📄 দুনিয়াবী কাজে মুজাহাদা
দ্বীনের কাজ মুজাহাদা ছাড়া চলে না, বরং দুনিয়ার কাজও মুজাহাদা ছাড়া হয় না। কোনো ব্যক্তি যদি জীবিকা অর্জন করতে চায় তার জন্য তাকে দৌড়-ঝাঁপ করতে হয়। তার জন্য তাকে নিজের প্রবৃত্তির চাহিদা দমন করতে হয়, নিষ্পেষিত করতে হয়। কারণ প্রবৃত্তির চাহিদা হলো ঘরে বসে আরামে শুয়ে থাকা। কিন্তু সে চিন্তা করে আমি যদি শুয়ে থাকি তাহলে জীবিকা অর্জন করবো কি করে? উপার্জন করবো কি করে?
📄 শীতকাল থেকে মুজাহাদার অভ্যাস গড়া
শিশুকাল থেকেই সন্তানকে মুজাহাদার অভ্যাস গড়তে হয়। শিশুকে প্রথমে তার মনের বিরুদ্ধে পড়ার জন্য পাঠানো হয়। পড়তে যেতে তার মন চায় না, কিন্তু তাকে তার মনের বিরুদ্ধে পড়ার জন্যে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এটা মুজাহাদা। এজন্য শিক্ষা অর্জনের জন্য, জীবিকা উপার্জনের জন্য, বরং দুনিয়ার সমস্ত উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মানুষকে নিজের মনের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়। কোনো মানুষ যদি চিন্তা করে যে, আমি আমার মনের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করবো না, তাহলে সে না দুনিয়ার কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে, আর না দ্বীনের কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।
📄 জান্নাতে মুজাহাদা থাকবে না
আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলা তিনটি জগত সৃষ্টি করেছেন। একটি জগত এমন, যেখানে আপনার সব চাহিদা পুরা হবে। সেখানে আপনার চাহিদার বিরুদ্ধে কিছু করার প্রয়োজন হবে না। মন যা চাইবে তাই হবে। সেখানে মানুষ নিজের মন মোতাবেক কাজ করার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্বাধীন থাকবে। সেখানে তাকে সব সুযোগ দেওয়া হবে। সেই জগতের নাম জান্নাত। যার সম্পর্কে কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُوْنَ
'যা কিছু তোমাদের মন চাইবে তা পাবে এবং যা কিছু তোমরা দাবী করবে তাও লাভ করবে।"
কতক বর্ণনায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে যে, বসে বসে মন চাইলো আনারের জুস পান করবো। এখন সেখানে না আনার আছে, না আনারের গাছ আছে, না জুস বের করার লোক আছে, কিন্তু বাস্তবে ঘটবে এই যে, যখন আপনার মনে জুস পান করার চিন্তা জাগবে সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলার কুদরতে আনারের জুস বের হয়ে আপনার নিকট পৌছে যাবে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে এই ক্ষমতা দান করবেন যে, যেই জিনিস মন চাইবে তাই লাভ হবে। সেখানে আপনার কোনো চাহিদা দমন করার প্রয়োজন হবে না। কোনো বাসনার বিরুদ্ধাচরণ করার প্রয়োজন হবে না। কোনো প্রকার মুজাহাদার প্রয়োজন হবে না। সেখানে আপনার কোনো বাসনা নিষ্পেষিত করা, কোনো চাহিদা দমন করা, অথবা কোনো বাসনার বিরুদ্ধাচরণ করার প্রয়োজন হবে না। এককথায়, কোনো প্রকার মুজাহাদার-ই প্রয়োজন হবে না। এই জগত হলো জান্নাত। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে নিজ দয়ায় সেই জগত দান করুন। আমীন।
টিকাঃ
১. সূরা হামীম সাজদা, আয়াত-৩১
📄 জাহান্নামের জগত
দ্বিতীয় জগত এর সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে সব কাজ মনের বিরুদ্ধে হবে। সব কাজ দুঃখ কষ্ট দিবে। সব কাজ বেদনায় লিপ্ত করবে। সব কাজে বিপদ হবে। কোনো আরাম, কোনো শান্তি, কোনো সন্তুষ্টি ও কোনো আনন্দ থাকবে না। তা হলো দোযখের জগত। আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক মুসলিমকে তা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।