📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 বৈধ বিনোদনের অনুমতি

📄 বৈধ বিনোদনের অনুমতি


অহেতুক আসর জমানো, যাকে বর্তমান পরিভাষায় গল্প-শল্প বলা হয়। কোনো দোস্তের সাথে সাক্ষাত হলো, ব্যস তাকে বললো, আসো, একটু গল্প করি। এই গল্পের আসর অবশ্যই মানুষকে গোনাহের দিকে নিয়ে যায়। হ্যাঁ, শরীয়ত আমাদেরকে অল্প-বিস্তর বিনোদনেরও অনুমতি দিয়েছে। বরং শুধু অনুমতিই নয় বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
رَوْحُوا الْقُلُوبَ سَاعَةً فَسَاعَةً
'আত্মাসমূহকে কিছু বিরতি দিয়ে আরাম দাও।”

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার উপর জীবন কোরবান করুন। আমাদের মেজাজ, আমাদের প্রকৃতি, আমাদের প্রয়োজন তাঁর চেয়ে বেশি আর কে চেনে? তিনি জানতেন, মানুষকে যদি বলা হয় আল্লাহর যিকির ছাড়া কিছু করো না, সারাক্ষণ কেবল যিকিরের মধ্যে মশগুল থাকো, তাহলে মানুষ তা করতে পারবে না। কারণ এরা তো ফেরেশতা নয়, এরা তো মানুষ। এদের কিছুটা আরামেরও প্রয়োজন রয়েছে। কিছুটা বিনোদনেরও প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য বিনোদনের উদ্দেশ্যে কোনো কথা বলা, হাসি মজাক করা শুধু জায়েযই নয়, বরং পছন্দনীয় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। কিন্তু এর মধ্যে অধিক ডুবে যাওয়া, এর জন্য ঘণ্টাকে ঘণ্টা বরবাদ করা, মূল্যবান সম্পদ নষ্ট করা তো মানুষকে অবশ্যই গোনাহের দিকে নিয়ে যাবে। এজন্য বলা হচ্ছে, তোমরা কম কথা বলার অভ্যাস করো, এটাও একটা মুজাহাদা。

টিকাঃ
১. কানযূর উম্মাল, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩৭, হাদীস নং ৫৩৫৪, কাশফুল খফা, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩৮৩, হাদীস নং ১৪০০, সবুলুল হুদা অর রশাদ ফী সীরাতিল খায়রিল 'ইবাদ, খণ্ড-৯, পৃষ্ঠা-৩৯৪, জামেউ বায়ানিল 'ইলমি ওয়া ফাযলিহী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৮, হাদীস নং ৪৮৩, জামেউল আহাদীস, খণ্ড-১৩, পৃষ্ঠা-১৪৮, হাদীস নং ১২৭৮৯

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মেহমানের সাথে কথা বলা সুন্নাত

📄 মেহমানের সাথে কথা বলা সুন্নাত


আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ.-এর নিকট এক ব্যক্তি আসতেন। সে কথা বলতে খুব পছন্দ করতো। যখনই আসতো তখনই এদিক সেদিকের কথা শুরু করে দিতো এবং থামতো না। আমাদের সব বুযুর্গেরই নিয়ম ছিলো যখন কোনো মেহমান তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসতো তাকে তারা ইকরাম করতেন, তার কথা শুনতেন এবং যথাসাধ্য তার চাহিদা পুরা করার চেষ্টা করতেন। একজন ব্যস্ত মানুষের জন্য এ কাজ খুব কঠিন। যাদের কাজ ব্যস্ততায় ভরা তারা বুঝবেন যে, এ কাজ কতো কঠিন। কিন্তু হাদীস শরীফে এসেছে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়ম এই ছিলো যে, যখন তাঁর নিকট কেউ সাক্ষাৎ করতে আসতো এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলতে আরম্ভ করতো তখন তিনি অন্যদিকে মুখ ফেরাতেন না। সে নিজে মুখ না ফেরানো পর্যন্ত তার কথা শুনতে থাকতেন। সুতরাং হাদীস শরীফের শব্দ হলো-
حَتَّى يَكُونَ هُوَ الْمُنْصَرِفُ
'সে নিজে চলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।”

এ কাজটি খুবই কঠিন। কারণ, কতক মানুষ লম্বা কথা বলতে অভ্যস্ত হয়। তাদের কথা পুরা মনযোগ সহকারে শোনা এক কঠিন কাজ। কিন্তু হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণে আমাদের বুযুর্গগণ আগমনকারীদের কথা শুনতেন এবং তাদেরকে পরিতৃপ্ত করতেন。

টিকাঃ
১. আশশামাইলুল মুহাম্মাদিয়া, ইমাম তিরমিযী কৃত, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩৭৭, হাদীস নং ৩৩১, কানযুল উম্মাল, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১৬৪, হাদীস নং ১৮৫৩৫, আশশিফা বি-তা'রীফি হুকুকিল মুস্তাফা, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১২০, দালাইলুন নুবুওয়্যাত, বাইহাকী কৃত, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২৬৯, শু'আবুল ঈমান, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৫৪, আল মু'জামুল কাবীর, তবরানী কৃত, খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-৩০

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ইসলাহের একটি পদ্ধতি

📄 ইসলাহের একটি পদ্ধতি


কিন্তু কোনো মানুষ ইসলাহের উদ্দেশ্যে আসলে তখন তাকে ধরতেন। মোটকথা, সে ব্যক্তি এসে কথা বলতে আরম্ভ করতো। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব বিনম্রভাবে তার কথা শুনতেন। একদিন সে ব্যক্তি এসে হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের নিকট বায়াতের আবেদন করলো যে, হযরত আমি আপনার সঙ্গে ইসলাহী সম্পর্ক করতে চাই। আমার জন্য কোনো ওযীফা এবং কোনো তাসবীহ বলে দিন। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব বললেন, তোমার জন্য কোনো ওযীফা এবং কোনো তাসবীহ নেই। তোমার কাজ হলো, জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করো। এর উপর তালা লাগাও। তুমি যে সবসময় কথা বলতে থাকো, তোমার জিহ্বা থামে না, এটা ঠিক নয়। আগামীতে যখনই আসবে একেবারে চুপ করে বসে থাকবে। কোনো কথাই মুখ দিয়ে বের করবে না। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ঐ ব্যক্তির উপর তো কিয়ামত বয়ে যায়। তার জন্য চুপ করে বসে থাকার এই মুজাহাদা হাজার মুজাহাদার চেয়েও কঠিন ছিলো। এখন বার বার তার মনের মধ্যে কথা বলার চাহিদা সৃষ্টি হয়, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে সে চুপ থাকতে বাধ্য হয়। এই চিকিৎসার ফলে আল্লাহ তা'আলা তার তরীকতের পুরো পথ অতিক্রম করিয়ে দেন। কারণ, হযরত ওয়ালেদ ছাহেব বুঝেছিলেন যে, তার মূল রোগ এটাই। যখন এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আসবে তখন সব কাজ সহজ হয়ে যাবে। সুতরাং কিছুদিন পর আল্লাহ তা'আলা তাকে অনেক উপরে পৌছে দেন। প্রত্যেকের রোগ ভিন্ন হয়ে থাকে। এজন্য মুরীদের অবস্থা দেখে শাইখ চিকিৎসা নির্ধারণ করেন যে, তার জন্য কোন চিকিৎসা উপকারী। যাইহোক, কথা কম বলাও একটা মুজাহাদা।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 কম ঘুমানোও মুজাহাদা

📄 কম ঘুমানোও মুজাহাদা


তৃতীয় মুজাহাদা হলো কম ঘুমানো। পূর্ব যুগে না ঘুমানোর মুজাহাদা করা হতো। সুতরাং প্রসিদ্ধ আছে যে, ইমাম আবু হানিফা রহ. ইশার ওযু দিয়ে ফজরের নামায পড়তেন। কিন্তু বুযুর্গগণ বলেন, কম ঘুমানোর সীমানা হলো মানুষের দিন রাতে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা অবশ্যই ঘুমানো উচিত। ৬ ঘণ্টার চেয়ে কম করবে না। অন্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং হযরত থানভী রহ. বলতেন, অসময়ে ঘুমানোর যদি অভ্যাস থাকে তাহলে তা বন্ধ করে দিবে। এটাও কম ঘুমানোর অন্তর্ভুক্ত। এটাও মুজাহাদা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00