিন। যখনই কোনো গোনাহের চিন্তা বা ওয়াসওয়াসার চাহিদা অন্তরে সৃষ্টি হবে সাথে সাথে আল্লাহ দিকে প্রত্যাবর্তন করে তাঁর নিকট আশ্রয় চাইবে যে, হে আল্লাহ! আপনি অনুগ্রহ করে আমাকে এই গোনাহ থেকে হেফাজত করুন। এবং তখন নিজের হিম্মতকে জীবন্ত করবে যে, আমি গোনাহের এই চাহিদার উপর আমল করবো না। যদি এ কাজ করেন তাহলে ইনশাআল্লাহ এসব অনাহূত চিন্তা এবং ওয়াসওয়াসার কারণে কোনো ক্ষতি হবে না।
টিকাঃ
১. সূরা ইউসূফ, আয়াত-৩৩
📄 নামাযের মধ্যে উদিত বিভিন্ন চিন্তার বিধান
ওয়াসওয়াসার তৃতীয় প্রকার যদিও মুবাহ বা বৈধ। কারণ তা কোনো গোনাহের চিন্তা নয়। কিন্তু সে চিন্তা মানুষকে ইবাদত এবং আনুগত্যের দিকে মনোযোগী হওয়া থেকে বাধা সৃষ্টি করে। যেমন, নামাযের নিয়ত বাঁধার সাথে সাথে সারা দুনিয়ার চিন্তা চক্রের মতো ঘুরতে আরম্ভ করে। সে সব গোনাহের চিন্তা না হলেও- যেমন খানা-পিনার চিন্তা, বিবি-বাচ্চার চিন্তা, নিজের রুজির চিন্তা, ব্যবসার চিন্তা এ সমস্ত চিন্তা মৌলিকভাবে গোনাহের নয়- কিন্তু এ সব চিন্তার করণে মন নামাযের দিকে ধাবিত হতে পারে না। এ সব চিন্তার কারণে খুশুর মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তাই এসব চিন্তা যেগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে আসে এবং তার মধ্যে মানুষের ইচ্ছার কোনো দখল থাকে না, ইনশাআল্লাহ সেগুলোর কারণে পাকড়াও করা হবে না, বরং তা মাফ। তবে নিজে ইচ্ছা করে নামাযের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা জাগ্রত করবে না এবং সে দিকে মনযোগ দিবে না। বরং 'আল্লাহু আকবার' বলে যখন নামায শুরু করবে তখন মনকে নামাযের দিকে আকৃষ্ট করবে, মনযোগী করবে। যখন ছানা পড়বে তার দিকে ধ্যান দিবে এবং যখন সূরায়ে ফাতেহা পড়তে আরম্ভ করবে তখন তার দিকে মনযোগ দিবে। এরপর মনযোগ দেওয়া সত্ত্বেও অনিচ্ছাকৃতভাবে ম.। অন্যদিকে যদি সরে যায় এবং বিভিন্ন অনাহৃত চিন্তা জাগতে থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ এজন্য পাকড়াও করা হবে না। কিন্তু যেই মাত্র সর্তক হবে যে, আমি তো অন্য মনষ্ক হয়ে গেছি, তখন পুনরায় নামাযের দিকে মনকে ফিরিয়ে আনবে। নামাযের শব্দ এবং যিকিরের দিকে ফিরিয়ে আনবে। বারবার এইভাবে করতে থাকবে। তাহলে ইনশাআল্লাহ এ সব চিন্তার আগমন হ্রাস পেতে থাকবে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা খুশু দান করবেন।
📄 নামাযের অবমূল্যায়ন করবেন না
যাইহোক, নামাযের মধ্যে যে সব চিন্তা আসে সেগুলোর কারণে অনেক মানুষ খুব বেশি পেরেশন হয় এবং মনে করে যে, আমার নামায তো ওঠা-বসা মাত্র। এর মধ্যে কোনো প্রাণ নেই। মনে রাখবেন! নামাযের এমন অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। আরে এটা তো আল্লাহ তা'আলার দয়া যে, তিনি আপনাকে নামায পড়ার তাওফীক দান করেছেন। এর জন্য আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করুন এবং এ সব চিন্তার কারণে নিজের নামাযকে বেকার মনে করবেন না। নামাযের তাওফীক পাওয়া তো আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। এ সব অনিচ্ছাকৃত চিন্তার কারণে ইনশাআল্লাহ আপনাকে পাকড়াও করা হবে না। তবে সেচ্ছায় নামাযের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা আনবে না।