📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 শয়তান ঈমান চোর

📄 শয়তান ঈমান চোর


হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মাক্কি রহ. এই হাদীসের ব্যাখ্যা দিয়ে বলতেন যে, ওয়াসওয়াসা হলো শয়তানের কাজ। শয়তানই মানুষের অন্তরে ওয়াসওয়াসা দিয়ে থাকে। শয়তান হলো ঈমান চোর। সে আপনার ঈমানের উপর ডাকাতি করতে চায়। যে ঘরে সম্পদ থকে, চোর এবং ডাকাত সেই ঘরে ডাকাতি করে। যদি সম্পদই না থাকে তাহলে ডাকাত ডাকাতি করবে না। তাই শয়তান যে আপনাদের অন্তরে ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে এবং আপনাদের অন্তরে প্রবেশ করছে তা এ কথার আলামত যে, আপনাদের অন্তরে ঈমানের দৌলত রয়েছে। যদি ঈমানের দৌলত না থাকতো তাহলে এই ডাকাত আপনাদের ঘরে প্রবেশ করতো না। এজন্য ওয়াসওয়াসার কারণে ঘাবড়াবেন না। আপনি যে বলছেন, আমার অন্তরে এমন সব ওয়াসওয়াসা আসে তা প্রকাশ করার তুলনায় জ্বলে মরে যাওয়া অধিক পছন্দনীয়। এ কথা আপনার ভিতর থেকে আপনার ঈমান বলছে। আপনার ঈমান বলছে যে, এ কথা মুখে প্রকাশ করা যাবে না। অন্তরে ঈমান না থাকলে এমন হতো না। এজন্য হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, এটা তো একান্ত ঈমানের আলামত।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ওয়াসওয়াসার কারণে পাকড়াও করা হবে না

📄 ওয়াসওয়াসার কারণে পাকড়াও করা হবে না


এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ إِلَى الْوَسْوَسَةِ

'আল্লাহ তা'আলার শোকর যে তিনি শয়তানের ষড়যন্ত্র এবং জালকে ওয়াসওয়াসার সীমা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন, এর চেয়ে সামনে অগ্রসর হতে দেননি।"

অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ যে, শয়তানের চেষ্টা তোমার উপর এর চেয়ে অধিক কার্যকর হয় না।

অপর এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَلَى عَنْ أُمَّتِي مَا وَسْوَسَتْ بِهِ صُdُورُهَا

'আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের অন্তরে উদিত ওয়াসওয়াসাসমূহ মাফ করে দিয়েছেন।”

অর্থাৎ, এগুলোর জন্য পাকড়াও করবেন না, তবে সে অনুপাতে আমল করলে পাকড়াও করা হবে।

টিকাঃ
১. কানযুল উম্মাল, খণ্ড-১ পৃষ্ঠা-৪৪০, হাদীস নং ১২৬৩
২. ইহয়াউ উলূমিদ্বীন, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩১৪, সুনানে আবু দাউদে এ বর্ণনাটি এভাষায় এসেছে- الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدُّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ إِلَى الْوَسْوَسَةِ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৪৪৮
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩৪৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৮৮৮, সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২০৩০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৭৪৫

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আকীদা সম্পর্কে অনাহূত চিন্তা

📄 আকীদা সম্পর্কে অনাহূত চিন্তা


ওয়াসওয়াসা দুই প্রকারের হয়ে থাকে। এক হয়ে থাকে আকীদা সম্পর্কে ওয়াসওয়াসা। অর্থাৎ, শয়তান আল্লাহ তা'আলার জাত ও আখেরাতের বিষয়ে অন্তরে ওয়াসওয়াসা দেয় যে, জানা নেই আখেরাত আসলেও আছে কি নাই। এ ধরনের ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে তো হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বলেছেন যে, তুমি নিজের আকীদা ঠিক রাখলে এরপর এ সমস্ত অনাহূত চিন্তা বা ওয়াসওয়াসা যতই আসুক না কেন, এ জন্য ইনশাআল্লাহ পাকড়াও করা হবে না এবং এসব চিন্তার কারণে মানুষ কাফেরও হবে না। এ সব চিন্তার কারণে কতক মানুষ মনে করে যে আমি শয়তান হয়ে গেছি, আমি কাফের হয়ে গেছি। মনে রাখবেন এসব ওয়াসওয়াসা অন্তরে আসার দ্বারা কিছু হয় না। যে পর্যন্ত মানুষ নিজের মন, নিজের জিহ্বা এবং নিজের আমলে মুমিন থাকে। এ জন্য এ ব্যাপারে মানুষের নিশ্চিন্ত থাকা উচিত।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 গোনাহের চিন্তা

📄 গোনাহের চিন্তা


দ্বিতীয় হলো, গোনাহ করার এবং পাপ কাজ করার ওয়াসওয়াসা ও খেয়াল আসা। যেমন অন্তরে এই খেয়াল আসলো যে, অমুক গোনাহটি করি। কোনো গোনাহের দিকে মন ধাবিত হলো এবং তার দিকে আকর্ষণ সৃষ্টি হলো। যদি অন্তরে শুধু চিন্তা আসে তবে এজন্য ইনশাআল্লাহ পাকড়াও করা হবে না, যে পর্যন্ত চিন্তা ও ওয়াসওয়াসা অনুপাতে কাজ না করবে। কিন্তু যদি গোনাহের চাহিদা অনুপাতে আমল করে তাহলে এটা পাকড়াও যোগ্য হয়ে যাবে। এ জন্য পাকড়াও করা হবে। তাই যখনই কোনো গোনাহের খেয়াল বা ওয়াসওয়াসা আসবে যে অমুক গোনাহটি করি, অবিলম্বে আল্লাহ তা'আলার কাছে পানাহ চাইবে যে, হে আল্লাহ! আমার অন্তরে এই গোনাহের চিন্তা আসছে, আমি আপনার কাছে এ থেকে পানাহ চাচ্ছি। আপনি আমাকে এই গোনাহ থেকে রক্ষা করুন। এভাবে এই অনাহূত চিন্তা ও ওয়াসওয়াসাকে প্রতিহত করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00