📄 আত্মা থেকে ভয় বের হয়ে গেছে
এ কথাটি হযরত থানভী রহ. ৬০ বছর পূর্বে বলেছিলেন, এখন এ কথার বাস্তবতা খোলা চোখে প্রত্যক্ষ করুন! সেই ভয় আত্মা থেকে বের হওয়ার ফলে সমাজের উপর বিশৃঙ্খলার প্লাবন আচ্ছন্ন করে নিয়েছে। সে সময় কোনো জনপদে একজন মানুষও নিহত হলে সারা দেশ কেঁপে উঠতো। হত্যাকাণ্ড কি করে হলো, তার তদন্ত শুরু হয়ে যেতো। আজ মানুষের প্রাণ মশা-মাছির চেয়েও মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। কারণ, আত্মা থেকে ভয় বের হয়ে গেছে।
📄 আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করুন
মোটকথা, ভয় এমন এক জিনিস, যার উপর সারা বিশ্বের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত। এই ভয়ের অভাবে নিরাপত্তাহীনতা, অস্থিরতা ও অরাজকতার বাজার উত্তপ্ত হয়। এজন্য আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে বার বার বলেছেন, إِتَّقُوا اللَّهَ إِتَّقُوا اللَّهَ 'তাকওয়া অবলম্বন করো।' তাকওয়ার অর্থ হলো, আল্লাহর ভয়ে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা। দুনিয়ার ব্যবস্থাপনা যেমন ভয় ছাড়া অচল, একইভাবে দ্বীনের ভিত্তিও আল্লাহর ভয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ না করুন, এই ভয় আত্মা থেকে বের হয়ে গেলে বা তা হ্রাস পেলে গোনাহ ব্যাপক আকার ধারণ করবে। যেমন বর্তমানে আমরা নিজ চোখে দেখছি। কুরআনে কারীমের কোথাও জান্নাতের আলোচনা আছে, কোথাও জাহান্নামের আলোচনা আছে, কোথাও আল্লাহ তা'আলার শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর কুদরতের আলোচনা আছে, যাতে করে প্রত্যেক মুসলিম এসব বিষয়ে বার বার চিন্তা করে। এগুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়। এবং এগুলোর মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করে।
📄 নির্জনে আল্লাহর ভয়
পুলিশের ভয়, আইনের ভয়, শাস্তির ভয় বা জেলের ভয় এমন জিনিস যা শুধুমাত্র অন্য মানুষের সামনে অপরাধ করতে বিরত রাখতে পারে। কিন্তু যখন আল্লাহর ভয় অন্তরে স্থান করে নেয় তখন বনের নির্জনে এবং রাতের অন্ধকারে, যখন আর কেউ দেখার থাকে না, সেখানেও সেই ভয় মানুষকে গোনাহ থেকে বিরত রাখে। মনে করুন! রাতের অন্ধকার বিরাজ করছে, বনের নির্জনতা বিরাজ করছে, দেখার মতো কেউ উপস্থিত নেই, তখন যদি কোনো ঈমানদার গোনাহ থেকে বাঁচে তাহলে আল্লাহর ভয় ছাড়া আর কিছুই নাই যা তাকে গোনাহ থেকে বাধা দিচ্ছে। আল্লাহর ভয়ই তাকে গোনাহ থেকে বিরত রাখছে।
📄 রোযা অবস্থায় আল্লাহর ভয়
আল্লাহর এই ভয়ের অভিজ্ঞতা দেখুন, এযুগেও মানুষ যতো বড়ো ফাসেক হোক, ফাজের হোক, গোনাহগার হোক যদি রমাযান মাসে রোযা রাখে, প্রচণ্ড গরম পড়ছে, তীব্র পিপাসা লাগছে, জিহ্বা বের হয়ে আসছে, বদ্ধ কক্ষ, নির্জন কক্ষ, পাশে অন্য কোনো মানুষ নেই, কক্ষের মধ্যে ফ্রিজ রয়েছে, ফ্রিজে ঠাণ্ডা পানি রাখা আছে। তখন এই প্রচণ্ড পিপাসা অবস্তায় ঠাণ্ডা পানি পান করতে মানুষের মন চায়। কিন্তু বর্তমানে এই অধপতিত যুগেও কি কোনো মুসলিম এমন আছে, যে এ সময় ফ্রিজ থেকে পানি বের করে পান করবে? কখনোই সে পান করবে না। অথচ সে পানি পান করলে কোনো মানুষই জানতে পারবে না। কেউ তাকে তিরষ্কার করবে না। দুনিয়াবাসীদের সামনে সে রোযাদার বলেই পরিগণিত হবে। সন্ধ্যায় বাইরে বের হয়ে মানুষের সাথে ইফতারি খেলে কেউ জানতেও পারবে না যে, সে রোযা ভেঙ্গেছে। এতদসত্ত্বেও সে পানি পান করবে না।