📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 অপরাধ নির্মূল করেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

📄 অপরাধ নির্মূল করেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম


অপরাধ তো নির্মূল করেছিলেন হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পুলিশ ছিলো না, অধিদপ্তর ছিলো না, আদালত ছিলো না, সেনাবাহিনী ছিলো না। কারো দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী নিজে এসে কেঁদে কেঁদে বলতো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করুন, যাতে আখেরাতের শাস্তি থেকে বেঁচে যাই। আমাকে পাথরের আঘাতে মেরে ফেলুন। ব্যাস, মূল কারণ এটাই ছিলো যে, আল্লাহ তা'আলার স্মরণ ও ভয় অন্তরে বসে গেছিলো। এজন্য বলা হচ্ছে যে, অধিকহারে আল্লাহ তা'আলার যিকির করো। অন্যথায় আমাদের যিকির দ্বারা আল্লাহ তা'আলার কোনো উপকার হয় না। যতো যিকির করবে ততোই আল্লাহ তা'আলার সামনে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত হবে। অতঃপর গোনাহ, নাফরমানি ও অপরাধ থেকেও বেঁচে যাবে। এ জন্যই বলা হয়েছে যে, অধিকহারে আল্লাহর যিকির করো।

অপরাধ তো নির্মূল করেছিলেন হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পুলিশ ছিলো না, অধিদপ্তর ছিলো না, আদালত ছিলো না, সেনাবাহিনী ছিলো না। কারো দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী নিজে এসে কেঁদে কেঁদে বলতো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করুন, যাতে আখেরাতের শাস্তি থেকে বেঁচে যাই। আমাকে পাথরের আঘাতে মেরে ফেলুন। ব্যাস, মূল কারণ এটাই ছিলো যে, আল্লাহ তা'আলার স্মরণ ও ভয় অন্তরে বসে গেছিলো। এজন্য বলা হচ্ছে যে, অধিকহারে আল্লাহ তা'আলার যিকির করো। অন্যথায় আমাদের যিকির দ্বারা আল্লাহ তা'আলার কোনো উপকার হয় না। যতো যিকির করবে ততোই আল্লাহ তা'আলার সামনে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত হবে। অতঃপর গোনাহ, নাফরমানি ও অপরাধ থেকেও বেঁচে যাবে। এ জন্যই বলা হয়েছে যে, অধিকহারে আল্লাহর যিকির করো।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মৌখিক যিকিরও উপকারী ও কাম্য

📄 মৌখিক যিকিরও উপকারী ও কাম্য


মানুষ বলে, যদি শুধু মুখে আল্লাহ আল্লাহ করা হয়, সুবহানাল্লাহ বলা হয় বা আলহামদুলিল্লাহ বলা হয় এবং আত্মা অন্য জায়গায় থাকে, মন-মগজ অন্য জায়গায় থাকে তাহলে এতে কি লাভ? মনে রাখবেন! মুখে যিকির করা হলো প্রথম সিঁড়ি। এই সিঁড়ি অতিক্রম না করলে অন্যান্য সিঁড়িতে কি করে পৌছবেন। সারা জীবনেও পৌছতে পারবেন না। আর যদি এই সিঁড়ি অতিক্রম করেন এবং মুখে আল্লাহ আল্লাহ করেন তাহলে কমপক্ষে একটি সিঁড়ি তো অতিক্রম হলো। এরপর আল্লাহ তা'আলা অন্যান্য সিঁড়িও অতিক্রম করিয়ে দিবেন। এ জন্য এই যিকিরকে বেকার মনে করবেন না। এ যিকিরও আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। আমাদের পুরো দেহ না হোক কমপক্ষে দেহের একটি অঙ্গ তো আল্লাহ তা'আলার যিকিরে মশগুল আছে। যদি এতে লেগে থাকেন, মশগুল থাকেন তাহলে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এটাই উন্নতি লাভ করবে।

মানুষ বলে, যদি শুধু মুখে আল্লাহ আল্লাহ করা হয়, সুবহানাল্লাহ বলা হয় বা আলহামদুলিল্লাহ বলা হয় এবং আত্মা অন্য জায়গায় থাকে, মন-মগজ অন্য জায়গায় থাকে তাহলে এতে কি লাভ? মনে রাখবেন! মুখে যিকির করা হলো প্রথম সিঁড়ি। এই সিঁড়ি অতিক্রম না করলে অন্যান্য সিঁড়িতে কি করে পৌছবেন। সারা জীবনেও পৌছতে পারবেন না। আর যদি এই সিঁড়ি অতিক্রম করেন এবং মুখে আল্লাহ আল্লাহ করেন তাহলে কমপক্ষে একটি সিঁড়ি তো অতিক্রম হলো। এরপর আল্লাহ তা'আলা অন্যান্য সিঁড়িও অতিক্রম করিয়ে দিবেন। এ জন্য এই যিকিরকে বেকার মনে করবেন না। এ যিকিরও আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। আমাদের পুরো দেহ না হোক কমপক্ষে দেহের একটি অঙ্গ তো আল্লাহ তা'আলার যিকিরে মশগুল আছে। যদি এতে লেগে থাকেন, মশগুল থাকেন তাহলে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এটাই উন্নতি লাভ করবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আল্লাহর সাথে সম্পর্কের হাকীকত

📄 আল্লাহর সাথে সম্পর্কের হাকীকত


যাইহোক, আল্লাহর স্মরণ এবং আল্লাহর যিকির অন্তরে বসার নামই হলো তাআল্লুক মাআল্লাহ। অর্থাৎ, সব সময় আল্লাহ তা'আলার সথে কিছু না কিছু সম্পর্ক বজায় রাখা। সূফীয়ায়ে কেরামের সিলসিলায় যতো সাধনা, যতো মুজাহাদা, যতো ওযীফা ও যিকির আছে, সবকিছুর সারকথা এবং মূল উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হলো আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত করা। কারণ, আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত হলে মানুষ থেকে আর গোনাহ সংঘটিত হয় না। বরং মানুষ তখন নিজের সাধ্য মোতাবেক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত উত্তম থেকে উত্তম পন্থায় সম্পাদিত করে। তখন মানুষের মধ্যে উত্তম গুণাবলী লাভ হয় এবং মন্দ চরিত্র থেকে মুক্তি লাভ করে। এ সব কিছু আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতেই লাভ হয়।

যাইহোক, আল্লাহর স্মরণ এবং আল্লাহর যিকির অন্তরে বসার নামই হলো তাআল্লুক মাআল্লাহ। অর্থাৎ, সব সময় আল্লাহ তা'আলার সথে কিছু না কিছু সম্পর্ক বজায় রাখা। সূফীয়ায়ে কেরামের সিলসিলায় যতো সাধনা, যতো মুজাহাদা, যতো ওযীফা ও যিকির আছে, সবকিছুর সারকথা এবং মূল উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হলো আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত করা। কারণ, আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত হলে মানুষ থেকে আর গোনাহ সংঘটিত হয় না। বরং মানুষ তখন নিজের সাধ্য মোতাবেক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত উত্তম থেকে উত্তম পন্থায় সম্পাদিত করে। তখন মানুষের মধ্যে উত্তম গুণাবলী লাভ হয় এবং মন্দ চরিত্র থেকে মুক্তি লাভ করে। এ সব কিছু আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতেই লাভ হয়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সব সময় চাইতে থাকুন

📄 সব সময় চাইতে থাকুন


আল্লাহ তা'আলার সাঙ্গে এই সম্পর্ক অর্জনের জন্য সূফীয়ায়ে কেরাম লম্বা চওড়া মুজাহাদা করতেন হতো, সাধনা করানো হতো। কিন্তু আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব বলতেন, আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সম্পর্ক লাভের জন্য আমি তোমাদেরকে অতি সংক্ষিপ্ত ও সহজ একটি পথ বলছি, তা হলো সবসময় আল্লাহ তা'আলার কাছে চাইতে থাকো এবং চাওয়ার অভ্যাস গড়ো। সবকিছু আল্লাহর কাছে চাও। যেই দুঃখ, কষ্ট, বিপদ, পেরেশানী, প্রয়োজন, অভাব আছে, সব আল্লাহ তা'আলার কাছে চাইতে থাকো। গরম লাগলে বলো, হে আল্লাহ গরম দূর করে দিন। বিদ্যুৎ চলে গেলে বলো, হে আল্লাহ বিদ্যুৎ দান করুন। ক্ষুধা লাগলে বলো, হে আল্লাহ ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে দিন। ঘরে প্রবেশ করলে বলো, হে আল্লাহ ঘরে যেন ভালো দৃশ্য সামনে আসে। শান্তি এবং নিরাপত্তার খবর যেন পাই। কোনো পেরেশানীর কথা যেন না আসে। অফিসে প্রবেশ করার পূর্বে বলো, হে আল্লাহ অফিসে যাচ্ছি সব অবস্থা ঠিক করে দিন, মনের মতো করে দিন। সেখানে কোনো বিরূপ অবস্থা যেন সামনে না আসে। কোনো কষ্টকর পরিস্থিতি যেন সামনে না আসে। বাজারে যাচ্ছো তো বলো, হে আল্লাহ অমুক জিনিস ক্রয় করতে যাচ্ছি, উপযুক্ত মূল্যে তা দান করুন। সব সময় এবং প্রতি মুহূর্তে আল্লাহ তা'আলার দিকে রুজু হও এবং আল্লাহ তা'আলার কাছে চাওয়ার অভ্যাস গড়ো।

আল্লাহ তা'আলার সাঙ্গে এই সম্পর্ক অর্জনের জন্য সূফীয়ায়ে কেরাম লম্বা চওড়া মুজাহাদা করতেন হতো, সাধনা করানো হতো। কিন্তু আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব বলতেন, আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সম্পর্ক লাভের জন্য আমি তোমাদেরকে অতি সংক্ষিপ্ত ও সহজ একটি পথ বলছি, তা হলো সবসময় আল্লাহ তা'আলার কাছে চাইতে থাকো এবং চাওয়ার অভ্যাস গড়ো। সবকিছু আল্লাহর কাছে চাও। যেই দুঃখ, কষ্ট, বিপদ, পেরেশানী, প্রয়োজন, অভাব আছে, সব আল্লাহ তা'আলার কাছে চাইতে থাকো। গরম লাগলে বলো, হে আল্লাহ গরম দূর করে দিন। বিদ্যুৎ চলে গেলে বলো, হে আল্লাহ বিদ্যুৎ দান করুন। ক্ষুধা লাগলে বলো, হে আল্লাহ ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে দিন। ঘরে প্রবেশ করলে বলো, হে আল্লাহ ঘরে যেন ভালো দৃশ্য সামনে আসে। শান্তি এবং নিরাপত্তার খবর যেন পাই। কোনো পেরেশানীর কথা যেন না আসে। অফিসে প্রবেশ করার পূর্বে বলো, হে আল্লাহ অফিসে যাচ্ছি সব অবস্থা ঠিক করে দিন, মনের মতো করে দিন। সেখানে কোনো বিরূপ অবস্থা যেন সামনে না আসে। কোনো কষ্টকর পরিস্থিতি যেন সামনে না আসে। বাজারে যাচ্ছো তো বলো, হে আল্লাহ অমুক জিনিস ক্রয় করতে যাচ্ছি, উপযুক্ত মূল্যে তা দান করুন। সব সময় এবং প্রতি মুহূর্তে আল্লাহ তা'আলার দিকে রুজু হও এবং আল্লাহ তা'আলার কাছে চাওয়ার অভ্যাস গড়ো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00