📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 জায়েয কাজ থেকে বিরত থাকাও মুজাহাদা

📄 জায়েয কাজ থেকে বিরত থাকাও মুজাহাদা


প্রকৃত মুজাহাদা তো হলো, নাজায়েয ও শরীয়ত বিরোধী কাজ থেকে নিজেকে নিজে বাঁচানো এবং নিজের উপর চাপ সৃষ্টি করে তা থেকে বিরত থাকা। কিন্তু যেহেতু আমাদের প্রবৃত্তি স্বাদ, কামনা-বাসনা ও আরাম-আয়েশে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং এতো বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে, তাকে যদি আল্লাহর পথের দিকে এবং শরীয়তের দিকে ঘুরাতে চাওয়া হয় তাহলে সহজে সে ঘুরবে না, বরং কষ্ট হবে। এ জন্য এই নফসকে বশে আনার জন্য, আয়ত্ত করার জন্য এবং আল্লাহ পাকের বাতানো বিধানের অধীন বানানোর জন্য কিছু বৈধ ও জায়েয কাজ থেকেও তাকে বিরত রাখতে হবে। কারণ, জায়েয কাজ থেকে বিরত থাকলে নফস স্বাদ ত্যাগ করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। তখন তার জন্য নাজায়েয কাজ থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যাবে। সূফীয়ায়ে কেরামের পরিভাষায় একেও 'মুজাহাদা' বলা হয়।
যেমন খুব পেট পুরে খাওয়া গোনাহের কাজ নয়, কিন্তু সূফীয়ায়ে কেরাম বলেন, খুব পেট পুরে খেয়ো না। কারণ, এর ফলে নফস গাফেল হয়ে যাবে। স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। নফসকে অভ্যস্ত করার জন্য কিছুটা কম খাও, এটাও 'মুজাহাদা'।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 জায়েয কাজে মুজাহাদা কেন?

📄 জায়েয কাজে মুজাহাদা কেন?


হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব ছাহেব রহ.-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে যে, হযরত এটা কেমন কথা যে, সূফীয়ায়ে কেরাম কতক জায়েয কাজেও বাধা দিয়ে থাকেন এবং সেগুলো ছাড়িয়ে থাকেন? অথচ আল্লাহ তা'আলা সেগুলোকে জায়েয সাব্যস্ত করেছেন। হযরত উত্তরে বললেন, দেখো! এর দৃষ্টান্ত এমন, যেমন এই কিতাবের পৃষ্ঠা। এটাকে মোড়াও। সে মোড়ালো। এর পর বললেন, এটাকে সোজা করো। এখন ঐ পৃষ্ঠা আর সোজা হচ্ছিলো না। অনেক চেষ্টা করা হলো কিন্তু ঐটা আবারো ঘুরে যাচ্ছিলো। তখন হযরত বললেন, একে সিধা করার পদ্ধতি এই যে, পৃষ্ঠাটাকে উল্টা দিকে মোড়াও। তাহলে সে সিধা হয়ে যাবে, সোজা হয়ে যাবে। অতঃপর বললেন, এই নফসের কাগজও গোনাহের দিকে ঘুরে আছে, নাফরমানীর দিকে ঘুরে আছে, একে যদি সোজা করতে চাও তাহলে সোজা হবে না। একে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দাও, অল্প একটু জায়েয কাজও ছাড়িয়ে দাও। যার ফলে এটা সোজা হয়ে যাবে এবং পথে আসবে। এটাও মুজাহাদা।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 চারটি মুজাহাদা

📄 চারটি মুজাহাদা


সূফীয়ায়ে কেরামের নিকট চারটি জিনিসের মুজাহাদা খুব বিখ্যাত।
১. খানা কম খাওয়া।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 কম খাওয়া একটি মুজাহাদা

📄 কম খাওয়া একটি মুজাহাদা


২. কথা কম বলা।
৩. কম ঘুমানো।
৪. মানুষের সঙ্গে কম মেলামেশা করা।

এক নম্বর, কম খাওয়া। পূর্বের যুগের সূফীয়ায়ে কেরাম কম খাওয়ার ব্যাপারে অনেক সাধনা করতেন। মুজাহাদা করাতেন। এমনকি উপবাসে থাকতে হতো। কিন্তু হযরত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, বর্তমান যামানা এই ধরনের মুজাহদার উপযোগী নয়। মানুষ এমনিতেই কমজোর। এখন যদি মানুষ কম খায় তাহলে আরো রোগ ব্যাধি দেখা দিবে। ফলে আগে যেসব ইবাদত করতো তা থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য তিনি বলেন, এ যুগে মানুষ যদি একটি নিয়ম যথারীতি মেনে চলে তাহলে কম খাওয়ার উদ্দেশ্য লাভ হবে। তা হলো, খানা খাওয়ার সময় এমন একটা অবস্থা হয় যখন মনের মধ্যে দ্বিধা দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, আর খাবো কি খাবো না? ঐ দ্বিধা দ্বন্দ্ব যখন দেখা দিবে তখনই খানা ছেড়ে দিবে, এতে করে কম খাওয়ার মূল লক্ষ্য অর্জিত হবে।

এই যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা দেয় যে, আর খাবো কি খাবো না এটা মূলত বিবেক ও স্বভাবের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। কারণ, খানা খেতে মজা লাগছে তাই নফস আরো মজা নিতে চায়। আর বিবেক চায়, অতিরিক্ত খানা আর না খাক। এখন অতিরিক্ত খানা খেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবৃত্তি ও বিবেকের মাঝে তখন লড়াই হয়ে থাকে। এই লড়াইয়ের নাম হলো 'দ্বিধা-দ্বন্দ্ব'। তাই এমন ক্ষেত্রে নফসের চাহিদার বিরুদ্ধাচরণ করে বিবেকের চাহিদা অনুপাতে কাজ করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00