📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 অপরাধ নির্মূল করার উত্তম পন্থা

📄 অপরাধ নির্মূল করার উত্তম পন্থা


মনে রাখবেন! যতক্ষণ পর্যন্ত অন্তরে সেই অনুভূতি না জাগবে যা ঐ রাখালের অন্তরে ছিলো যে, আল্লাহ আমাকে দেখছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়া থেকে অপরাধ নির্মূল হতে পারে না। অন্যায় ও অরাজকতা বিলুপ্ত হতে পারে না। অপরাধ নির্মূলের জন্য পুলিশের পাহারা বসানো হোক, বিভিন্ন অধিদপ্তর খোলা হোক, কিন্তু কোনো লাভ হবে না। কারণ পুলিশ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বেশির চেয়ে বেশি দিনের আলোতে ও লোকালয়ে মানুষকে অপরাধ থেকে বাধা দিতে পারে, কিন্তু রাতের অন্ধকারে এবং বনের নির্জনতায় অপরাধীকে বাধা দেওয়ার জিনিস মাত্র একটিই আর তা হলো আল্লাহর ভয়। এছাড়া অন্য কোনো জিনিসই বাধা দিতে পারে না। এই ভয় যখন আত্মা থেকে মিটে যায় তখন সমাজের পরিণতি মারাত্মক খারাপ হয়। আজ দেখুন! অপরাধ প্রতিরোধের জন্য পুলিশের পর পুলিশ দেয়া হচ্ছে, অধিদপ্তরের পর অধিদপ্তর বানানো হচ্ছে, আইনের পর আইন বানানো হচ্ছে, কিন্তু আইন আজ বাজারে পানির মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। আদালত কাজ করছে, পুলিশ কাজ করছে, দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করছে, এগুলোর পিছনে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় হচ্ছে, অপরদিকে ঘুষের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঘুষ বন্ধের জন্য যেই কমিশন গঠন করা হয়েছে তারাই ঘুষের শিকার। কতো আর এসব অধিদপ্তর ও কমিশন প্রতিষ্ঠিত করবে। সব আইন ও সব ব্যবস্থা ভাঙ্গার ব্যবস্থা রয়েছে। আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে এমন কোনো ফর্মূলা আবিষ্কৃত হয়নি যা অপরাধ নির্মূল করতে পারে। হ্যাঁ, আল্লাহর ভয় এবং আখেরাতের ফিকির এমন এক জিনিস যার মাধ্যমে অপরাধ নির্মূল হতে পারে, জুলুম-অত্যাচার বন্ধ হতে পারে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সাহাবায়ে কেরামের তাকওয়া

📄 সাহাবায়ে কেরামের তাকওয়া


হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ভয় ও অনুভূতিই সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে জাগ্রত করেছিলেন। এর ফলে কারো দ্বারা কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তিনি অস্থির হয়ে পড়তেন এবং নিজের উপর শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত এবং আল্লাহ তা'আলার দরবারে কাকুতি মিনতি করে মাফ না চাওয়া পর্যন্ত এবং তাওবা না করা পর্যন্ত তারা শান্তি পেতেন না। অপরাধী নিজে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে নিজের উপর শাস্তি বাস্তবায়ন করাতো। বলতো, হে আল্লাহর রাসূল! যে কোনো উপায়ে হোক আমাকে পাক করুন। এজন্য যে পর্যন্ত অন্তরে আল্লাহর ভয় এবং আখারাতের ফিকির না জন্মাবে এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতি না জাগবে সে পর্যন্ত দুনিয়া থেকে অপরাধ নির্মূল হতে পারে না। এর জন্য যতো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আমাদের আদালত ও মামলা-মোকদ্দমা

📄 আমাদের আদালত ও মামলা-মোকদ্দমা


কয়েক বছর ধরে আদালতের সাথেও আমার সম্পর্ক রয়েছে। আইন অনুপাতে চুরি ডাকাতির যতো মামলা রয়েছে তার শেষ আপিল আমাদের আদালতে আসার কথা। কিন্তু প্রথম তিন বছর এমনভাবে অতিবাহিত হয় যে, এ সময়ে চুরি ডাকাতির কোনো মোকদ্দমাই আমাদের আদালতে আসে না। আমি তো অবাক। পরবর্তীতে আমি তথ্য সংগ্রহ করি যে, এ সময়ে আমাদের এখানে চুরি ডাকাতির কি পরিমাণ মামলা এসেছে? তখন জানতে পারি যে, মাত্র তিন চারটি মামলা এসেছে। আমি বললাম, কেউ যদি এই সংখ্যা দেখে যে, এ দেশে তিন বছরে সুপ্রিম কোর্টে চুরি ডাকাতির মাত্র তিন চারটি মামলা দায়ের হয়েছে তাহলে সে মনে করবে যে, এটা তো ফেরেশতাদের জনপদ। এখানে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত। অপরদিকে যদি পত্রিকা পড়া হয় তাহলে জানা যায় যে, চুরি ডাকাতির শত শত ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম চুরি ডাকাতির এসব কেস নিচেই চূড়ান্ত হয়ে যায়। মামলা উপরে উঠার কোনো সুযোগ আসে না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

📄 একটি শিক্ষণীয় ঘটনা


তিন বছর পর ডাকাতির যেই মামলাটি আমার কাছে আসে, সেটি ছিলো এই যে, এক ব্যক্তি কুয়েতে চাকুরি করতো। ছুটিতে করাচী এসে এয়ারপোর্ট থেকে একটি ট্যাক্সি ভাড়া নেয়। ট্যাক্সিতে সামানপত্র নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা দেয়। পথে বাহাদুরাবাদের চৌরঙ্গীতে অশ্বারোহী পুলিশের একটি বাহিনী যাচ্ছিলো। রাত তখন তিনটা বাজে। পুলিশের বাহিনী ট্যাক্সিটি দাঁড় করায়। জিজ্ঞাসা করে কোথেকে আসছো এবং কোথায় যাচ্ছো। লোকটি উত্তর দেয় কুয়েত থেকে আসছি এখন এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ি যাচ্ছি। পুলিশ জিজ্ঞাসা করে, তুমি সেখান থেকে কি কি সামানা এনেছো? সে উত্তর দেয়, যেই সামানা এনেছি কাস্টমের লোকেরা তা যাচাই করেছে। এর সাথে তোমাদের কি সম্পর্ক? অবশেষে এক পুলিশ বন্দুক তাক করে বলে, তোমার কাছে যা আছে তা দিয়ে দাও।

এই প্রথম মামলা আমার কাছে আসে। যেই পুলিশ চুরি ডাকাতি থেকে বাঁচানোর জন্য টহল দিচ্ছিলো সেই পুলিশ বন্দুক তাক করে অন্যের মাল ছিনিয়ে নিচ্ছে। যারা আইনের রক্ষক এবং শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাকারী তারাই নিরাপত্তা হরণ করছে। এর একমাত্র কারণ আত্মা থেকে আল্লাহর ভয় মিটে গেছে। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতি নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ ভুলে গেছে যে, আমাকে একদিন মরতে হবে এবং মৃত্যুর পর আরেকটি জীবন আসছে। সেখানে আমার সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। এর ফলে আজ খুন-খারাবি, নিরাপত্তাহীনতা, অশান্তি ও অস্থিরতা আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00