📄 জাহান্নামের সবচে’ হালকা আযাব
এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে হালকা আযাব যে ব্যক্তির হবে তা হবে এই যে, তার পায়ের তলায় দুটি অঙ্গার রেখে দেওয়া হবে। কিন্তু তার তীব্রতা এতো বেশি হবে যে, এর ফলে তার মগজ বলকাইতে থাকবে। আর সে ব্যক্তি মনে করবে হয়তো বা আমাকেই সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অথচ তাকে সবচেয়ে হালকা আযাব দেওয়া হচ্ছে।'
কতক বর্ণনায় এসেছে এই আযাব হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আবু তালিবের হবে। কারণ তিনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনেক সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঈমান আনেননি। এজন্য তাকে এই শাস্তি দেওয়া হবে। আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন।
মোটকথা, এই হাদীস দ্বারা এ কথা বলা উদ্দেশ্য যে, যখন সবচেয়ে হালকা আযাবের কারণে এই অবস্থা হবে যে, ঐ অঙ্গারের পরিণতিতে সে ব্যক্তির মগজ টগবগ করতে থাকবে তাহলে যার জন্য কঠিন আযাবের ধমকি আছে তার অবস্থা কি হবে? জাহান্নামের এই আযাবের কথা মানুষ মাঝে মাঝে চিন্তা করবে তাহলে এর ফলে মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি হবে এবং অন্তরে তাকওয়া বদ্ধমূল হবে。
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০৭৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬১, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫২৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৫০৪
📄 জাহান্নামীদের স্তর
এক হাদীস শরীফে জাহান্নামীদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কতক জাহান্নামীর অবস্থা এই হবে যে, জাহান্নামের আগুন তার গিরা পর্যন্ত পৌছবে। যে ব্যক্তির শুধু তালুর নিচে অঙ্গার রেখে দেওয়া হবে তার অবস্থা উপরের হাদীসে শুনলেন, তাহলে যার আগুন গিরা পর্যন্ত পৌছবে তার কি অবস্থা হবে? আর কতক জাহান্নামী এমন হবে যে, জাহান্নামের আগুন তার হাঁটু পর্যন্ত পৌছবে। আর কতক জাহান্নামী এমন হবে যে, আগুন তার কোমর পর্যন্ত পৌছবে এবং কতক এমন হবে যে, তার পাঁজর পর্যন্ত আগুন পৌছবে। জাহান্নামীদের এভাবে বিভিন্ন স্তর হবে। আল্লাহ তা'আলা আপন দয়ায় আমাদের সকলকে তা থেকে হেফাজত করুন।
📄 হাশরের ময়দানে মানুষের অবস্থা
এটা তো হলো জাহান্নামের অবস্থা, কিন্তু জাহান্নামে যাওয়ার পূর্বে মানুষ যখন হাশরের ময়দানে অবস্থান করবে তখন কি অবস্থা হবে এ সম্পর্কে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষ রাব্বুল আলামীনের সামনে দন্ডায়মান হবে, এমনকি এক মানুষের কানের অর্ধেক পর্যন্ত ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবে। যেন গরমের তীব্রতার কারণে এতো বেশি ঘাম বের হবে যে, তার কানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌছে যাবে। অন্য এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন মানুষের এ পরিমাণ ঘام প্রবাহিত হবে যে, তা সত্তর হাত মাটির নিচ পর্যন্ত চলে যাবে। আর ঐ ঘাম মানুষকে ঢেকে নিবে এমনকি তার কান পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।'
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৭৯৮
📄 জাহান্নামের বিশালতা
অপর এক রেওয়ায়েতে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, একবার আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে বসা ছিলাম। এমন সময় তিনি একটি জিনিস পড়ার আওয়াজ পেলেন। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি জানো এটা কিসের পতনের আওয়াজ? আমরা নিবেদন করলাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন, আজ থেকে সত্তর বছর পূর্বে একটি পাথর জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো, আজ সেই পাথর তার তলদেশে পৌছলো। এটা সেই পাথর পড়ার আওয়াজ।'
পূর্বের মানুষ একে অতিরঞ্জন মনে করতো যে, সেই পাথর সত্তর বছর ধরে চলে এর তলদেশে পৌছেছে! কিন্তু এখন সাইন্সের উন্নতি হয়েছে। সুতরাং সাইন্স বলে, অনেক নক্ষত্র এমন রয়েছে যা সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে তার আলো পৃথিবীর দিকে আসছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই আলো পৃথিবীতে এসে পৌছতে পারেনি। যখন আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টির বিশালতা এই পরিমাণ তাহলে এতে অস্বাভাবিক কি আছে যে, একটি পাথর জাহান্নামের মধ্যে সত্তর বছর সফর করে তার তলদেশে পৌঁছবে। মোটকথা, এই হাদীস দ্বারা জাহান্নামের বিশালতা বলা উদ্দেশ্য। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে জাহান্নাম থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
এসব হাদীসের সারকথা হলো, মানুষ মাঝে মধ্যে নিজের মৃত্যু এবং জান্নাত জাহান্নামের এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করবে। এতে করে ধীরে ধীরে আত্মা বিগলিত হবে এবং অন্তরে ভয় সৃষ্টি হবে। এর ফলে নেক আমল করা সহজ হবে এবং গোনাহ ছাড়া সহজ হবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলের অন্তরে এই ভয় সৃষ্টি করে দিন এবং সমস্ত গোনাহ থেকে বাঁচার হিম্মত এবং তাওফীক দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعُلَمِينَ
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫০৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৪৮৪