📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ওজনও কম হলো এবং আল্লাহও রাজী হলেন

📄 ওজনও কম হলো এবং আল্লাহও রাজী হলেন


এ বিষয়টি আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. এবং হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব রহ.-এর নিকট অনেক বার শুনেছি। ওয়াযের মধ্যেও পড়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের লেখা চোখে পড়লো। তাতে তিনি লিখেছেন,
আজকাল মানুষ নিজেদের শরীরের ওজন কমানের জন্য বিভিন্ন প্রকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। কেউ রুটি ছেড়ে দেয়, কেউ বা দুপুরে খানা ছেড়ে দেয়। বর্তমান যুগের পরিভাষায় যাকে ডায়েটিং বলা হয়। ইউরোপে এর খুব প্রচলন। এটা সেখানে মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করেছে। এর উদ্দেশ্য হয় দেহের ওজন কমানো। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে ঔষধ খেয়ে ওজন কমানোর প্রচলন খুব বেশি। এর ফলে অনেক সময় মানুষ মারাও যায়।

এরপর ঐ ডাক্তার লিখেছেন, আমার মতে ওজন কমানোর সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি এই যে, মানুষ কোনো বেলার খানা খাওয়া একেবারে ছেড়ে দিবে না এবং পরিমাণ কম করবে না, বরং সারা জীবন এই নিয়ম মেনে চলবে যে, ক্ষুধার চেয়ে একটু কম খেয়ে খাওয়া বন্ধ করে দিবে। এরপর ঐ ডাক্তার ঠিক একথাই লিখেছেন যে, খানা খেতে খেতে যখন এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা দেয় যে, আর খাবো কি খাবো না, ঐ সময় খাওয়া ছেড়ে দিবে। যে ব্যক্তি এ অনুপাতে কাজ করবে তার কখনোই শরীরে ওজন বৃদ্ধি পাবে না এবং পাকস্থলীর রোগ হবে না এবং তার ডায়েটিং করার প্রয়োজনও দেখা দিবে না।

এ কথাটি হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. অনেক বছর পূর্বে লিখে গেছিলেন। এখন ওজন কমানোর জন্য এর উপর আমল করুক বা আল্লাহ তা'আলাকে রাজী করার জন্য এ মশওয়ারা মোতাবেক কাজ করুক। কিন্তু নফসের চিকিৎসাস্বরূপ আল্লাহ তা'আলাকে খুশি করার জন্য যদি এ কাজ করেন তাহলে এ কাজে আপনি সফল হবেন, পুরস্কার পাবেন এবং ওজনও কমে যাবে। আর যদি শুধু ওজন কমানোর জন্য এ কাজ করেন তাহলে ওজন হয়তো কমবে, কিন্তু ছওয়াব পাবেন না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 প্রবৃত্তিকে স্বাদ উপভোগ থেকে দূরে রাখতে হবে

📄 প্রবৃত্তিকে স্বাদ উপভোগ থেকে দূরে রাখতে হবে


হযরত থানভী রহ. আমাদের জন্য কাজটি কতো সহজ করে দিয়েছেন। অন্যথায় পূর্বের যুগে সূফীয়ায়ে কেরাম এ উদ্দেশ্যে কতো ধরনের সাধনা যে করাতেন তার শেষ নেই। সূফীয়ায়ে কেরামের নিকট লঙ্গরখানা থাকতো। লঙ্গরখানায় ঝোল পাকানো হতো। খানকার মুরীদদের জন্য হুকুম ছিলো, এক পেয়ালা ঝোলের মধ্যে আরো এক পেয়ালা পানি মিশিয়ে তারপর খাবে। যাতে নফসকে স্বাদ উপভোগের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করতে পারে। এছাড়া তাদের দ্বারা উপবাসও করানো হতো। কিন্তু ঐ যামানা ছিলো ভিন্ন। আর বর্তমান যামানা ভিন্ন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে যেমন যুগ পরিবর্তনের ফলে চিকিৎসার পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটে, একইভাবে হাকীমুল উম্মত (কু.সি.) আমাদের যুগ ও প্রকৃতি অনুপাতে ব্যবস্থাপত্র নির্ধারণ করেছেন। তিনি আমাদের জন্য অল্প খাওয়ার এই ব্যবস্থাপত্র নির্ধারণ করেছেন। যার দ্বারা কম আহার করার উদ্দেশ্য লাভ হবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 অধিক আহারের মাতলামী

📄 অধিক আহারের মাতলামী


এমনভাবে পেট পুরে খাওয়া যে, পেটে আর কোনো জায়গাই অবশিষ্ট থাকে না, ফিকহের দৃষ্টিতে যদিও নাজায়েয ও হারাম নয়, কিন্তু এটা মানুষের জন্য দৈহিক ও আত্মিক অনেক রোগ সৃষ্টির কারণ। কারণ, যতো নাফরমানী ও গোনাহের কাজ আছে, সব ভরাপেটে মাথায় আসে। পেট ভরা না থাকলে গোনাহ ও নাফরমানীর কথা মাথায় ঢুকবে না। এজন্য হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, পরিপূর্ণ খাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচাবে। এরই নাম হলো কম খাওয়ার মুজাহাদা।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 জিহ্বার গোনাহ থেকে বেঁচে যাবে

📄 জিহ্বার গোনাহ থেকে বেঁচে যাবে


দ্বিতীয় বিষয় হলো, কম কথা বলা। সকাল থেকে নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের জিহ্বা কেঁচির মতো চলতেই থাকে। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, যা মুখে আসছে; বলছি। এটা ঠিক নয়। এ জন্য জিহ্বাকে লাগাম না লাগানো এবং নিয়ন্ত্রণ না করা পর্যন্ত সে গোনাহ করতে থাকবে। মনে রাখবেন! হাদীস শরীফে এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'মানুষকে অধঃমুখে জাহান্নামে ফেলার জিনিস হলো এই জিহ্বা।" এ জন্য জিহ্বাকে মুক্ত ছাড়া হলে এবং তাকে বাধা দেওয়া না হলে এ জিহ্বা মিথ্যা বলবে, গীবত করবে, মানুষকে কষ্ট দিবে। কথা দ্বারা মানুষকে কষ্ট দিবে। এসব গোনাহের কারণে তাকে জাহান্নামে যেতে হবে。

জিহ্বার গোনাহ থেকে বেঁচে যাবে

এ জন্য মানুষকে কথা কম বলার মুজাহাদা করতে হয়। জিহ্বা দিয়ে অহেতুক কথা বলবে না। প্রয়োজন মোতাবেক কথা বলবে এবং কথা বলার পূর্বে চিন্তা করবে যে, এ কথা বলা আমার জন্য সমীচীন কি না? এটা তো কোনো গোনাহের কথা নয়? বিনা কারণে কথা বলা থেকে বিরত থাকবে। এভাবে ধীরে ধীরে মানুষ কথা কম বলায় অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তখন কথা বলতে মন চাইবে, কিন্তু নিজের কামনা বাসনাকে দমন করার ফলে তার জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে, এখন সে মিথ্যা বলা, গীবত করা এবং অন্যান্য গোনাহে লিপ্ত হবে না。

টিকাঃ
১. আল মু'জামুল কাবীর, খণ্ড-১৫, পৃষ্ঠা-১৪, হাদীস নং ১৬৬২৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00