📄 সে কাজ সহজ হয়ে যাবে
আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলা কীভাবে তার সঙ্গী হয়ে যান? এভাবে যে, শুরুতে নফসের বিরোধিতা করতে খুব কষ্ট মনে হয়। মনের বিরুদ্ধে কাজ করতে খুব কঠিন মনে হয়। কিন্তু যখন আল্লাহ তা'আলার উপর ভরসা করে তাঁকে রাজি-খুশি করার জন্য উঠে পড়ে লাগবে, তখন ঐ পথই তার জন্য সহজ হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা তাকে সহজ করে দেন। এক ব্যক্তির নামাযের অভ্যাস নেই। নামায পড়তে তার খুব কষ্ট হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া তার জন্য কঠিন লাগে। কিন্তু সে যদি তার মনের বিরুদ্ধে নামায পড়তে পড়তে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন নামায পড়তে কোনো প্রকার কষ্ট হয় না। বরং তাকে যদি বলা হয় যে, হাজার টাকা নাও আর আজকের নামায ছেড়ে দাও। বলুন, সে কি তা ছাড়তে কখনো রাজী হবে? মোটেই না। যে ব্যক্তি একবার নামাযে অভ্যস্ত হয়ে যায়, সে কখনো হাজার টাকার বিনিময়েও এক ওয়াক্ত নামায ছাড়তে রাজী হবে না। এ কারণে যে, যেই কাজকে প্রথমে সে মুশকিল মনে করছিলো, কিছু দিনের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য সে কাজ সহজ করে দিয়েছেন।
📄 সম্মুখে অগ্রসর হও
পুরো দ্বীনের একই অবস্থা। মানুষ যদি বসে বসে চিন্তা করতে থাকে, তাহলে তা তার জন্য কঠিন হয়ে দেখা দিবে। কিন্তু দ্বীনের পথে চলতে আরম্ভ করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে সহজ করে দেন। হযরত থানভী রহ. এর একটি দৃষ্টান্ত দিতেন। একটি লম্বা সড়ক সোজা সামনে চলে গেছে। তার দুই দিকে গাছের সারি দাঁড়ানো। ডান দিকেও, বাম দিকেও। কোনো ব্যক্তি যদি ঐ সড়কের মাথায় দাঁড়িয়ে দেখে তাহলে সে দেখতে পাবে গাছের দুই সারি সামনে গিয়ে একত্রিত হয়ে গেছে এবং সামনে পথ রুদ্ধ। কোনো নির্বোধ ব্যক্তি যদি মনে করে যে, যেহেতু সামনে গিয়ে গাছের সারি পরস্পরে মিলিত হয়ে গেছে তাই এ সড়কের উপর দিয়ে চলা সম্ভব নয়। তাহলে এ ব্যক্তি কখনোই সড়ক অতিক্রম করতে সক্ষম হবে না এবং গন্তব্যে পৌছতেও সক্ষম হবে না। একমাত্র সেই ব্যক্তিই গন্তব্যে পৌছতে সক্ষম হবে, যে ব্যক্তি পথ বন্ধ দেখা সত্ত্বেও সম্মুখে অগ্রসর হবে। কারণ, সম্মুখে পা বাড়ালে সে দেখতে পাবে যে, বাস্তবে রাস্তা বন্ধ নয়, বরং চোখ তাকে ধোঁকা দিচ্ছিলো। সে যতো সম্মুখে অগ্রসর হতে থাকবে ততো পথ উন্মুক্ত হতে থাকবে। এ জন্য দ্বীনের পথে যারা চলতে চায় আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলেন, দূর থেকে কঠিন মনে করে বসে পড়ো না। আল্লাহর উপর ভরসা করে সম্মুখে পা বাড়াও। সম্মুখে অগ্রসর হলে আল্লাহ তা'আলা রাস্তা সহজ করে দিবেন। কিন্তু সবসময় হিম্মত করে কাজ করার প্রয়োজন হবে এবং মনের বিরুদ্ধে কাজ করার সংকল্প করতে হবে। এরই নাম হলো 'মুজাহাদা'।
📄 জায়েয কাজ থেকে বিরত থাকাও মুজাহাদা
প্রকৃত মুজাহাদা তো হলো, নাজায়েয ও শরীয়ত বিরোধী কাজ থেকে নিজেকে নিজে বাঁচানো এবং নিজের উপর চাপ সৃষ্টি করে তা থেকে বিরত থাকা। কিন্তু যেহেতু আমাদের প্রবৃত্তি স্বাদ, কামনা-বাসনা ও আরাম-আয়েশে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং এতো বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে, তাকে যদি আল্লাহর পথের দিকে এবং শরীয়তের দিকে ঘুরাতে চাওয়া হয় তাহলে সহজে সে ঘুরবে না, বরং কষ্ট হবে। এ জন্য এই নফসকে বশে আনার জন্য, আয়ত্ত করার জন্য এবং আল্লাহ পাকের বাতানো বিধানের অধীন বানানোর জন্য কিছু বৈধ ও জায়েয কাজ থেকেও তাকে বিরত রাখতে হবে। কারণ, জায়েয কাজ থেকে বিরত থাকলে নফস স্বাদ ত্যাগ করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। তখন তার জন্য নাজায়েয কাজ থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যাবে। সূফীয়ায়ে কেরামের পরিভাষায় একেও 'মুজাহাদা' বলা হয়।
যেমন খুব পেট পুরে খাওয়া গোনাহের কাজ নয়, কিন্তু সূফীয়ায়ে কেরাম বলেন, খুব পেট পুরে খেয়ো না। কারণ, এর ফলে নফস গাফেল হয়ে যাবে। স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। নফসকে অভ্যস্ত করার জন্য কিছুটা কম খাও, এটাও 'মুজাহাদা'।
📄 জায়েয কাজে মুজাহাদা কেন?
হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব ছাহেব রহ.-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে যে, হযরত এটা কেমন কথা যে, সূফীয়ায়ে কেরাম কতক জায়েয কাজেও বাধা দিয়ে থাকেন এবং সেগুলো ছাড়িয়ে থাকেন? অথচ আল্লাহ তা'আলা সেগুলোকে জায়েয সাব্যস্ত করেছেন। হযরত উত্তরে বললেন, দেখো! এর দৃষ্টান্ত এমন, যেমন এই কিতাবের পৃষ্ঠা। এটাকে মোড়াও। সে মোড়ালো। এর পর বললেন, এটাকে সোজা করো। এখন ঐ পৃষ্ঠা আর সোজা হচ্ছিলো না। অনেক চেষ্টা করা হলো কিন্তু ঐটা আবারো ঘুরে যাচ্ছিলো। তখন হযরত বললেন, একে সিধা করার পদ্ধতি এই যে, পৃষ্ঠাটাকে উল্টা দিকে মোড়াও। তাহলে সে সিধা হয়ে যাবে, সোজা হয়ে যাবে। অতঃপর বললেন, এই নফসের কাগজও গোনাহের দিকে ঘুরে আছে, নাফরমানীর দিকে ঘুরে আছে, একে যদি সোজা করতে চাও তাহলে সোজা হবে না। একে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দাও, অল্প একটু জায়েয কাজও ছাড়িয়ে দাও। যার ফলে এটা সোজা হয়ে যাবে এবং পথে আসবে। এটাও মুজাহাদা।