📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দুনিয়ার ব্যবস্থাপনা ভয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত

📄 দুনিয়ার ব্যবস্থাপনা ভয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত


বর্তমানে মানুষ মনে করে যে, আল্লাহর ভয় অর্জনযোগ্য কোনো বিষয় নয়। অনেকে বলে, আল্লাহ তো আমাদের, তাঁকে আবার কিসের ভয় করতে হবে। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। কুরআনে কারীমে তিনি বারবার বলেছেন, তিনি গাফুরুর রাহীম। তাহলে আর তাঁকে ভয় করতে হবে কেন? বলাবাহুল্য যে, চিন্তা-চেতনা এমন হলে আল্লাহর ভয় অর্জনের অনুভূতিই থাকবে না। এর পরিণতিতে বর্তমানে মানুষ গাফলতির মধ্যে ও গোনাহের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে জীবন যাপন করছে। মনে রাখবেন! ভয় ছাড়া দুনিয়ার কোনো কাজ এবং কোনো কারবার চলতে পারে না। ছাত্রের যদি পরীক্ষায় ফেল হওয়ার ভয় না থাকে তাহলে সে কখনোই পরিশ্রম করবে না। এই ভয়ই তার দ্বারা পরিশ্রম করায়। তার দ্বারা পড়িয়ে নেয়। কারো যদি চাকুরিচ্যুত হওয়ার ভয় না থাকে তাহলে সে তার দায়িত্ব সম্পাদন করবে না। বসে বসে সময় নষ্ট করবে। কাজ করার পরিশ্রম ও কষ্ট সহ্য করবে না। সন্তানের যদি পিতার ভয় না থাকে, কর্মচারীর কর্মকর্তার ভয় না থাকে, জনগণের আইনের ভয় না থাকে তাহলে এর ফলে বেআইনি, অরাজকতা ও জুলুম-অত্যাচার দেখা দিবে। সে অবস্থায় কোনো মানুষেরই অধিকার সংরক্ষিত হবে না। বর্তমানে আপনারা যেই নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার প্লাবণ দেখছেন, কারো প্রাণ নিরাপদ নয়, কারো সম্পদ নিরাপদ নয় এবং কারো সম্মানও নিরাপদ নয়। ডাকাতি হচ্ছে, চুরি হচ্ছে। বর্তমানে মানুষ মশা-মাছির চেয়ে অধিক মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। এর কারণ এই যে, একে তো আল্লাহর ভয় আত্মা থেকে উঠে গেছে। দ্বিতীয়ত, আইনের ভয় উঠে গেছে। বর্তমানে দুই পয়সার বিনিময়ে আইন বিক্রি হচ্ছে। পয়সা ব্যয় করো আইনের হাত থেকে বেঁচে যাবে। এরই ফলে পুরো সমাজে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 স্বাধীনতা আন্দোলন

📄 স্বাধীনতা আন্দোলন


উপমহাদেশে যখন ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিলো, তখন মুসলিম ও হিন্দুরা সংঘটিত হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলো। ইংরেজদের বিরুদ্ধে মিটিং মিছিল ও হরতাল চলছিলো। হিন্দু মুসলিম উভয়ে এই আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এজন্য কতক সময় মুসলিমদের দ্বারা হিন্দুদের কাজ নেওয়া হচ্ছিলো এবং কতক বিষয়ে ইসলাম ও হিন্দু মতের পার্থক্য বিলুপ্ত হচ্ছিলো। উদাহরণস্বরূপ, মিছিল বের হলে মুসলিমরাও মাথায় তিলক লাগাতো এবং মন্দিরে গিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ গ্রহণ করতো। এ ধরনের গর্হিত কাজ এ আন্দোলনে হচ্ছিলো। এ আন্দোলনে যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছিলো তা হযরত থানভী রহ.-এর পছন্দনীয় ছিলো না। ফলে তিনি এই আন্দোলন থেকে পৃথক থাকেন এবং নিজের ভক্ত, মুরীদ ও সম্পৃক্তদের বলেন, আমার মতে এ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ঠিক নয়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 লাল টুপির ভয়

📄 লাল টুপির ভয়


একবার এ আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় লোকদের একটি প্রতিনিধি দল হযরত থানভী রহ.-এর খেদমতে এসে নিবেদন করেন, হযরত! আপনি এ আন্দোলনে অংশ নিলে অতি দ্রুত ইংরেজদেরকে এ দেশ থেকে বিতাড়িত করা যাবে। আপনি এ আন্দোলন থেকে পৃথক থাকার কারণে ইংরেজদের শাসন এখনো টিকে আছে। তাই আপনি আমাদের সঙ্গে এ আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত হোন। উত্তরে হযরত থানভী রহ. বলেন, আপনারা যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তার সাথে আমি একমত নই। তাই আমি তাতে কি করে অংশ নেই? আমাকে বলুন, কয়েক বছর ধরে আপনারা এ আন্দোলন চালাচ্ছেন, বিক্ষোভ করছেন, হরতাল করছেন, মিটিং মিছিল ও সমাবেশ করছেন, এ দ্বারা এ পর্যন্ত আপনারা কি ফল পেয়েছেন? প্রতিনিধি দলের একজন বললো, হযরত এখনো পর্যন্ত স্বাধীনতা তো লাভ হয়নি তবে বড়ো একটি ফল হাতে এসেছে। তা হলো, আমরা মানুষের আত্মা থেকে লাল টুপির ভয় বের করে দিয়েছি। সে যুগে পুলিশরা লাল টুপি পরতো। তাই লাল টুপি বলে এখানে পুলিশ উদ্দেশ্য ছিলো। অর্থাৎ, এখন কারো অন্তরে পুলিশের ভয় নেই। পূর্বে তো এই অবস্থা ছিলো যে, পুলিশ এলে সারা মহল্লা ভয়ে কেঁপে উঠতো। এখন আমরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং হরতাল করে মানুষের আত্মা থেকে লাল টুপির ভয়ে বের করে দিয়েছি। এটা অনেক বড়ো সফলতা লাভ হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সম্মুখে অগ্রসর হলে ইংরেজদের থেকেও মুক্তি লাভ হবে。

তখন হযরত থানভী রহ. অত্যন্ত বিজ্ঞজনোচিত কথা বলেন। তিনি বলেন, আপনারা মানুষের মন থেকে লাল টুপির ভয় বের করে দিয়ে অত্যন্ত খারাপ কাজ করেছেন। কারণ, এর ফলে চোর ডাকাতরা খুব আনন্দ বোধ করবে। চোর চুরি করতে লাল টুপির ভয় করবে না। ডাকাত ডাকাতি করতে লাল টুপির ভয় থাকবে না। কমপক্ষে আপনারা লাল টুপির ভয় বের করে সেখানে নিজেদের সবুজ টুপির ভয় বসিয়ে দিতেন তাহলে নিঃসন্দেহে তা বড়ো সফলতা হতো। কিন্তু আপনারা লার টুপির ভয় তো বের করে দিয়েছেন, কিন্তু তার পরিবর্তে অন্য ভয় প্রবেশ করাননি। এর ফলে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। মানুষের জান-মাল ও মানসম্মান ঝুঁকির শিকার হবে। আপনারা এটা কোনো ভালো কাজ করেননি। এ কাজের জন্য আমি আপনাদের প্রশংসা করতে পারছি না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মা থেকে ভয় বের হয়ে গেছে

📄 আত্মা থেকে ভয় বের হয়ে গেছে


এ কথাটি হযরত থানভী রহ. ৬০ বছর পূর্বে বলেছিলেন, এখন এ কথার বাস্তবতা খোলা চোখে প্রত্যক্ষ করুন! সেই ভয় আত্মা থেকে বের হওয়ার ফলে সমাজের উপর বিশৃঙ্খলার প্লাবন আচ্ছন্ন করে নিয়েছে। সে সময় কোনো জনপদে একজন মানুষও নিহত হলে সারা দেশ কেঁপে উঠতো। হত্যাকাণ্ড কি করে হলো, তার তদন্ত শুরু হয়ে যেতো। আজ মানুষের প্রাণ মশা-মাছির চেয়েও মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। কারণ, আত্মা থেকে ভয় বের হয়ে গেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00