📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 যিকির থেকে গাফলতির ফলে অপরাধ বেড়ে গেছে

📄 যিকির থেকে গাফলতির ফলে অপরাধ বেড়ে গেছে


এটা হলো আল্লাহর যিকির, আল্লাহর স্মরণ, যা অন্তরে এমনভাবে বসে গেছে যে, বনের নির্জনেও এবং রাতের অন্ধকারেও আত্মা আল্লাহ তা'আলার যিকির থেকে শূন্য হয়নি। যাইহোক, হযরত ওমর ফারুক রাযি. রাখালের উত্তর শুনে বললেন, তোমাদের মতো মানুষ যতোদিন এ পৃথিবীতে থাকবে, যতোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির হয়ে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত থাকবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত এ পৃথিবীতে জুলুম হবে না। কারণ, জওয়াবদিহিতার অনুভূতি নির্জনেও মানুষের অন্তরে পাহারা বসিয়ে রাখে। আর এ অনুভূতি অবশিষ্ট না থাকলে কী পরিণতি হয়, তা আপনারা দেখছেন। পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিভিন্ন অধিদপ্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, আদালতে অন্তহীন এক ধারা চলছে, সৈন্য নিয়োজিত আছে, গলিতে গলিতে পাহারা বসানো আছে, এর পরেও ডাকাতি হচ্ছে, মানুষের জান-মাল ও সম্মানের উপর আক্রমণ হচ্ছে? অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব কেন হচ্ছে? এ কারণে যে, আল্লাহ তা'আলার স্মরণ অন্তরে না বসানো পর্যন্ত অপরাধের মূল বিলুপ্ত হতে পারে না। আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির হওয়ার অনুভূতি অন্তরে না থাকলে অপরাধের মূল বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। আল্লাহর ভয়ের বাতি অন্তরে না জ্বালানো পর্যন্ত হাজার পাহারা বসান, হাজার সৈন্য নিয়োগ দেন, কিন্তু অপরাধ বন্ধ হবে না। চোখের আড়াল হলেই অপরাধ সংঘটিত হবে। বরং যেই চোখ হেফাজতের জন্য নিয়োজিত ছিলো সেই চোখই অপরাধ করছে। মানুষের জান মালের নিরাপত্তার জন্য যাকে বসানো হয়েছিলো, সেই মানুষের জান মালের উপর ডাকাতি করছে। এ জন্য যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর যিকির এবং তাঁর স্মরণ অন্তরে না থাকবে জওয়াবদিহিতার অনুভূতি অন্তরে না থাকবে, সে পর্যন্ত অপরাধ নির্মূল হবে না।

টিকাঃ
১. উসুদুল গাবা ফী মা'রিফাতিস সাহাবা, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-২২৮, ইতিহাস গ্রন্থসমূহে এ ঘটনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি.-এর সফরের বিষয়ে উল্লেখ আছে। এ ভলিউমেই ইতিপূর্বে তা আলোচিত হয়েছে।

এটা হলো আল্লাহর যিকির, আল্লাহর স্মরণ, যা অন্তরে এমনভাবে বসে গেছে যে, বনের নির্জনেও এবং রাতের অন্ধকারেও আত্মা আল্লাহ তা'আলার যিকির থেকে শূন্য হয়নি। যাইহোক, হযরত ওমর ফারুক রাযি. রাখালের উত্তর শুনে বললেন, তোমাদের মতো মানুষ যতোদিন এ পৃথিবীতে থাকবে, যতোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির হয়ে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত থাকবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত এ পৃথিবীতে জুলুম হবে না। কারণ, জওয়াবদিহিতার অনুভূতি নির্জনেও মানুষের অন্তরে পাহারা বসিয়ে রাখে। আর এ অনুভূতি অবশিষ্ট না থাকলে কী পরিণতি হয়, তা আপনারা দেখছেন। পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিভিন্ন অধিদপ্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, আদালতে অন্তহীন এক ধারা চলছে, সৈন্য নিয়োজিত আছে, গলিতে গলিতে পাহারা বসানো আছে, এর পরেও ডাকাতি হচ্ছে, মানুষের জান-মাল ও সম্মানের উপর আক্রমণ হচ্ছে? অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব কেন হচ্ছে? এ কারণে যে, আল্লাহ তা'আলার স্মরণ অন্তরে না বসানো পর্যন্ত অপরাধের মূল বিলুপ্ত হতে পারে না। আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির হওয়ার অনুভূতি অন্তরে না থাকলে অপরাধের মূল বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। আল্লাহর ভয়ের বাতি অন্তরে না জ্বালানো পর্যন্ত হাজার পাহারা বসান, হাজার সৈন্য নিয়োগ দেন, কিন্তু অপরাধ বন্ধ হবে না। চোখের আড়াল হলেই অপরাধ সংঘটিত হবে। বরং যেই চোখ হেফাজতের জন্য নিয়োজিত ছিলো সেই চোখই অপরাধ করছে। মানুষের জান মালের নিরাপত্তার জন্য যাকে বসানো হয়েছিলো, সেই মানুষের জান মালের উপর ডাকাতি করছে। এ জন্য যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর যিকির এবং তাঁর স্মরণ অন্তরে না থাকবে জওয়াবদিহিতার অনুভূতি অন্তরে না থাকবে, সে পর্যন্ত অপরাধ নির্মূল হবে না।

টিকাঃ
১. উসুদুল গাবা ফী মা'রিফাতিস সাহাবা, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-২২৮, ইতিহাস গ্রন্থসমূহে এ ঘটনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি.-এর সফরের বিষয়ে উল্লেখ আছে। এ ভলিউমেই ইতিপূর্বে তা আলোচিত হয়েছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 অপরাধ নির্মূল করেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

📄 অপরাধ নির্মূল করেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম


অপরাধ তো নির্মূল করেছিলেন হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পুলিশ ছিলো না, অধিদপ্তর ছিলো না, আদালত ছিলো না, সেনাবাহিনী ছিলো না। কারো দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী নিজে এসে কেঁদে কেঁদে বলতো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করুন, যাতে আখেরাতের শাস্তি থেকে বেঁচে যাই। আমাকে পাথরের আঘাতে মেরে ফেলুন। ব্যাস, মূল কারণ এটাই ছিলো যে, আল্লাহ তা'আলার স্মরণ ও ভয় অন্তরে বসে গেছিলো। এজন্য বলা হচ্ছে যে, অধিকহারে আল্লাহ তা'আলার যিকির করো। অন্যথায় আমাদের যিকির দ্বারা আল্লাহ তা'আলার কোনো উপকার হয় না। যতো যিকির করবে ততোই আল্লাহ তা'আলার সামনে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত হবে। অতঃপর গোনাহ, নাফরমানি ও অপরাধ থেকেও বেঁচে যাবে। এ জন্যই বলা হয়েছে যে, অধিকহারে আল্লাহর যিকির করো।

অপরাধ তো নির্মূল করেছিলেন হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পুলিশ ছিলো না, অধিদপ্তর ছিলো না, আদালত ছিলো না, সেনাবাহিনী ছিলো না। কারো দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী নিজে এসে কেঁদে কেঁদে বলতো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করুন, যাতে আখেরাতের শাস্তি থেকে বেঁচে যাই। আমাকে পাথরের আঘাতে মেরে ফেলুন। ব্যাস, মূল কারণ এটাই ছিলো যে, আল্লাহ তা'আলার স্মরণ ও ভয় অন্তরে বসে গেছিলো। এজন্য বলা হচ্ছে যে, অধিকহারে আল্লাহ তা'আলার যিকির করো। অন্যথায় আমাদের যিকির দ্বারা আল্লাহ তা'আলার কোনো উপকার হয় না। যতো যিকির করবে ততোই আল্লাহ তা'আলার সামনে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত হবে। অতঃপর গোনাহ, নাফরমানি ও অপরাধ থেকেও বেঁচে যাবে। এ জন্যই বলা হয়েছে যে, অধিকহারে আল্লাহর যিকির করো।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মৌখিক যিকিরও উপকারী ও কাম্য

📄 মৌখিক যিকিরও উপকারী ও কাম্য


মানুষ বলে, যদি শুধু মুখে আল্লাহ আল্লাহ করা হয়, সুবহানাল্লাহ বলা হয় বা আলহামদুলিল্লাহ বলা হয় এবং আত্মা অন্য জায়গায় থাকে, মন-মগজ অন্য জায়গায় থাকে তাহলে এতে কি লাভ? মনে রাখবেন! মুখে যিকির করা হলো প্রথম সিঁড়ি। এই সিঁড়ি অতিক্রম না করলে অন্যান্য সিঁড়িতে কি করে পৌছবেন। সারা জীবনেও পৌছতে পারবেন না। আর যদি এই সিঁড়ি অতিক্রম করেন এবং মুখে আল্লাহ আল্লাহ করেন তাহলে কমপক্ষে একটি সিঁড়ি তো অতিক্রম হলো। এরপর আল্লাহ তা'আলা অন্যান্য সিঁড়িও অতিক্রম করিয়ে দিবেন। এ জন্য এই যিকিরকে বেকার মনে করবেন না। এ যিকিরও আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। আমাদের পুরো দেহ না হোক কমপক্ষে দেহের একটি অঙ্গ তো আল্লাহ তা'আলার যিকিরে মশগুল আছে। যদি এতে লেগে থাকেন, মশগুল থাকেন তাহলে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এটাই উন্নতি লাভ করবে।

মানুষ বলে, যদি শুধু মুখে আল্লাহ আল্লাহ করা হয়, সুবহানাল্লাহ বলা হয় বা আলহামদুলিল্লাহ বলা হয় এবং আত্মা অন্য জায়গায় থাকে, মন-মগজ অন্য জায়গায় থাকে তাহলে এতে কি লাভ? মনে রাখবেন! মুখে যিকির করা হলো প্রথম সিঁড়ি। এই সিঁড়ি অতিক্রম না করলে অন্যান্য সিঁড়িতে কি করে পৌছবেন। সারা জীবনেও পৌছতে পারবেন না। আর যদি এই সিঁড়ি অতিক্রম করেন এবং মুখে আল্লাহ আল্লাহ করেন তাহলে কমপক্ষে একটি সিঁড়ি তো অতিক্রম হলো। এরপর আল্লাহ তা'আলা অন্যান্য সিঁড়িও অতিক্রম করিয়ে দিবেন। এ জন্য এই যিকিরকে বেকার মনে করবেন না। এ যিকিরও আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। আমাদের পুরো দেহ না হোক কমপক্ষে দেহের একটি অঙ্গ তো আল্লাহ তা'আলার যিকিরে মশগুল আছে। যদি এতে লেগে থাকেন, মশগুল থাকেন তাহলে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এটাই উন্নতি লাভ করবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আল্লাহর সাথে সম্পর্কের হাকীকত

📄 আল্লাহর সাথে সম্পর্কের হাকীকত


যাইহোক, আল্লাহর স্মরণ এবং আল্লাহর যিকির অন্তরে বসার নামই হলো তাআল্লুক মাআল্লাহ। অর্থাৎ, সব সময় আল্লাহ তা'আলার সথে কিছু না কিছু সম্পর্ক বজায় রাখা। সূফীয়ায়ে কেরামের সিলসিলায় যতো সাধনা, যতো মুজাহাদা, যতো ওযীফা ও যিকির আছে, সবকিছুর সারকথা এবং মূল উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হলো আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত করা। কারণ, আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত হলে মানুষ থেকে আর গোনাহ সংঘটিত হয় না। বরং মানুষ তখন নিজের সাধ্য মোতাবেক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত উত্তম থেকে উত্তম পন্থায় সম্পাদিত করে। তখন মানুষের মধ্যে উত্তম গুণাবলী লাভ হয় এবং মন্দ চরিত্র থেকে মুক্তি লাভ করে। এ সব কিছু আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতেই লাভ হয়।

যাইহোক, আল্লাহর স্মরণ এবং আল্লাহর যিকির অন্তরে বসার নামই হলো তাআল্লুক মাআল্লাহ। অর্থাৎ, সব সময় আল্লাহ তা'আলার সথে কিছু না কিছু সম্পর্ক বজায় রাখা। সূফীয়ায়ে কেরামের সিলসিলায় যতো সাধনা, যতো মুজাহাদা, যতো ওযীফা ও যিকির আছে, সবকিছুর সারকথা এবং মূল উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হলো আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত করা। কারণ, আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক মজবুত হলে মানুষ থেকে আর গোনাহ সংঘটিত হয় না। বরং মানুষ তখন নিজের সাধ্য মোতাবেক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত উত্তম থেকে উত্তম পন্থায় সম্পাদিত করে। তখন মানুষের মধ্যে উত্তম গুণাবলী লাভ হয় এবং মন্দ চরিত্র থেকে মুক্তি লাভ করে। এ সব কিছু আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতেই লাভ হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00