📄 সাহাবায়ে কেরামের তাকওয়া
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ভয় ও অনুভূতিই সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে জাগ্রত করেছিলেন। এর ফলে কারো দ্বারা কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তিনি অস্থির হয়ে পড়তেন এবং নিজের উপর শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত এবং আল্লাহ তা'আলার দরবারে কাকুতি মিনতি করে মাফ না চাওয়া পর্যন্ত এবং তাওবা না করা পর্যন্ত তারা শান্তি পেতেন না। অপরাধী নিজে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে নিজের উপর শাস্তি বাস্তবায়ন করাতো। বলতো, হে আল্লাহর রাসূল! যে কোনো উপায়ে হোক আমাকে পাক করুন। এজন্য যে পর্যন্ত অন্তরে আল্লাহর ভয় এবং আখারাতের ফিকির না জন্মাবে এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতি না জাগবে সে পর্যন্ত দুনিয়া থেকে অপরাধ নির্মূল হতে পারে না। এর জন্য যতো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন।
📄 আমাদের আদালত ও মামলা-মোকদ্দমা
কয়েক বছর ধরে আদালতের সাথেও আমার সম্পর্ক রয়েছে। আইন অনুপাতে চুরি ডাকাতির যতো মামলা রয়েছে তার শেষ আপিল আমাদের আদালতে আসার কথা। কিন্তু প্রথম তিন বছর এমনভাবে অতিবাহিত হয় যে, এ সময়ে চুরি ডাকাতির কোনো মোকদ্দমাই আমাদের আদালতে আসে না। আমি তো অবাক। পরবর্তীতে আমি তথ্য সংগ্রহ করি যে, এ সময়ে আমাদের এখানে চুরি ডাকাতির কি পরিমাণ মামলা এসেছে? তখন জানতে পারি যে, মাত্র তিন চারটি মামলা এসেছে। আমি বললাম, কেউ যদি এই সংখ্যা দেখে যে, এ দেশে তিন বছরে সুপ্রিম কোর্টে চুরি ডাকাতির মাত্র তিন চারটি মামলা দায়ের হয়েছে তাহলে সে মনে করবে যে, এটা তো ফেরেশতাদের জনপদ। এখানে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত। অপরদিকে যদি পত্রিকা পড়া হয় তাহলে জানা যায় যে, চুরি ডাকাতির শত শত ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম চুরি ডাকাতির এসব কেস নিচেই চূড়ান্ত হয়ে যায়। মামলা উপরে উঠার কোনো সুযোগ আসে না।
📄 একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
তিন বছর পর ডাকাতির যেই মামলাটি আমার কাছে আসে, সেটি ছিলো এই যে, এক ব্যক্তি কুয়েতে চাকুরি করতো। ছুটিতে করাচী এসে এয়ারপোর্ট থেকে একটি ট্যাক্সি ভাড়া নেয়। ট্যাক্সিতে সামানপত্র নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা দেয়। পথে বাহাদুরাবাদের চৌরঙ্গীতে অশ্বারোহী পুলিশের একটি বাহিনী যাচ্ছিলো। রাত তখন তিনটা বাজে। পুলিশের বাহিনী ট্যাক্সিটি দাঁড় করায়। জিজ্ঞাসা করে কোথেকে আসছো এবং কোথায় যাচ্ছো। লোকটি উত্তর দেয় কুয়েত থেকে আসছি এখন এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ি যাচ্ছি। পুলিশ জিজ্ঞাসা করে, তুমি সেখান থেকে কি কি সামানা এনেছো? সে উত্তর দেয়, যেই সামানা এনেছি কাস্টমের লোকেরা তা যাচাই করেছে। এর সাথে তোমাদের কি সম্পর্ক? অবশেষে এক পুলিশ বন্দুক তাক করে বলে, তোমার কাছে যা আছে তা দিয়ে দাও।
এই প্রথম মামলা আমার কাছে আসে। যেই পুলিশ চুরি ডাকাতি থেকে বাঁচানোর জন্য টহল দিচ্ছিলো সেই পুলিশ বন্দুক তাক করে অন্যের মাল ছিনিয়ে নিচ্ছে। যারা আইনের রক্ষক এবং শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাকারী তারাই নিরাপত্তা হরণ করছে। এর একমাত্র কারণ আত্মা থেকে আল্লাহর ভয় মিটে গেছে। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতি নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ ভুলে গেছে যে, আমাকে একদিন মরতে হবে এবং মৃত্যুর পর আরেকটি জীবন আসছে। সেখানে আমার সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। এর ফলে আজ খুন-খারাবি, নিরাপত্তাহীনতা, অশান্তি ও অস্থিরতা আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে।
📄 শয়তান কীভাবে বিপথগামী করে
মনে রাখবেন! এই অনুভূতি মুহূর্তেই বিলুপ্ত হয়ে যায় না, বরং ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়। তা এভাবে যে, শয়তান মানুষকে ভুল পথে নেওয়ার জন্য প্রথমেই বড়ো গোনাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে না। উদাহরণস্বরূপ, শয়তান প্রথমবারেই কোনো মানুষকে এ কথা বলে না যে, তুই গিয়ে ডাকাতি কর। কারণ, তাহলে মানুষ তৎক্ষণাৎ তা অস্বীকার করবে। বলবে, ডাকাতি করা খুব খারাপ কাজ, আমি তা করবো না। বরং শয়তান মানুষকে প্রথমে ছোট ছোট গোনাহে লিপ্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, তাকে বলে নাজায়েয জায়গায় দৃষ্টিপাত করো, এতে মজা লাগবে। যখন ধীরে ধীরে ছোট গোনাহে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন শয়তান তাকে বলে যে, অমুক গোনাহ যখন করেছিলে তখন তো মৃত্যুর কথা স্মরণ হয়নি, আল্লাহ তা'আলার কাছে যাওয়ার কথা স্মরণ হয়নি, তাই এখন দ্বিতীয় গোনাহটিও করো। এরপর তৃতীয় ও চতুর্থ গোনাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। যখন ছোট ছোট গোনাহে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন শয়তান তাকে বলে, এতগুলো গোনাহ যেহেতু তুমি করেছো, এবার বড়ো একটা গোনাহ করলে সমস্যা কি? এভাবে ধীরে ধীরে সে মানুষকে বড়ো বড়ো গোনাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে থাকে।