📄 আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার পদ্ধতি
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক চলা-ফেরা, ওঠা-বসা, নড়া-চড়ার সময় পৃথক পৃথক দু’আ কেন শিক্ষা দিলেন? এটা মূলত হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার এক অব্যর্থ ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সহজতম এবং সংক্ষিপ্ততম পথ হলো, সব সময় মানুষ আল্লাহ তা’আলার কাছে চাইতে থাকবে এবং দু’আ করতে থাকবে। কুরআনে কারীম আমাদেরকে হুকুম দিয়েছে,
يٰٓاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اذْكُرُوا اللّٰهَ ذِكْرًا كَثِيْرًاۙ
‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ তা’আলাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, অধিক পরিমাণে তাঁর যিকির করো।’
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া আল্লাহর রাসূল! সব চেয়ে উত্তম আমল কোনটি? তিনি ইরশাদ করলেন, সব চেয়ে উত্তম আমল হলো,
لَايَزَالُ لِّسَانُكَ رَطْبًا مِّنْ ذِكْرِ اللّٰهِ
অর্থাৎ, তোমার জিহ্বা সবসময় যেন আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে। সবসময় যেন আল্লাহর যিকির অব্যাহত থাকে।’
সারকথা হলো, কুরআনে কারীমও অধিকহারে যিকির করার হুকুম দিয়েছে এবং হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও হাদীস শরীফে তার ফযীলতের বর্ণনা দিয়েছেন।
টিকাঃ
১. সূরা আহ্যাব, আয়াত-৪১
২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৭৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৭৯০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭০২০
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক চলা-ফেরা, ওঠা-বসা, নড়া-চড়ার সময় পৃথক পৃথক দু’আ কেন শিক্ষা দিলেন? এটা মূলত হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার এক অব্যর্থ ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সহজতম এবং সংক্ষিপ্ততম পথ হলো, সব সময় মানুষ আল্লাহ তা’আলার কাছে চাইতে থাকবে এবং দু’আ করতে থাকবে। কুরআনে কারীম আমাদেরকে হুকুম দিয়েছে,
يٰٓاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اذْكُرُوا اللّٰهَ ذِكْرًا كَثِيْرًاۙ
‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ তা’আলাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, অধিক পরিমাণে তাঁর যিকির করো।’
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া আল্লাহর রাসূল! সব চেয়ে উত্তম আমল কোনটি? তিনি ইরশাদ করলেন, সব চেয়ে উত্তম আমল হলো,
لَايَزَالُ لِّسَانُكَ رَطْبًا مِّنْ ذِكْرِ اللّٰهِ
অর্থাৎ, তোমার জিহ্বা সবসময় যেন আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে। সবসময় যেন আল্লাহর যিকির অব্যাহত থাকে।’
সারকথা হলো, কুরআনে কারীমও অধিকহারে যিকির করার হুকুম দিয়েছে এবং হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও হাদীস শরীফে তার ফযীলতের বর্ণনা দিয়েছেন।
টিকাঃ
১. সূরা আহ্যাব, আয়াত-৪১
২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৭৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৭৯০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭০২০
📄 আলাহ তা‘আলা যিকিরের মুখাপেক্ষী নন
এখন প্রশ্ন জাগে যে, আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে অধিক পরিমাণে যিকির করার হুকুম দিলেন কেন? আল্লাহ তা’আলার কি আমাদের যিকির দ্বারা কোনো লাভ হয়? নাউযুবিল্লাহ। আল্লাহ তা’আলার কি এ কথায় মজা লাগে যে, আমার বান্দা আমার যিকির করছে? এর দ্বারা কি তাঁর স্বাদ লাভ হয়? তার কোনো উপকার হয়? বলা বাহুল্য যে, আল্লাহ তা'আলার সম্পর্কে যার মারেফত আছে, তাঁর উপর যার ঈমান আছে, সে এ কথা কল্পনাও করতে পারে না। কারণ, সমস্ত জগত সবসময় প্রতি মুহূর্তে যদি আল্লাহ তা'আলার যিকির করতে থাকে তাহলে তাঁর বড়ত্ব, তাঁর প্রতিপত্তি এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সামান্যতম বৃদ্ধি পাবে না। আর যদি নাউযুবিল্লাহ সারা জগত মিলে এ কথার অঙ্গীকার করে যে, আল্লাহ তা'আলার যিকির করবে না, আল্লাহ তা'আলাকে বিস্মৃত হবে, যিকির থেকে গাফেল থাকবে, গোনাহ্ কাজে লিপ্ত থাকবে, নাফরমানীর মধ্যে লিপ্ত থাকবে তাহলেও আল্লাহর বড়ত্ব এবং শ্রেষ্ঠত্বের মধ্যে সামান্যতম হ্রাস পাবে না। আল্লাহর মহান সত্ত্বা তো বেনিয়াজ, অমুখাপেক্ষী, আল্লাহুসসামাদ। তিনি আমাদের যিকির থেকেও অমুখাপেক্ষী, আমাদের সিজদা থেকেও অমুখাপেক্ষী, আমাদের তাসবীহ থেকেও অমুখাপেক্ষী, আমাদের যিকিরের-ও তাঁর কোনো প্রয়োজন নেই।
এখন প্রশ্ন জাগে যে, আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে অধিক পরিমাণে যিকির করার হুকুম দিলেন কেন? আল্লাহ তা’আলার কি আমাদের যিকির দ্বারা কোনো লাভ হয়? নাউযুবিল্লাহ। আল্লাহ তা’আলার কি এ কথায় মজা লাগে যে, আমার বান্দা আমার যিকির করছে? এর দ্বারা কি তাঁর স্বাদ লাভ হয়? তার কোনো উপকার হয়? বলা বাহুল্য যে, আল্লাহ তা'আলার সম্পর্কে যার মারেফত আছে, তাঁর উপর যার ঈমান আছে, সে এ কথা কল্পনাও করতে পারে না। কারণ, সমস্ত জগত সবসময় প্রতি মুহূর্তে যদি আল্লাহ তা'আলার যিকির করতে থাকে তাহলে তাঁর বড়ত্ব, তাঁর প্রতিপত্তি এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সামান্যতম বৃদ্ধি পাবে না। আর যদি নাউযুবিল্লাহ সারা জগত মিলে এ কথার অঙ্গীকার করে যে, আল্লাহ তা'আলার যিকির করবে না, আল্লাহ তা'আলাকে বিস্মৃত হবে, যিকির থেকে গাফেল থাকবে, গোনাহ্ কাজে লিপ্ত থাকবে, নাফরমানীর মধ্যে লিপ্ত থাকবে তাহলেও আল্লাহর বড়ত্ব এবং শ্রেষ্ঠত্বের মধ্যে সামান্যতম হ্রাস পাবে না। আল্লাহর মহান সত্ত্বা তো বেনিয়াজ, অমুখাপেক্ষী, আল্লাহুসসামাদ। তিনি আমাদের যিকির থেকেও অমুখাপেক্ষী, আমাদের সিজদা থেকেও অমুখাপেক্ষী, আমাদের তাসবীহ থেকেও অমুখাপেক্ষী, আমাদের যিকিরের-ও তাঁর কোনো প্রয়োজন নেই।
📄 আল্লাহ তা‘আলা থেকে গাফলত সমস্ত গোনাহের মূল
তাহলে যে, অধিকহারে আল্লাহ তা'আলার যিকির করতে বলা হচ্ছে? এর দ্বারা মূলত আমাদেরই লাভ। কারণ, দুনিয়াতে যতো অপরাধ, যতো অপকর্ম এবং যতো মন্দ কাজ সংঘটিত হচ্ছে, এর সবগুলোর মূল যদি দেখা হয় তা হবে আল্লাহ তা'আলার থেকে গাফলত। যখন মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে যায়, আল্লাহকে ভুলে যায়, তখন গোনাহে লিপ্ত হয়। তবে যদি আল্লাহ তা'আলার স্মরণ অন্তরে থাকে, আল্লাহর যিকির অন্তরে থাকে এবং আল্লাহর সামনে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত থাকে যে, একদিন আল্লাহ তা'আলার সামনে আমাকে দাঁড়াতে হবে, তখন আর গোনাহ সংঘটিত হবে না।
চোর যখন চুরি করে তখন সে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকে। আল্লাহর স্মরণ যদি তার অন্তরে থাকতো তাহলে চুরি করতো না। ব্যভিচারকারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকে। আল্লাহর স্মরণ থেকে যদি গাফেল না হতো তাহলে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে পারতো না। এ বিষয়টিই হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেছেন,
তাহলে যে, অধিকহারে আল্লাহ তা'আলার যিকির করতে বলা হচ্ছে? এর দ্বারা মূলত আমাদেরই লাভ। কারণ, দুনিয়াতে যতো অপরাধ, যতো অপকর্ম এবং যতো মন্দ কাজ সংঘটিত হচ্ছে, এর সবগুলোর মূল যদি দেখা হয় তা হবে আল্লাহ তা'আলার থেকে গাফলত। যখন মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে যায়, আল্লাহকে ভুলে যায়, তখন গোনাহে লিপ্ত হয়। তবে যদি আল্লাহ তা'আলার স্মরণ অন্তরে থাকে, আল্লাহর যিকির অন্তরে থাকে এবং আল্লাহর সামনে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত থাকে যে, একদিন আল্লাহ তা'আলার সামনে আমাকে দাঁড়াতে হবে, তখন আর গোনাহ সংঘটিত হবে না।
চোর যখন চুরি করে তখন সে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকে। আল্লাহর স্মরণ যদি তার অন্তরে থাকতো তাহলে চুরি করতো না। ব্যভিচারকারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকে। আল্লাহর স্মরণ থেকে যদি গাফেল না হতো তাহলে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে পারতো না। এ বিষয়টিই হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেছেন,
📄 আল্লাহ কোথায় গেছেন!
لَا يَرْنِي الزَّانِي حِينَ يَرْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الشَّارِبُ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ
অর্থাৎ, যখন ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তখন সে ঈমানদার থাকে না।
সে সময় ঈমানদার না থাকার অর্থ হলো, সে সময় তার ঈমান উপস্থিত থাকে না। আল্লাহ তা'আলার স্মরণ এবং তাঁর যিকির উপস্থিত থাকে না। যখন চোর চুরি করে তখন সে ঈমানদার থাকে না। অর্থাৎ, ঐ সময় আল্লাহ তা'আলার স্মরণ তার অন্তরে থাকে না। যদি ঐ সময় আল্লাহ তা'আলার স্মরণ অন্তরে থাকতো তাহলে সে গোনাহে লিপ্ত হতো না। এ জন্য সমস্ত মন্দ কাজ, সমস্ত অন্যায় অত্যাচার, সমস্ত দুর্নীতি যা দুনিয়াতে ঘটছে সব কিছুর ভিত্তি হলো আল্লাহর যিকির থেকে গাফলতি।
হযরত ওমর ফারুক রাযি. একবার সফরে যাচ্ছিলেন। বনের মধ্যে সফর ছিলো। তখন বর্তমান যুগের মতো হোটেলের ব্যবস্থা ছিলো না। যখন ক্ষুধা লাগলো এবং পাথেয় শেষ হয়ে গেলো তখন তিনি জনপদ তালাশ করলেন। পাশে কোনো জনপদ থাকলে সেখানে গিয়ে খানা খাবেন। তালাশ করে দেখলেন ছাগলের একটি পাল বিচরণ করছে। তিনি নিকটে গিয়ে রাখালকে তালাশ করলেন। তার সঙ্গে দেখা করে বললেন, আমি মুসাফির। আমার ক্ষুধা লেগেছে। বকরীর দুধ বের করে আমাকে দাও এবং আমার থেকে তার দাম নিয়ে নাও। যাতে আমি দুধ পান করে নিজের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারি। এটা ঐ যামানার কথা যখন হযরত ওমর রাযি. অর্ধেক পৃথিবীর অধিক এলাকার শাসক ছিলেন, বাদশাহ ছিলেন। উত্তরে রাখাল বললো, জনাব! আমি আপনাকে অবশ্যই দুধ দিতাম। কিন্তু ব্যাপার হলো, এ ছাগলগুলো আমার নয়। এগুলো আমার মালিকের ছাগল। তিনি আমাকে শুধু চরানোর জন্য দিয়েছেন। এজন্য এ ছাগলগুলো আমার নিকট আমানত। দুধও আমার নিকট আমানত। এজন্য মালিকের অনুমতি ছাড়া এর দুধ দেওয়ার অধিকার আমার নেই। আমি অক্ষম। হযরত ওমর রাযি.-এর অন্তরে চিন্তা জাগলো এ রাখালের একটু পরীক্ষা নেই। হযরত ওমর রাযি. রাখালকে বললেন, আমি তোমাকে একটি ব্যবস্থা বলে দিচ্ছি। তুমি সেই অনুপাতে কাজ করলে তোমারও লাভ আমারও লাভ। রাখাল বললো সেটা কি? হযরত ওমর রাযি. বললেন, তুমি এক কাজ করো, একটা বকরী আমার কাছে বিক্রি করে তার মূল্য আমার থেকে নিয়ে নাও। এর দ্বারা আমার লাভ এই হবে যে, বকরীটাকে আমি সাথে রাখবো এবং যখন প্রয়োজন হবে তার দুধ পান করবো। আর তোমার লাভ এই হবে যে, তুমি বকরীর দাম পেয়ে যাবে। আর মালিক যখন জিজ্ঞাসা করবে বকরী কি হয়েছে? তখন তুমি বলবে, বাঘে নিয়ে গেছে। কারণ, এ ধরনের ঘটনা বনের মধ্যে ঘটেই থাকে। এজন্য সে বিশ্বাস করবে। এতে তোমারও কল্যাণ হবে, আমারও কল্যাণ হবে। রাখাল এ ব্যবস্থা শুনে সাথে সাথে বললো,
يَا هُذَا فَأَيْنَ اللَّهُ؟
'তাহলে আল্লাহ কোথায় গেছেন!"
অর্থাৎ, এসব কাজ করলে আমার মালিক তো দেখবে না, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তো দেখবেন। এসব কিছু মূলত মিথ্যা এবং ধোঁকা। আল্লাহর সামনে কি উত্তর দেবো?
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২৭৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৭, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৪৯, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৪৭৮৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৬৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯২৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৮৫৫
لَا يَرْنِي الزَّانِي حِينَ يَرْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الشَّارِبُ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ
অর্থাৎ, যখন ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তখন সে ঈমানদার থাকে না।
সে সময় ঈমানদার না থাকার অর্থ হলো, সে সময় তার ঈমান উপস্থিত থাকে না। আল্লাহ তা'আলার স্মরণ এবং তাঁর যিকির উপস্থিত থাকে না। যখন চোর চুরি করে তখন সে ঈমানদার থাকে না। অর্থাৎ, ঐ সময় আল্লাহ তা'আলার স্মরণ তার অন্তরে থাকে না। যদি ঐ সময় আল্লাহ তা'আলার স্মরণ অন্তরে থাকতো তাহলে সে গোনাহে লিপ্ত হতো না। এ জন্য সমস্ত মন্দ কাজ, সমস্ত অন্যায় অত্যাচার, সমস্ত দুর্নীতি যা দুনিয়াতে ঘটছে সব কিছুর ভিত্তি হলো আল্লাহর যিকির থেকে গাফলতি।
হযরত ওমর ফারুক রাযি. একবার সফরে যাচ্ছিলেন। বনের মধ্যে সফর ছিলো। তখন বর্তমান যুগের মতো হোটেলের ব্যবস্থা ছিলো না। যখন ক্ষুধা লাগলো এবং পাথেয় শেষ হয়ে গেলো তখন তিনি জনপদ তালাশ করলেন। পাশে কোনো জনপদ থাকলে সেখানে গিয়ে খানা খাবেন। তালাশ করে দেখলেন ছাগলের একটি পাল বিচরণ করছে। তিনি নিকটে গিয়ে রাখালকে তালাশ করলেন। তার সঙ্গে দেখা করে বললেন, আমি মুসাফির। আমার ক্ষুধা লেগেছে। বকরীর দুধ বের করে আমাকে দাও এবং আমার থেকে তার দাম নিয়ে নাও। যাতে আমি দুধ পান করে নিজের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারি। এটা ঐ যামানার কথা যখন হযরত ওমর রাযি. অর্ধেক পৃথিবীর অধিক এলাকার শাসক ছিলেন, বাদশাহ ছিলেন। উত্তরে রাখাল বললো, জনাব! আমি আপনাকে অবশ্যই দুধ দিতাম। কিন্তু ব্যাপার হলো, এ ছাগলগুলো আমার নয়। এগুলো আমার মালিকের ছাগল। তিনি আমাকে শুধু চরানোর জন্য দিয়েছেন। এজন্য এ ছাগলগুলো আমার নিকট আমানত। দুধও আমার নিকট আমানত। এজন্য মালিকের অনুমতি ছাড়া এর দুধ দেওয়ার অধিকার আমার নেই। আমি অক্ষম। হযরত ওমর রাযি.-এর অন্তরে চিন্তা জাগলো এ রাখালের একটু পরীক্ষা নেই। হযরত ওমর রাযি. রাখালকে বললেন, আমি তোমাকে একটি ব্যবস্থা বলে দিচ্ছি। তুমি সেই অনুপাতে কাজ করলে তোমারও লাভ আমারও লাভ। রাখাল বললো সেটা কি? হযরত ওমর রাযি. বললেন, তুমি এক কাজ করো, একটা বকরী আমার কাছে বিক্রি করে তার মূল্য আমার থেকে নিয়ে নাও। এর দ্বারা আমার লাভ এই হবে যে, বকরীটাকে আমি সাথে রাখবো এবং যখন প্রয়োজন হবে তার দুধ পান করবো। আর তোমার লাভ এই হবে যে, তুমি বকরীর দাম পেয়ে যাবে। আর মালিক যখন জিজ্ঞাসা করবে বকরী কি হয়েছে? তখন তুমি বলবে, বাঘে নিয়ে গেছে। কারণ, এ ধরনের ঘটনা বনের মধ্যে ঘটেই থাকে। এজন্য সে বিশ্বাস করবে। এতে তোমারও কল্যাণ হবে, আমারও কল্যাণ হবে। রাখাল এ ব্যবস্থা শুনে সাথে সাথে বললো,
يَا هُذَا فَأَيْنَ اللَّهُ؟
'তাহলে আল্লাহ কোথায় গেছেন!"
অর্থাৎ, এসব কাজ করলে আমার মালিক তো দেখবে না, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তো দেখবেন। এসব কিছু মূলত মিথ্যা এবং ধোঁকা। আল্লাহর সামনে কি উত্তর দেবো?
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২৭৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৭, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৪৯, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৪৭৮৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৬৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯২৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৮৫৫