📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আল্লাহ কোথায় গেছেন!

📄 আল্লাহ কোথায় গেছেন!


لَا يَرْنِي الزَّانِي حِينَ يَرْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الشَّارِبُ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ

অর্থাৎ, যখন ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তখন সে ঈমানদার থাকে না।

সে সময় ঈমানদার না থাকার অর্থ হলো, সে সময় তার ঈমান উপস্থিত থাকে না। আল্লাহ তা'আলার স্মরণ এবং তাঁর যিকির উপস্থিত থাকে না। যখন চোর চুরি করে তখন সে ঈমানদার থাকে না। অর্থাৎ, ঐ সময় আল্লাহ তা'আলার স্মরণ তার অন্তরে থাকে না। যদি ঐ সময় আল্লাহ তা'আলার স্মরণ অন্তরে থাকতো তাহলে সে গোনাহে লিপ্ত হতো না। এ জন্য সমস্ত মন্দ কাজ, সমস্ত অন্যায় অত্যাচার, সমস্ত দুর্নীতি যা দুনিয়াতে ঘটছে সব কিছুর ভিত্তি হলো আল্লাহর যিকির থেকে গাফলতি।

হযরত ওমর ফারুক রাযি. একবার সফরে যাচ্ছিলেন। বনের মধ্যে সফর ছিলো। তখন বর্তমান যুগের মতো হোটেলের ব্যবস্থা ছিলো না। যখন ক্ষুধা লাগলো এবং পাথেয় শেষ হয়ে গেলো তখন তিনি জনপদ তালাশ করলেন। পাশে কোনো জনপদ থাকলে সেখানে গিয়ে খানা খাবেন। তালাশ করে দেখলেন ছাগলের একটি পাল বিচরণ করছে। তিনি নিকটে গিয়ে রাখালকে তালাশ করলেন। তার সঙ্গে দেখা করে বললেন, আমি মুসাফির। আমার ক্ষুধা লেগেছে। বকরীর দুধ বের করে আমাকে দাও এবং আমার থেকে তার দাম নিয়ে নাও। যাতে আমি দুধ পান করে নিজের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারি। এটা ঐ যামানার কথা যখন হযরত ওমর রাযি. অর্ধেক পৃথিবীর অধিক এলাকার শাসক ছিলেন, বাদশাহ ছিলেন। উত্তরে রাখাল বললো, জনাব! আমি আপনাকে অবশ্যই দুধ দিতাম। কিন্তু ব্যাপার হলো, এ ছাগলগুলো আমার নয়। এগুলো আমার মালিকের ছাগল। তিনি আমাকে শুধু চরানোর জন্য দিয়েছেন। এজন্য এ ছাগলগুলো আমার নিকট আমানত। দুধও আমার নিকট আমানত। এজন্য মালিকের অনুমতি ছাড়া এর দুধ দেওয়ার অধিকার আমার নেই। আমি অক্ষম। হযরত ওমর রাযি.-এর অন্তরে চিন্তা জাগলো এ রাখালের একটু পরীক্ষা নেই। হযরত ওমর রাযি. রাখালকে বললেন, আমি তোমাকে একটি ব্যবস্থা বলে দিচ্ছি। তুমি সেই অনুপাতে কাজ করলে তোমারও লাভ আমারও লাভ। রাখাল বললো সেটা কি? হযরত ওমর রাযি. বললেন, তুমি এক কাজ করো, একটা বকরী আমার কাছে বিক্রি করে তার মূল্য আমার থেকে নিয়ে নাও। এর দ্বারা আমার লাভ এই হবে যে, বকরীটাকে আমি সাথে রাখবো এবং যখন প্রয়োজন হবে তার দুধ পান করবো। আর তোমার লাভ এই হবে যে, তুমি বকরীর দাম পেয়ে যাবে। আর মালিক যখন জিজ্ঞাসা করবে বকরী কি হয়েছে? তখন তুমি বলবে, বাঘে নিয়ে গেছে। কারণ, এ ধরনের ঘটনা বনের মধ্যে ঘটেই থাকে। এজন্য সে বিশ্বাস করবে। এতে তোমারও কল্যাণ হবে, আমারও কল্যাণ হবে। রাখাল এ ব্যবস্থা শুনে সাথে সাথে বললো,

يَا هُذَا فَأَيْنَ اللَّهُ؟

'তাহলে আল্লাহ কোথায় গেছেন!"

অর্থাৎ, এসব কাজ করলে আমার মালিক তো দেখবে না, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তো দেখবেন। এসব কিছু মূলত মিথ্যা এবং ধোঁকা। আল্লাহর সামনে কি উত্তর দেবো?

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২৭৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৭, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৪৯, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৪৭৮৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৬৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯২৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৮৫৫

لَا يَرْنِي الزَّانِي حِينَ يَرْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الشَّارِبُ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ

অর্থাৎ, যখন ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তখন সে ঈমানদার থাকে না।

সে সময় ঈমানদার না থাকার অর্থ হলো, সে সময় তার ঈমান উপস্থিত থাকে না। আল্লাহ তা'আলার স্মরণ এবং তাঁর যিকির উপস্থিত থাকে না। যখন চোর চুরি করে তখন সে ঈমানদার থাকে না। অর্থাৎ, ঐ সময় আল্লাহ তা'আলার স্মরণ তার অন্তরে থাকে না। যদি ঐ সময় আল্লাহ তা'আলার স্মরণ অন্তরে থাকতো তাহলে সে গোনাহে লিপ্ত হতো না। এ জন্য সমস্ত মন্দ কাজ, সমস্ত অন্যায় অত্যাচার, সমস্ত দুর্নীতি যা দুনিয়াতে ঘটছে সব কিছুর ভিত্তি হলো আল্লাহর যিকির থেকে গাফলতি।

হযরত ওমর ফারুক রাযি. একবার সফরে যাচ্ছিলেন। বনের মধ্যে সফর ছিলো। তখন বর্তমান যুগের মতো হোটেলের ব্যবস্থা ছিলো না। যখন ক্ষুধা লাগলো এবং পাথেয় শেষ হয়ে গেলো তখন তিনি জনপদ তালাশ করলেন। পাশে কোনো জনপদ থাকলে সেখানে গিয়ে খানা খাবেন। তালাশ করে দেখলেন ছাগলের একটি পাল বিচরণ করছে। তিনি নিকটে গিয়ে রাখালকে তালাশ করলেন। তার সঙ্গে দেখা করে বললেন, আমি মুসাফির। আমার ক্ষুধা লেগেছে। বকরীর দুধ বের করে আমাকে দাও এবং আমার থেকে তার দাম নিয়ে নাও। যাতে আমি দুধ পান করে নিজের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারি। এটা ঐ যামানার কথা যখন হযরত ওমর রাযি. অর্ধেক পৃথিবীর অধিক এলাকার শাসক ছিলেন, বাদশাহ ছিলেন। উত্তরে রাখাল বললো, জনাব! আমি আপনাকে অবশ্যই দুধ দিতাম। কিন্তু ব্যাপার হলো, এ ছাগলগুলো আমার নয়। এগুলো আমার মালিকের ছাগল। তিনি আমাকে শুধু চরানোর জন্য দিয়েছেন। এজন্য এ ছাগলগুলো আমার নিকট আমানত। দুধও আমার নিকট আমানত। এজন্য মালিকের অনুমতি ছাড়া এর দুধ দেওয়ার অধিকার আমার নেই। আমি অক্ষম। হযরত ওমর রাযি.-এর অন্তরে চিন্তা জাগলো এ রাখালের একটু পরীক্ষা নেই। হযরত ওমর রাযি. রাখালকে বললেন, আমি তোমাকে একটি ব্যবস্থা বলে দিচ্ছি। তুমি সেই অনুপাতে কাজ করলে তোমারও লাভ আমারও লাভ। রাখাল বললো সেটা কি? হযরত ওমর রাযি. বললেন, তুমি এক কাজ করো, একটা বকরী আমার কাছে বিক্রি করে তার মূল্য আমার থেকে নিয়ে নাও। এর দ্বারা আমার লাভ এই হবে যে, বকরীটাকে আমি সাথে রাখবো এবং যখন প্রয়োজন হবে তার দুধ পান করবো। আর তোমার লাভ এই হবে যে, তুমি বকরীর দাম পেয়ে যাবে। আর মালিক যখন জিজ্ঞাসা করবে বকরী কি হয়েছে? তখন তুমি বলবে, বাঘে নিয়ে গেছে। কারণ, এ ধরনের ঘটনা বনের মধ্যে ঘটেই থাকে। এজন্য সে বিশ্বাস করবে। এতে তোমারও কল্যাণ হবে, আমারও কল্যাণ হবে। রাখাল এ ব্যবস্থা শুনে সাথে সাথে বললো,

يَا هُذَا فَأَيْنَ اللَّهُ؟

'তাহলে আল্লাহ কোথায় গেছেন!"

অর্থাৎ, এসব কাজ করলে আমার মালিক তো দেখবে না, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তো দেখবেন। এসব কিছু মূলত মিথ্যা এবং ধোঁকা। আল্লাহর সামনে কি উত্তর দেবো?

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২৭৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৭, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৪৯, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৪৭৮৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৬৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯২৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৮৫৫

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 যিকির থেকে গাফলতির ফলে অপরাধ বেড়ে গেছে

📄 যিকির থেকে গাফলতির ফলে অপরাধ বেড়ে গেছে


এটা হলো আল্লাহর যিকির, আল্লাহর স্মরণ, যা অন্তরে এমনভাবে বসে গেছে যে, বনের নির্জনেও এবং রাতের অন্ধকারেও আত্মা আল্লাহ তা'আলার যিকির থেকে শূন্য হয়নি। যাইহোক, হযরত ওমর ফারুক রাযি. রাখালের উত্তর শুনে বললেন, তোমাদের মতো মানুষ যতোদিন এ পৃথিবীতে থাকবে, যতোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির হয়ে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত থাকবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত এ পৃথিবীতে জুলুম হবে না। কারণ, জওয়াবদিহিতার অনুভূতি নির্জনেও মানুষের অন্তরে পাহারা বসিয়ে রাখে। আর এ অনুভূতি অবশিষ্ট না থাকলে কী পরিণতি হয়, তা আপনারা দেখছেন। পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিভিন্ন অধিদপ্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, আদালতে অন্তহীন এক ধারা চলছে, সৈন্য নিয়োজিত আছে, গলিতে গলিতে পাহারা বসানো আছে, এর পরেও ডাকাতি হচ্ছে, মানুষের জান-মাল ও সম্মানের উপর আক্রমণ হচ্ছে? অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব কেন হচ্ছে? এ কারণে যে, আল্লাহ তা'আলার স্মরণ অন্তরে না বসানো পর্যন্ত অপরাধের মূল বিলুপ্ত হতে পারে না। আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির হওয়ার অনুভূতি অন্তরে না থাকলে অপরাধের মূল বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। আল্লাহর ভয়ের বাতি অন্তরে না জ্বালানো পর্যন্ত হাজার পাহারা বসান, হাজার সৈন্য নিয়োগ দেন, কিন্তু অপরাধ বন্ধ হবে না। চোখের আড়াল হলেই অপরাধ সংঘটিত হবে। বরং যেই চোখ হেফাজতের জন্য নিয়োজিত ছিলো সেই চোখই অপরাধ করছে। মানুষের জান মালের নিরাপত্তার জন্য যাকে বসানো হয়েছিলো, সেই মানুষের জান মালের উপর ডাকাতি করছে। এ জন্য যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর যিকির এবং তাঁর স্মরণ অন্তরে না থাকবে জওয়াবদিহিতার অনুভূতি অন্তরে না থাকবে, সে পর্যন্ত অপরাধ নির্মূল হবে না।

টিকাঃ
১. উসুদুল গাবা ফী মা'রিফাতিস সাহাবা, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-২২৮, ইতিহাস গ্রন্থসমূহে এ ঘটনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি.-এর সফরের বিষয়ে উল্লেখ আছে। এ ভলিউমেই ইতিপূর্বে তা আলোচিত হয়েছে।

এটা হলো আল্লাহর যিকির, আল্লাহর স্মরণ, যা অন্তরে এমনভাবে বসে গেছে যে, বনের নির্জনেও এবং রাতের অন্ধকারেও আত্মা আল্লাহ তা'আলার যিকির থেকে শূন্য হয়নি। যাইহোক, হযরত ওমর ফারুক রাযি. রাখালের উত্তর শুনে বললেন, তোমাদের মতো মানুষ যতোদিন এ পৃথিবীতে থাকবে, যতোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির হয়ে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত থাকবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত এ পৃথিবীতে জুলুম হবে না। কারণ, জওয়াবদিহিতার অনুভূতি নির্জনেও মানুষের অন্তরে পাহারা বসিয়ে রাখে। আর এ অনুভূতি অবশিষ্ট না থাকলে কী পরিণতি হয়, তা আপনারা দেখছেন। পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিভিন্ন অধিদপ্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, আদালতে অন্তহীন এক ধারা চলছে, সৈন্য নিয়োজিত আছে, গলিতে গলিতে পাহারা বসানো আছে, এর পরেও ডাকাতি হচ্ছে, মানুষের জান-মাল ও সম্মানের উপর আক্রমণ হচ্ছে? অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব কেন হচ্ছে? এ কারণে যে, আল্লাহ তা'আলার স্মরণ অন্তরে না বসানো পর্যন্ত অপরাধের মূল বিলুপ্ত হতে পারে না। আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির হওয়ার অনুভূতি অন্তরে না থাকলে অপরাধের মূল বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। আল্লাহর ভয়ের বাতি অন্তরে না জ্বালানো পর্যন্ত হাজার পাহারা বসান, হাজার সৈন্য নিয়োগ দেন, কিন্তু অপরাধ বন্ধ হবে না। চোখের আড়াল হলেই অপরাধ সংঘটিত হবে। বরং যেই চোখ হেফাজতের জন্য নিয়োজিত ছিলো সেই চোখই অপরাধ করছে। মানুষের জান মালের নিরাপত্তার জন্য যাকে বসানো হয়েছিলো, সেই মানুষের জান মালের উপর ডাকাতি করছে। এ জন্য যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর যিকির এবং তাঁর স্মরণ অন্তরে না থাকবে জওয়াবদিহিতার অনুভূতি অন্তরে না থাকবে, সে পর্যন্ত অপরাধ নির্মূল হবে না।

টিকাঃ
১. উসুদুল গাবা ফী মা'রিফাতিস সাহাবা, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-২২৮, ইতিহাস গ্রন্থসমূহে এ ঘটনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি.-এর সফরের বিষয়ে উল্লেখ আছে। এ ভলিউমেই ইতিপূর্বে তা আলোচিত হয়েছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 অপরাধ নির্মূল করেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

📄 অপরাধ নির্মূল করেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম


অপরাধ তো নির্মূল করেছিলেন হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পুলিশ ছিলো না, অধিদপ্তর ছিলো না, আদালত ছিলো না, সেনাবাহিনী ছিলো না। কারো দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী নিজে এসে কেঁদে কেঁদে বলতো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করুন, যাতে আখেরাতের শাস্তি থেকে বেঁচে যাই। আমাকে পাথরের আঘাতে মেরে ফেলুন। ব্যাস, মূল কারণ এটাই ছিলো যে, আল্লাহ তা'আলার স্মরণ ও ভয় অন্তরে বসে গেছিলো। এজন্য বলা হচ্ছে যে, অধিকহারে আল্লাহ তা'আলার যিকির করো। অন্যথায় আমাদের যিকির দ্বারা আল্লাহ তা'আলার কোনো উপকার হয় না। যতো যিকির করবে ততোই আল্লাহ তা'আলার সামনে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত হবে। অতঃপর গোনাহ, নাফরমানি ও অপরাধ থেকেও বেঁচে যাবে। এ জন্যই বলা হয়েছে যে, অধিকহারে আল্লাহর যিকির করো।

অপরাধ তো নির্মূল করেছিলেন হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পুলিশ ছিলো না, অধিদপ্তর ছিলো না, আদালত ছিলো না, সেনাবাহিনী ছিলো না। কারো দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী নিজে এসে কেঁদে কেঁদে বলতো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করুন, যাতে আখেরাতের শাস্তি থেকে বেঁচে যাই। আমাকে পাথরের আঘাতে মেরে ফেলুন। ব্যাস, মূল কারণ এটাই ছিলো যে, আল্লাহ তা'আলার স্মরণ ও ভয় অন্তরে বসে গেছিলো। এজন্য বলা হচ্ছে যে, অধিকহারে আল্লাহ তা'আলার যিকির করো। অন্যথায় আমাদের যিকির দ্বারা আল্লাহ তা'আলার কোনো উপকার হয় না। যতো যিকির করবে ততোই আল্লাহ তা'আলার সামনে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত হবে। অতঃপর গোনাহ, নাফরমানি ও অপরাধ থেকেও বেঁচে যাবে। এ জন্যই বলা হয়েছে যে, অধিকহারে আল্লাহর যিকির করো।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মৌখিক যিকিরও উপকারী ও কাম্য

📄 মৌখিক যিকিরও উপকারী ও কাম্য


মানুষ বলে, যদি শুধু মুখে আল্লাহ আল্লাহ করা হয়, সুবহানাল্লাহ বলা হয় বা আলহামদুলিল্লাহ বলা হয় এবং আত্মা অন্য জায়গায় থাকে, মন-মগজ অন্য জায়গায় থাকে তাহলে এতে কি লাভ? মনে রাখবেন! মুখে যিকির করা হলো প্রথম সিঁড়ি। এই সিঁড়ি অতিক্রম না করলে অন্যান্য সিঁড়িতে কি করে পৌছবেন। সারা জীবনেও পৌছতে পারবেন না। আর যদি এই সিঁড়ি অতিক্রম করেন এবং মুখে আল্লাহ আল্লাহ করেন তাহলে কমপক্ষে একটি সিঁড়ি তো অতিক্রম হলো। এরপর আল্লাহ তা'আলা অন্যান্য সিঁড়িও অতিক্রম করিয়ে দিবেন। এ জন্য এই যিকিরকে বেকার মনে করবেন না। এ যিকিরও আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। আমাদের পুরো দেহ না হোক কমপক্ষে দেহের একটি অঙ্গ তো আল্লাহ তা'আলার যিকিরে মশগুল আছে। যদি এতে লেগে থাকেন, মশগুল থাকেন তাহলে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এটাই উন্নতি লাভ করবে।

মানুষ বলে, যদি শুধু মুখে আল্লাহ আল্লাহ করা হয়, সুবহানাল্লাহ বলা হয় বা আলহামদুলিল্লাহ বলা হয় এবং আত্মা অন্য জায়গায় থাকে, মন-মগজ অন্য জায়গায় থাকে তাহলে এতে কি লাভ? মনে রাখবেন! মুখে যিকির করা হলো প্রথম সিঁড়ি। এই সিঁড়ি অতিক্রম না করলে অন্যান্য সিঁড়িতে কি করে পৌছবেন। সারা জীবনেও পৌছতে পারবেন না। আর যদি এই সিঁড়ি অতিক্রম করেন এবং মুখে আল্লাহ আল্লাহ করেন তাহলে কমপক্ষে একটি সিঁড়ি তো অতিক্রম হলো। এরপর আল্লাহ তা'আলা অন্যান্য সিঁড়িও অতিক্রম করিয়ে দিবেন। এ জন্য এই যিকিরকে বেকার মনে করবেন না। এ যিকিরও আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। আমাদের পুরো দেহ না হোক কমপক্ষে দেহের একটি অঙ্গ তো আল্লাহ তা'আলার যিকিরে মশগুল আছে। যদি এতে লেগে থাকেন, মশগুল থাকেন তাহলে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এটাই উন্নতি লাভ করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00