📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 লাল টুপির ভয়

📄 লাল টুপির ভয়


একবার এ আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় লোকদের একটি প্রতিনিধি দল হযরত থানভী রহ.-এর খেদমতে এসে নিবেদন করেন, হযরত! আপনি এ আন্দোলনে অংশ নিলে অতি দ্রুত ইংরেজদেরকে এ দেশ থেকে বিতাড়িত করা যাবে। আপনি এ আন্দোলন থেকে পৃথক থাকার কারণে ইংরেজদের শাসন এখনো টিকে আছে। তাই আপনি আমাদের সঙ্গে এ আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত হোন। উত্তরে হযরত থানভী রহ. বলেন, আপনারা যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তার সাথে আমি একমত নই। তাই আমি তাতে কি করে অংশ নেই? আমাকে বলুন, কয়েক বছর ধরে আপনারা এ আন্দোলন চালাচ্ছেন, বিক্ষোভ করছেন, হরতাল করছেন, মিটিং মিছিল ও সমাবেশ করছেন, এ দ্বারা এ পর্যন্ত আপনারা কি ফল পেয়েছেন? প্রতিনিধি দলের একজন বললো, হযরত এখনো পর্যন্ত স্বাধীনতা তো লাভ হয়নি তবে বড়ো একটি ফল হাতে এসেছে। তা হলো, আমরা মানুষের আত্মা থেকে লাল টুপির ভয় বের করে দিয়েছি। সে যুগে পুলিশরা লাল টুপি পরতো। তাই লাল টুপি বলে এখানে পুলিশ উদ্দেশ্য ছিলো। অর্থাৎ, এখন কারো অন্তরে পুলিশের ভয় নেই। পূর্বে তো এই অবস্থা ছিলো যে, পুলিশ এলে সারা মহল্লা ভয়ে কেঁপে উঠতো। এখন আমরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং হরতাল করে মানুষের আত্মা থেকে লাল টুপির ভয়ে বের করে দিয়েছি। এটা অনেক বড়ো সফলতা লাভ হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সম্মুখে অগ্রসর হলে ইংরেজদের থেকেও মুক্তি লাভ হবে。

তখন হযরত থানভী রহ. অত্যন্ত বিজ্ঞজনোচিত কথা বলেন। তিনি বলেন, আপনারা মানুষের মন থেকে লাল টুপির ভয় বের করে দিয়ে অত্যন্ত খারাপ কাজ করেছেন। কারণ, এর ফলে চোর ডাকাতরা খুব আনন্দ বোধ করবে। চোর চুরি করতে লাল টুপির ভয় করবে না। ডাকাত ডাকাতি করতে লাল টুপির ভয় থাকবে না। কমপক্ষে আপনারা লাল টুপির ভয় বের করে সেখানে নিজেদের সবুজ টুপির ভয় বসিয়ে দিতেন তাহলে নিঃসন্দেহে তা বড়ো সফলতা হতো। কিন্তু আপনারা লার টুপির ভয় তো বের করে দিয়েছেন, কিন্তু তার পরিবর্তে অন্য ভয় প্রবেশ করাননি। এর ফলে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। মানুষের জান-মাল ও মানসম্মান ঝুঁকির শিকার হবে। আপনারা এটা কোনো ভালো কাজ করেননি। এ কাজের জন্য আমি আপনাদের প্রশংসা করতে পারছি না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মা থেকে ভয় বের হয়ে গেছে

📄 আত্মা থেকে ভয় বের হয়ে গেছে


এ কথাটি হযরত থানভী রহ. ৬০ বছর পূর্বে বলেছিলেন, এখন এ কথার বাস্তবতা খোলা চোখে প্রত্যক্ষ করুন! সেই ভয় আত্মা থেকে বের হওয়ার ফলে সমাজের উপর বিশৃঙ্খলার প্লাবন আচ্ছন্ন করে নিয়েছে। সে সময় কোনো জনপদে একজন মানুষও নিহত হলে সারা দেশ কেঁপে উঠতো। হত্যাকাণ্ড কি করে হলো, তার তদন্ত শুরু হয়ে যেতো। আজ মানুষের প্রাণ মশা-মাছির চেয়েও মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। কারণ, আত্মা থেকে ভয় বের হয়ে গেছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করুন

📄 আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করুন


মোটকথা, ভয় এমন এক জিনিস, যার উপর সারা বিশ্বের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত। এই ভয়ের অভাবে নিরাপত্তাহীনতা, অস্থিরতা ও অরাজকতার বাজার উত্তপ্ত হয়। এজন্য আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে বার বার বলেছেন, إِتَّقُوا اللَّهَ إِتَّقُوا اللَّهَ 'তাকওয়া অবলম্বন করো।' তাকওয়ার অর্থ হলো, আল্লাহর ভয়ে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা। দুনিয়ার ব্যবস্থাপনা যেমন ভয় ছাড়া অচল, একইভাবে দ্বীনের ভিত্তিও আল্লাহর ভয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ না করুন, এই ভয় আত্মা থেকে বের হয়ে গেলে বা তা হ্রাস পেলে গোনাহ ব্যাপক আকার ধারণ করবে। যেমন বর্তমানে আমরা নিজ চোখে দেখছি। কুরআনে কারীমের কোথাও জান্নাতের আলোচনা আছে, কোথাও জাহান্নামের আলোচনা আছে, কোথাও আল্লাহ তা'আলার শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর কুদরতের আলোচনা আছে, যাতে করে প্রত্যেক মুসলিম এসব বিষয়ে বার বার চিন্তা করে। এগুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়। এবং এগুলোর মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নির্জনে আল্লাহর ভয়

📄 নির্জনে আল্লাহর ভয়


পুলিশের ভয়, আইনের ভয়, শাস্তির ভয় বা জেলের ভয় এমন জিনিস যা শুধুমাত্র অন্য মানুষের সামনে অপরাধ করতে বিরত রাখতে পারে। কিন্তু যখন আল্লাহর ভয় অন্তরে স্থান করে নেয় তখন বনের নির্জনে এবং রাতের অন্ধকারে, যখন আর কেউ দেখার থাকে না, সেখানেও সেই ভয় মানুষকে গোনাহ থেকে বিরত রাখে। মনে করুন! রাতের অন্ধকার বিরাজ করছে, বনের নির্জনতা বিরাজ করছে, দেখার মতো কেউ উপস্থিত নেই, তখন যদি কোনো ঈমানদার গোনাহ থেকে বাঁচে তাহলে আল্লাহর ভয় ছাড়া আর কিছুই নাই যা তাকে গোনাহ থেকে বাধা দিচ্ছে। আল্লাহর ভয়ই তাকে গোনাহ থেকে বিরত রাখছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00