📄 আল্লাহর সাথে সম্পর্কের হাকীকত
যাইহোক, আল্লাহর স্মরণ এবং আল্লাহর যিকির অন্তরে বসার নামই হলো তাআল্লুক মাআল্লাহ। অর্থাৎ, সব সময় আল্লাহ তা'আলার সথে কিছু না কিছু সম্পর্ক বজায় রাখা। সূফীয়ায়ে কেরামের সিলসিলায় যতো সাধনা, যতো মুজাহাদা, যতো ওযীফা ও যিকির আছে, সবকিছুর সারকথা এবং মূল উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হলো আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত করা। কারণ, আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত হলে মানুষ থেকে আর গোনাহ সংঘটিত হয় না। বরং মানুষ তখন নিজের সাধ্য মোতাবেক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত উত্তম থেকে উত্তম পন্থায় সম্পাদিত করে। তখন মানুষের মধ্যে উত্তম গুণাবলী লাভ হয় এবং মন্দ চরিত্র থেকে মুক্তি লাভ করে। এ সব কিছু আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতেই লাভ হয়।
যাইহোক, আল্লাহর স্মরণ এবং আল্লাহর যিকির অন্তরে বসার নামই হলো তাআল্লুক মাআল্লাহ। অর্থাৎ, সব সময় আল্লাহ তা'আলার সথে কিছু না কিছু সম্পর্ক বজায় রাখা। সূফীয়ায়ে কেরামের সিলসিলায় যতো সাধনা, যতো মুজাহাদা, যতো ওযীফা ও যিকির আছে, সবকিছুর সারকথা এবং মূল উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হলো আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত করা। কারণ, আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত হলে মানুষ থেকে আর গোনাহ সংঘটিত হয় না। বরং মানুষ তখন নিজের সাধ্য মোতাবেক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত উত্তম থেকে উত্তম পন্থায় সম্পাদিত করে। তখন মানুষের মধ্যে উত্তম গুণাবলী লাভ হয় এবং মন্দ চরিত্র থেকে মুক্তি লাভ করে। এ সব কিছু আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতেই লাভ হয়।
📄 সব সময় চাইতে থাকুন
আল্লাহ তা'আলার সাঙ্গে এই সম্পর্ক অর্জনের জন্য সূফীয়ায়ে কেরাম লম্বা চওড়া মুজাহাদা করতেন হতো, সাধনা করানো হতো। কিন্তু আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব বলতেন, আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সম্পর্ক লাভের জন্য আমি তোমাদেরকে অতি সংক্ষিপ্ত ও সহজ একটি পথ বলছি, তা হলো সবসময় আল্লাহ তা'আলার কাছে চাইতে থাকো এবং চাওয়ার অভ্যাস গড়ো। সবকিছু আল্লাহর কাছে চাও। যেই দুঃখ, কষ্ট, বিপদ, পেরেশানী, প্রয়োজন, অভাব আছে, সব আল্লাহ তা'আলার কাছে চাইতে থাকো। গরম লাগলে বলো, হে আল্লাহ গরম দূর করে দিন। বিদ্যুৎ চলে গেলে বলো, হে আল্লাহ বিদ্যুৎ দান করুন। ক্ষুধা লাগলে বলো, হে আল্লাহ ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে দিন। ঘরে প্রবেশ করলে বলো, হে আল্লাহ ঘরে যেন ভালো দৃশ্য সামনে আসে। শান্তি এবং নিরাপত্তার খবর যেন পাই। কোনো পেরেশানীর কথা যেন না আসে। অফিসে প্রবেশ করার পূর্বে বলো, হে আল্লাহ অফিসে যাচ্ছি সব অবস্থা ঠিক করে দিন, মনের মতো করে দিন। সেখানে কোনো বিরূপ অবস্থা যেন সামনে না আসে। কোনো কষ্টকর পরিস্থিতি যেন সামনে না আসে। বাজারে যাচ্ছো তো বলো, হে আল্লাহ অমুক জিনিস ক্রয় করতে যাচ্ছি, উপযুক্ত মূল্যে তা দান করুন। সব সময় এবং প্রতি মুহূর্তে আল্লাহ তা'আলার দিকে রুজু হও এবং আল্লাহ তা'আলার কাছে চাওয়ার অভ্যাস গড়ো।
আল্লাহ তা'আলার সাঙ্গে এই সম্পর্ক অর্জনের জন্য সূফীয়ায়ে কেরাম লম্বা চওড়া মুজাহাদা করতেন হতো, সাধনা করানো হতো। কিন্তু আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব বলতেন, আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সম্পর্ক লাভের জন্য আমি তোমাদেরকে অতি সংক্ষিপ্ত ও সহজ একটি পথ বলছি, তা হলো সবসময় আল্লাহ তা'আলার কাছে চাইতে থাকো এবং চাওয়ার অভ্যাস গড়ো। সবকিছু আল্লাহর কাছে চাও। যেই দুঃখ, কষ্ট, বিপদ, পেরেশানী, প্রয়োজন, অভাব আছে, সব আল্লাহ তা'আলার কাছে চাইতে থাকো। গরম লাগলে বলো, হে আল্লাহ গরম দূর করে দিন। বিদ্যুৎ চলে গেলে বলো, হে আল্লাহ বিদ্যুৎ দান করুন। ক্ষুধা লাগলে বলো, হে আল্লাহ ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে দিন। ঘরে প্রবেশ করলে বলো, হে আল্লাহ ঘরে যেন ভালো দৃশ্য সামনে আসে। শান্তি এবং নিরাপত্তার খবর যেন পাই। কোনো পেরেশানীর কথা যেন না আসে। অফিসে প্রবেশ করার পূর্বে বলো, হে আল্লাহ অফিসে যাচ্ছি সব অবস্থা ঠিক করে দিন, মনের মতো করে দিন। সেখানে কোনো বিরূপ অবস্থা যেন সামনে না আসে। কোনো কষ্টকর পরিস্থিতি যেন সামনে না আসে। বাজারে যাচ্ছো তো বলো, হে আল্লাহ অমুক জিনিস ক্রয় করতে যাচ্ছি, উপযুক্ত মূল্যে তা দান করুন। সব সময় এবং প্রতি মুহূর্তে আল্লাহ তা'আলার দিকে রুজু হও এবং আল্লাহ তা'আলার কাছে চাওয়ার অভ্যাস গড়ো।
📄 এটি একটি ছোট ব্যবস্থাপত্র
যদিও বাহ্যিকভাবে এটা ছোট একটা বিষয়, কারণ এটা সীমাহীন সহজ কাজ। এ জন্য আমাদের নিকট এর কোনো মূল্য নেই। কিন্তু এই ব্যবস্থাপত্রের উপর আমল করে দেখুন, আল্লাহ তা'আলার কাছে চেয়ে দেখুন। সবসময় আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ চাইতে থাকুন। যে বিষয়ই সামনে আসবে, যে সমস্যাই দেখা দিবে তা আল্লাহ তা'আলার সামনে পেশ করুন, বলুন, হে আল্লাহ এ কাজ করে দিন। এটা যদি অভ্যাস করতে পারেন তাহলে কোনো মুহূর্ত আল্লাহ তা'আলার কাছে চাওয়া থেকে খালি যাবে না। যেমন সামনের দিক থেকে এক ব্যক্তি আপনার সাথে দেখা করতে আসছে, আপনি মুহূর্তের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার দিকে রুজু হন এবং বলুন, হে আল্লাহ এ ব্যক্তি যেন ভালো খবর নিয়ে আসে, কোনো খারাপ খবর যেন না নিয়ে আসে। হে আল্লাহ এ ব্যক্তি যে কথা বলতে চায় তার ভালো ফল দান করুন। ডাক্তারের কাছে ঔষধের জন্য যাচ্ছেন তো বলুন, হে আল্লাহ ডাক্তারের অন্তরে সঠিক ব্যবস্থাপত্র ঢেলে দিন। সঠিক ঔষধ তার অন্তরে ঢেলে দিন। প্রত্যেক বিষয় আল্লাহ তা'আলার কাছে চাওয়ার অভ্যাস করুন। এটা ছোট্ট ব্যবস্থাপত্র। হযরত ডা. ছাহেব বলতেন, এই ছোট্ট ব্যবস্থার উপর আমল করে দেখো কি থেকে কি হয়ে যায়! এর কারণে মানুষ কতো উর্ধ্বে উঠে যায়!
যদিও বাহ্যিকভাবে এটা ছোট একটা বিষয়, কারণ এটা সীমাহীন সহজ কাজ। এ জন্য আমাদের নিকট এর কোনো মূল্য নেই। কিন্তু এই ব্যবস্থাপত্রের উপর আমল করে দেখুন, আল্লাহ তা'আলার কাছে চেয়ে দেখুন। সবসময় আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ চাইতে থাকুন। যে বিষয়ই সামনে আসবে, যে সমস্যাই দেখা দিবে তা আল্লাহ তা'আলার সামনে পেশ করুন, বলুন, হে আল্লাহ এ কাজ করে দিন। এটা যদি অভ্যাস করতে পারেন তাহলে কোনো মুহূর্ত আল্লাহ তা'আলার কাছে চাওয়া থেকে খালি যাবে না। যেমন সামনের দিক থেকে এক ব্যক্তি আপনার সাথে দেখা করতে আসছে, আপনি মুহূর্তের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার দিকে রুজু হন এবং বলুন, হে আল্লাহ এ ব্যক্তি যেন ভালো খবর নিয়ে আসে, কোনো খারাপ খবর যেন না নিয়ে আসে। হে আল্লাহ এ ব্যক্তি যে কথা বলতে চায় তার ভালো ফল দান করুন। ডাক্তারের কাছে ঔষধের জন্য যাচ্ছেন তো বলুন, হে আল্লাহ ডাক্তারের অন্তরে সঠিক ব্যবস্থাপত্র ঢেলে দিন। সঠিক ঔষধ তার অন্তরে ঢেলে দিন। প্রত্যেক বিষয় আল্লাহ তা'আলার কাছে চাওয়ার অভ্যাস করুন। এটা ছোট্ট ব্যবস্থাপত্র। হযরত ডা. ছাহেব বলতেন, এই ছোট্ট ব্যবস্থার উপর আমল করে দেখো কি থেকে কি হয়ে যায়! এর কারণে মানুষ কতো উর্ধ্বে উঠে যায়!
📄 যিকিরের জন্য কোনো শর্ত নেই
মাসনূন দু'আসমূহের মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলত আমাদেরকে এই ব্যবস্থাপত্রের দিকে অগ্রসর করছেন যে, যখনই কোনো সমস্যা দেখা দিবে তখনই আল্লাহ তা'আলার কাছে চাইবে এবং দু'আ করবে। আল্লাহ তা'আলা চাওয়াকে এবং প্রার্থনাকে এতো সহজ করে দিয়েছেন যে, এর জন্য কোনো শর্ত নেই। যে কোনো অবস্থায় আল্লাহ তা'আলার কাছে চাওয়া যায়। ওযুর শর্ত নেই, কিবলামুখী হওয়ার শর্ত নেই, এমনকি গোসল ফরয হলেও দু'আ করা নিষেধ নয়। যদিও এ অবস্থায় কুরআনে কারীম তিলাওয়াত জায়েয নেই। কিন্তু দু'আ করা যায়। এমনকি পেশাব পায়খানার সময় মৌখিকভাবে তো কোনো যিকির করা উচিত নয়, কিন্তু তখনও মনে মনে যিকির করতে কোনো বাধা নেই। যাইহোক, আল্লাহ তা'আলা যিকিরকে এতো সহজ করে দিয়েছেন যে, এর জন্য কোনো শর্ত আরোপ করেননি। এর জন্য কোনো বিশেষ পদ্ধতি দেননি। সুযোগ সুবিধা হলে ওযুর সাথে কিবলামুখী হয়ে হাত উঠিয়ে দু'আ করুন। যদি এমন সুযোগ না থাকে তাহলে ওযুর শর্ত নেই, হাত উঠানোর শর্ত নেই, মুখে বলার শর্ত নেই, অন্তরে অন্তরে আল্লাহর কাছে চান- হে আল্লাহ! আমার এ কাজটি করে দিন।
হযরত থানভী (কু.সি.) বলেন, যখন কোনো মানুষ প্রশ্ন করতে এসে বলে, হযরত একটি কথা জিজ্ঞাসা করবো, তখন সাথে সাথে মনে মনে আল্লাহর দিকে মনযোগী হয়ে দু'আ করি, হে আল্লাহ! জানা নেই এই ব্যক্তি কি জিজ্ঞাসা করবে? হে আল্লাহ তার প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমার অন্তরে ঢেলে দিন এবং কখনোই এর ব্যতিক্রম হয় না। সব সময় আমি এর উপর আমল করি।
মাসনূন দু'আসমূহের মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলত আমাদেরকে এই ব্যবস্থাপত্রের দিকে অগ্রসর করছেন যে, যখনই কোনো সমস্যা দেখা দিবে তখনই আল্লাহ তা'আলার কাছে চাইবে এবং দু'আ করবে। আল্লাহ তা'আলা চাওয়াকে এবং প্রার্থনাকে এতো সহজ করে দিয়েছেন যে, এর জন্য কোনো শর্ত নেই। যে কোনো অবস্থায় আল্লাহ তা'আলার কাছে চাওয়া যায়। ওযুর শর্ত নেই, কিবলামুখী হওয়ার শর্ত নেই, এমনকি গোসল ফরয হলেও দু'আ করা নিষেধ নয়। যদিও এ অবস্থায় কুরআনে কারীম তিলাওয়াত জায়েয নেই। কিন্তু দু'আ করা যায়। এমনকি পেশাব পায়খানার সময় মৌখিকভাবে তো কোনো যিকির করা উচিত নয়, কিন্তু তখনও মনে মনে যিকির করতে কোনো বাধা নেই। যাইহোক, আল্লাহ তা'আলা যিকিরকে এতো সহজ করে দিয়েছেন যে, এর জন্য কোনো শর্ত আরোপ করেননি। এর জন্য কোনো বিশেষ পদ্ধতি দেননি। সুযোগ সুবিধা হলে ওযুর সাথে কিবলামুখী হয়ে হাত উঠিয়ে দু'আ করুন। যদি এমন সুযোগ না থাকে তাহলে ওযুর শর্ত নেই, হাত উঠানোর শর্ত নেই, মুখে বলার শর্ত নেই, অন্তরে অন্তরে আল্লাহর কাছে চান- হে আল্লাহ! আমার এ কাজটি করে দিন।
হযরত থানভী (কু.সি.) বলেন, যখন কোনো মানুষ প্রশ্ন করতে এসে বলে, হযরত একটি কথা জিজ্ঞাসা করবো, তখন সাথে সাথে মনে মনে আল্লাহর দিকে মনযোগী হয়ে দু'আ করি, হে আল্লাহ! জানা নেই এই ব্যক্তি কি জিজ্ঞাসা করবে? হে আল্লাহ তার প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমার অন্তরে ঢেলে দিন এবং কখনোই এর ব্যতিক্রম হয় না। সব সময় আমি এর উপর আমল করি।