📄 নির্জনে আল্লাহর ভয়
পুলিশের ভয়, আইনের ভয়, শাস্তির ভয় বা জেলের ভয় এমন জিনিস যা শুধুমাত্র অন্য মানুষের সামনে অপরাধ করতে বিরত রাখতে পারে। কিন্তু যখন আল্লাহর ভয় অন্তরে স্থান করে নেয় তখন বনের নির্জনে এবং রাতের অন্ধকারে, যখন আর কেউ দেখার থাকে না, সেখানেও সেই ভয় মানুষকে গোনাহ থেকে বিরত রাখে। মনে করুন! রাতের অন্ধকার বিরাজ করছে, বনের নির্জনতা বিরাজ করছে, দেখার মতো কেউ উপস্থিত নেই, তখন যদি কোনো ঈমানদার গোনাহ থেকে বাঁচে তাহলে আল্লাহর ভয় ছাড়া আর কিছুই নাই যা তাকে গোনাহ থেকে বাধা দিচ্ছে। আল্লাহর ভয়ই তাকে গোনাহ থেকে বিরত রাখছে।
📄 রোযা অবস্থায় আল্লাহর ভয়
আল্লাহর এই ভয়ের অভিজ্ঞতা দেখুন, এযুগেও মানুষ যতো বড়ো ফাসেক হোক, ফাজের হোক, গোনাহগার হোক যদি রমাযান মাসে রোযা রাখে, প্রচণ্ড গরম পড়ছে, তীব্র পিপাসা লাগছে, জিহ্বা বের হয়ে আসছে, বদ্ধ কক্ষ, নির্জন কক্ষ, পাশে অন্য কোনো মানুষ নেই, কক্ষের মধ্যে ফ্রিজ রয়েছে, ফ্রিজে ঠাণ্ডা পানি রাখা আছে। তখন এই প্রচণ্ড পিপাসা অবস্তায় ঠাণ্ডা পানি পান করতে মানুষের মন চায়। কিন্তু বর্তমানে এই অধপতিত যুগেও কি কোনো মুসলিম এমন আছে, যে এ সময় ফ্রিজ থেকে পানি বের করে পান করবে? কখনোই সে পান করবে না। অথচ সে পানি পান করলে কোনো মানুষই জানতে পারবে না। কেউ তাকে তিরষ্কার করবে না। দুনিয়াবাসীদের সামনে সে রোযাদার বলেই পরিগণিত হবে। সন্ধ্যায় বাইরে বের হয়ে মানুষের সাথে ইফতারি খেলে কেউ জানতেও পারবে না যে, সে রোযা ভেঙ্গেছে। এতদসত্ত্বেও সে পানি পান করবে না।
📄 সর্বত্র আল্লাহর এই ভয় সৃষ্টি করুন
এবার বলুন, সেটি কোন জিনিস যা তাকে বন্ধ কক্ষে পানি পান করতে বাধা দিলো। আল্লাহর ভয় ছাড়া আর কিছু নয়। যেহেতু আমাদের রোযা রাখার অভ্যাস হয়ে গেছে এ জন্য এ অভ্যাসের পরিণতিতে সেই ভয় কার্যকর হয়েছে।
শরীয়তের দাবী হলো যেভাবে রোযার অবস্থায় বন্ধ কক্ষে আল্লাহর ভয় আপনাকে পানি পান করা থেকে বাধা দিচ্ছে ঠিক একইভাবে কুদৃষ্টির যদি প্রচন্ড চাহিদা হয়, হারাম জায়গায় দৃষ্টি পড়তে চায়, তখন সে প্রচন্ড চাহিদাকেও আল্লাহর ভয়ে দমন করে নিজের দৃষ্টিকে আটকে রাখুন। একইভাবে গীবত করতে বা মিথ্যা বলতে প্রচন্ড চাহিদা হচ্ছে তো যেভাবে রোযার অবস্থায় আল্লাহর ভয়ে পানি পান করা থেকে বিরত ছিলেন এমনিভাবে এখানেও গীবত এবং মিথ্যা থেকে বিরত থাকুন। এটা হলো আল্লাহর ভয়। এই জিনিস যখন অন্তরে সৃষ্টি হয় তখন মানুষ কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর মর্জির খেলাফ কাজ করে না। শরীয়তে এই আল্লাহর ভয়ই কাম্য।
📄 জান্নাত কার জন্য?
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى
'যে ব্যক্তি তার প্রভুর সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করেছে এবং নিজের নফসকে মন্দ কামনা বাসনা থেকে বিরত রেখেছে, জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।"
কি বিস্ময়কর শব্দ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন! তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি তার পরওয়ারদেগারের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করলো যে, আমাকে একদিন আমার প্রভুর সামনে দাঁড়াতে হবে তখন কোন মুখ নিয়ে তাঁর সামনে দাঁড়াবো। আর এই ভয় তার এতো তীব্র হলো যে, এই ভয়ের ফলে সে তার নফসের অবৈধ চাহিদা পূরণ করা থেকে বিরত থাকলো, তাহলে এমন ব্যক্তির ঠিকানা হবে জান্নাত। এমন ব্যক্তির জন্যই জান্নাত তৈরী করা হয়েছে。
জান্নাতের চর্তুদিকে কষ্টের আবরণ রয়েছে
এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إِنَّ الْجَنَّةَ حُقَّتْ بِالْمَكَارِهِ
'জান্নাতকে আল্লাহ তা'আলা এমন সব জিনিস দ্বারা পরিবেষ্টন করেছেন যা মানুষের কাছে খারাপ লাগে।'১
অর্থাৎ, কষ্টকর ও পরিশ্রমের কাজ যা মনের উপর চাপ সৃষ্টি করে, এমন সব জিনিস দ্বারা জান্নাতকে পরিবেষ্টন করা হয়েছে। আপনি এসব কষ্টকর কাজ করলে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন। এজন্য বলা হয়েছে যে, অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করুন, এর ফলে নাজায়েয কামনা বাসনার উপর আমল করা থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। পরিণতিতে জান্নাত লাভ হবে। এই ভয় এই পর্যায়ের হতে হবে, যেন নিজের সব কাজ, সব কথার মধ্যে এই ভয় লেগে থাকে যে, এটা আমার মালিকের মর্জির খেলাফ যেন না হয়। সুতরাং সাহাবায়ে কেরামের ভয়ের অবস্থা এই ছিলো যে, তাদের ঐ সময় পর্যন্ত শান্তি লাভ হতো না, যতক্ষণ পর্যন্ত হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে নিজের উপর শান্তি বাস্তবায়ন না করাতেন。
টিকাঃ
১. সূরা নাযেয়াত, আয়াত: ৪০-৪১
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫০৪৯, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৮২