📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 যুবকদেরকে টিভি নষ্ট করে দিয়েছে

📄 যুবকদেরকে টিভি নষ্ট করে দিয়েছে


বর্তমানে আপনারা দেখছেন, যুবকরা হাতে পিস্তল নিয়ে ঘুরছে। পিস্তল দেখিয়ে কারো সম্পদ ছিনিয়ে নিচ্ছে, কারো প্রাণ হরণ করছে, কারো মাল লুট করছে। এ সব কাজ কি আগে করতো? জবাব হলো, না। এর সূচনা এভাবে হয়েছে যে, প্রথমে তরুণদেরকে বলা হয়েছে, সারা দুনিয়া টিভি দেখছে, তুমিও দেখো। ফিল্ম দেখো। এভাবে ধীরে ধীরে তাদেরকে গোনাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে এর প্রভাব তাদের মস্তিষ্কে বসে গেছে। একবার যখন এই দুঃসাহস হয়েছে যে, আল্লাহকে ভুলে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতি আত্মা থেকে বিলুপ্ত করে আমি এই গোনাহের কাজ করছি, ফিল্ম দেখছি, তাই এবার আরেকটু সম্মুখে অগ্রসর হই। শয়তান অন্ত রে একথা ঢেলে দেয় যে, অমুক সিনেমায় তুমি অমুক দৃশ্য দেখেছিলে, এবার তুমি নিজেও তার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করো। এভাবে ধীরে ধীরে তাকে বড়ো বড়ো গোনাহে লিপ্ত করে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ছোট গোনাহে অভ্যস্ত ব্যক্তি বড়ো গোনাহ করে থাকে

📄 ছোট গোনাহে অভ্যস্ত ব্যক্তি বড়ো গোনাহ করে থাকে


মনে রাখবেন! বড়ো গোনাহ সবসময় ছোট গোনাহের পর হয়ে থাকে। শয়তানের পক্ষ থেকে প্রথমে ছোট গোনাহ করার দুঃসাহস করানো হয়। তারপর ধীরে ধীরে তাকে বড়ো গোনাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়। বর্তমানে যুবকদের অন্তরে চিন্তা জাগ্রত হয়েছে যে, আমাদেরকে চিরদিন এই দুনিয়ায় থাকতে হবে, এখান থেকে কখনোই যেতে হবে না। কারণ, গোনাহে অভ্যস্ত হওয়ার ফলে আল্লাহ তা'আলার সামনে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাই বড়ো থেকে বড়ো গোনাহের রাস্তা সুগম হয়েছে। দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এবার যেই গোনাহের ইচ্ছা হয় তা-ই করাও। আরবী ভাষায় প্রবাদ আছে,
الشَّرُّ يَبْدَأُهُ فِي الْأَصْلِ أَصْغَرُهُ
অর্থাৎ, বড়ো খারাপ কাজের সূচনা সবসময় ছোট খারাপ কাজ থেকে হয়ে থাকে। সামান্য অগ্নিস্ফুলিঙ্গ থেকে আগুন জ্বলে উঠে। এজন্য কখনো কোনো গোনাহকে ছোট মনে করে করবে না যে, এটা তো ছোট গোনাহ; ঠিক আছে করে ফেলি। কারণ, এটা শয়তানের আধার। সে আপনাকে তার জালে ফাঁসানোর জন্য এবং আপনার উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ লাভের জন্য এবং আপনার আত্মা থেকে আল্লাহ তা'আলার ভয় ও আখেরাতের ফিকির মুছে ফেলার জন্য আপনার সামনে এই আধার দিয়েছে। তাই গোনাহ ছোট হোক বা বড়ো, আল্লাহর ভয়ে তা ত্যাগ করুন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 এই গোনাহ সগীরা, না কবীরা?

📄 এই গোনাহ সগীরা, না কবীরা?


হযরত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, মানুষ খুব আগ্রহের সাথে জিজ্ঞাসা করে যে, অমুক গোনাহটি সগীরা, না কবীরা? এভাবে জিজ্ঞাসা করার উদ্দেশ্য এই হয়ে থাকে যে, সগীরা গোনাহ হলে করবে। আর কবীরা হলে তা করতে কিছুটা ভয় অনুভব হয়। হযরত বলতেন, সগীরা ও কবীরা গোনাহের দৃষ্টান্ত হলো একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ও একটি বড়ো অঙ্গার। কাউকে কি কখনো দেখেছেন, ছোট অগ্নিস্ফুলিঙ্গকে ছোট মনে করে সিন্দুকের ভিতর রেখে দিয়েছে? কোনো বুদ্ধিমান মানুষ এ কাজ করবে না। কারণ, সিন্দুকের মধ্যে রাখার পর তা আগুনে পরিণত হবে। সিন্দুকের সবকিছু জ্বালিয়ে দিবে এবং সিন্দুককেও জ্বালিয়ে দিবে। বরং পুরো বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোনাহের অবস্থাও একই। গোনাহ ছোট হোক, বা বড়ো; তা আগুনের স্ফুলিঙ্গের ন্যায়। স্বেচ্ছায় যদি তুমি একটি গোনাহ করো তাহলে হতে পারে ঐ একটি গোনাহ তোমার সারা জীবনের পুঁজিকে ভষ্ম করে দিবে। এজন্য এই চিন্তায় পড়ো না যে, গোনাহ ছোট না বড়ো। বরং এটা দেখো যে, গোনাহ কি না? এ কাজ নাজায়েয কি না? আল্লাহ তা'আলা এটা নিষেধ করেছেন কি না? যখন জানতে পারবে যে, আল্লাহ তা'আলা এটা নিষেধ করেছেন, তখন আল্লাহর সামনে জওয়াব দেওয়ার অনুভূতিকে জাগ্রত করে চিন্তা করো যে, এই গোনাহ করে আমি আল্লাহ তা'আলার সামনে কিভাবে মুখ দেখাবো? মোটকথা, এই আয়াতের ফযীলত লাভ করার পদ্ধতি এই যে, যখনই মানুষের অন্তরে গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হবে, তখনই আল্লাহ তা'আলার সামনে উপস্থিত হওয়ার কথা অন্তরে চিন্তা করবে এবং এর মাধ্যমে গোনাহ ছেড়ে দিবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 গোনাহের চাহিদা হলে এ কথা চিন্তা করুন!

📄 গোনাহের চাহিদা হলে এ কথা চিন্তা করুন!


আমাদের হযরত ডাক্তার আব্দুল হাই ছাহেব রহ. বলতেন, মানুষ যদি আল্লাহর কথা চিন্তা করতে চায় তাহলে অনেক সময় আল্লাহর চিন্তা ও কল্পনা অন্তরে আসতে চায় না। কারণ, মানুষ তো কখনো আল্লাহকে দেখেনি। আর কল্পনা করা যায় এমন জিনিসের, যাকে মানুষ দেখেছে। এ কারণে আল্লাহর কথা কল্পনা করতে কষ্ট হয়। এজন্য যখন গোনাহের চাহিদা সৃষ্টি হবে তখন অন্য একটি জিনিসের কথা কল্পনা করবে। আর তা হলো, আমি যেই গোনাহ করার ইচ্ছা করছি ঐ গোনাহ করার সময় যদি আমার বাবা আমাকে দেখে বা আমার সন্তান আমাকে দেখে বা আমার ওস্তাদ আমাকে দেখে বা আমার ছাত্র আমাকে দেখে বা আমার বন্ধু-বান্ধব আমাকে দেখে, তাহলে তখনও কি এই গোনাহের কাজ আমি করবো?

উদাহরণস্বরূপ, নাজায়েয জায়গায় দৃষ্টিপাত করার চিন্তা অন্তরে জাগছে। তখন চিন্তা করবে যে, এ সময় যদি আমার শাইখ আমাকে দেখেন বা আমার বাবা আমাকে দেখেন বা আমার সন্তান আমাকে দেখে তাহলে কি তখনও নাজায়েয জায়গায় দৃষ্টিপাত করবো। বলাবাহুল্য যে, দৃষ্টিপাত করবো না। কারণ, আমার ভয় রয়েছে যে, এদের কেউ যদি আমাকে এ অবস্থায় দেখে তাহলে তারা আমাকে খারাপ মনে করবে। তাহলে যখন সাধারণ পর্যায়ের মানুষের সামনে লজ্জিত হওয়ার ভয়ে নিজের কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রণ করি, দৃষ্টিকে সংযত করি; তাহলে প্রত্যেক গোনাহের সময় এ কথা চিন্তা করুন যে, আল্লাহ তা'আলা, যিনি মালিকুল মুল্ক, যিনি তাদের সকলের স্রষ্টা ও মালিক, তিনি আমাকে দেখছেন। এ কথা চিন্তা করার দ্বারা ইনশাআল্লাহ অন্তরে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00