📄 তাহাজ্জুদগুজার থেকে অগ্রগামী হওয়ার উপায়
এক হাদীসে উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, যে ব্যক্তির বাসনা রয়েছে যে, আমি ইবাদতগুজার ও তাহাজ্জুদগুজার ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী হবো, সে যেন নিজেকে গোনাহ থেকে দূরে রাখে। যেমন আমরা আল্লাহ ওয়ালাদের জীবনীতে পড়ি যে, তারা সারারাত ইবাদত করতেন, এতো রাকাত নফল নামায পড়তেন, এতো পারা কুরআন তিলাওয়াত করতেন, এখন কেউ যদি চায় যে, আমি ঐ ইবাদতগুজার ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী হবো, তাহলে সে যেন নিজেকে গোনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। গোনাহ থেকে বাঁচার কারণে ইনশাআল্লাহ তারাও মুক্তি লাভ করবে, আপনিও মুক্তি লাভ করবেন। তারাও যদি গোনাহ থেকে বেঁচে থাকেন তাহলে এতটুকু মাত্র পার্থক্য হবে যে, তারা উঁচু মর্যাদার অধিকারী হবেন আর আপনি হবেন নিম্ন মর্যাদার অধিকারী। কিন্তু মুক্তি লাভের ব্যাপারে উভয়ে সমান হবেন। আর যদি কোনো ব্যক্তি ইবাদতও করতো সাথে গোনাহের কাজও করতো তাহলে আপনি তার চেয়ে সম্মুখে অগ্রসর হবেন। কারণ, আপনি নিজেকে গোনাহ থেকে বাঁচিয়েছেন।
📄 মুমিন ও তার ঈমানের দৃষ্টান্ত
অপর একটি হাদীস হযরত আবু সাঈদ খুদরি রাযি. থেকে বর্ণিত। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, একজন মুমিন এবং তার ঈমানের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন একটি ঘোড়া লম্বা রশি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বাধা রয়েছে, যার ফলে ঐ ঘোড়া ঘুরতে থাকে কিন্তু একটি সীমানায় গিয়ে ঐ খুঁটি তাকে আটকিয়ে ফেলে। ঐ ঘোড়া সামান্য চক্কর দিয়ে আবার ফিরে এসে ঐ খুঁটির নিকট বসে পড়ে। এভাবে ঐ খুঁটি দুটি কাজ করে। একটি হলো, সে ঘোড়াকে বিশেষ একটি সীমানা থেকে সম্মুখে অগ্রসর হতে বাধা দেয়। দ্বিতীয় হলো, ঐ খুঁটি ঘোড়াটির আশ্রয়স্থল হয়। ঘোড়া এদিক সেদিক চক্কর লাগিয়ে আবার ঐ খুঁটির কাছে এসেই বসে পড়ে।'
এই দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মুমিনের খুঁটি হলো তার ঈমান। ঈমানের দাবি হলো, মুমিন ব্যক্তি একটি সীমা পর্যন্ত এদিক সেদিক ঘুরবে, চক্কর দিবে, কিন্তু সীমার চেয়ে আগে বাড়তে চাইলে ঈমান তার রশি টেনে ধরবে। এদিক সেদিক ঘোরার পর অবশেষে মুমিন ব্যক্তি তার ঈমানের খুঁটির কাছে ফিরে আসবে। এ হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, মুমিন ব্যক্তির ঈমান এতো শক্তিশালী হয় যে, সে তাকে গোনাহ করতে দেয় না। কখনো ভুলে গোনাহ হয়ে গেলে ফিরে আবার সে ঈমানের খুঁটির কাছে চলে আসে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতো চমৎকার দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে আমাদের এই খুঁটিকে শক্তিশালী করে দিন。
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১০৯০৭
📄 গোনাহ লিখতে বিলম্ব করা হয়
হাদীস শরীফে এসেছে, প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে দুজন ফেরেশতা রয়েছে। একজন নেকী লেখে, আরেকজন বদী লেখে। আমি আমার শাইখ হযরত মাওলানা মাসীহুল্লাহ খান ছাহেব (কু.সি.) থেকে শুনেছি যে, নেকী লেখক ফেরেশতাকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, মানুষ যখন নেক কাজ করে তখন সাথে সাথে তা লিখে ফেলবে। আর বদী লেখক ফেরেশতাকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, মানুষ গোনাহের কাজ করলে তা লেখার পূর্বে নেকী লেখক ফেরেশতাকে জিজ্ঞাসা করবে, লিখবো কি লিখবো না? নেকী লেখক ফেরেশতা যেন তার আমীর। সুতরাং মানুষ যখন কোনো গোনাহ করে, তখন বদী লেখক ফেরেশতা নেকী লেখক ফেরেশতার কাছে জিজ্ঞাসা করে, লিখবো কি লিখবো না? নেকী লেখক ফেরেশতা বলে, না এখনই লিখো না। কারণ, এ ব্যক্তি তাওবা করতে পারে, ইস্তিফগার করতে পারে। তাহলে লেখার আর প্রয়োজনই হবে না। ঐ ব্যক্তি যদি আবারো গোনাহ করে এবং পূর্বের গোনাহ থেকে তাওবা না করে, তখন আবারও জিজ্ঞাসা করে, এখন লিখি? নেকী লেখক ফেরেশতা বলে, না আরেকটু দেরি করো। তারপর যখন তৃতীয়বার গোনাহ করে তখন আবারও জিজ্ঞাসা করে, লিখবো কি লিখবো না? তখন নেকী লেখক ফেরেশতা বলে, হ্যাঁ, এখন লিখো। তারপর ঐ গোনাহ তার আমলনামায় লেখা হয়। আল্লাহ তা'আলা বান্দার প্রতি এতো সহজ ব্যবস্থা করেছেন। নেককাজ তো সাথে সাথে লেখা হয়, কিন্তু গোনাহের কাজ লিখতে বিলম্ব করা হয়, হয়তো সে তাওবা করবে।
📄 যেখানে গোনাহ করেছেন, সেখানেই তাওবা করুন
এ কারণে বুযুর্গগণ বলেন, যখনই কোনো গোনাহ সংঘটিত হবে, তখনই অবিলম্বে তাওবা ও ইস্তেগফার করবে। যাতে করে এ গোনাহ তোমার আমল নামায় লেখাই না হয়। বুযুর্গগণ আরো বলেন, যেই জায়গায় গোনাহ করেছো, সেই জায়গাতেই অবিলম্বে তাওবা ও ইস্তিগফার করো। যাতে করে কিয়ামতের দিন যখন ঐ জায়গা তোমার গোনাহের সাক্ষ্য দিবে, সাথে সাথে যেনো তোমার তাওবারও সাক্ষ্য দেয়। এ ব্যক্তি আমার বুকের উপর গোনাহ করেছিলো, পরবর্তীতে আমার বুকের উপর তাওবাও করেছিলো। এগুলো হলো হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসের উপর আমল যে, ঈমান মুমিনের খুঁটি স্বরূপ। মুমিন যখন এদিক সেদিক চলে যায়, তখন ঘুরে ফিরে আবার নিজের খুঁটির কাছেই চলে আসে।